কথাবার্তা
কথাবার্তা: 'কিছু মানুষের পকেট ভারী করতে গিয়ে জ্বালানিসংকট'
সুপ্রিয় পাঠক/শ্রোতাবন্ধুরা! আজ ১৭ জুলাই রোববারের কথাবার্তার আসরে সবাইকে স্বাগত জানাচ্ছি আমি গাজী আবদুর রশীদ। আশা করছি আপনারা প্রত্যেকে ভালো আছেন। আসরের শুরুতে ঢাকা ও কোলকাতার গুরুত্বপূর্ণ বাংলা দৈনিকগুলোর বিশেষ বিশেষ খবরের শিরোনাম তুলে ধরছি। এরপর গুরুত্বপূর্ণ দুটি খবরের বিশ্লেষণে যাবো। বিশ্লেষণ করবেন সহকর্মী সিরাজুল ইসলাম।
বাংলাদেশের শিরোনাম:
- কিছু মানুষের পকেট ভারী করতে গিয়ে জ্বালানিসংকট-প্রথম আলো
- নির্বাচন কমিশনের কোনো ক্ষমতাই নেই : মির্জা ফখরুল-বাংলাদেশ প্রতিদিন
- এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু ১৫ সেপ্টেম্বর-কালের কণ্ঠ
- গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে : বিএনএফ- মানবজমিন
- আমাদের অনেক ক্ষমতা: সিইসি- যুগান্তর
ভারতের শিরোনাম:
- কাল শুরু বাদল অধিবেশন, কেন্দ্রের হাতে ২৪টি বিল, ‘হাতিয়ার’ নিয়ে তৈরি বিরোধীরাও-আজকাল
- জোটের বিহারে নীতীশের ঘাড়ে নিশ্বাস ফেলার পরিকল্পনা বিজেপির, ডাক বাংলার নেতাদেরও–আনন্দবাজার পত্রিকা
- বাবরি ধ্বংস মামলায় আডবানী-জোশীদের বিরুদ্ধে নয়া মামলা, সোমবারই শুনানি-সংবাদ প্রতিদিন
শ্রোতাবন্ধুরা! শিরোনামের পর এবার দু'টি খবরের বিশ্লেষণে যাচ্ছি-
জনাব সিরাজুল ইসলাম কথাবার্তার বিশ্লেষণে আপনাকে স্বাগত জানাচ্ছি। জনাব সিরাজুল ইসলাম,
কথাবার্তার বিশ্লেষণের বিষয়:
১) ভোটকেন্দ্রে কেউ তলোয়ার নিয়ে দাঁড়ালে রাইফেল দিয়ে প্রতিরোধের আহবান সিইসি'র। কীভাবে দেখছেন তার এই বক্তব্যকে?
২)জেদ্দা সম্মেলনে'আরব ন্যাটো' গঠনের বিষয়টি উত্থাপিত হয়নি বলে জানিয়েছে সৌদি আরব। কেন এমনটি হলো?
