অবশেষে দণ্ডপ্রাপ্ত মার্কিন শিক্ষার্থীকে মুক্তি দিলো উত্তর কোরিয়া
-
দণ্ডপ্রাপ্ত মার্কিন শিক্ষার্থী ওটো ওয়ার্মবিয়ার
১৭ মাস ধরে আটক থাকার পর উত্তর কোরিয়া থেকে ছাড়া পেলেন মার্কিন শিক্ষার্থী ওটো ওয়ার্মবিয়ার। তাকে ছাড়িয়ে আনতে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের একজন কর্মকর্তা উত্তর কোরিয়া সফর করেন এবং দেশটির কর্মকর্তাদের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠকে মিলিত হন বলে সংবাদ মাধ্যমে খবর বের হয়েছে।
উত্তর কোরিয়া বিষয়ক মার্কিন পররাষ্ট্র দফতারের বিশেষ দূত জোসেফ ইউন পিয়ংইয়ং সফর করে ওটো ওয়ার্মবিয়ারের মুক্তি দাবি করার পর তিনি ছাড়া পান বলে গতকাল (বুধবার) নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন। তবে উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা কেসিএনএ জানিয়েছে, মানবিক কারণে এবং আদালতের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে ২২ বছর বয়সি ওই মার্কিন শিক্ষার্থীকে মুক্তি দেয়া হয়েছে। বিস্তারিত আর কিছু জানায় নি সংবাদ মাধ্যমটি।
২০১৫ সালের ডিসেম্বরে উপশহর সিনসিনাটিতে অবস্থিত ইউনিভার্সিটি অব ভার্জিনিয়ার এই ছাত্র পর্যটক হিসেবে কোরিয়ার একটি হোটেলে অবস্থানকালে সেখানকার প্রচারণামূলক ব্যানার চুরির চেষ্টায় অভিযুক্ত হন। ২০১৬ সালের মার্চ মাসে স্বীকারোক্তির পর তাকে ১৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়। তার ক্রন্দনরত স্বীকারোক্তি টেলিভিশনেও প্রচার করে উত্তর কোরিয়া সরকার।
ওটো ওয়ার্মবিয়ার আটকের পর বলেছিলেন, ‘একটি গির্জা আমাকে উত্তর কোরিয়া থেকে গুরুত্বপূর্ণ স্লোগান চুরির জন্য বলেছে; যাতে দেশটির আদর্শিক ঐক্য বিনষ্ট হয় এবং বিনিময়ে ১০ হাজার ডলার দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল। আমিও ব্যানার চুরি করার বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ছিলাম। এখন আমি আমার অপরাধের জন্য উত্তর কোরিয়ার প্রতিটি মানুষের কাছে আমি ক্ষমা চাইছি।’ ওয়ার্মবিয়ারের পরিবার ওয়াশিংটন পোস্টকে জানায়, উত্তর কোরিয়ার অফিসিয়ালস তাদেরকে জানিয়েছিল, ২২ বছর বয়সী এই বন্দীকে কারাগারে নেয়ার কিছু সময়ের মধ্যেই সে খাদ্য বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হলে তাকে ঘুমের ওষুধ দেয়া হয়। এরপর তিনি আর ঘুম থেকে জাগেননি।#
পার্সটুডে/বাবুল আখতার/১৫