ড্রোন ধ্বংসের চপেটাঘাতে ইরানকে আরও সমীহ করছে হতচকিত আমেরিকা
https://parstoday.ir/bn/news/world-i71386-ড্রোন_ধ্বংসের_চপেটাঘাতে_ইরানকে_আরও_সমীহ_করছে_হতচকিত_আমেরিকা
ইরানের আকাশে গোয়েন্দা তৎপরতা চালাতে-আসা হানাদার মার্কিন ড্রোন ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ধ্বংস হওয়ার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে হামলার নির্দেশ দিয়েও তড়িঘড়ি সে নির্দেশ বাতিল করেছেন।
(last modified 2026-04-19T07:31:14+00:00 )
জুন ২১, ২০১৯ ১৩:৪৭ Asia/Dhaka

ইরানের আকাশে গোয়েন্দা তৎপরতা চালাতে-আসা হানাদার মার্কিন ড্রোন ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ধ্বংস হওয়ার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে হামলার নির্দেশ দিয়েও তড়িঘড়ি সে নির্দেশ বাতিল করেছেন।

নিউ ইয়র্ক টাইমসসহ কয়েকটি কয়েকটি মার্কিন সংবাদ মাধ্যম এ খবর দিয়েছে।

বৃহস্পতিবার ভোররাতে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী দক্ষিণ ইরানের হরমুজগান প্রদেশে সর্বাধুনিক বা অপরাজেয় বলে কথিত ‘গ্লোবাল হক’ মডেলের একটি মার্কিন গোয়েন্দা ড্রোন ক্ষেপণাস্ত্র ছুঁড়ে ধ্বংস করে। 

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প শেষ মুহূর্তে হামলার নির্দেশ বাতিল করে বিষয়টাকে হাল্কা করে দেখাতে বলেছেন, ইরানের জেনারেলরা বা অন্য কোনো ব্যক্তি হয়তো ভুল করে ওই ড্রোন ঘায়েল করেছেন। জন বোল্টন ও পম্পেওর মত যুদ্ধবাজ মার্কিন কর্মকর্তারা এ নিয়ে উত্তেজনা বাড়াতে চেয়েছিলেন বলে মার্কিন সংবাদ মাধ্যমগুলো জানিয়েছে।  

এর আগে ওমান সাগরে দুই তেল-ট্যাংকারেও কথিত ইরানি মাইন হামলার অভিযোগের অজুহাতে মার্কিন কর্মকর্তারা ক্রুদ্ধ ভাব দেখালেও ট্রাম্প বিষয়টাকে হাল্কা করে বলেছিলেন, এসব বিস্ফোরণ খুবই ক্ষুদ্র!

আসলে ২০ কোটি ডলার মূল্যের সর্বাধুনিক প্রযুক্তি-সজ্জিত অতিকায় মার্কিন ড্রোন ধ্বংস হওয়ায় হতচকিত ও ভীত-সন্ত্রস্ত হয়েই আরও প্রবল পাল্টা হামলার আশঙ্কায় ইরানে আগ্রাসন চালানোর কুমতলব বাদ দিয়ে মার্কিন সরকার আরও সতর্ক ও সংযত হতে বাধ্য হয়েছে। 

বিশাল গ্লোবাল হক’ মার্কিন গোয়েন্দা ড্রোনকে সর্বাধুনিক ও অপরাজেয় ভাবত মার্কিন বিশেষজ্ঞরা

ইরানের নেতৃবৃন্দ বলে আসছেন, ইসলামের রীতি অনুযায়ী ইরান কখনও আগে যুদ্ধ শুরু করবে না, কিন্তু  ইসলামী এই দেশটির সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন তথা দেশটির পানি, স্থল ও আকাশ-সীমা লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে শত্রুর বিন্দুমাত্র ঔদ্ধত্যও সহ্য করবে না।

 মার্কিন ড্রোন ধ্বংসের ঘটনা ইরানের অসাধারণ প্রতিরক্ষা ক্ষমতা ও সতর্কতা তুলে ধরেছে। ফলে ওয়াশিংটনের যুদ্ধকামী হঠকারী নীতি সম্পর্কে সেখানকার কর্মকর্তাদের মধ্যে দ্বিধা-দ্বন্দ্ব ও মতভেদ জোরদার হয়েছে। মার্কিন সরকারের মুখ রক্ষা করতে বাস্তববাদী মার্কিন নেতারা ইরানের মত শক্তিমান ও ব্যাপক আঞ্চলিক প্রভাবের অধিকারী দেশকে না ঘাঁটানোর পরামর্শ দিচ্ছেন হোয়াইট হাউজকে। 

ইরানের পরমাণু সমঝোতা বাতিলের কারণে সৃষ্ট জনমতের চাপ ও যুদ্ধ-বিরোধী জোরালো মার্কিন জনমতের প্রেক্ষাপটে ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য যুদ্ধ দ্বিতীয়বারের মত ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আশাকে ধূলিসাৎ করতে পারে বলে খোদ ট্রাম্পই উদ্বিগ্ন। অতীতের ব্যাপক ব্যয়বহুল নিষ্ফল যুদ্ধগুলোর বিরুদ্ধে ট্রাম্প নিজেও অনেকবার তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন।

ইরানের আপোষহীন কঠোর সংগ্রাম ও ধৈর্যের নীতি প্রমাণ করেছে যে দেশটির শত্রুদের চাপ প্রয়োগের সব নীতিই ব্যর্থ হতে বাধ্য। ইরানের ব্যাপারে আন্তর্জাতিক সমঝোতা মেনে চলা ও ইরানি জাতিকে ক্ষতিপূরণ দেয়া ছাড়া আমেরিকার ইরান নীতি কখনও সাফল্যের মুখ দেখবে না।  #

পার্সটুডে/এমএএইচ/২১