কথাবার্তা
ঢাকায় মর্মান্তিক আত্মহত্যা! নারী ও শিশু মাদকাসক্ত বেড়ে দ্বিগুণ
সুপ্রিয় পাঠক/শ্রোতা! ৩ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবারের কথাবার্তার আসরে স্বাগত জানাচ্ছি আমি গাজী আবদুর রশীদ। আশা করছি আপনারা প্রত্যেকে ভালো আছেন। আসরের শুরুতে ঢাকা ও কোলকাতার গুরুত্বপূর্ণ বাংলা দৈনিকগুলোর বিশেষ বিশেষ খবরের শিরোনাম তুলে ধরছি। এরপর গুরুত্বপূর্ণ দুটি খবরের বিশ্লেষণে যাবো। বিশ্লেষণ করবেন সহকর্মী সিরাজুল ইসলাম।
বাংলাদেশের শিরোনাম:
- ‘যুক্তরাষ্ট্রকে দেওয়া ফখরুলের চিঠি এখন সরকারের হাতে’ -যুগান্তর
- শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি বাড়লো, মিশ্র প্রতিক্রিয়া-মানবজমিন
- আত্মহত্যার আগে ফেসবুক লাইভে যা বলেন রিয়াজের শ্বশুর-ইত্তেফাক
- প্রেসিডেন্ট পদের জন্য ট্রাম্প অযোগ্য: হোয়াইট হাউজ-যুগান্তর
- নির্বাচন কমিশন গঠন ইসির মেয়াদ আর ১২ দিন, অনুসন্ধান কমিটি হয়নি-কালের কণ্ঠ
- তুরস্ক-গ্রিস সীমান্তে শীতে জমে ১২ অভিবাসনপ্রত্যাশীর মৃত্যু -প্রথম আলো
ভারতের শিরোনাম:
- রান্নার গ্যাসে ভর্তুকি মেলার আশা তলানিতে, বাজেটে তেমন ইঙ্গিতই দিলেন নির্মলা -আনন্দবাজার পত্রিকা
- ‘আপনারা দু’টো ভারত বানিয়েছেন, একটা ধনীর, একটা গরিবের’, সংসদে দাঁড়িয়ে তোপ রাহুলের -আজকাল
- পেগাসাস থেকে রাজ্যপাল, বাজেট অধিবেশনের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক তৃণমূল – সংবাদ প্রতিদিন
শ্রোতাবন্ধুরা! শিরোনামের পর এবার দু'টি খবরের বিশ্লেষণে যাচ্ছি-
কথাবার্তার বিশ্লেষণের বিষয়:
১. বাংলাদেশের বান্দরবানে সংঘর্ষে সেনাসহ চারজন নিহত হয়েছে। এ খবর দিয়েছে বাংলাদেশের প্রায় সব পত্রপত্রিকা। বিষয়টিকে কিভাবে দেখছেন?
২. রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন অভিযোগ করেছেন, ইউক্রেন ইস্যুতে রাশিয়াকে যুদ্ধে জড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা করছে আমেরিকা। তার এই অভিযোগের যৌক্তিকতা কি?
বিশ্লেষণের বাইরে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি খবর:
আত্মহত্যা মহাপাপ! কোনো অবস্থাতেই আত্মহত্যা করা উচিত নয়। জাগতিক যত দুঃখ-কষ্ট, ব্যথা বেদনা, হতাশা যাই থাকুক না কেন আত্মহত্যা করা উচিত নয়। কিন্তু প্রায়ই আত্মহত্যার কথা শোনা যাচ্ছে সর্বশেষ মর্মান্তিক একটি আত্মহত্মার ঘটনা ঘটেছে। এ সম্পর্কে আজকের সব জাতীয় দৈনিকে প্রধান খবর পরিবেশিত হয়েছে। ইত্তেফাকের খবর- আত্মহত্যার আগে ফেসবুক লাইভে যা বলেন রিয়াজের শ্বশুর।
