আমেরিকা যেন মৃত্যুপুরি, লকডাউন তুলে নিলে দুই লাখ মানুষের মৃত্যুর আশঙ্কা
বিশ্বজুড়ে মহামারী করোনাভাইরাসে মৃত্যুর সংখ্যায় ইতালিকে ছাড়িয়ে শীর্ষে পৌঁছে গেছে আমেরিকা। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন দেশকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনার বিষয়টি সতর্কভাবে বিবেচনা করছেন তখনই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই মহামারীতে মৃত্যুর সংখ্যায় শীর্ষস্থানে পৌঁছে গেল।
জনস হপকিন্স ইউনিভার্সিটির করোনাভাইরাস রিসার্চ সেন্টারের হিসাব অনুযায়ী- প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত আমেরিকায় মৃতের সংখ্যা ২০ হাজার ৬০৮ জনে দাঁড়িয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় মৃতের সংখ্যা এক হাজার ৯২০ জন।
জনস হপকিন্সের পরিসংখ্যায় অনুযায়ী, আমেরিকা ৫০টি অঙ্গরাজ্য, ডিস্ট্রিক্ট অব কলম্বিয়া ও দেশটির নিয়ন্ত্রিত অন্যান্য অঞ্চল মিলিয়ে মোট আক্রান্তের সংখ্যা অন্তত পাঁচ লাখ ৩০ হাজারের বেশি। তবে ওয়ার্ল্ডোমিটারের টালি অনুযায়ী- আমেরিকায় এ পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছে ৫ লাখ ৩৩ হাজারের বেশি মানুষ।
দেশটিতে করোনার হানায় এ মুহূর্তে সবচেয়ে বিপর্যস্ত নিউইয়র্ক শহর। সেখানকার হার্ট আইল্যান্ডে এখন চলছে গণকবর তৈরির কাজ।

জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের হালনাগাদ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আক্রান্তের সংখ্যা আমেরিকার পরই আছে স্পেন এবং মৃত্যুর সংখ্যা ইতালি।
ইতালিতে মৃতের সংখ্যা ১৯ হাজার ৪৬৮ এবং মোট আক্রান্তের সংখ্যা এক লাখ ৫২ হাজার ২৭১ জন। অপরদিকে স্পেনে আক্রান্তের সংখ্যা এক লাখ ৬১ হাজার ৮৫২ জন এবং মৃতের সংখ্যা ১৬ হাজার ৩৫৩ জন।
আমেরিকার সরকারি স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, যদি ৩০ দিন পর সামাজিক বিচ্ছিন্নতার নির্দেশনা তুলে নেয়া হয় তাহলে গ্রীষ্মে যুক্তরাষ্ট্রে মৃতের সংখ্যা দুই লাখ ছাড়িয়ে যেতে পারে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং কোনো কোনো রাজ্যে স্কুলসহ ব্যবসা-বাণিজ্য কেন্দ্র খুলে দেয়ার চিন্তাভাবনা করায় এ হুঁশিয়ারি দেয়া হয়। ইউনিভার্সিটি অব ওয়াশিংটনস ইনস্টিটিউট ফর হেলথ বলেছে, চলমান সতর্কাবস্থা মে মাস পর্যন্ত অব্যাহত রাখলেই আমেরিকায় মোট মৃত্যুর পরিমাণ ৬১ হাজার ৫৫০ জনের বেশি দাঁড়াবে।#
পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/১২