কথাবার্তা
প্রদীপের হাতে আরও যাঁরা মারা গেছেন, তাঁদের বিচারের কী হবে?
সুপ্রিয় পাঠক/শ্রোতা! ১ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবারের কথাবার্তার আসরে স্বাগত জানাচ্ছি আমি গাজী আবদুর রশীদ। আশা করছি আপনারা প্রত্যেকে ভালো আছেন। আসরের শুরুতে ঢাকা ও কোলকাতার গুরুত্বপূর্ণ বাংলা দৈনিকগুলোর বিশেষ বিশেষ খবরের শিরোনাম তুলে ধরছি। এরপর গুরুত্বপূর্ণ দুটি খবরের বিশ্লেষণে যাবো। বিশ্লেষণ করবেন সহকর্মী সিরাজুল ইসলাম।
বাংলাদেশের শিরোনাম:
- ওসি প্রদীপের হাতে আরও যাঁরা মারা গেছেন, তাঁদের বিচারের কী হবে-প্রথম আলো
- বিদেশে লবিস্ট নিয়োগ ও ‘দেশবিরোধী’ চিঠির বিষয় অস্বীকার বিএনপির-যুগান্তর
- ষড়যন্ত্র দেখছে আওয়ামী লীগ প্রস্তুত থাকার নির্দেশ-মানবজমিন
- যে কারণে হত্যা করা হয় সিনহাকে-ইত্তেফাক
- রোহিঙ্গা ইস্যুতে থাইল্যান্ডের সহায়তা চাইলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী-যুগান্তর
- ষষ্ঠ ধাপের ইউপি নির্বাচনে অর্ধেকের বেশি নৌকা প্রার্থীর হার-কালের কণ্ঠ
ভারতের শিরোনাম:
- ‘ঢোঁক গিললেন বার দু’য়েক, অপ্রাপ্তির দীর্ঘ তালিকা নিয়ে ‘সংক্ষিপ্ততম’ বাজেট পেশ নির্মলার– সংবাদ প্রতিদিন
- ‘বাজেটে আম আদমির প্রাপ্তি শূন্য’, কটাক্ষ মমতার-আজকাল
- সর্বস্তরের মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য এই বাজেট’, বললেন প্রধানমন্ত্রী-আনন্দবাজার পত্রিকা
শ্রোতাবন্ধুরা! শিরোনামের পর এবার দু'টি খবরের বিশ্লেষণে যাচ্ছি-
কথাবার্তার বিশ্লেষণের বিষয়:
১.হবিগঞ্জের সাবেক মেয়র গউছসহ ৪০ বিএনপি নেতাকর্মীকে কারাগারে প্রেরণ। বাংলাদেশের প্রায় সব পত্রপত্রিকায় এ খবর দিয়েছে। ঘটনাটিকে আপনি কিভাবে দেখছেন?
২. ইসরাইলের প্রেসিডেন্ট সংযুক্ত আরব আমিরাত সফর শেষে ফিরে যাওয়ার পর সৌদি জোট ইয়েমেনের উপর আরো ভয়াবহ বিমান হামলা চালিয়েছে। কি বলবেন আপনি?