বিশ্লেষণের বাইরে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি খবর:
কিছু মানুষের পকেট ভারী করতে গিয়ে জ্বালানিসংকট-জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক এম শামসুল আলম প্রথম আলোকে দেয়া এক সক্ষাৎকারে বলেছেন, এই সংকট দ্বিমুখী। একদিকে জ্বালানি ভোক্তাদের সামর্থ্যের বাইরে চলে যাচ্ছে। অন্যদিকে সরকারের ভর্তুকি বেড়ে গেছে। সংকটটা চলে আসছিল আগে থেকেই।
সরকারের পক্ষ থেকে বলার চেষ্টা হচ্ছে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল ও এলএনজির মূল্যবৃদ্ধির কারণেই এ সংকট হয়েছে। কিন্তু আমরা মনে করি, সরকারের ভুল নীতির কারণেই এটি হয়েছে। সরকার ইচ্ছা করেই দেশের গ্যাসসম্পদ নতুন করে অনুসন্ধান ও আহরণের চেষ্টা করেনি। একসময় বলা হতো দেশ গ্যাসের ওপর ভাসছে। ২০১৬ সালের পর সরকারের নীতিনির্ধারকেরা বলতে শুরু করলেন, মাটির নিচে গ্যাস নেই। দুটোই অসত্য। এখনো আমাদের বিদ্যুতের ৬০ শতাংশের বেশি আসে দেশীয় উৎস থেকে। সরকার যদি বিচক্ষণতার সঙ্গে সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হবে না। দুর্ভাগ্য হলো সরকার পুরো বিষয়টি দেখছে রাজস্ব ঘাটতির দৃষ্টিভঙ্গিতে। ভোক্তার স্বার্থের কথা তারা ভাবছে না।
শ্রীলঙ্কার পথে অন্যরা-অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের মুখে দাঁড়িয়ে যেসব দেশ-প্রথম আলো
ঋণসংকটে জর্জরিত শ্রীলঙ্কার অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয়। গণরোষে সে দেশের প্রেসিডেন্টকে দেশ ছেড়ে পালাতে হয়েছে। তবে শুধু শ্রীলঙ্কা নয়, বিশ্বের অনেক দেশ এখন ঋণে জর্জরিত। ব্রিটেন ও যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশের ঋণও তাদের জিডিপির চেয়ে বেশি। তাদের এই ঋণসংকট মোকাবিলা করার মতো সামর্থ্য আছে। আফ্রিকার দেশগুলোর অবস্থা তাদের মতো নয়। অথচ বাস্তবতা হলো, আফ্রিকার অনেক দেশের ঋণ জিডিপির ৭০ শতাংশের ওপরে।বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক বিশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৈদেশিক ঋণ এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভসংকটের কারণে ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটের একেবারে দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে বিশ্বের অন্তত ১২টি দেশ।
বলা হয়েছে, শ্রীলঙ্কার মতো প্রায় একই পরিণতি হতে পারে লেবানন, সুরিনাম ও জাম্বিয়ার মতো দেশগুলোর। তালিকায় থাকা অন্য দেশগুলো হলো আর্জেন্টিনা, ইউক্রেন, তিউনিসিয়া, ঘানা, মিসর, কেনিয়া, ইথিওপিয়া, এল সালভাদর, পাকিস্তান, ইকুয়েডর, বেলারুশ ও নাইজেরিয়া।ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হতে পারে, এমন দেশের তালিকায় প্রথমেই আছে আর্জেন্টিনা।
আমাদের অনেক ক্ষমতা: সিইসি-যুগান্তর
নির্বাচনে সহিংসতামূলক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেছেন, আমরা সহিংসতা বন্ধ করতে পারব না। আপনাদেরও (রাজনৈতিক দলের) দায়িত্ব নিতে হবে। কারণ খেলোয়াড় কিন্তু আপনারা। আপনারা মাঠে খেলবেন, আমরা রেফারি। আমাদের অনেক ক্ষমতা আছে। ক্ষমতা কিন্তু কম না, ক্ষমতা প্রয়োগ করব।সিইসি বলেন, ২০১৪ সালের নির্বাচন আমাদের ওপর চাপাবেন না। ২০১৮ সালের নির্বাচনের দায় আমাদের ওপর চাপাবেন না। আমরা আমাদের নির্বাচনের দায় আমরা বহন করব। নির্বাচনটাকে অংশগ্রহণমূলক করতে আমরা সর্বাত্মকভাবে চেষ্টা করব এবং নিরপেক্ষ করতে। সব দল সহযোগিতা না করলে আমরা সেখানে ব্যর্থ হয়ে যাব।
