আইএনএফ চুক্তি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার মার্কিন বাহানা
-
ট্রাম্প ও পুতিন
২০১৮ সালের ২০ অক্টোবরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ঘোষণা করেছিলেন, আমেরিকা রাশিয়ার সঙ্গে করা 'ইন্টারমিডিয়েট রেঞ্জ নিউক্লিয়ার ফোর্সেস ট্রিয়েটি' বা আই,এন,এফ, নামে পারমাণবিক চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসবে।
অজুহাত হিসেবে দেখানো হচ্ছে যে রাশিয়া ওই চুক্তি লঙ্ঘন করেছে। এরপর গত ৪ ডিসেম্বরে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও একই রকম ঘোষণা দেন। তিনে বলেছেন আমেরিকা দু'মাসের মধ্যে আই,এন,এফ,স্থগিত করবে। এর মধ্যে রাশিয়া চুক্তি বাস্তবায়নে কার্যকর ভূমিকা না নিলে আমেরিকা ওই চুক্তি থেকে বেরিয়ে যাবে।
ওই সময়সীমা পেরিয়ে যাবার ফলে পম্পেও গতকাল বলেছে আমেরিকা আইএনএফ চুক্তিতে আর থাকছে না। ২ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৮০ দিন আইএনএফ চুক্তি বাস্তবায়ন স্থগিত করা হয়েছে। এই ৬ মাসের মধ্যে রাশিয়া যদি চুক্তি মেনে না চলে তাহলে আমেরিকা পুরোপুরি বেরিয়ে যাবে আইএনএফ থেকে। ট্রাম্প এরইমধ্যে রাশিয়ার সমালোচনা করার পাশাপাশি অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ বিষয়ে মস্কোর সঙ্গে আলোচনায় বসার আগ্রহ দেখিয়েছে। ন্যাটোও সঙ্গে সঙ্গে ট্রাম্পের আলোচনায় বসার আগ্রহকে স্বাগত জানিয়েছে। তবে ইউরোপ মার্কিন এই সিদ্ধান্তে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে।ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্র নীতি বিষয়ক প্রধান ফেডেরিকা মোগেরিনি বলেছেন ইউরোপ কোনো পরাশক্তির ঘাঁটিতে পরিণত হতে চায় না।
রাশিয়াও কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেছে, এটা আন্তর্জাতিক চুক্তিগুলো থেকে বেরিয়ে যাবার মার্কিন সামগ্রিক নীতিরই অংশ। রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা উল্লেখ করেছেন, আমেরিকা প্যারিস জলবায়ু পরিবর্তন চুক্তি এবং ইরানের সঙ্গে ছয় জাতিগোষ্ঠির পরমাণু সমঝোতা থেকেও বেরিয়ে গেছে। চুক্তি থেকে বেরিয়ে যাওয়া আমেরিকার একটি কৌশলে পরিণত হয়েছে।
রাশিয়া এরইমধ্যে ওয়াশিংটনের ইচ্ছার বিরুদ্ধে ঘোষণা করেছে, ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা ধ্বংস করা কিংবা আই,এন,এফ লঙ্ঘন করার ইচ্ছে তাদের নেই। রুশ কর্মকর্তারা বারবার বলে এসেছে আইএনএফ থেকে আমেরিকা বেরিয়ে গেলে সমগ্র বিশ্ব অস্ত্র প্রতিযোগিতায় নেমে পড়বে। কিছুদিন আগে এ বিষয়ে জেনেভায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে রুশ উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই রিয়াবকভ বলেছিলেন, আমেরিকা আইএনএফ নিয়ে পরিস্থিতি ঘোলাটে করতে চায়। রাশিয়া এই চুক্তি পুরোপুরি মেনে চলছে বলেও তিনি দাবী করেন। আমেরিকা আসলে দীর্ঘদিন থেকেই রাশিয়াকে পুরোপুরি অস্ত্রমুক্ত করতে চাচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
১৯৮৭ সালে আমেরিকা ও রাশিয়ার মধ্যে আইএনএফ চুক্তি হয় এবং পরের বছর থেকে কার্যকর হয়। এই চুক্তি অনুযায়ী মস্কো কিংবা ওয়াশিংটন কেউই ইউরোপে ব্যালেস্টিক বা ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করতে পারবে না। সুতরাং আমেরিকা এই চুক্তি থেকে বেরিয়ে যাওয়া ইউরোপের জন্য উদ্বেগজনক।#
পার্সটুডে/নাসির মাহমুদ/২
খবরসহ আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সব লেখা ফেসবুকে পেতে এখানে ক্লিক করুন এবং নোটিফিকেশনের জন্য লাইক দিন