আকস্মিক সফরে রাখাইনে অং সান সু চি
-
মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সিলর নেত্রী অং সান সু চি
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর নতুন করে সেনাবাহিনীর ভয়াবহ দমন-পীড়ন শুরুর দুই মাস পর আজ প্রথমবারের মত ওই এলাকা পরিদর্শনে গেছেন দেশটির স্টেট কাউন্সিলর নেত্রী অং সান সু চি। একটি সামরিক হেলিকপ্টারে করে আজ (বৃহস্পতিবার) সকাল ৯টায় রাখাইন রাজ্যের রাজধানী সিতয়েতে যান সু চি।
সু চির দপ্তরের মহাপরিচালক জ হতেয় বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, “তিনি (সু চি) মংডু ও বুথিডংয়ে যাবেন। এটি একদিনের সফর। আপাতত এর বেশি কিছু আমি বলতে পারছি না।” তবে কেন হঠাৎ করেই এই সফর, সে সম্পর্কে কিছু জানাননি সু চির এই মুখপাত্র।
রয়টার্স জানিয়েছে, সেনা ও পুলিশ কর্মকর্তাসহ প্রায় ২০ জন রাখাইন সফরে সু চির সঙ্গে রয়েছে। তাদের মধ্যে জ জ নামের এক ব্যবসায়ীও রয়েছেন, যার ওপর একসময় আমেরিকার নিষেধাজ্ঞা ছিল।
গত ২৫ আগস্ট রাখাইনে নতুন করে সেনা অভিযান শুরুর পর নির্বিচারে হত্যা, জ্বালাও-পোড়াওয়ের মধ্যে ছয় লাখের বেশি রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। এর আগে গত কয়েক দশকে বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশে প্রাণ বাঁচানোর তাগিদে এসেছে পাঁচ লাখ রোহিঙ্গা।
রাখাইনে কয়েকশ বছর ধরে রোহিঙ্গা মুসলমানদের বসবাসের ইতিহাস থাকলেও ১৯৮২ সালে আইন করে তাদের নাগরিকত্ব থেকে বঞ্চিত করা হয়। মিয়ানমারের সেনাবাহিনী এবং ক্ষমতাসীন দলের অনেক নেতাই রোহিঙ্গাদের বর্ণনা করে আসছেন ‘বাঙালি সন্ত্রাসী’ ও ‘অবৈধ অভিবাসী’ হিসেবে।

নোবেল বিজয়ী সু চির দল এনএলডি ২০১৫ সালের নির্বাচনে বিপুল বিজয়ের মধ্যে দিয়ে মিয়ানমারের ক্ষমতায় আসার পর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রত্যাশা ছিল, তিনি হয়ত রাখাইনে শান্তি ফেরানোর উদ্যোগ নেবেন। কিন্তু রোহিঙ্গাদের নাগরিক হিসেবে মেনে নেয়া বা অধিকার বঞ্চিত ওই জনগোষ্ঠীর দুর্দশা নিজের চোখে দেখার জন্য রাখাইনে যাওয়ার কোনো আগ্রহ তিনি এর আগে দেখাননি। উপরন্তু গত ২৫ আগস্ট নতুন করে রোহিঙ্গাদের ওপর নেমে আসে ভয়াবহ জুলুম-নির্যাতন। এ ঘটনাকে ‘জাতিগত শুদ্ধি অভিযান’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে জাতিসংঘ। অন্যদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন মিয়ানমার থেকে লাখ লাখ রোহিঙ্গা মুসলমানের বাংলাদেশে প্রবেশের ঘটনাকে ‘বিশ্বের সবচেয়ে বড় শরণার্থী সংকট’ বলে উল্লেখ করেছে।#
পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/২