মার্কিন সমর্থন চাইলে অর্থ দিতে হবে: ন্যাটোকে ম্যাটিস
-
মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেমস ম্যাটিস (বামে) ও ন্যাটো মহাসচিব জেন্স স্টোলটেনবার্গ
মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেনারেল জেমস ম্যাটিস বলেছেন, উত্তর আটলান্টিক চুক্তি সংস্থা বা ন্যাটো জোটের নীতিকে সমর্থন করেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে মার্কিন সমর্থন পাওয়ার বিনিময়ে ন্যাটো জোটের মিত্র দেশগুলোর উচিত হবে আমেরিকাকে অর্থ পরিশোধ করা।
শুরু থেকেই ডোনাল্ড ট্রাম্প ন্যাটো সদস্য দেশসহ মার্কিন মিত্রদের সমালোচনা করে আসছেন। তিনি বলছেন, সদস্য দেশগুলো ন্যাটো জোটের জন্য ঠিকমতো তাদের অংশের অর্থ পরিশোধ করছে না বরং কিছু দেশ জোটের জন্য সমস্যা তৈরি করছে।
এ প্রসঙ্গে বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে ন্যাটো সদর দপ্তরে বুধবার মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও ‘পাগলা কুকুরখ্যাত’ ম্যাটিস বলেন, নিরংকুশভাবে আমেরিকার করদাতারা ন্যাটো জোটের প্রতিরক্ষা ব্যয় বহন করতে পারে না।
ম্যাটিস বলেন, “যদি আপনাদের দেশগুলো আমেরিকার সীমিত প্রতিশ্রুতি দেখতে না চায় তাহলে প্রতিটি দেশকে আমাদের অভিন্ন প্রতিরক্ষার জন্য সমর্থন দেখানো উচিত।” তিনি ন্যাটো জোটের প্রতি আমেরিকার প্রতিশ্রুতির কথা তুলে ধরার চেষ্টা করে বলেন, মার্কিন সরকার সত্যিকারভাবেই ন্যাটোর প্রতি অঙ্গীকারাবদ্ধ এবং বিশ্বের সবচেয়ে সেরা নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভোগ করার জন্য সদস্য দেশগুলোর ন্যায্যভাবে অর্থ পরিশোধ করা উচিত।
জেনারেল ম্যাটিসের বক্তব্যের প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করেছেন জার্মান প্রতিরক্ষামন্ত্রী উরসুলা ভন ডের লিয়েন। তিনি বলেছেন, মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রীর বক্তব্য সঠিক। এ ক্ষেত্রে ইউরোপ সম্মিলিতভাবে আমেরিকার ওপর থেকে চাপ কমানোর চেষ্টা করছে। ইউরোপের দেশগুলো ন্যাটো জোটে তাদের অবদান রাখার চেষ্টা করছে এবং ধীরে ধীরে তা বাড়বে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এ প্রসঙ্গে তিনি তার দেশের সামরিক বাজেট বাড়ানোর কথা উল্লেখ করেন। জার্মানি এবার তার সামরিক বাজেট শতকরা আট ভাগ বাড়িয়েছে।
তবে ন্যাটো মহাসচিব জেনারেল জেন্স স্টোলটেনবার্গ মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রীর বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করেন নি। তিনি বলেছেন, ইউরোপ তার সামরিক ব্যয় বাড়াবে -এ ধারণার সঙ্গে তিনি একমত নন। তিনি সরাসরি বলেন, জেনারেল ম্যাটিস যা চাইছেন সেটা তা নয়। অবশ্য, বৈঠক শেষে স্টোলটেনবার্গ বলেন, তিনি যা বলেছেন তাতে ন্যাটোর প্রতি আমেরিকার জোরালো প্রতিশ্রুতির কথা তুলে ধরেছেন।#
পার্সটুডে/সিরাজুল ইসলাম/১৬