মিয়ানমার সেনাবাহিনী ইচ্ছাকৃতভাবে রোহিঙ্গাদের বাড়িতে আগুন দিচ্ছে: এইচআরডব্লিউ
বাংলাদেশ সীমান্তের বিপরীতে রাখাইনের রোহিঙ্গা অধ্যুষিত গ্রামে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ইচ্ছাকৃতভাবে আগুন ধরিয়ে দিচ্ছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার পর্যবেক্ষক সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বা এইচআরডব্লিউ।
শুক্রবার এইচআরডব্লিউ’র বিবৃতিতে বলা হয়েছে, রোহিঙ্গাদের তাদের ঘরবাড়ি ছেড়ে যেতে বাধ্য করার পর জাতিগত নিধনযজ্ঞের অংশ হিসেবে সেনাবাহিনীর নির্বিচারে মুসলমানদের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে।
এতে বলা হয়, ‘১১ থেকে ১৩ সেপ্টেম্বর স্যাটেলাইটে ধরা পড়া সক্রিয় আগুনের চিত্র নির্দেশ করছে যে, মংডু শহরের নতুন এলাকার গ্রামগুলোতে এখন ধ্বংসযজ্ঞ চালানোর জন্য টার্গেট করা হচ্ছে।’
স্যাটেলাইট চিত্র ও সংবেদনশীল তথ্য প্রকাশ করে এইচআরডব্লিউও জানায়, ২৫ আগস্ট থেকে ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রাখাইনের উত্তরাঞ্চলে ৬২টি গ্রাম অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের শিকার হয়েছে।
এ বিষয়ে বিবৃতিতে এইচআরডব্লিউ’র এশিয়া ডিভিশনের উপ-পরিচালক ফিল রবার্টসন বলেন, স্যাটেলাইটের চিত্র যেটা নির্দেশ করেছে সেটার সমর্থনে আমাদের মাঠ পর্যায়ের সমীক্ষাও বলছে- মিয়ানমারের সেনাবাহিনী রাখাইনের উত্তরাঞ্চলে রোহিঙ্গাদের ঘরবাড়ি নির্বিচারে জ্বালিয়ে দেয়ার জন্য সরাসরি দায়ী।
রোহিঙ্গারা নিজেরাই নিজেদের ঘরে আগুন দিচ্ছে বলে মিয়ানমার সরকার যে দাবি তুলেছে সে প্রসঙ্গে সংস্থাটির ক্রাইসিস রেসপন্স বিভাগের পরিচালক তিরানা হাসান বলেন, “সরকারের এমন দাবি ডাহা মিথ্যা। আমাদের তদন্তে পরিষ্কার দেখা যাচ্ছে দেশটির সেনাবাহিনীর সঙ্গে কিছু উগ্রপন্থি মানুষ রোহিঙ্গাদের বাড়ি-ঘরে আগুন দিচ্ছে।”
বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মতে, রাখাইনে রোহিঙ্গাবিরোধী অভিযানে অন্তত ৩ হাজার মানুষকে হত্যা করেছে দেশটির সেনাবাহিনী। তাদের বর্বরোচিত অভিযানের মুখে অন্তত ৪ লাখ রোহিঙ্গা এরইমধ্যে বাংলাদেশে পালিয়ে আশ্রয় নিয়েছে।#
পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/১৬