গুলেন পরিচালিত স্কুলের তুর্কি কর্মীদের পাকিস্তান ত্যাগের নির্দেশ
পাক-তুর্ক স্কুল অ্যান্ড কলেজ নেটওয়ার্কের তুরস্কের কর্মীদের চলতি মাসের ২০ তারিখে মধ্যে পাকিস্তান ত্যাগের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তুর্কি বিরোধী নেতা ফতেউল্লাহ গুলেন এ শিক্ষা নেটওয়ার্ক পরিচালনা করেন। তুর্কি প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোগানের দেশটি সফরের আগে কোনোরকম পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই এ নির্দেশ দিল পাক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়।
গোটা পাকিস্তানে পাক-তুর্ক স্কুল অ্যান্ড কলেজ নেটওয়ার্ক পরিচালিত ২৮টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এ সব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক ও কর্মী মিলিয়ে ১০৮ জন তুরস্কের নাগরিক রয়েছে। তাদের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে মোট সংখ্যা ৪০০ হবে বলে জানানো হয়েছে। এ সব স্কুল নিজ আয়ে পরিচালিত হয়। প্রতিষ্ঠানের ৩৫ শতাংশ ছাত্রকে বিনা পয়সা শিক্ষা এবং থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করার পাশাপাশি বিদেশি বৃত্তির ব্যবস্থাও রয়েছে।
পাক সরকারের পদস্থ এক কর্মকর্তা বলেছেন, পাক-তুর্ক স্কুল অ্যান্ড কলেজের তুর্কি কর্মীদের ভিসা বাতিল করা হয়েছে। রোববার এক চিঠিতে তাদেরকে এ বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে। পাকিস্তান ত্যাগের জন্য তাদেরকে মাত্র এক সপ্তাহের সময় দেয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। পাক পররাষ্ট্র দফতরের উপদেশের ভিত্তিতে এ পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।
পাক সরকারের ‘তড়িঘড়ি’ পদক্ষেপ’ উদ্বেগ প্রকাশ করেছে প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ। এক বিবৃতিতে কর্তৃপক্ষ, তাদের উদ্বেগের কথা জানিয়েছে।
এরদোগানের বিরুদ্ধে ব্যর্থ অভ্যুত্থান প্রচেষ্টার সঙ্গে মার্কিন প্রবাসী তুর্কি ধর্মীয় নেতা ফতেহউল্লাহ গুলেন জড়িত বলে তুরস্ক দাবি করছে। আর এর পরিপ্রেক্ষিতে আগস্ট মাসে পাকিস্তানে গুলেন পরিচালিত শিক্ষা এবং সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ করে দেয়ার আহ্বান জানিয়েছিল আঙ্কারা।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছাড়াও পাকিস্তানে রুমি ফোরাম পরিচালনা করেন গুলেন। এ ছাড়া, গুলেনের ব্যবসায়িক তৎপরতাও রয়েছে দেশটিতে। গত কয়েক দশক ধরে পাকিস্তানে এ সব সংস্থা পরিচালিত হচ্ছে।#
পার্সটুডে/মূসারেজা/১৬