মিয়ানমারের সেনারা রোহিঙ্গা নারীদের ধর্ষণ করেছে
https://parstoday.ir/bn/news/world-i24196-মিয়ানমারের_সেনারা_রোহিঙ্গা_নারীদের_ধর্ষণ_করেছে
মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশে বহু মুসলিম নারী দেশটির সরকারি বাহিনীর সদস্যদের মাধ্যমে ধর্ষিত এবং যৌন হেনস্থার শিকার হয়েছেন। ধর্ষিত নারীর সংখ্যা কয়েক ডজন হবে বলে সেখান থেকে পাওয়া খবরে জানা গেছে।
(last modified 2026-03-14T11:23:49+00:00 )
অক্টোবর ২৮, ২০১৬ ১২:২৯ Asia/Dhaka
  • মিয়ানমারের সেনারা রোহিঙ্গা নারীদের ধর্ষণ করেছে

মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশে বহু মুসলিম নারী দেশটির সরকারি বাহিনীর সদস্যদের মাধ্যমে ধর্ষিত এবং যৌন হেনস্থার শিকার হয়েছেন। ধর্ষিত নারীর সংখ্যা কয়েক ডজন হবে বলে সেখান থেকে পাওয়া খবরে জানা গেছে।

গত সপ্তাহে আট রোহিঙ্গা নারী ধর্ষিত হওয়ার বিস্তারিত বিবরণ দিয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত নারীদের সবাই রাখাইনের দূরবর্তী উ শেই কিয়া গ্রামের অধিবাসী বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।  তারা জানিয়েছেন, মিয়ানমারের সেনারা তাদের ঘরবাড়িতে তল্লাসি চালানোর সময় ব্যাপক লুটপাট চালিয়েছে এবং  তাদেরকে বন্দুকের মুখে ধর্ষণ করেছে।

 চলতি মাসে রাখাইন প্রদেশে সেনা মোতায়েন করা হয়। বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে পুলিশ চৌকিতে হামলার পর সেনা মোতায়েন করে মিয়ানমার সরকার। পুলিশ চৌকিতে হামলার জন্য রোহিঙ্গা মুসলমানদের কোন প্রমাণ ছাড়াই অভিযুক্ত করেছে মিয়ানমার সরকার। ৪০ বছর বয়সী এক মুসলমান নারী বলেন, মিয়ানমারের চার সেনা তাকে পর্যায়ক্রমে ধর্ষণ করেছে এবং নগদ টাকাকড়ি ও গহনা লুট করেছে। নরপশুদের হাত থেকে তার ১৫ বছরের মেয়েও রক্ষা পায় নি বলেও জানান তিনি।

৩২ বছর বয়সী আরেক রোহিঙ্গা নারীও বলেছেন, মিয়ানমারের সেনারা তাকে ধর্ষণ করেছে। সেনারা তাকে বলেছে, তোদের সবাইকে মেরে ফেলব, তোদেরকে মিয়ানমারে থাকতে দেয়া হবে না। সোনা-গহনাসহ যা কিছু মূল্যবান মনে হয়েছে মিয়ানমারের সেনারা তার সবই লুটপাট করেছে বলেও জানান তিনি। ৩০ বছর বয়সী অন্য আরেক নারী বলেন, খাবার-দাবার এবং কাপড়-চোপড় সবই লুটপাট হয়ে গেছে। এমনকি পরার মতো কোনো কাপড়ও নেই বলেও উল্লেখ করে অসহায় এ নারী বলেন, ভয়ে-আতংকে এবং লজ্জায় মাটির সাথে মিশে যেতে চাইছি। উ শেই কিয়া গ্রামের আরো পাঁচ নারী ধর্ষিত হওয়ার বিস্তারিত বিবরণ দিয়েছেন।

গ্রামটির অন্তত তিন পুরুষ সদস্য এবং একজন রোহিঙ্গা নেতা এসব ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। উ শেই কিয়ার প্রশাসনিক কর্মকর্তা আরমা হারকিম বলেন, এসব বক্তব্য তদন্ত করে দেখা হচ্ছে, তবে গ্রামের অধিবাসীদের বেশিরভাগই এসব বক্তব্যকে সত্য বলে মনে করেন। গ্রামের অধিবাসীরা বলেছেন, গত ১৯ অক্টোবর প্রায় ১৫০ জন সেনা উ শেই কিয়াতে হামলা করেছিল। সে সময়ে গ্রামের বেশির ভাগ পুরুষই প্রাণ ভয়ে সরে যেতে বাধ্য হয়েছিলেন। মিয়ানমারের প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র গ্রামবাসীদের এসব বক্তব্যকে তার ভাষায় ‘বানোয়াট’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। অবশ্য গ্রামটিতে সেনাদের তল্লাসি চালানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তিনি।#

পার্সটুডে/মূসা রেজা/২৮