রোহিঙ্গা মুসলমানদের নির্যাতনের হাত থেকে রক্ষা করার উপায়
মিয়ানমারের রোহিঙ্গা নারীদের ওপর যৌন নির্যাতনের বিরুদ্ধে অবিলম্বে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য দেশটির সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বা এইচআরডাব্লিউ। সংস্থাটি মিয়ানমার সরকারের কঠোর সমালোচনা করে বলেছে, সেদেশের সেনাবাহিনী গত বছরের ৯ অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত রাখাইন প্রদেশের অন্তত নয়টি গ্রামে গণধর্ষণ চালিয়েছে।
এইচআরডাব্লিউ’র এই প্রতিবেদনের সঙ্গে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাই কমিশনের পক্ষ থেকে গত ৩ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত প্রতিবেদনের মিল রয়েছে। জাতিসংঘের প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছিল ১০১ রোহিঙ্গা নারীর সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে। এসব নারীর অর্ধেকেরও বেশি তাদের সাক্ষাৎকারে অভিযোগ করেন, তাদেরকে ধর্ষণ অথবা যৌন হয়রানি করেছে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী।
জাতিসংঘের পাশাপাশি এইচআরডাব্লিউ’র পক্ষ থেকে রোহিঙ্গা নারীদের ওপর বলাৎকারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান জানানোয় বোঝা যায়, মিয়ানমারের সংখ্যালঘু মুসলমানদের ওপর দেশটির সরকারের দমন অভিযানের ব্যাপারে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
রাখাইন প্রদেশের মুসলমানদের বিরুদ্ধে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর সাম্প্রতিক সহিংসতা, হত্যা, যৌন নির্যাতন ও ধর্ষণের তীব্রতা এত বেশি ছিল যে, আন্তর্জাতিক সংগঠনগুলো একে জাতিগত শুদ্ধি অভিযান, যুদ্ধাপরাধ ও মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ বলে অভিহিত করেছে। এই দমন অভিযান থেকে জীবন ও ইজ্জত রক্ষার লক্ষ্যে হাজার হাজার রোহিঙ্গা মুসলমান পালিয়ে প্রতিবেশী বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছেন।
জাতিসংঘের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মিয়ানমারের সহিংসতা থেকে রক্ষা পেতে ৬৫,০০০ রোহিঙ্গা মুসলমান বাংলাদেশে পালিয়ে গেছেন। তারা বাংলাদেশের বিভিন্ন শরণার্থী শিবিরে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। এ ছাড়া, এর আগে থেকেই বাংলাদেশে বসবাস করছিলেন আরো তিন লাখ ২০,০০০ রোহিঙ্গা মুসলমান।
আন্তর্জাতিক সমাজ ও বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনের পক্ষ থেকে সংখ্যালঘু মুসলমানদের ওপর নিপীড়ন-নির্যাতন বন্ধ করার ব্যাপক আহ্বান সত্ত্বেও মিয়ানমার সরকার এ ব্যাপারে তেমন কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। ব্যাপক তথ্য-প্রমাণ ও সাক্ষী থাকা সত্ত্বেও মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর নির্যাতন, হত্যা ও ধর্ষণের অভিযোগ স্বীকারই করছে না।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এ অবস্থায় মিয়ানমার সরকারের ওপর কঠোর চাপ প্রয়োগ করা ছাড়া দেশটির মুসলমানদের জীবন ও সম্মান রক্ষা করা সম্ভব হবে না। চাপ প্রয়োগের এই কাজটি করতে পারে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর সংগঠন আসিয়ান এবং জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিরাপত্তা রক্ষার প্রধান কর্তা নিরাপত্তা পরিষদ রোহিঙ্গা মুসলমানদের নির্যাতনের হাত থেকে রক্ষা করার দায় এড়াতে পারে না।
তাদের মতে, রোহিঙ্গা মুসলমানদেরকে মিয়ানমারের সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় চলমান নির্যাতনের হাত থেকে রক্ষার অন্যতম উপায় হতে পারে দেশটির আসিয়ান সদস্যপদ স্থগিত করা। এতে দেশটির সরকারের টনক নড়তে পারে। পাশাপাশি জাতিসংঘের পক্ষ থেকে শুধু প্রতিবেদন আর বিবৃতি প্রকাশই যথেষ্ট নয়। নিরাপত্তা পরিষদের পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে কঠোর প্রস্তাব পাস করতে হবে এবং তা কার্যকর করার জন্য প্রয়োজনে বলপ্রয়োগ করতে হবে। তা করা গেলেই কেবল মিয়ানমারের রোহিঙ্গা মুসলমানদেরকে জাতিগত শুদ্ধি অভিযানের হাত থেকে রক্ষা করা সম্ভব হবে।#
পার্সটুডে/মুজাহিদুল ইসলাম/৭