সিরিজে সমতা ফেরাল আফগানিস্তান, অভিষেকেই দুর্দান্ত পারফরম্যান্স মোসাদ্দেকের
-
ম্যান অব দ্য ম্যাচ মোহাম্মদ নবী
টাইগারদের ব্যাটিং ব্যর্থতায় দ্বিতীয় ওয়ানডে ম্যাচে বাংলাদেশকে দুই উইকেটে হারিয়ে সিরিজে সমতা আনল আফগানিস্তান। বুধবার মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে চার বল বাকি থাকতেই মাত্র ২০৮ রান করে অলআউট হয় বাংলাদেশ। জবাবে দুই বল হাতে রেখে ৮ উইকেট হারিয়ে লক্ষ্যে পৌঁছে যায় আফগানিস্তান।
লক্ষ্য মামুলি হলেও শুরুটা ভালো হয়নি আফগানিস্তানের। চতুর্থ ওভারেই তিন বলের মধ্যে নওরোজ মঙ্গল ও রহমত শাহকে ফেরান সাকিব আল হাসান। এরপর তৃতীয় উইকেট জুটিতে হাসমতউল্লাহ শহীদি ও মোহাম্মদ শেহজাদ যোগ করলেন ৪৫ রান। এসময় ওয়ানডেতে নিজের প্রথম বলেই উইকেট নেন তরুণ অফস্পিন অলরাউন্ডার মোসাদ্দেক হোসেন। তার বলে সোজা বলে এলবিডব্লিউ হন হাশমতুল্লাহ শাহিদি। এরপর বিপজ্জনক মোহাম্মদ শাহজাদকে বিদায় করেন সাকিব।
৬৩ রানেই ৪ উইকেট হারিয়ে আফগানিস্তান যখন ভীষণ চাপের মুখে ঠিক তখনই অধিনায়ক আসগর স্টানিকজাই আর মোহাম্মদ নবী বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়ে যান। ২৪ ওভারের জুটিতে ১০৭ রান যোগ করেন স্টানিকজাই-নবী জুটি। জয় থেকে ৩৯ রান দূরে থাকা অবস্থায় আম্পায়ারের অদ্ভুত এক সিদ্ধান্তে ফিরতে হয় মোহাম্মদ নবীকে (৪৯)। মাশরাফির বলটি স্ট্যাম্পে লাগার পরও বেল পড়ল না, সে অদ্ভুত ঘটনাকেও ম্লান মনে হলো নবীকে দেয়া এলবিডব্লুর সিদ্ধান্ত’র কাছে। কিন্তু ওই ওভারেই আরেকটি সুযোগ হাতছাড়া করে বাংলাদেশ। নজিবুল্লাহ জাদরানের ব্যাটের কানা ছুঁয়ে বল গিয়েছিল পেছনে। কিন্তু মুশফিকুর রহিমের ঝাঁপিয়ে পড়তে অনেক দেরি করে ফেলেন। তবে পরের ওভারেই স্টানিকজাইকে ফেরান মোসাদ্দেক। আফগান অধিনায়ক ৯৫ বলে ৪টি চার ও দুটি ছক্কায় করেন ৫৭ রান।
১৭৪ রানে আফগানিস্তানের ষষ্ঠ উইকেটের পতন হলে আবারও ম্যাচে ফেরে বাংলাদেশ। নিজের শেষ ওভারে বল করতে এসে রশিদ খান ফেরান সাকিব। মিরপুরে এটি তার শততম ওয়ানডে উইকেট। সেই ওভারে নাজিবুল্লাহ জাদরানের উইকেট পেতে পারতেন বিশ্বের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার। তবে অনেকটা ছুটেও বল তালুবন্দি করতে পারেননি সৌম্য সরকার।
মোসাদ্দেকের বলে নাজিবুল্লাহকে স্টাম্পড করার সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া করেন মুশফিক। শেষ ওভারে তাসকিন ফেরান নাজিবুল্লাহকে। তবে চার হাঁকিয়ে দলকে দারুণ জয় এনে দৌলত জাদরান।
এর আগে টাইগারদের হয়ে শুরুটা ভালোই করেন দুই ওপেনার তামিম ইকবাল ও সৌম্য সরকার। তবে দু’জনই ব্যক্তিগত ২০ রান করে বিদায় নেন। ৩৮ রান আসে মুশফিকুর রহিমের ব্যাট থেকে। ২৫ রান করেন ওয়ানডাউনে নামা মাহমুদুল্লাহ। আর চাপের মুখে ব্যাট করতে নেমে মোসাদ্দেক খেলেছেন ৪৫ বলে ৪৫ রানের অপরাজিত ইনিংস।
সফরকারী বোলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ তিন উইকেট শিকার করেন রশিদ খান। এছাড়া দুটি করে উইকেট পান মোহাম্মদ নবী ও মিরওয়াইস আশরাফ।
বল হাতে ১০ ওভারে ১৬ রান দিয়ে ২ উইকেট আর ব্যাট হাতে ৬১ বলে ৪৯ রান করে ম্যাচসেরা হন মোহাম্মদ নবী।
অভিষেকে ঝলক মোসাদ্দেকের
ওয়ানডে ম্যাচে অভিষেক হওয়া মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত ব্যাট ও বল হাতে নিজেকে সফলভাবে তুলে ধরেছেন। দলীয় ১৩৮ রানের মাথায় সাকিব আল হাসান সাজঘরে ফিরলে সপ্তম ব্যাটসম্যান হিসেবে মাঠে নামেন মোসাদ্দেক। আফগান বোলারদের বোলিং তোপে যখন বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানেরা যখন দাঁড়াতেই পারছিলেন না তখনই জ্বলে ওঠেন মোসাদ্দেক।
শেষ দিকে ম্যাচের হাল ধরেন ২০ বছর বয়সী এই তরুণ। ব্যাট হাতে চারটি চার এবং দুটি ছক্কায় ৪৫ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংস খেলেন তিনি। মোসাদ্দেকের গুরুত্বপূর্ণ এই ইনিংসের কল্যাণে সবকটি উইকেট হারিয়ে ২০৮ রান করতে সক্ষম হয় বাংলাদেশ। ব্যাটিংয়ের পর বল হাতেও চমক দেখান ওয়ানডেতে অভিষিক্ত সৈকত। ১০ ওভার বল করে মাত্র ৩০ রানের বিনিময়ে নিয়েছেন দুটি উইকেট।#
পার্সটুডে/এআর/২৮