‘রোহিঙ্গা পল্লীতে আগুন দেয়ার সঙ্গে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী জড়িত’
মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশের রোহিঙ্গা পল্লীগুলোতে আগুন দেয়ার সঙ্গে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী জড়িত ছিল বলে জানিয়েছে মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বা এইচআরডব্লিউ। এটি বলেছে, আলামত এবং সাক্ষীদের সঙ্গে আলাপের ভিত্তিতে বোঝা যাচ্ছে, রোহিঙ্গা মুসলমানদের শাস্তি দেয়ার লক্ষ্যে এমন কাজ করা হয়েছে।
নিউ ইয়র্কভিত্তিক সংস্থাটি আজ (মঙ্গলবার) উপগ্রহ থেকে নেয়া ছবি এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষাৎকার প্রকাশ করেছে। এইচআরডব্লিউ বলেছে, ২০১৫ সালের অক্টোবরের পর থেকে রাখাইন প্রদেশে অন্তত ১,৫০০ ভবন ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে। মিয়ানমারের সবচেয়ে বেশি রোহিঙ্গা মুসলমান এ প্রদেশে বসবাস করেন।
এইচআরডব্লিউ’র এশিয়া বিষয়ক পরিচালক ব্র্যাড অ্যাডামস বলেন, নতুন এ সব আলামত ও সাক্ষ্য প্রমাণের মধ্য দিয়ে মিয়ানমার সরকারের দাবি নস্যাৎ হয়ে গেছে। রোহিঙ্গারা নিজেরাই নিজেদের পল্লীগুলোতে আগুন লাগানোর জন্য দায়ী বলে এর আগে মিয়ানমার সরকার ভিত্তিহীন দাবি করেছিল।
অ্যাডামস আরো বলেন, উপগ্রহ থেকে নেয়া ছবি এবং সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে এ সব ভবন এবং ঘরবাড়িতে আগুন দেয়ার জন্য সন্দেহের আঙ্গুল মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর দিকে ইঙ্গিত করছে।
তিনি আরো বলেন, সত্যিই এটা বিশ্বাস করা কঠিন যে একটি এলাকায় এক মাসের মধ্যে তিনশ’র বেশি দালান ও ঘরবাড়িতে জঙ্গিরা আগুন দিয়েছে আর মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনী নীরবে দাঁড়িয়ে তা প্রত্যক্ষ করেছে।
উপগ্রহ থেকে তোলা ছবির মাধ্যমে মিয়ানমারের সরকারি কর্মকর্তারা হাতেনাতে ধরা পড়ে গেছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ ঘটনা অব্যাহতভাবে অস্বীকার করে তারা যে আস্থা হারিয়েছেন তা মেনে নেয়ার সময় এসে গেছে।#
পার্সটুডে/মূসা রেজা/১৩