বিস্তারিত খবরে লেখা হয়েছে, রাজধানীর ধানমন্ডিতে চিত্রনায়ক রিয়াজের শ্বশুর মোহাম্মদ আবু মোহসিন খান (৫৮) ফেসবুকে এসে নিজের মাথায় গুলি করে আত্মহত্যা করেছেন। বুধবার (২ ফেব্রুয়ারি) রাত নয়টার পর তার নিজ বাসায় এই আত্মহত্যার ঘটনা ঘটে। ধানমণ্ডি থানার ডিউটি অফিসার এসআই আলমগীর হোসেন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
লাইভের ১৬ মিনিট ১৫ সেকেন্ডের মাথায় তিনি আত্মহত্যা করেন। এ সময় তিনি নিজের লাইসেন্স করা বন্দুক মাথায় ঠেকিয়ে গুলি চালান। পরে পুলিশ গিয়ে তার মরদেহ উদ্ধার করে। তার আত্মহত্যা করার পরও লাইভ চলছিল। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে এই লাইভ চলমান থাকে।
আত্মহত্যার আগে ফেসবুক লাইভে এসে বার্ধক্যের নিঃসঙ্গতা নিয়ে কথা বলেন মহসিন। লাইভে এসে মহসিন খান বলেন, আমি ঢাকায় থাকি, আমার বয়স ৫৮ বছর, কোনো একসময় আমি খুব ভালো ব্যবসায়ী ছিলাম। বর্তমানে আমি ক্যানসার রোগে আক্রান্ত। এখন আমার কোনো ব্যবসা বা কোনো কিছুই নেই। আজকের লাইভে আসার উদ্দেশ্য হচ্ছে আমার অভিজ্ঞতা আপনাদের জানানো। এ অভিজ্ঞতা থেকে আপনারা হয়ত অনেক কিছু জানতে পারবেন, সাবধানতা অবলম্বন করবেন। গত ৩০ তারিখ আমার খালা মারা যান। ওনার একটিমাত্র ছেলে, কিন্তু মা মারা যাওয়ার খবরে পেয়েও সে দেশে আসেনি। এ বিষয়টি আমাকে অনেক দুঃখ দিয়েছে। আমার একটা ছেলে আছে, সে অস্ট্রেলিয়াতে থাকে, আমি আমার বাসায় সম্পূর্ণ একা থাকি। খালা মারা যাওয়ার পর থেকে আমার ভেতরে ভয় ঢুকে গেছে। আমি যদি আমার বাসায় মরে পড়ে থাকি, আমার মনে হয় না এক সপ্তাহেও কেউ জানতে পারবে।
তিনি আরও বলেন, ‘ছেলে–মেয়ে, স্ত্রী—যাদের জন্য যা–ই কিছু আমরা করি। আমরা সব কিছু করি সন্তান এবং ফ্যামিলির জন্য। আপনি যদি এক শ টাকা ইনকাম করেন, আয় করেন; তার টোয়েন্টি পারসেন্ট টাকাও আপনি নিজের জন্য ব্যয় করেন না। যদি টোয়েন্টি পারসেন্ট টাকা আপনি নিজের জন্য ব্যয় করেন, তাহলে ৮০ পারসেন্ট টাকা আপনার ফ্যামিলির জন্য ব্যয় হয়। একা থাকা যে কী কষ্ট, তা যারা একা থাকেন তারাই জানেন। আমার আর পৃথিবীর প্রতি, পৃথিবীর মানুষের জন্য কোনো ভালোবাসা নেই। কারণ যাদের জন্য আমি বেশি করেছি, তাদের কাছ থেকেই আমি প্রতারিত হয়েছি। আমার এক বন্ধু ছিল বাবুল, যাকে আমি নিজে না খেয়ে খাইয়েছি। সে আমার প্রায় ২৩ থেকে ২৫ লাখ টাকা মেরে দিয়েছে। এভাবে আমি বিভিন্ন মানুষের কাছে ৫ কোটি ২০ লাখ টাকার মতো পাই। সবশেষ আমি নোবেল নামে একজনকে বিশ্বাস করি। যাকে আমি মিনারেল ওয়াটার প্ল্যান্টের দায়িত্ব দিয়েছিলাম। কিন্তু দুই বছরেও সেই প্ল্যান্টের যন্ত্র সে কেনেনি। পরে তার কাছে টাকা ফেরত চাইলে, ঝগড়া হয়। এরপর সে দুই দফায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা দেয়। বাকি টাকা সে আমাকে দিচ্ছে না। মানুষ কেন এতো লোভী হয়?