বিশ্লেষণের বাইরে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি খবর:
যে কারণে হত্যা করা হয় সিনহাকে-ইত্তেফাক
কক্সবাজারের টেকনাফ থানার তৎকালীন ওসি প্রদীপ কুমার দাশ এবং তার অনুগত বাহিনীর নানা অপকর্ম জেনে ফেলেন সিনহা মো. রাশেদ। এসব তথ্য ফাঁস হলে নিজের পেশাগত জীবনের ক্ষতি হতে পারে এমন আশঙ্কা থেকেই সিনহাকে হত্যার ছক তৈরি করেন ওসি প্রদীপ। পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২০ সালের ৩১ জুলাই রাতে মেজর সিনহাকে হত্যা করা হয়েছে। ২০২০ সালের ১৩ ডিসেম্বর কক্সবাজারের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তামান্না ফারাহর আদালতে দাখিল করা অভিযোগপত্রে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
অভিযোগপত্রে বলা হয়, সিনহা মো. রাশেদ খান দেশীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে বিশ্বের দরবারে তুলে ধরার লক্ষ্যে ‘জাস্ট গো’ নামে একটি ইউটিউব চ্যানেল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। এ চ্যানেলের ডকুমেন্টারি কনটেনট তৈরি করার লক্ষ্যে বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্ত ঘুরে তথ্য সংগ্রহের জন্য তিনি ভিডিওচিত্র ধারণ করেন। টেকনাফেও একই ধরনের প্রামাণ্যচিত্র ধারণ শুরু করেন।
তখন লোকমুখে এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের জীবন-জীবিকার তথ্য সংগ্রহ করার সময় ওসি প্রদীপের মাদক নির্মূলের নামে টেকনাফ থানার নিরীহ মানুষের ওপর অবর্ণনীয় নির্যাতন-নিপীড়নের তথ্য জানতে পারেন। নির্যাতনের শিকার অনেক পরিবারের সদস্য সিনহা এবং তার সহযোগীদের কাছে প্রদীপের অত্যাচার-নীপিড়নের রোমহর্ষক বর্ণনা দেন। এসব শুনে সিনহা এবং তার সহযোগীরা ওসি প্রদীপ, পরিদর্শক মো. লিয়াকত আলী এবং তাদের পেটুয়া বাহিনীর নাম সংগ্রহের চেষ্টা করেন।
এসব কাজের এক পর্যায়ে ওসি প্রদীপের সঙ্গে সিনহা মো. রাশেদ, শিপ্রা দেবনাথ ও সাহেদুল ইসলাম সিফাতের দেখা হয়ে যায়। তখন তাদের সঙ্গে ক্যামেরাসহ ভিডিও ধারণের নানা সরঞ্জাম ছিল। তখন প্রদীপ তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন এবং তাদের এসব কাজ থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেন। ওসি প্রদীপ এ-ও বলেন, তিনি মেজর-টেজরের ধার ধারেন না। তিনি বহু সাংবাদিককে পিটিয়েছেন, জেলে পাঠিয়েছেন। তিনি তাদের ভয়ভীতি দেখান, হুমকি দেন এবং কক্সবাজার জেলা ছেড়ে যেতে বলেন। ওসি প্রদীপ তাদের হুমকি দিয়ে বলেন, ইন্টারভিউ, ভিডিওচিত্র বানিয়ে ইউটিউবে প্রচার করে তার কাজে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করলে এবং কর্তৃপক্ষকে জানালে মেজর সাহেব ও তাদের ধ্বংস করে দেবেন।
ওসি প্রদীপের হুমকির বিষয়টিকে খুব বেশি গুরুত্ব না দিয়ে সিনহা এবং তার সঙ্গীরা নীলিমা রিসোর্টে অবস্হান করেই প্রামাণ্যচিত্রের কাজ চালিয়ে যেতে থাকেন। তারা কক্সবাজার না ছাড়ায় ওসি প্রদীপের সন্দেহ হয় সিনহা মো. রাশেদ সেনাবাহিনীর সাবেক অফিসার পরিচয় দিয়ে টেকনাফে তার থানা এলাকায় তার নানা কুকর্মের তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের লোকজনের সঙ্গে গোপনে যোগাযোগ করছে।
