মার্কিন পারমাণবিক হুমকিতে রাশিয়ার প্রতিক্রিয়া
রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গতকাল আমেরিকার দেওয়া পারমাণবিক হুমকির প্রতিক্রিয়ায় কড়া ভাষায় একটি বিবৃতি দিয়েছে। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী এশ্টোন কার্টার গত সোমবারে যে বিবৃতি দিয়েছিল ওই বিবৃতিকে রাশিয়া তার দেশের ওপর পরমাণু হামলার ইঙ্গিত হিসেবে ধরে নিয়েছে।
রাশিয়ার আচরণকে 'পারমাণবিক হুমকিপূর্ণ' বলে অভিযুক্ত করে কার্টার বলেছে শীতল যুদ্ধ পর্বের অবসান হবার পরও রুশ পরমাণু অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজন রয়েছে। কার্টার আরও বলেছে "প্রথমে পরমাণু অস্ত্র ব্যবহার না করার" নীতি থেকে সরে আসার কোনো পরিকল্পনা এখনো যুক্তরাষ্ট্রের নেই।
আমেরিকা নিজে পরমাণু শক্তিধর দেশ হবার পরও বিশ্বে পরমাণু অস্ত্রের ভাণ্ডার কমিয়ে আনার চেষ্টা চালাচ্ছে বলে দাবী করছে অথচ দেশটি পরমাণু অস্ত্রের উন্নয়ন ও নবায়ন যথাসম্ভব চালিয়ে যাচ্ছে। মার্কিন উপ-প্রতিরক্ষামন্ত্রী ২০১৫ সালের জুনে বলেছিল আমেরিকা নিজের জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে শক্তিশালি পরমাণু স্থাপনা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গড়ে তুলবে।
বিবৃতিতে রাশিয়া আরও বলেছে পরমাণু অস্ত্রবিস্তার রোধ চুক্তি বা এনপিটি চুক্তি এই লক্ষ্যেই গৃহীত হয়েছিল, কিন্তু আমেরিকা ওই চুক্তির তোয়াক্কা না করে নিজেদের পরমাণু অস্ত্রের ভাণ্ডার আরও সমৃদ্ধ করে তোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সুতরাং আমেরিকার প্রতিদ্বন্দ্বী দেশ রাশিয়া এবং চীনও পরমাণু শক্তির পুনর্গঠনের অজুহাত দেখিয়ে এক্ষেত্রে লক্ষণীয় মাত্রায় বাজেট বরাদ্দ দিয়েছে। বিশেষ করে রাশিয়া আগামি ২০২০ সালের মধ্যে তাদের শতকরা সত্তর ভাগ পরমাণু অস্ত্রভাণ্ডার পুনর্গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমেরিকা গত বছর বলেছিল তারা তাদের পরমাণু অস্ত্রভাণ্ডার আধুনিকায়নের জন্য ২৯ হাজার তিন শ কোটি ডলার বরাদ্দ করেছে।
আন্তর্জাতিক মহল এনপিটি চুক্তি অনুযায়ী পরমাণু অস্ত্রের বিস্তার রোধ করতে চাইলেও বৃহৎ শক্তিগুলো আধুনিকায়নের নামে তাদের পরমাণু অস্ত্রের ভাণ্ডারগুলোকে আরও বেশি সমৃদ্ধ করে তুলছে। বিশেষ করে আমেরিকাসহ রাশিয়া,চীন, ফ্রান্স এবং ব্রিটেন এক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকায় রয়েছে। এই দেশগুলো মুখে পরমাণু অস্ত্র ধ্বংসের কথা বললেও কবে তারা সেগুলো ধ্বংস করবে সে ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট করে কিছুই বলছে না। তার মানে হলো বাস্তবে তাদের কারুরই পরমাণু অস্ত্র ধ্বংস করার কোনো পরিকল্পনা নেই।
উপরন্তু আমেরিকা যে ঘোষণা দিয়েছে তারা পারমাণবিক প্রথম আঘাত হানার কৌশল খুঁজছে। তার মানে তারা নিজেদের এবং তাদের বন্ধুরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার ধুয়া তুলে আগাম পরমাণু হামলা চালানোর ক্ষেত্র সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে। এ লক্ষ্যে তারা চাচ্ছে আগাম পরমাণু হামলার বৈধ কোনো কৌশল গ্রহণ করতে। যদিও রাশিয়া বলেছে তারা শুধুমাত্র তাদের দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার স্বার্থেই পরমাণু অস্ত্র ব্যবহার করার নীতি গ্রহণ করেছে।
চীনও একই কথা বলেছে। তারা বলেছে আগাম পরমাণু হামলা করবে না তারা। আক্রান্ত হলেই কেবল তারা পরমাণু অস্ত্র ব্যবহার করবে।#
পার্সটুডে/নাসির মাহমুদ/৩০