ধর্মের নামে উগ্রপন্থা মোকাবেলায় মুসলিম ও খ্রিস্টান পণ্ডিতদের সংলাপ
https://parstoday.ir/bn/news/world-i26632-ধর্মের_নামে_উগ্রপন্থা_মোকাবেলায়_মুসলিম_ও_খ্রিস্টান_পণ্ডিতদের_সংলাপ
গত ২২ ও ২৩ নভেম্বর মুসলিম ও খ্রিস্টান পণ্ডিতদের মধ্যে "ধর্মের নামে উগ্রপন্থার বিস্তার" শীর্ষক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিবৃতি প্রকাশের মধ্য দিয়ে সম্মেলন শেষ হয়।
(last modified 2026-03-14T11:23:49+00:00 )
নভেম্বর ২৪, ২০১৬ ১৬:১৩ Asia/Dhaka
  • ধর্মের নামে উগ্রপন্থা মোকাবেলায় মুসলিম ও খ্রিস্টান পণ্ডিতদের সংলাপ

গত ২২ ও ২৩ নভেম্বর মুসলিম ও খ্রিস্টান পণ্ডিতদের মধ্যে "ধর্মের নামে উগ্রপন্থার বিস্তার" শীর্ষক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিবৃতি প্রকাশের মধ্য দিয়ে সম্মেলন শেষ হয়।

ভ্যাটিক্যানের আন্ত:ধর্ম সংলাপের অংশ হিসেবে পোপ পরিষদের প্রধান কার্ডিনাল জন লুই তোরান এবং ইরানের ইসলামী যোগাযোগ ও সংস্কৃতি বিষয়ক দফতরের প্রধান আবুযার ইব্রাহিমি তুর্কমানের যৌথ সভাপতিত্বে ইতালির রাজধানী রোমে ওই সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সংলাপ শেষে প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, "উগ্রপন্থীরা ধর্মের নামে খুব সহজেই সহিংস কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। অথচ ধর্ম সবসময়ই এসব উগ্রতা ও সহিংসতার বিরোধী। কারণ ধর্মের মূল নীতিই হচ্ছে প্রতিপক্ষকে ক্ষমা করা এবং অসহায় মানুষদের পাশে এসে দাঁড়ানো।"

এ সংলাপ অনুষ্ঠানে ইরানের ইসলামী যোগাযোগ ও সংস্কৃতি বিষয়ক দফতরের প্রধান আবুযার ইব্রাহিমি বর্তমান বিশ্বের সংকটের জন্য আধুনিক বা নব্য জাহিলিয়াতকে দায়ী করে বলেছেন, মানব জীবন থেকে ধর্মকে বিসর্জন দেয়ার কারণেই সবার দুঃখকষ্টের প্রধান কারণ। তাই আমাদের সবার উচিৎ হবে ধর্মের নামে উগ্রতা ও বিরাজমান মূর্খতা বা নব্য জাহিলিয়াত থেকে বের হয়ে আসার চেষ্টা করা। এ সংলাপ অনুষ্ঠানে পোপের সচিব কার্ডিনাল জন লুই তোরানও বর্তমান বিশ্বে বিরাজমান নানা সংকটের কথা উল্লেখ করে বলেছেন, ঐশী ধর্মের অনুসারীরা ধর্মের নামে গড়ে ওঠা সহিংসতার কারণগুলো চিহ্নিত করে সারা বিশ্বে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, আল কায়েদা থেকে শুরু করে দায়েশ, বোকোহারাম, আশ্‌ শাবাবসহ ধর্মের নামে গড়ে ওঠা অন্যান্য সন্ত্রাসী গোষ্ঠী নব্য জাহিলিয়াতের ফসল যারা কিনা সহিংসতার ক্ষেত্রে কোনো সীমা পরিসীমা মানে না। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে চলমান সহিংস কার্যক্রম, নিরাপত্তাহীনতা, ভ্রাতৃহত্যা, দেশ দখল এসবই  হচ্ছে নব্য জাহিলিয়াতের বড় দৃষ্টান্ত। আর এসব কিছুর পেছনে আমেরিকার নেতৃত্বে সাম্রাজ্যবাদী বৃহৎ শক্তিগুলোর হাত রয়েছে।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হযরত আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী কিছুদিন আগে মুসলিম দেশগুলোর রাষ্ট্রদূত ও বিভিন্ন শ্রেণীর জনগণের সমাবেশে বলেছেন, ইসলামপূর্ব যুগে জাহিলিয়াতের প্রধান দুটি দিক ছিল উচ্চাকাঙ্ক্ষা ও জুলুম। তিনি বলেন, আজকেও আমরা অরাজকতা থেকে মুক্ত নই। বরং বর্তমানে যেসব হত্যাকাণ্ড ও ধ্বংসযজ্ঞ চলছে তার পেছনে আরো অত্যাধুনিক অস্ত্র ব্যবহৃত হচ্ছে যা অত্যন্ত বিপদজনক। নব্য জাহিলিয়াতের ধ্বংসাত্মক প্রভাব বর্তমানে আমরা পাশ্চাত্যের সামাজিক, নৈতিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনেও দেখতে পাচ্ছি। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা বলেন, দুঃখজনকভাবে আমরা দেখতে পাচ্ছি পাশ্চাত্যের সংবাদ ও রাজনৈতিক মহল দায়েশের মতো সন্ত্রাসীদেরকে বিশ্বব্যাপী ইসলাম ও মুসলিম আতঙ্ক সৃষ্টির কাজে ব্যবহার করছে।

প্রকৃতপক্ষে, উগ্রবাদ মোকাবেলার দাবিদার পাশ্চাত্যবিশ্ব সন্ত্রাস ও উগ্রবাদের মোকাবেলার পরিবর্তে তাদের প্রতি সমর্থন যোগাচ্ছে। অথচ তারাই আবার ইসলামকে সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে যুক্ত করে দেখানোর চেষ্টা করছ। অথচ সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে ধর্মের কোনো সম্পর্ক নেই। এ অবস্থায় সব ঐশী ধর্মের অনুসারীরা সম্মিলিতভাবে পারে অশুভ এই শক্তির মোকাবেলা করতে। #

পার্সটুডে/মোঃ রেজওয়ান হোসেন/২৪