এসব অপকর্মের বিষয়গুলো প্রচার হলে চাকরির ক্ষতি হবে অনুধাবন করে বিষয়টি ওসি প্রদীপ বাহারছড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দে র পরিদর্শক মো. লিয়াকত আলীকে জানান। ২০২০ সালের জুলাই মাসের মাঝামাঝি ওসি প্রদীপ ও পরিদর্শক লিয়াকত আলী তাদের সোর্স মো. নুরুল আমিন, মোহাম্মদ আইয়াজ এবং আসামি মো. নিজাম উদ্দিনের মাধ্যমে সিনহা এবং তার সঙ্গীদের সম্পর্কে খবরা-খবর নেওয়ার চেষ্টা করেন। সিনহা এবং তার সঙ্গীদের দেখা যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রদীপ ও থানাপুলিশকে তাত্ক্ষণিকভাবে খবর দেওয়ার জন্য সোর্সদের বলেন। জুলাই মাসের তৃতীয় সপ্তাহের দিকে মো. লিয়াকত আলী পুলিশের সোর্সদের সিনহা এবং তার ভিডিও দলকে তাড়াতাড়ি খুঁজে বের করার নির্দেশ দেন। এরই ধারাবাহিকতায় পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের শিকার হন সিনহা মো. রাশেদ।
রায়ে পুরোপুরি সন্তুষ্ট নন সিনহার বোন-ইত্তেফাক
রায়ের প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে শারমিন শাহারিয়ার ফেরদৌস জানান, তিনি রায়ে পুরোপুরি সন্তুষ্ট নন। বললেন, ‘আশা ছিল সকল আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি হবে। কিন্তু রায়ে তার প্রতিফলন ঘটেনি। এখন যাদের মৃতু্যদণ্ড হয়েছে তাদের রায় কার্যকর হলেই সন্তুষ্ট হওয়া যাবে।’ রায়ের কপি হাতে পাওয়ার পর আইনজীবীদের সঙ্গে পরামর্শ করে পরবর্তী ব্যবস্হা গ্রহণ করবেন বলে তিনি জানান।
বাদী পক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ মোস্তফা বলেন, ‘রায়ের কপি আমরা সংগ্রহ করব। বিচার বিশ্লেষণ করে পরবর্তী ব্যবস্হা গ্রহণ করব।’ রায়ে রাষ্টÌপক্ষও সন্তুষ্ট নন। এ বিষয়ে রাষ্টÌপক্ষের সরকারি কৌঁসুলি ফরিদুল আলম বলেন, ‘রায়ের কপি হাতে পাওয়ার পর পর্যবেক্ষণ করে আমরা খালাসপ্রাপ্ত ও যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্তদের বিরুদ্ধে আপিল করব।’
সিনহা হত্যা মামলা সিনহা হত্যা মামলার রায় একটি বার্তা-মানবজমিন
অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান হত্যা মামলার রায়কে একটি সতর্কতামূলক বার্তা হিসেবে দেখছেন আইন ও মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, বিশেষ দৃষ্টি নিবন্ধনের কারণে এই মামলাটি গুরুত্বের সঙ্গে পরিচালিত হয়েছে। নিশ্চিত করতে হবে সাধারণ মানুষ যারা এ ধরনের ঘটনার শিকার হন তাদের ক্ষেত্রেও যেন এ ধরনের বিচার হয়।
নিরাপত্তা বিশ্লেষক ও সাবেক নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, রায়টি প্রত্যাশিত ছিল। কারণ যেভাবে হত্যা করা হয়েছে এটি বিচারবর্হিভূত হত্যাকাণ্ড। রায়টি আগামীর জন্য একটা নজির স্থাপন করবে। বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডগুলো স্তিমিত হবে। রায়ে সন্তুষ্টির কথা জানিয়ে তিনি বলেন, সিনহা হত্যাকাণ্ডের রায়ে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা ঘটলে ভুক্তভোগীরা মামলা করার সাহস পাবে।
অপরাধীদের জন্য এই রায় উদাহরণ হয়ে থাকবে। তাই উচ্চ আদালতে গিয়েও যেন রায় ঠিক থাকে।
মানবাধিকার কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক বলেন, রায়ে আমি সন্তুষ্ট। এই রায় আইনের প্রতি মানুষের শ্রদ্ধা অনেক বাড়িয়ে দিবে। কারণ বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আসামিদের আইনের আওতায় এনে খুব দ্রুততম সময়ের ভেতরে রায় হয়েছে। এতে করে প্রত্যাশিত একটি রায় মানুষ দেখতে পেয়েছে। এটা আমাদের জন্য একটি বড় মাইলফলক। এ জন্য আমি ধন্যবাদ জানাই যারা এই মামলাটি পরিচালনা করেছেন বা এই চমৎকার রায়টি যারা দিয়েছেন। আমি এটাও আশা করবো- রায়ের পরবর্তী পদক্ষেপগুলো নিয়ে। কারণ রায়ের বিরুদ্ধে অপরাধীরা হয়তো আপিল করবে। উচ্চ আদালতে যাওয়ার পর দ্রুততার সঙ্গে যেন সন্তোষজনকভাবে নিষ্পত্তি করে নিয়ে আসতে পারি। যাতে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত করা যায়।
