জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিল ছাড়ল আমেরিকা, ইসরাইল খুশি
https://parstoday.ir/bn/news/world-i59242-জাতিসংঘের_মানবাধিকার_কাউন্সিল_ছাড়ল_আমেরিকা_ইসরাইল_খুশি
ইহুদিবাদী ইসরাইলের বিরুদ্ধে ‘রাজনৈতিক পক্ষপাতের’ অভিযোগ এনে জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিল (ইউএনএইচআরসি) থেকে বেরিয়ে গেল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।
(last modified 2026-07-21T05:57:31+00:00 )
জুন ২০, ২০১৮ ০৭:৩৯ Asia/Dhaka
  • মাইক পম্পেও’র সঙ্গে নিকি হ্যালি
    মাইক পম্পেও’র সঙ্গে নিকি হ্যালি

ইহুদিবাদী ইসরাইলের বিরুদ্ধে ‘রাজনৈতিক পক্ষপাতের’ অভিযোগ এনে জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিল (ইউএনএইচআরসি) থেকে বেরিয়ে গেল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।

মঙ্গলবার ওয়াশিংটনে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও’র সঙ্গে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত নিকি হ্যালি।

এসময় মাইক পম্পেও কাউন্সিলকে ‘মানবাধিকারের দুর্বল রক্ষক’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। আর নিকি হ্যালির অভিযোগ, ‘কপট ও স্বার্থপরায়ণ সংস্থাটি মানবাধিকারকে প্রহসনে পরিণত করেছে।‘

গত বছরও এই কাউন্সিলকে ‘ইসরাইলবিরোধী’ আখ্যা দিয়েছিলেন হ্যালি। প্রকাশ্যে হুমকি দিয়েছিলেন, জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিল ধারাবাহিক ইসরাইলবিদ্বেষী ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। একইসঙ্গে তিনি বলেছিলেন, সংস্থাটির সদস্যপদের বিষয়টি মূল্যায়ন করছে আমেরিকা।

এদিকে, ওয়াশিংটনের এই সিদ্ধান্তকে ‘হতাশাব্যঞ্জক’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার জেইদ রাদ আল হুসেইন। তবে খবরটি বিস্ময়কর নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

ইউএনএইচআরসি ছেড়ে দেয়ার মার্কিন সিদ্ধান্তে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেসেস। মুখপাত্রের মাধ্যমে এক বিবৃতি তিনি বলেছেন, ইউএনএইচআরসি-এ ‌আমেরিকা থাকুক এটা খুব বেশি প্রত্যাশিত।

তবে আমেরিকার এ সিদ্ধান্তের প্রশংসা করেছে ইহুদিবাদি ইসরাইল।

গাজায় ইসরাইলি হামলা

২০০৬ সালে প্রতিষ্ঠার পর দখলীকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরাইলের আন্তর্জাতিক আইনবিরোধী অনৈতিক দখলদারিত্ব ও নিপীড়নকে আলোচ্যসূচির স্থায়ী বিষয়বস্তু হিসেবে রেখেছে জেনেভাভিত্তিক এই মানবাধিকার কাউন্সিল। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র মানবাধিকার কাউন্সিলের আলোচ্যসূচি থেকে ইসরাইলি দখলদারিত্বকে বাদ দেয়ার দাবি জানিয়ে আসছিল। বুশ প্রশাসনের সময় প্রতিষ্ঠা-পরবর্তী তিন বছরের জন্য যুক্তরাষ্ট্র কাউন্সিলের সঙ্গে সম্পর্ক রাখেনি। তবে ওবামা শাসনামলে ২০০৯ সালে ওয়াশিংটন কাউন্সিলের সঙ্গে যুক্ত হয়।

ডোনাল্ড ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু

ফিলিস্তিনের ভূমি দখল করে ১৯৪৮ সালের ১৫ মে প্রতিষ্ঠিত হয় ইসরাইল নামের একটি অবৈধ রাষ্ট্র। ১৯৭৬ সালের ৩০ মার্চ ইসরাইলের দক্ষিণাঞ্চলে ইহুদি বসতি নির্মাণের প্রতিবাদ করায় ছয় ফিলিস্তিনিকে হত্যা করা হয়। পরের বছর থেকেই ৩০ মার্চ থেকে ১৫ মে পর্যন্ত পরবর্তী ছয় সপ্তাহকে ‘ভূমি দিবস’ হিসেবে পালন করে আসছে ফিলিস্তিনিরা। ‘গ্রেট রিটার্ন মার্চ’ নামে অনুষ্ঠিত এবারের সেই বিক্ষোভ কর্মসূচির শেষদিনের আগে (১৪ মে) বায়তুল মুকাদ্দাসে মার্কিন দূতাবাস স্থানান্তরকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভ জোরালো হয়ে উঠলে একদিনেই ৬৫ ফিলিস্তিনিকে হত্যা করে বর্বর ইসরাইলি বাহিনী। এ পর থেকে বিক্ষোভ মিছিলে ইসরাইলি বাহিনীর হামলায় এ পর্যন্ত ১৩১ ফিলিস্তিনি শহীদ এবং ১৩,৯০০ জন আহত হয়।

বায়তুল মুকাদ্দাসে মার্কিন দূতাবাস স্থানান্তর

৪৭ সদস্যবিশিষ্ট জাতিসংঘ মানবাধিকার প্যানেল গত মাসের গাজায় ইসরাইলি বাহিনীর ওই হত্যাযজ্ঞের তদন্তের পক্ষে অবস্থান নেয়। এছাড়া, অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ইসরাইলি হত্যাযজ্ঞের বিরুদ্ধে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে একটি নিন্দা প্রস্তাব পাস হয়। অন্যদিকে ফিলিস্তিন ইস্যুতে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে তোলা নিজের প্রস্তাবে হেরে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কোণঠাসা হয়ে পড়ে আমেরিকা। এ প্রেক্ষাপটে জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিল থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করে নিল মার্কিন সরকার।#

 পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/২০