৬০ রুশ কূটনীতিককে আমেরিকা থেকে বহিষ্কারের নির্দেশ
-
ডোনাল্ড ট্রাম্প
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ৬০ জন রুশ কূটনীতিককে বহিষ্কারের নির্দেশ দিয়েছেন। আগামী সাত দিনের মধ্যে এসব কূটনীতিককে আমেরিকা ছাড়তে হবে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘৪ মার্চ এক ব্রিটিশ নাগরিক ও তার মেয়েকে হত্যার চেষ্টায় সামরিক-গ্রেডের নার্ভ এজেন্ট ব্যবহার করেছে রাশিয়া। এর ফলে মিত্রদেশ ব্রিটেনের অনেকের জীবন হুমকির মুখে। ওই হামলায় এক পুলিশ কর্মকর্তাসহ তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন।’ বিবৃতিতে এ হামলাকে ‘কেমিক্যাল ওয়েপনস কনভেনশন এবং আন্তর্জাতিক আইনের ভয়াবহ ও জঘন্য লঙ্ঘন’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
এছাড়া ইউরোপীয় কমিশনের সভাপতি ডোনাল্ড টাস্ক বলেছেন, ১৪টি ইউরোপীয় দেশ থেকেও রুশ কূটনীতিকদের বহিষ্কার করা হবে।
ব্রিটেনের সলসবারিতে সাবেক রুশ গোয়েন্দা কর্মকর্তা সের্গেই স্ক্রিপাল ও তার মেয়ে ইউলিয়ার স্ক্রিপালের ওপর বিষ প্রয়োগের অভিযোগে রাশিয়ার বিরুদ্ধে আমেরিকা ও ইউরোপ একযোগে এ পদক্ষেপ নিল।সাবেক রুশ গোয়েন্দা স্ক্রিপালকে বিষপ্রয়োগের ঘটনায় রাশিয়ার হাত রয়েছে বলে গত সপ্তাহে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতারা একমত হন। তবে ওই ঘটনায় জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেছে রাশিয়া। রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, পশ্চিমা দেশগুলো যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা বন্ধুসুলভ নয়। রুশ প্রেসিডেন্টের দপ্তরের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকোভ বলেছেন, রুশ কূটনীতিক বহিষ্কারের বিষয়ে মস্কোর প্রতিক্রিয়া কী হবে তা নির্ভর করছে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সিদ্ধান্তের ওপর। তিনিই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন।
এর আগে রুশ কূটনীতিকদের বহিষ্কারের প্রতিক্রিয়ায় মস্কোও কয়েকজন ব্রিটিশ কূটনীতিককে বহিষ্কার করেছে।
৪ মার্চ ব্রিটেনের সলসবারি শহরের একটি বিপণিকেন্দ্রের বাইরে বেঞ্চিতে সের্গেই স্ক্রিপাল ও তার মেয়ে ইউলিয়া স্ক্রিপালকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে পুলিশ। এরপর থেকেই বলা হচ্ছে, ওই দুই ব্যক্তিকে রাশিয়া হত্যা করতে চেয়েছিল।
সের্গেই স্ক্রিপাল একসময় রাশিয়ার সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার কর্নেল ছিলেন। ২০০৬ সালে তার বিরুদ্ধে বিশ্বাসঘাতকতার অভিযোগ ওঠে। রাশিয়ায় তাঁর ১৩ বছরের কারাদণ্ড হয়েছিল। এরপর ২০১০ সালে সমঝোতার ভিত্তিতে তিনি মুক্তি পান। মুক্তির পর ব্রিটেনে আশ্রয় নেন স্ক্রিপাল।#
পার্সটুডে/সোহেল আহম্মেদ/২৭