আমেরিকায় দুই শরণার্থী শিশুর মৃত্যু ও মানবাধিকার সংস্থাগুলোর বিস্ময়কর নিরবতা!
-
মেক্সিকো-মার্কিন সীমান্তে শিশু শরণার্থী (ফাইল ছবি)
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শরণার্থী আটক-কেন্দ্রে দুই সপ্তারও কম সময়ে গুয়েতেমালার দুই শিশু মারা গেছে।
বার্তা সংস্থা এসোসিয়েটেড প্রেস জানিয়েছে, মার্কিন সরকারের অভিবাসন বিষয়ক কর্মকর্তারা স্বীকার করেছেন যে বড়দিন বা ক্রিসমাস্টের ছুটির প্রাক্কালে গুয়েতেমালার ৮ বছর বয়সের এক বালক আটককেন্দ্রে মারা গেছে। বমির শিকার হয়ে বালকটি গত মঙ্গলবার ভোরে মারা যায়। নিউ মেক্সিকোসিটি অঙ্গরাজ্যের আলামোগোরদো শহরে এই ঘটনা ঘটে। বালকটিকে তার বাবাসহ আটককেন্দ্রে আটক রাখা হয়েছিল।
এর আগে প্রায় দুই সপ্তাহ আগে গুয়েতেমালার সাত বছরের এক শিশু কন্যা ভয় ও তৃষ্ণার শিকার হয়ে মারা যায়। মেক্সিকো থেকে সীমান্ত পেরিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের দায়ে আটক করা এই শিশুকে তার মা-বাবা থেকে দূরে রাখা হয়েছিল।
মার্কিন সরকার ছাড়া অন্য কোনো সরকার বা বিশেষ করে মার্কিন বিরোধী কোনো সরকারের সেনারা যদি সীমান্তে শিশুদের আটক করে মা-বাবা থেকে দূরে রাখার কারণে তাদের কেউ অনাহারে ও তৃষ্ণায় মারা যেত তাহলে পাশ্চাত্যের মানবাধিকার সংস্থাগুলো ব্যাপক হৈ-চৈ শুরু করত এবং জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠক ডেকে সবচেয়ে কঠোর ভাষায় এর তীব্র নিন্দা করা হত। কিন্তু মার্কিন সরকার গত এক বছর ধরে এ ধরনের অনৈতিক ও নৃশংস কাজ অব্যাহত রাখা সত্ত্বেও ট্রাম্প সরকারের কাছ থেকে এ জন্য সামান্যতম কৈফিয়তও চাওয়া হয়নি।
উল্লেখ্য, মার্কিন আটককেন্দ্রগুলোতে আটক শিশু-অভিবাসীদের সংখ্যা ১৪ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। বাবা-মায়ের কাছ থেকে পৃথক করে রাখা এই শরণার্থী শিশুদের লোহার বড় খাঁচার মধ্যে আটকে রাখা হয়েছে।
ট্রাম্প মনে করেন এই শিশুদেরকে তাদের বাবা-মা থেকে দূরে রাখা হলে দেশটিতে শরণার্থী বা অভিবাসীদের আশ্রয় নেয়ার চেষ্টা বন্ধ হয়ে যাবে। #
পার্সটুডে/এমএএইচ/২৮