মানবাধিকারকর্মী নূর খান লিটন বলেন, গুরুত্বপূর্ণ রায়টি অবশ্যই একটি বার্তা বহন করে। তবে এখনো বলার সময় আসেনি এ রায়ে বিচাবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ঘটনা থামাতে সাহায্য করবে। এটি মনে রাখতে হবে গত এক যুগে বা তার চেয়ে বেশি সময়ে কয়েক হাজার বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। এরকম একটি দুটি ঘটনার বিশেষ ক্ষেত্রে বিচার পাওয়া সেটা দিয়ে যে খুব শক্ত বার্তা দেয়া যাবে সেটা আমি মনে করি না। কারণ এর আগেও আমরা দেখেছি জনগণের মধ্যে যখন প্রশ্ন ওঠেছে, জনগণ ক্ষুব্ধ হয়েছে তখন সাময়িক সময়ের জন্য এ ধরনের হত্যাকাণ্ড বন্ধ হয়েছে। কিন্তু পরবর্তীতে যথানিয়মে যথারীতিতে ঘটতে দেখেছি।
তিনি বলেন, এ ধরনের হত্যাকাণ্ড বন্ধ করতে যারা দেশ পরিচালনা করছেন, নীতিনির্ধারক বা উচ্চ পর্যায়ে যারা আছেন তাদের সিদ্ধান্তই যথেষ্ট। কারণ একটি বিচ্ছিন্ন বা বিক্ষিপ্ত বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ঘটছে আমি মনে করি না। প্রায় প্রতিনিয়ত এ ধরনের ঘটনা ঘটছে। এটি রাষ্ট্রীয় দুর্বলতা বা যারা পরিচালনা করছেন তাদের অবস্থানগত কারণের জন্য এসব ঘটনাকে প্রশ্রয় দিচ্ছেন যা ভাবার অবকাশ রয়েছে। কারণ তা না হলে ১/২টি ঘটনার পর এগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ার কথা। কয়েক বছরে আমরা হাজার হাজার ঘটনা লক্ষ্য করেছি। অধিকাংশ সময় তুচ্ছতাচ্ছিল্য সহকারে মন্তব্য করতে দেখেছি নীতিনির্ধারকদের। ফলে এরকম নৈতিক অবস্থান পরিষ্কার না হওয়া পর্যন্ত এ ধরনের ঘটনা থেমে যাবে এটি বিশ্বাস করার কারণ নেই। তিনি বলেন, হাজার হাজার ঘটনার মধ্যে কয়টি বিচার দ্বারস্থ হতে পেরেছে। এ ঘটনায় বিচার পাওয়ার পেছনে একটা কারণ হচ্ছে ভুক্তভোগীর পূর্বের পেশাগত অবস্থান। ঘটনার পর আমরা ক্রিয়া প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করেছি বিভিন্ন মহলের। সাধারণ মানুষ এধরনের ঘটনায় পড়লে বিচার পাওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।
সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও মানবাধিকারকর্মী সুলতানা কামাল বলেছেন, ওসি প্রদীপের হাতে আরও যাঁরা মারা গেছেন, তাঁদের বিচারের কী হবে? প্রথম আলোতে প্রকাশিত অভিমত কলামে তিনি বলেছেন, অল্প সময়ের মধ্যে মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান হত্যার বিচার হয়েছে, এটা আমাদের জন্য স্বস্তির ব্যাপার। একজন মানবাধিকারকর্মী হিসেবে মৃত্যুদণ্ডের শাস্তিটাও আমরা স্বস্তির সঙ্গে দেখি না। আমরা মনে করি, প্রাণ হরণ করার অধিকার কারোরই, এমনকি রাষ্ট্রেরও থাকা উচিত নয়।
এই রায়ের মধ্য দিয়ে সবার কাছেই একটা বার্তা গেল যে অন্যায় করে পার পাওয়া যায় না এবং কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নন। কিন্তু এই ঘটনায় এটাও দেখতে হবে, প্রত্যেকের প্রতি সম্মান রেখে বলছি, এখানে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি সেনাবাহিনীর একজন অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। আর যাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তাঁরা পুলিশের কর্মকর্তা ও অন্যান্য ব্যক্তি। এখানে ক্ষমতার একটা স্তর নিশ্চয়ই রয়েছে। আমরা ভেবেও নিতে পারি, এই হত্যাকাণ্ড এত আলোচিত হয়েছে, এতে জনমত তৈরি হয়েছে।