ফেসবুক লাইভে মহসিন আরও বলেন, পিতামাতা যা উপার্জন করে তার সিংহভাগ সন্তানদের পেছনে খরচ করে। প্রকৃত বাবারা না খেয়েও সন্তানদের খাওয়ানোর চেষ্টা করে, ফ্যামেলিকে দেয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু ফ্যামেলি অনেক সময় বুঝতে চায় না। নিজেকে আর মানিয়ে নিতে পারলাম না। যারা দেখছেন, তাদের সাথে এটাই শেষ দেখা। সবাই ভালো থাকবেন।
এরপর কালেমা পড়তে পড়তে নিজের মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে গুলি করেন তিনি। তার আগে পিস্তলের লাইসেন্স দেখান। বলেন, আমি যেটা দিয়ে আত্মহত্যা করছি সেটি ইলিগ্যাল কিছু না। এটির লাইসেন্স আছে। সেটি নবায়নও করা হয়েছে। আমি চলে যাবো। আত্মীয় স্বজন যারা আছো, যেহেতু বাবাও আমাকে জায়গাটা দেয়নি, আমি যে কবরস্থানটা করেছি সেখানে আমাকে দাফন করো না। মোহাম্মদপুর বেড়িবাঁধে একটি কবরস্থান হয়েছে, সেখানে তোমরা আমাকে দাফন করে দিও। প্রত্যেকটা লোক আমার সাথে প্রতারণা করেছে। আমার বাবা, মা, ভাইরা, প্রত্যেকটা লোক, এভরিওয়ান।
মহসিন চেয়ারে বসে ফেসবুক লাইভে কথা বলেন। তার সামনে টেবিল ছিল। ওই টেবিলে কাফনের কাপড় ছিল। এর ওপর একটি চিরকুট ছিল; তাতে লেখা আছে, এখানে কাফনের কাপড় রাখা আছে। যা আমি ওমরা হজে ব্যবহার করেছিলাম।
মানবজমিন লিখেছে, শ্বশুরের মৃত্যুর খবর শুনে নায়ক রিয়াজ তার স্ত্রী তিনাকে নিয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। এ সময় পুলিশ কর্মকর্তাদের রিয়াজ বলেছেন, এ মৃত্যুর বিষয়ে তারা কিছু জানেন না। পুলিশ তদন্ত করে যা পাবে, তার সঙ্গেই তারা একমত পোষণ করবেন। বুধবার রাত পৌনে ১০টার দিকে রাজধানীর ধানমণ্ডিতে তার বাসায় এ ঘটনা ঘটে।
আত্মহত্যার আগে একটি সুইসাইড নোট রেখে গেছেন আবু মহসিন খান। পুলিশ বলেছে, সেখানে তিনি লিখেছেন আমার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পুলিশের রমনা বিভাগের উপকমিশনার মো. সাজ্জাদুর রহমান বলেন, আবু মহসিন খান একাই ওই ফ্ল্যাটে থাকতেন। তার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নন বলে সুইসাইড নোটে লিখে গেছেন তিনি।
সাজ্জাদুর রহমান বলেন, মহসিন খানের সুইসাইড নোটে লেখা রয়েছে, ব্যবসায় ধস নেমে যাওয়ায় আমি হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়ি। আমার সঙ্গে অনেকের লেনদেন ছিল। কিন্তু তারা টাকা দেয়নি। আমার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়। ওসি বলেন, চেয়ারের মধ্যে মৃতদেহ আর পাশেই তার বৈধ পিস্তলটি পড়েছিল। পঞ্চম তলার ওই ফ্ল্যাটে কেউ ছিলেন না। তার স্ত্রী ও সন্তান অস্ট্রেলিয়ায় থাকেন।
কেন আত্মহত্যা করেছেন, তা জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রস্তুতি নিয়েই এই আত্মহত্যা করেছেন তিনি। চিরকুটে সবকিছু লিখে গেছেন। ক্যানসারে আক্রান্ত হয়েছেন, ব্যবসা করতেন এবং লোকসানের ভারে কীভাবে জর্জরিত হয়েছেন, সব কিছুই লিখেছেন।
করোনাকালে নারী ও শিশু মাদকাসক্ত বেড়ে দ্বিগুণ-ইত্তেফাক
আধুনিকতা নিয়ে ভ্রান্ত ধারণা, পিতামাতার তালাক বা পৃথক থাকা, মাদকাসক্ত বন্ধু, মাদক ব্যবসায়ীদের অপতত্পরতা, অনলাইনে সহজে মাদকদ্রব্য কেনার সুযোগসহ আরও কিছু কারণে দেশে দিন দিন বাড়ছে নারী মাদকাসক্তের সংখ্যা।
