নিহত রোহিঙ্গার সংখ্যা হাজার ছাড়িয়েছে; পুনর্বাসন পরিকল্পনা নিয়েও বাড়ছে উদ্বেগ
মিয়ানমারে সেনাবাহিনীর দমনাভিযানে এক হাজারেরও বেশি রোহিঙ্গা মুসলমান নিহত হয়ে থাকতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ। গত অক্টোবর মাস থেকে নতুনকরে শুরু হওয়া দমনাভিযানের নিহতদের পরিসংখ্যান তুলে ধরতে গিয়ে এ আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘের দুই উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা। তারা দু'জনই বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের নিয়ে কাজ করছেন। তারা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সঙ্কটের যে চিত্র উদঘাটিত হচ্ছে তার ভয়াবহতা বহির্বিশ্ব পুরোপুরি অনুধাবন করতে পারেনি।
রাখাইন রাজ্যে গত ৯ অক্টোবর থেকে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের নাম করে রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর গণহত্যা-গণধর্ষণ-গণগ্রেফতার চালাচ্ছে মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনীগুলো। এ পরিস্থিতিতে নিপীড়ন থেকে বাঁচতে প্রায় ৭০ হাজার রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। জাতিসংঘের দুই কর্মকর্তা পৃথক সাক্ষাৎকারে রয়টার্সকে জানান, গত চার মাসে তাদের সংস্থাগুলো শরণার্থীদের যেসব সাক্ষ্য জোগাড় করেছে তা থেকে মৃতের সংখ্যা হাজার ছাড়িয়ে যাবে বলেই ধারণা পাওয়া যায়।
এদিকে, মিয়ানমারের প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র জাও হতাই জাতিসংঘের দুই কর্মকর্তার এ পরিসংখ্যান প্রসঙ্গে বলছেন, তাদের সামরিক কমান্ডারদের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী একশরও কম মানুষ নিহত হয়েছে। জাতিসংঘের দুই কর্মকর্তার পক্ষ থেকে নিহতের যে সংখ্যা তুলে ধরা হয়েছে সে বিষয়টি ঘটনাস্থলে গিয়ে খতিয়ে দেখতে হবে। এর আগেও রোহিঙ্গা মুসলমনাদের ওপর দমন-পীড়ন সম্পর্কে জাতিসংঘসহ বিশ্বের বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা যেসব প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে সেগুলোকে প্রত্যাখ্যান অথবা বিষয়গুলো খতিয়ে দেখার কথা বলেছে মিয়ানমার সরকার। যেসব বিষয় খতিয়ে দেখার কথা বলা হয়েছিল সেগুলোও পরবর্তীতে নানা তালবাহানায় প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে।
ফলে এটা স্পষ্ট যে, মুসলমান নিহতের সংখ্যার বিষয়টি খতিয়ে দেখার কথা তারা বললেও বাস্তবে খুব শিগগিরই তারা তা প্রত্যাখ্যান করবে। গত শুক্রবার প্রকাশিত জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয়ের এক প্রতিবেদনেও রোহিঙ্গাদের ওপর পরিচালিত সরকারি বর্বরতার কথা তুলে ধরা হয়। সেখানে উঠে এসেছে কত নির্মমভাবে শিশুদের সামনে মায়েদেরকে হত্যা করা হয়েছে। ধর্ষণে বাধা দেয়ার কারণে শিশুর গলায় ছুরি চালিয়ে খুন করা হয়েছে।
বিভিন্ন রিপোর্টে জানা গেছে, বাংলাদেশে যেসব রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছে তাদের অবস্থাও ভালো নয়। খাদ্যসহ নানা সংকটে ভুগছে তারা। এরিমধ্যে নতুন এক আশঙ্কা আশ্রয়গ্রহণকারী রোহিঙ্গাদেরকে কষ্ট দিচ্ছে আর তাহলো বাংলাদেশ সরকারের পুনর্বাসন পরিকল্পনা। বাংলাদেশ সরকার ঠেঙ্গারচর নামে একটি দ্বীপে রোহিঙ্গা মুসলমানদের পুনর্বাসন করতে চায়। কিন্তু বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে, বর্ষাকাল এলেই দ্বীপটি বন্যার পানিতে তলিয়ে যায়। বিভিন্ন মহল ও সংস্থা থেকে এ পরিকল্পনার বিরোধিতা করা হয়েছে। এ পরিকল্পনা অবিলম্বে বাতিল করার জন্য আহ্বান জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ।
ওই বিবৃতিতে ওই দ্বীপটিকে অনুন্নত উপকূলীয় বন্যা-প্রবণ দ্বীপ হিসেবে উল্লেখ করে, তাদের বিচ্ছিন্ন করে সেখানে না পাঠানোর আহ্বান তুলে ধরা হয়। তবে রোহিঙ্গাদের অবস্থা নিয়ে বিভিন্ন সংস্থার পক্ষ থেকে নানা প্রতিবেদন প্রকাশ করা হলেও সংকট সমাধানের কার্যকরি কোন উদ্যোগ চোখে পড়ছে না। ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা ওআইসি এবং জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ মিয়ানমার সরকারের অন্যায় তৎপরতা বন্ধে জোরালো কোনো পদক্ষেপ এখন পর্যন্ত নেয়নি।#
পার্সটুডে/সোহেল আহম্মেদ/৯