ওসি প্রদীপ কুমার দাশ, যাঁর বিরুদ্ধে এত বেশি মানুষের অভিযোগ এসেছে যে এই ঘটনা কোনোভাবেই অন্যদিকে মোড় নিতে পারেনি। বিচার সম্পন্ন হয়েছে এবং আদালতের দ্বারা শাস্তিপ্রাপ্ত হয়েছেন। কিন্তু এই ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরেই এই কাজগুলো করে আসছিলেন। এর আগে ওসি প্রদীপের হাতে যাঁদের মৃত্যুবরণ করতে হয়েছে বা অত্যাচারিত হতে হয়েছে, তাঁদের কী হবে? তাঁরা তো অভিযোগটুকু করারও সাহস পাননি। এখান থেকে একটা বিষয় পরিষ্কার বোঝা যায়, আমাদের প্রতিষ্ঠানগুলোতে যাঁরা বিভিন্ন দায়িত্বে আছেন, তাঁদের দিয়ে যদি নিয়মবহির্ভূতভাবে কোনো কাজ করানো হয়, একসময় তাঁরা ‘ফ্রাঙ্কেনস্টাইনে’ পরিণত হন। এর দৃষ্টান্ত আমরা এই ওসি প্রদীপের মধ্যে দেখতে পাই।
ষড়যন্ত্র দেখছে আওয়ামী লীগ প্রস্তুত থাকার নির্দেশ-মানবজমিন
গুজব আর গুঞ্জনের ডালপালা ছড়িয়ে পড়ছে বাংলাদেশের রাজনীতিতে। চারদিক থেকে নানা খবর আসছে। বেশির ভাগেরই সত্যতা নেই। তবে শঙ্কা আর সম্ভাবনা রয়েছে। এসব কারণ বিশ্লেষণ করে নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে বলে মনে করছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। দলের নেতারা প্রকাশ্য সভায় এ নিয়ে সতর্কবার্তা দিচ্ছেন। যেকোনো ধরনের ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করতে এখন থেকেই প্রস্তুতি নেয়ার কথা বলছেন। আওয়ামী লীগের নেতারা অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের সজাগ থাকতে বলছেন।যেকোনো সময় রাজনীতির মাঠে নামতে হতে পারে বলে মন্তব্য করছেন। বৃহস্পতিবার নতুন বছরের প্রথম অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরাসরি ষড়যন্ত্রের কথা বলেছেন। ওইদিন তিনি বলেন, ক্ষমতায় থেকে বিএনপি দেশের অর্থ-সম্পদ লুণ্ঠন করে বিদেশে পাচার করে সেই অর্থ দিয়ে বিদেশে লবিস্ট নিয়োগ করে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে, দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র করছে। এ জন্য তিনি চারটি কারণের কথা বলেছেন। এগুলো হচ্ছে- যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষা, বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বাঁচানো, নির্বাচনকে বানচাল ও প্রশ্নবিদ্ধ করা এবং দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করা। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগের রাজনীতি হচ্ছে দেশের জনগণের ভোটের অধিকার রক্ষা করা, কেড়ে নেয়া নয়। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে দেশে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হয়।
বিদেশে লবিস্ট নিয়োগ ও ‘দেশবিরোধী’ চিঠির বিষয় অস্বীকার বিএনপির-যুগান্তর
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দাবি করেছেন, একজন প্রবাসী বাংলাদেশির লবিস্ট নিয়োগের বিষয়টিও আজ আমাদের দলের ঘাড়ে চাপানোর অপচেষ্টা চালাচ্ছে সরকার। আমরা বলতে চাই, দেশের গণতন্ত্র ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে যদি প্রবাসীরা কোনো পদক্ষেপ কোথাও নেয়, দেশের প্রতি তার ভালোবাসার জন্য যদি কিছু করে সে পদক্ষেপের দায়িত্ব তার, বিএনপির নয়।
