ইরাাকি স্বেচ্ছাসেবী গণবাহিনী নিয়ে ফরাসি প্রেসিডেন্টেরও গাত্রদাহ!: বাগদাদের তীব্র প্রতিবাদ
https://parstoday.ir/bn/news/world-i49297-ইরাাকি_স্বেচ্ছাসেবী_গণবাহিনী_নিয়ে_ফরাসি_প্রেসিডেন্টেরও_গাত্রদাহ!_বাগদাদের_তীব্র_প্রতিবাদ
ইরাকের স্বেচ্ছাসেবী গণবাহিনী সম্পর্কে ফরাসি প্রেসিডেন্টের সাম্প্রতিক বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে বাগদাদ। 
(last modified 2026-03-14T11:23:49+00:00 )
ডিসেম্বর ০৩, ২০১৭ ১৬:১৩ Asia/Dhaka

ইরাকের স্বেচ্ছাসেবী গণবাহিনী সম্পর্কে ফরাসি প্রেসিডেন্টের সাম্প্রতিক বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে বাগদাদ। 

সম্প্রতি প্যারিসে (গতকাল শনিবার) ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাকরন স্বায়ত্তশাসিত ইরাকি কুর্দিস্তান অঞ্চলের প্রশাসনিক প্রধান নচিরাওয়ান বারজানি সঙ্গে এক বৈঠকে ইরাকের স্বেচ্ছাসেবী গণ-বাহিনীকে বিলুপ্ত করতে বাগদাদ সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

ইরাকি প্রধানমন্ত্রী হায়দার আল-এবাদির মুখপাত্র সা'দ আল হাদিসি ম্যাকরনের ওই বক্তব্যকে ইরাকের ঘরোয়া বিষয়ে হস্তক্ষেপ বলে নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
তিনি গতরাতে ফরাসি প্রেসিডেন্টের ওই দাবির জবাবে বলেছেন, ইরাকের স্বেচ্ছাসেবী গণবাহিনী 'হাশ্‌দ্‌ আশশা'বি'-কে একটি রাষ্ট্রীয় ও  বৈধ সরকারি বাহিনী হিসেবে অনুমোদন দিয়েছে ইরাকি সংসদ এবং এই বাহিনী ইরাকি জনগণের প্রতিনিধিত্ব করছে।  এই বাহিনী এখন ইরাকের সশস্ত্র বাহিনীর অংশ বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

ইরাকি সংসদ গত বছরের অর্থাৎ ২০১৬ সালের ২৬ নভেম্বর স্বেচ্ছাসেবী গণবাহিনী 'হাশ্‌দ্‌ আশশা'বি'-কে  দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর অন্যতম অংশ বলে ঘোষণা করে।
মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ে, বিশেষ করে ইরাক, সিরিয়া ও ইয়েমেনের ব্যাপারে মোটামুটি পাশ্চাত্যের নীতি অনুসরণ করছে ফ্রান্সের ম্যাকরন সরকার। এক্ষেত্রে প্যারিসের স্বাধীন বা স্বতন্ত্র কোনো মতামত দেখা যায় না। অথচ ম্যাকরন দাবি করছেন যে প্যারিস মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ে তার অতীতের ঐতিহাসিক ভূমিকা পুনরুজ্জীবনের চেষ্টা করছে। কিন্তু ম্যাকরনের ভূমিকা থেকে মনে হচ্ছে ইরাক ও সিরিয়ার সংকটের কথিত বৈশ্বিক সমাধানের প্রক্রিয়ায় সহযোগী হয়ে এইসব সমাধানের নতুন সংজ্ঞা দেয়ার চেষ্টা করছেন। 

এটা স্পষ্ট মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ে ম্যাকরনের তৎপরতা ও নীতি মার্কিন হস্তক্ষেপকামী নীতিতেই আচ্ছন্ন হয়েছে। তাই দেখা যায় গত কয়েক মাসে সৌদি আরবসহ পশ্চিম এশিয়া অঞ্চলে মার্কিন মিত্রদের সঙ্গে আগের চেয়েও বেশি ঘনিষ্ঠ হওয়ার ও স্থানীয় জনগণের প্রতিরোধ-বিরোধী নীতি গ্রহণ করেছে প্যারিস।  

ফরাসি প্রেসিডেন্ট ম্যাকরন সম্প্রতি রিয়াদে ইয়েমেনি প্রতিরোধ বাহিনীর হামলার নিন্দা জানিয়েছেন। অথচ গত প্রায় আড়াই বছর ধরে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট ইয়েমেনে যে ব্যাপক গণহত্যা চালিয়েছে সে বিষয়ে কোনো কথা বলেননি ম্যাকরন। তিনি বরং বলেছেন, ফ্রান্স সৌদি আরবের পাশে রয়েছে এবং এই দেশটির সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করছে।  

তাই এটা স্পষ্ট ফ্রান্সের সবচেয়ে কম বয়স্ক প্রেসিডেন্ট ম্যাকরন পশ্চিমাদের ভুল নীতিরই অনুসরণ করছেন। 

ম্যাকরন এমন সময় পশ্চিমা সরকারগুলোর সঙ্গে সুর মিলিয়ে ইরাকের স্বেচ্ছাসেবী গণবাহিনীর বিরুদ্ধে অবস্থান নিলেন যখন এই বাহিনী তাকফিরি-ওয়াহাবি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আইএসআইএল তথা দায়েশ বিরোধী সংগ্রামে কার্যকর ভূমিকা রেখে ঘরোয়া, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।  এমনকি জাতিসংঘের প্রতিনিধিও ইরাককে সন্ত্রাসমুক্ত করার ক্ষেত্রে দেশটির স্বেচ্ছাসেবী গণবাহিনী 'হাশ্‌দ্‌ আশশা'বির ভূমিকার প্রশংসা করেছেন। 

আসলে ইরাক ও সিরিয়া পশ্চিমাদের সর্বাত্মক মদদপুষ্ট দায়েশের দখলদারিত্ব হতে মুক্ত হওয়ার পর থেকে পশ্চিমা শক্তিগুলো এ অঞ্চলের প্রতিরোধ শক্তিগুলোকে নানা অজুহাতে দুর্বল করার চেষ্টা চালাচ্ছে। তাই ফরাসি প্রেসিডেন্টেরও একই ধরনের রহস্যময় নীতি এ অঞ্চলের জনগণ ও সরকারি পর্যায়ে ব্যাপক উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।   #

পার্সটুডে/এমএএইচ/৩