সরকারি ও বেসরকারি সেবাকেন্দ্রের তথ্য পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, গত তিন বছরে নারী ও শিশু মাদকাসক্তের সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণের বেশি বেড়েছে। বিজ্ঞজনেরা মনে করেন, সঠিক অভিভাবকের অভাব, সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক অসচেতনতা, পর্যাপ্ত মাদকাসক্ত নিরাময় ও চিকিৎসাসেবার অভাব বাড়িয়ে দিচ্ছে ঝুঁকি। তাছাড়া সামাজিক ট্যাবু বন্ধ করছে নারী মাদকাসক্তদের চিকিৎসা গ্রহণের পথ। শহরে উচ্চবিত্ত বা শিক্ষিত পরিবারের নারী মাদকাসক্তদের নিরাময়ের সুযোগ থাকলেও দরিদ্র ও অশিক্ষিত পরিবার নারী মাদকাসক্তদের তথ্য প্রকাশ করছে না। এতে অধিকাংশ মাদকাসক্ত নারী চিকিৎসার বাইরে রয়ে যাচ্ছে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের তথ্য মতে, সরকারি ও বেসরকারি মাদক নিরাময় কেন্দ্রে চিকিৎসাসেবা নেওয়ার ভিত্তিতে ২০১৯ সালের তুলনায় ২০২১ সালে নারী ও শিশু মাদকাসক্ত বেড়েছে দ্বিগুণ। ২০১৯ সালে চিকিৎসা নিয়েছে ৫৪৪ জন নারী ও শিশু রোগী। ২০২০ সালে নিয়েছে ১ হাজার ২৪২ জন এবং ২০২১ সালে চিকিৎসা নিয়েছে ১ হাজার ৭৬ জন।প্রসঙ্গত, দেশে সরকারের চারটি মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্র আছে।
নির্বাচন কমিশন গঠন ইসির মেয়াদ আর ১২ দিন, অনুসন্ধান কমিটি হয়নি-কালের কণ্ঠ
জাতীয় সংসদে পাস হওয়া ‘প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ বিল-২০২২’-এ গত ২৯ জানুয়ারি রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ সম্মতি দিয়েছেন। তবে এখনো অনুসন্ধান কমিটি গঠন করা হয়নি। এই আইনে অনুসন্ধান কমিটির কাজের সময় নির্ধারিত রয়েছে ১৫ কার্যদিবস। কিন্তু বর্তমান নির্বাচন কমিশনের মেয়াদ ১২ দিন পর শেষ হয়ে যাচ্ছে। এর মধ্যে কার্যদিবস রয়েছে মাত্র সাতটি। এ অবস্থায় কয়েক দিনের মধ্যে অনুসন্ধান কমিটি প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার পদে নিয়োগে যোগ্য ব্যক্তিদের তালিকা তৈরিতে কতটা সক্ষম হবে—এ প্রশ্ন এখন অনেকের।
‘যুক্তরাষ্ট্রকে দেওয়া ফখরুলের চিঠি এখন সরকারের হাতে-যুগান্তর
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, ‘বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বাংলাদেশকে সহায়তা পুনর্বিবেচনা ও বন্ধ করতে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিনির্ধারকদের যে চিঠি দিয়েছিলেন- তা এখন সরকারের হাতে রয়েছে।’
যুক্তরাষ্ট্রের কাছে লেখা চিঠিতে বিএনপি যেসব লিখেছে, তা রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল বলে মনে করছেন তথ্যমন্ত্রী। সরকারের বিভিন্ন সংস্থা এসব বিষয়ে তদন্ত শুরু করেছে বলেও জানিয়েছেন হাছান মাহমুদ।
বুধবার দুপুরে সচিবালয়ে সমসাময়িক বিষয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সেসব চিঠির কপি দেখিয়ে মন্ত্রী এ কথা বলেন।
বিএনপির নেতারা যে দেশের বিরুদ্ধে অপরাজনীতি করছে- তা এখন প্রমাণিত উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের এ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘তাদের (বিএনপি) রাজনীতি করার আর নৈতিক অধিকার নেই। লবিস্ট নিয়োগে তাদের টাকার উৎস সম্পর্কে জনগণ জানতে চায়। তাদের এমন কর্মকাণ্ড রাষ্ট্রদ্রোহিতা।’ তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশকে সাহায্য বন্ধ করার জন্য, দেশের রপ্তানি বাণিজ্য বন্ধ করার জন্য এবং দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করার জন্য তারা বিদেশিদের কাছে বিএনপি যে চিঠি লিখেছে, দেশকে বিব্রত করার জন্য তারা যে লবিস্ট নিয়োগ করেছে, তা নিয়ে দেশব্যাপী সমালোচনার মুখে গতকাল (১ ফেব্রুয়ারি) মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সংবাদ সম্মেলন করেছেন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি আত্মরক্ষার চেষ্টা করেছেন। তবে সংবাদ সম্মেলনে তিনি যে চিঠি লিখেছেন, বিদেশিদের কাছে এটি স্বীকার করেছেন। তিনি যেটা অস্বীকার করেছেন, সেটা হচ্ছে সাহায্য বন্ধের কথা।’
এবার ভারতের কয়েকটি খবরের বিস্তারিত:
‘আপনারা দু’টো ভারত বানিয়েছেন, একটা ধনীর, একটা গরিবের’, সংসদে দাঁড়িয়ে তোপ রাহুলের-আজকাল
প্রধানমন্ত্রী বারবার বলেন ওয়ান নেশন, ওয়ান ইন্ডিয়া। কিন্তু তিনিই ভারতকে দু’ভাগে ভেঙে দিয়েছেন। একটা ভাগ ধনীদের, যাদের হাতে সবকিছু আছে। আরেকটা ভাগ গরিবের। সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের জবাবি ভাষণে কেন্দ্র তথা প্রধানমন্ত্রীকে তীব্র আক্রমণ করলেন রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi)। অভিযোগ করলেন, এই সরকারের আমলে দেশে ধনবৈষম্য বাড়ছে। গরিব আরও গরিব হচ্ছে। ধনী আরও ধনী হচ্ছে।
There are two Indias, one India is for the extremely rich people – for those who have immense wealth, immense power, for those who don’t need a job, those who don’t need water connection,electricity connections, but for those who control the heartbeat of the country: Rahul Gandhi pic.twitter.com/X2UyPVbpiR
— ANI (@ANI) February 2, 2022
কংগ্রেস (Congress) সাংসদের দাবি, আগের ইউপিএ (UPA) সরকারের আমলে ২৭ কোটি মানুষ দারিদ্রসীমার উপরে উঠে এসেছিল। গত সাত বছরে এই মোদি সরকার ২৩ কোটি মানুষকে ফের দারিদ্রসীমায় পাঠিয়ে দিয়েছে। দেশের ৮৪ শতাংশ মানুষের রোজগার কমেছে। বিজেপির এই সরকার যে কর্পোরেট বান্ধব তা আরও একবার মনে করিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন রাহুল। অভিযোগ করলেন, “আজ দেশের সব সম্পদ কুক্ষিগত মুষ্টিমেয় শিল্পপতির হাতে। ১০ জন সবচেয়ে ধনী ভারতীয়র হাতে অন্য প্রান্তের ৪০ কোটি ভারতীয়র থেকে বেশি সম্পদ আছে। বন্দর থেকে বিমানবন্দর সব আদানিদের হাতে। অথচ আরেক ভারতের প্রতিনিধিদের হাতে কিছুই নেই।”
You talk of Made in India. But there cannot be Made in India today. The matter has ended because who are the people involved in Made in India? Small and medium industry, unorganised sector – whom you have finished. Made in India is not going to take place: Rahul Gandhi in LS pic.twitter.com/ZkTcHaPYJ0
— ANI (@ANI) February 2, 2022
রাহুল এদিন সবচেয়ে বেশি সরব হয়েছেন বেকারত্ব এবং অর্থনীতি নিয়ে। তাঁর বক্তব্য, মোদি (Narendra Modi) সরকার বারবার যে স্টার্ট আপ ইন্ডিয়া, মেড ইন ইন্ডিয়ার (Made in India) কথা বলে সবটাই ভাঁওতাবাজি। মেড ইন ইন্ডিয়া সম্ভবই নয়, কারণ যারা এই কাজটা করবে সেই ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের শেষ করে দিয়েছে সরকার। অসংগঠিত ক্ষেত্রে বলে আজ দেশে আর কিছু নেই। কংগ্রেস (Congress) নেতার অভিযোগ, এক বছরে ৩ কোটি মানুষ চাকরি খুইয়েছেন। আজ দেশে বেকারত্বের হার ৫০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। আপনারা চাকরি তো দিতে পারছেনই না। উলটে যে রোজগার তাঁদের হাতে ছিল, সেটাও ছিনিয়ে নিচ্ছেন।