নির্বাচন কমিশনের কোনো ক্ষমতাই নেই : মির্জা ফখরুল-বাংলাদেশ প্রতিদিন
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, নির্বাচনকালীন সরকারই হচ্ছে মূল বিষয়। শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী থাকলে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না, সেটা আমরা দেখেছি। তাহলে নির্বাচন কমিশনের সংলাপে গেলেই বা কী, আর না গেলেই বা কী? এই নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কোনো ক্ষমতাই নেই। তারা সুষ্ঠু নির্বাচন করতে পারবে না। আজ রবিবার দুপুরে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মির্জা ফখরুল এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, মূল সংকট হলো দেশে গণতন্ত্র নেই।
আওয়ামী লীগ কখনো ফাঁকা মাঠে গোল দিতে চায় না : ওবায়দুল কাদের-বাংলাদেশ প্রতিদিন
আওয়ামী লীগ কখনো ফাঁকা মাঠে গোল দিতে চায় না বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। আওয়ামী লীগ প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীন নির্বাচন চায় না, সব রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচন চায়।
এবার ভারতের কয়েকটি খবরের বিস্তারিত:
জোটের বিহারে নীতীশের ঘাড়ে নিশ্বাস ফেলার পরিকল্পনা বিজেপির, ডাক বাংলার নেতাদেরও-আনন্দবাজার পত্রিকা
গোটা দেশের নেতাদের পটনায় জড়ো করছে বিজেপি। দলে যতগুলি শাখা সংগঠন রয়েছে তার মিলিত কর্মসমিতির বৈঠক হবে আগামী ৩০ ও ৩১ জুলাই।বিজেপির পরিকল্পনা অনুযায়ী ওই বৈঠকের আগের দু’দিন বিহারের ২৪৩ বিধানসভা আসনে ছড়িয়ে যাবেন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা বিজেপি নেতারা। জোটসঙ্গী নীতীশ কুমারের জনতা দল ইউনাইটেডের দখলে থাকা বিধানসভা আসনগুলিতেও সংগঠন শক্তিশালী করার উদ্যোগী হয়েছে বিজেপি।সম্প্রতি একই পদ্ধতিতে তেলঙ্গানায় সংগঠন বিস্তারের পরিকল্পনা নেয় বিজেপি।
শ্রীলঙ্কার পরিস্থিতি নিয়ে মঙ্গল-সন্ধ্যায় সর্বদল বৈঠক ডাকল মোদী সরকার-আনন্দবাজার পত্রিকা
গণবিক্ষোভে জ্বলছে শ্রীলঙ্কা। অভূতপূর্ব ডামাডোল ও রাজনৈতিক পটপরিবর্তন চলছে কলম্বোয়। এই প্রেক্ষাপটে পড়শি দেশের পরিস্থিতি নিয়ে সর্বদল বৈঠক ডাকল মোদী সরকার।আগামী মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সর্বদল বৈঠক ডাকা হয়েছে। অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন ও বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের নেতৃত্বে এই বৈঠক হবে। রবিবার এ কথা জানিয়েছেন সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী প্রহ্লাদ জোশী।আর্থিক ভাবে ধুঁকতে থাকা দ্বীপরাষ্ট্রের দৈন্য ক্রমশ বাড়ছে।
বাবরি ধ্বংস মামলায় আডবানী-জোশীদের বিরুদ্ধে নয়া মামলা, সোমবারই শুনানি-সংবাদ প্রতিদিন
সুপ্রিম কোর্টের রায়ে বাবরি মসজিদ-রাম মন্দির বিতর্কের অবসান ঘটেছে। অযোধ্যায় (Ayoddhya) ওই বিতর্কিত জমিতে তৈরি হচ্ছে ভব্য রামমন্দির। এরই মধ্যে আবার নতুন করে মাথাচাড়া দিয়ে উঠল বাবরি ধ্বংস মামলা। বেকসুর খালাস পাওয়া অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ফের মামলা দায়ের করেছেন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের দুই ব্যক্তি।সূত্রের খবর, লালকৃষ্ণ আডবানী, মুরলী মনোহর জোশী, সাধ্বী ঋতম্ভরা, উমা ভারতী-সহ মোট ৩২ জনের ‘রিট’ পিটিশন দায়ের হয়েছে।উল্লেখ্য, প্রায় ২৮ বছর পর ২০২০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর বাবরি ধ্বংস মামলায় রায়দান করে লখনউের বিশেষ সিবিআই আদালত।#
পার্সটুডে/গাজী আবদুর রশীদ/১৭