‘ওই পদক্ষেপকে নৈতিক সমর্থনের দায়িত্ব বাদে অন্য কোনো দায় দায়িত্ব বিএনপি বহন করে না। তবে বিশ্বের দেশে দেশে প্রবাসীদের গণতন্ত্র এবং মানবাধিকার রক্ষার জন্য এ ধরনের দেশপ্রেমিক পদক্ষেপকে বিএনপি সাধুবাদ জানায়। তাদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে।’
মঙ্গলবার বিকালে গুলশান কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় মানবাধিকার রক্ষায় বিদেশে লেখা তার কয়েকটি চিঠি উপস্থাপন করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ নিয়ে কথা বলছেন সরকারের কয়েক জন মন্ত্রী। আমার চিঠি দেখিয়ে মিথ্যাচার করা হয়েছে। দেখুন ওই চিঠি কাকে লেখা হয়েছিল এবং বিষয়বস্তু কী ছিল। বিএনপি মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার সব ব্যক্তিবর্গদের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য আশ্রয়স্থল, মানবাধিকার ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার আন্দোলনের সবচেয়ে বড় ভ্যানগার্ড। আর তাই বিএনপি তার আন্দোলন সংগ্রামের অংশ হিসেবেই দেশের ডেভেলপমেন্ট পার্টনারদের সমর্থন চায়। মানবাধিকার লঙ্ঘন বন্ধ চায়। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার সংগ্রামে দেশি-বিদেশি সব অংশীদারদের এই সরকারের সব অপকর্ম সম্পর্কে অবগত করে রাখতে চায়। বিদেশে লেখা আমার ওই চিঠিগুলো কোনো লবিস্ট নিয়োগের বিষয় নয়, মানবাধিকার রক্ষায় আন্তর্জাতিক উন্নয়ন অংশীদারদের প্রতি আহ্বান মাত্র!
এবার ভারতের কয়েকটি খবরের বিস্তারিত:
ঢোঁক গিললেন বার দু’য়েক, অপ্রাপ্তির দীর্ঘ তালিকা নিয়ে ‘সংক্ষিপ্ততম’ বাজেট পেশ নির্মলার-সংবাদ প্রতিদিন
অনেক প্রত্যাশিত বিষয়ের কোনও উত্তর নেই কেন্দ্রীয় বাজেটে। মধ্যবিত্তের জন্য কোনও সুখবরই শোনাতে পারেননি কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ। নেই নতুন কোনও প্রকল্পের কথাও। সবমিলিয়ে ২০২২-২৩ অর্থবর্ষের (Union Budget 2022)বাজেট শেষ দেড় ঘণ্টাতেই। ওয়াকিবহাল মহল বলছে, অর্থমন্ত্রী হিসেবে এটাই নির্মলার সংক্ষিপ্ততম বাজেট ভাষণ।
‘বাজেটে আম আদমির প্রাপ্তি শূন্য’, কটাক্ষ মমতার-আজকাল
মধ্যবিত্তরা অনেকটাই আশায় ছিলেন। হয়তো ব্যক্তিগত আয়কর কাঠামোয় কোনও পরিবর্তন পরিবর্তন আনা হবে ২০২২ বাজেটে। কিন্তু সেসব কিছুই হল না। গত বছরের মতো এ বছরও করদাতাদের কোনও সুবিধাই দিলেন না কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। বাড়ালেন না করযোগ্য আয়ের ঊর্ধ্বসীমা। তাতে হতাশ সাধারণ মানুষ। এই নিয়ে তীব্র কটাক্ষ বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির।
তিনি এদিন টুইটারে লিখলেন, ‘বাজেটে সাধারণ মানুষের প্রাপ্তি শূন্য, যাঁরা কিনা মূল্যবৃদ্ধি আর বেকারত্বে জর্জরিত। বড় বড় প্রতিশ্রুতিতে বেসামাল সরকার, কোনও দিশাই নেই। পেগাসাসে পর্যুদস্ত বাজেট।’ তাহলে সাধারণ মানুষ কী পেল এই বাজেটে? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কিছুই না।
আনন্দবাজার পত্রিকার খবরে লেখা হয়েছে- প্রধানমন্ত্রী মোদি বললেন‘সর্বস্তরের মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য এই বাজেট’। এ খবরে লেখা হয়েছে বাজেট নিয়ে প্রতিক্রিয়া দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তাঁর কথায়, “দেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য এই বাজেট। গরিবদরদী বাজেট।”#
পার্সটুডে/গাজী আবদুর রশীদ/১