ইরান সম্পর্কে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মূল্যায়ন কতটা আমলে নেবেন ট্রাম্প?
-
ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্সের প্রধান ড্যানিয়েল কোট্স
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গৃহিত নীতির বিপরীত অবস্থানে গিয়ে দেশটির গোয়েন্দা সংস্থা ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্সের প্রধান ড্যানিয়েল কোট্স স্বীকার করেছেন, পাশ্চাত্যের সঙ্গে ২০১৫ সালে স্বাক্ষরিত পরমাণু সমঝোতা মেনে চলছে ইরান।
তিনি মঙ্গলবার মার্কিন সিনেটের গোয়েন্দা কমিটিতে দেয়া সাক্ষে সুস্পষ্টভাবে বলেছেন, “আমার মনে হয় না আমরা যেটাকে পরমাণু অস্ত্র তৈরির তৎপরতা বলি এই মুহূর্তে ইরান সেরকম কিছু করছে।” এ ছাড়া, মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ’র প্রধান জিনা হ্যাসপেল এই কমিটির বৈঠকে বলেছেন, কারিগরি দিক দিয়ে ইরান পরমাণু সমঝোতা পুরোপুরি মেনে চলছে।
মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তারা এমন সময় এ বক্তব্য দিলেন যখন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টন এ পর্যন্ত একাধিকবার সরাসরি অথবা পরোক্ষভাবে দাবি করেছেন, ইরান পরমাণু সমঝোতা ঠিকমতো মেনে চলছে না। তারা এ ব্যাপারে ইরানকে মিথ্যাচারের দায়েও অভিযুক্ত করেন। এ ছাড়া, পরমাণু সমঝোতা ইরানকে পরমাণু অস্ত্র তৈরি করার কাজ থেকে বিরত রাখতে পারবে না বলে অজুহাত তুলে ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের পরমাণু সমঝোতা থেকে তার দেশকে বের করে নিয়েছেন। এর মাধ্যমে তিনি একটি বহুপক্ষীয় চুক্তি এবং জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব লঙ্ঘন করেছেন।
পরমাণু সমঝোতা থেকে আমেরিকার বেরিয়ে যাওয়ার নয় মাস পর এবং ইরানের ব্যাংকিং ও তেল খাতের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের তিন মাস পর মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তারা ইরানের পক্ষ থেকে পরমাণু সমঝোতা মেনে চলার সমর্থনে বক্তব্য দিলেন।
আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা- আইএইএ এখন পর্যন্ত বহু প্রতিবেদন প্রকাশ করে বলেছে, ইরান পরমাণু সমঝোতা পুরোপুরি মেনে চলছে এবং আমেরিকা এই সমঝোতা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর পরমাণু সমঝোতা মেনে চলার ক্ষেত্রে ইরানের আচরণে কোনো পরিবর্তন আসেনি। মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তারা সিনেটের কমিটিতে যে বক্তব্য দিয়েছেন তা আইএইএ’র প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে বলেই ধরে নেয়া যায়।কিন্তু গোয়েন্দা কর্তাদের এসব বক্তব্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও তার সহযোগীদের জন্য সুখকর ছিল না।
মার্কিন দৈনিক নিউ ইয়র্ক এ সম্পর্কে মঙ্গলবার এক প্রতিবেদনে লিখেছে, ইরান ও উত্তর কোরিয়া সম্পর্কে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মূল্যায়ন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মূল্যায়নের সম্পূর্ণ বিপরীত। উত্তর কোরিয়া সম্পর্কে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো জানিয়েছে, দেশটির সঙ্গে আমেরিকা যতই আলোচনা করুক উত্তর কোরিয়া কখনোই তার পারমাণবিক সক্ষমতা পুরোপুরি ধ্বংস করবে না। অথচ ট্রাম্প বারবার একথা বোঝানোর চেষ্টা করছেন যে, উত্তর কোরিয়া শেষ পর্যন্ত তার সব পরমাণু অস্ত্র ধ্বংস করবে এবং পরমাণু অস্ত্র কর্মসূচি পুরোপুরি বন্ধ করে দেবে।
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ট্রাম্প ইরানের পরমাণু সমঝোতা এবং উত্তর কোরিয়ার পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ প্রসঙ্গে এতটা উগ্র আচরণ করছেন যে, তার বিরুদ্ধে আমেরিকারই গোয়েন্দা সংস্থাগুলো প্রতিক্রিয়া জানাতে বাধ্য হয়েছে। কিন্তু ট্রাম্প ও তার উপদেষ্টাদের উগ্র মানসিকতার কথা বিবেচনা করে তারা মনে করছেন, গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর প্রতিবেদন আমলে নিয়ে ইরান বা উত্তর কোরিয়া সম্পর্কে নিজের নীতি পরিবর্তন করবে না ট্রাম্প প্রশাসন।#
পার্সটুডে/মুজাহিদুল ইসলাম/৩০