You speak of providing employment, 3 cr youth lost their jobs in 2021. Today India is facing the highest unemployment in 50 yrs. You talk of Made in India, Start-Up India, but the youth didn’t get the employment they were supposed to.The one they had has disappeared: Rahul Gandhi pic.twitter.com/JIaGmmAC8P
— ANI (@ANI) February 2, 2022
রাহুল গান্ধীর অভিযোগ, বিজেপি সরকার ভারতের গণতন্ত্রকে ধ্বংস করে দিয়ে ‘রাজাদের শাসন’ ফেরাতে চাইছে। ১৯৪৭ সালে কংগ্রেস যে শাসনের অবসান ঘটিয়েছে, সেই শাসনে ফেরাতে চাইছে। নির্বাচন কমিশন, বিচারব্যবস্থা, পেগাসাস (Pegasus) সব গণতন্ত্র ধ্বংস করার কাজে এই সরকারের অস্ত্র। কিন্তু সেটা কখনও সম্ভব নয়, গরিব ভারতবর্ষ জাগবেই। সরকারের বিদেশনীতি নিয়েও সরব হয়েছেন রাহুল। তাঁর অভিযোগ, ভারতের জনগণের প্রতি বিজেপির করা সবচেয়ে অন্যায় হল, তাঁরা চিন আর পাকিস্তানকে একসারিতে বসিয়ে দিয়েছে। চিন আর পাকিস্তান আলাদা শক্তি।
পেগাসাস থেকে রাজ্যপাল, বাজেট অধিবেশনের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক তৃণমূল-সংবাদ প্রতিদিন
বাজেট অধিবেশেনর শুরু থেকেই সংসদে আক্রমণাত্মক ভূমিকায় তৃণমূল কংগ্রেস (TMC)। কেন্দ্র সরকারের সঙ্গে যে সমস্ত ইস্যু নিয়ে রাজ্যের সংঘাত রয়েছে তা নিয়ে কেন্দ্রকে চরম আক্রমণে নেমেছে তৃণমূল। রাজ্যপাল ইস্যুতে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীকে নালিশ করার পরে এবার সংসদেও বিষয়টিতে সরব হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। বুধবার সংসদের দুই কক্ষেই রাষ্ট্রপতির ভাষণের উপর ধন্যবাদ জ্ঞাপন প্রস্তাবের উপর আলোচনায় তৃণমূলের পক্ষ থেকে নাম না করেই বাংলার রাজ্যপালের আচরণ নিয়ে সরব হতে দেখা গিয়েছে দলের দুই বর্ষীয়ান সাংসদকে।
এদিন সকালে রাজ্যভায় দলের মুখ্য সচেতক সুখেন্দুশেখর রায় (Sukhendu Sekhar Roy) বলেন, রাজ্যপালের আচরণ দেশের যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর উপর সার্জিক্যাল স্ট্রাইক। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, “সাংবিধানিক পদাধিকারী রাজনৈতিক দলের কর্মকর্তার মতো আচরণ করছেন। বিরোধী শাসিত রাজ্যে দৈনন্দিনের প্রশাসনিক কাছে হস্তক্ষেপ করার চেষ্টা করছেন। প্রতিদিন প্রেস রিলিজ জারি করে রাজ্য সরকারকে যেভাবে বিব্রত করছেন তা নজিরবিহীন। এভাবেই দেশের যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোতে সার্জিক্যাল স্ট্রাইক করা হচ্ছে।”
রান্নার গ্যাসে ভর্তুকি মেলার আশা তলানিতে, বাজেটে তেমন ইঙ্গিতই দিলেন নির্মলা-আনন্দবাজার পত্রিকা
রান্নার গ্যাসে ভর্তুকি পাওয়া প্রায় বন্ধই হয়ে গিয়েছে। ২০২০ সালের মে মাস থেকেই নামমাত্র টাকা ভর্তুকি বাবদ পাওয়া যায়। এই মুহূর্তে কলকাতায় লিকুইড পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি)-র সাড়ে ১৪ কেজির সিলিন্ডারের দাম ৯২৯ টাকা। অনেকের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে মাসে মাসে ভর্তুকির টাকাও ঢোকে। তার পরিমাণ ১৯ টাকার আশপাশে। সেটাও আর মিলবে কি না সংশয় তৈরি হয়েছে সংসদে সদ্য পেশ হওয়া বাজেট প্রস্তাবের পর।#
পার্সটুডে/গাজী আবদুর রশীদ/৩০