দ্বিপক্ষীয় সমঝোতা মেনে চলুন: ইসলামাবাদের প্রতি কাবুলের আহ্বান
পাকিস্তান থেকে আফগান শরণার্থীদের বের করে দেয়ার ক্ষেত্রে দ্বিপক্ষীয় সমঝোতা মেনে চলার জন্য ইসলামাবাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে কাবুল। সম্প্রতি পাকিস্তান সরকার দেশটির খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশ থেকে ২৩৫ জন শরণার্থীকে বহিস্কার করার পর কাবুল এ আহ্বান জানাল।
পাকিস্তানে বর্তমানে অবৈধভাবে প্রায় ৬ লাখ আফগান শরণার্থী বসবাস করছে। সাম্প্রতিক সময়ে কাবুলের ওপর রাজনৈতিক চাপ প্রয়োগের হাতিয়ার হিসেবে এই ইস্যুকে ব্যবহার করার চেষ্টা করছে ইসলামাবাদ। পাকিস্তান থেকে আফগান শরণার্থীদের বের করে দেয়ার আলোচনা শুরু হয় প্রায় দুই বছর আগে। গত দুই বছরে দেশটি থেকে বহু আফগান পরিবারকে নিজ দেশে ফিরে যেতে বাধ্য করা হয়েছে।
কিন্তু আফগান সরকারের প্রতিবাদ এবং জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাই কমিশনের হস্তক্ষেপে পাকিস্তান আফগান শরণার্থীদের জোর করে বহিস্কারের কার্যক্রম স্থগিত করে। জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় গত ১৫ ফেব্রুয়ারি কাবুল ও ইসলামাবাদের মধ্যে এক সমঝোতা হয় যাতে বলা হয়, আফগান শরণার্থীরা স্বেচ্ছায় নিজ দেশে ফিরে যাবে। কিন্তু কাবুল এখন বলছে, ইসলামাবাদ ওই সমঝোতা না মেনে শরণার্থী প্রত্যাহারের বিষয়টিকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে।
গত সপ্তাহে পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশের একটি মাজারে ভয়াবহ বোমা হামলার পর দেশটির গোয়েন্দা সংস্থাগুলো দাবি করে, পাকিস্তানে অবস্থানরত আফগান সন্ত্রাসীরা এ হামলা চালিয়েছে। এই অজুহাতে ইসলামাবাদ আবার আফগান শরণার্থীদের বহিস্কার করার কাজে হাত দেয়।
কয়েকটি দিক দিয়ে বিষয়টি কাবুলের জন্য উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। প্রথমত, চলমান শীতে সীমান্ত এলাকায় হাজার হাজার শরণার্থীকে আশ্রয় দেয়ার কোনো ব্যবস্থা আফগানিস্তানের নেই। দ্বিতীয়ত তালেবান ও দায়েশের সন্ত্রাসী হামলার কারণে কান্দাহার, নানগারহার ও হেলমান্দের মতো প্রদেশগুলোর হাজার হাজার মানুষ তাদের ঘরবাড়ি ছেড়ে শরণার্থীর জীবনযাপন করছে। ফলে তাদের সামাল দিতেই হিমশিম খাচ্ছে কাবুল।
আর তৃতীয় যে কারণে আফগান সরকার সবচেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন তা হচ্ছে, বিদেশি সন্ত্রাসীরা শরণার্থীর বেশ ধরে দেশটিতে অনুপ্রবেশ করছে। এ কারণে কাবুল ইসলামাবাদের কাছে অনুরোধ জানিয়েছে, দেশটিতে শরণার্থীদের ফেরত পাঠানোর সময় তাদের জাতীয়তা সম্পর্কে যেন সম্পূর্ণ নিশ্চিত হয়ে নেয়। আফগান সরকার বলছে, পশতু ভাষাভাষী হলেই যে একটি লোক আফগান নাগরিক হয়ে যাবে এটা মেনে নেয়া যায় না। কারণ, পাকিস্তানেও পশতু ভাষাভাষী জনগোষ্ঠীর বসবাস রয়েছে।
আফগান সরকারের দৃষ্টিতে পাকিস্তান হচ্ছে সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্য এবং দেশটির অনেকগুলো মাদ্রাসা সন্ত্রাসী মতবাদের পৃষ্ঠপোষক। কাজেই পাকিস্তানি সন্ত্রাসীরা শরণার্থীর বেশ ধরে আফগানিস্তানে অনুপ্রবেশ করতে পারে। এরইমধ্যে পাকিস্তানের উপজাতি অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে দেশটির সেনাবাহিনীর 'জারবে আজব’ অভিযানের ফলে তেহরিকে তালেবানের বহু সন্ত্রাসী আফগানিস্তানে প্রবেশ করেছে এবং তাদের একটা বড় অংশ দায়েশের আফগান শাখায় যোগ দিয়েছে।
আফগানিস্তানে শান্তি প্রতিষ্ঠার কাছে পাকিস্তান যথাযথ সহযোগিতা করছে না বলে কাবুল বহুদিন ধরে যে অভিযোগ করে আসছে ইসলামাবাদ জোর করে আফগান শরণার্থীদের দেশে ফেরত পাঠিয়ে সে অভিযোগের প্রমাণ উপস্থাপনের জন্য আফগান সরকারের হাতে অজুহাত তুলে দিয়েছে। সে অভিযোগ যে সত্যি নয় তা প্রমাণ করার দায়িত্ব এখন পাকিস্তান সরকারের।#
পার্সটুডে/মুজাহিদুল ইসলাম/২৬