রোহিঙ্গা মুসলিম হত্যাকাণ্ড চলছে: জাতিসংঘের বিবৃতি
https://parstoday.ir/bn/news/world-i27202-রোহিঙ্গা_মুসলিম_হত্যাকাণ্ড_চলছে_জাতিসংঘের_বিবৃতি
জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাই কমিশনার মোহাম্মদ রেজা আসগারি এক বিবৃতিতে বলেছেন, মিয়ানমারের সেনাবাহিনী সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর ভয়াবহ মানবতা বিরোধী অপরাধযজ্ঞ চালাতে পারে।
(last modified 2026-03-14T11:23:49+00:00 )
ডিসেম্বর ০১, ২০১৬ ১৩:৪৮ Asia/Dhaka

জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাই কমিশনার মোহাম্মদ রেজা আসগারি এক বিবৃতিতে বলেছেন, মিয়ানমারের সেনাবাহিনী সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর ভয়াবহ মানবতা বিরোধী অপরাধযজ্ঞ চালাতে পারে।

বিবৃতিতে আরো বলা হয়েছে, গত জুন মাসে জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদ রোহিঙ্গাদের বিষয়ে যে প্রস্তাব বা পরামর্শ দিয়েছিল মিয়ানমার সরকার তা বাস্তবায়ন করেনি। এদিকে, বাংলাদেশে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার জন ম্যাককিসিক বলেছেন, রোহিঙ্গা মুসলমানদের বিরুদ্ধে জাতিগত সংখ্যালঘু নিধনে নেমেছে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ। তিনি বলেছেন, গত অক্টোবরে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর হামলার মুখে প্রায় ৩০,০০০ রোহিঙ্গা মুসলিম শরণার্থী বাংলাদেশে পালিয়ে গেছে। ম্যাককিসিক আরো বলেছেন, মিয়ানমারের সেনাবাহিনী পুরুষ ও শিশুদেরকে নৃশংসভাবে হত্যা করছে, নারীদেরকে ধর্ষণ করছে, তাদের বাড়িঘর জ্বালিয়ে দিচ্ছে। ফলে প্রাণ বাঁচাতে নদী পার হয়ে সবাই বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে বাধ্য হচ্ছে।

নিউইয়র্ক ভিত্তিক আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচও জানিয়েছে, গত সপ্তাহে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী রোহিঙ্গা মুসলমানদের প্রায় এক হাজার বাড়ি জ্বালিয়ে দিয়েছে।

রাখাইন রাজ্যে পুলিশ ঘাঁটিতে অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তিদের হামলার ঘটনার অজুহাতে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী গত অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত শত শত রোহিঙ্গা মুসলমানকে হত্যা করেছে এবং হাজার হাজার মানুষ শরণার্থীতে পরিণত হয়েছে। ওই হামলায় ৯ পুলিশ নিহত হয়েছে বলে দাবি করে সেনাবাহিনী এর জন্য রাখাইন মুসলমানদেরকে অভিযুক্ত করেছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, বিভিন্ন তথ্যপ্রমাণে দেখা যায়, অনেক বড় ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর মিয়ানমারের সেনাবাহিনী গণহত্যা চালাচ্ছে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর সংগঠন আসিয়ানও এ গণহত্যার বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। গত সপ্তাহে মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও থাইল্যান্ডের শত শত মুসলমান নিজ নিজ দেশে মিয়ানমারের দূতাবাসের সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছে। তারা রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর গণহত্যা বন্ধের দাবি জানিয়েছেন। মিয়ানমার আসিয়ান জোটের সদস্য হওয়ায় এই জোটের সদস্য মুসলিম দেশগুলোর জনগণ আশা করছে রাখাইনে গণহত্যা বন্ধে এই জোট তার প্রভাবকে কাজে লাগাবে।

আসিয়ানের সদস্য ইন্দোনেশিয়া হচ্ছে সবচেয়ে মুসলিম জনবহুল দেশ। এ কারণে রোহিঙ্গা মুসলমানদের রক্ষায় ইন্দোনেশিয়ার বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। আসিয়ান ভুক্ত দেশগুলো যদি রোহিঙ্গা মুসলমানদের সমর্থনে শক্ত অবস্থান নিত তাহলে মিয়ানমার সরকার এভাবে গণহত্যা চালানোর সাহস পেত না। বিস্ময়ের ব্যাপার হচ্ছে জাতিসংঘ, ওআইসিসহ আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো রোহিঙ্গা মুসলমানদের রক্ষায় এখন পর্যন্ত কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। #   

পার্সটুডে/মোঃ রেজওয়ান হোসেন/১