আগস্ট ০৯, ২০২২ ১৪:২৭ Asia/Dhaka
  • নির্বাচন হতে না দেওয়ার আস্ফালন করে লাভ নেই: ওবায়দুল কাদের

সুপ্রিয় পাঠক/শ্রোতাবন্ধুরা! আজ ৯ আগস্ট মঙ্গলবারের কথাবার্তার আসরে সবাইকে স্বাগত জানাচ্ছি আমি বাবুল আখতার। আশা করছি আপনারা প্রত্যেকে ভালো আছেন। আসরের শুরুতে ঢাকা ও কোলকাতার গুরুত্বপূর্ণ বাংলা দৈনিকগুলোর বিশেষ বিশেষ খবরের শিরোনাম তুলে ধরছি। এরপর গুরুত্বপূর্ণ দুটি খবরের বিশ্লেষণে যাবো। বিশ্লেষণ করবেন সহকর্মী সিরাজুল ইসলাম।

বাংলাদেশের শিরোনাম:

  • আইজিপি প্রসঙ্গে জাতিসংঘ মুখপাত্র-কাউকে ভিসা ও প্রবেশের অনুমতির এখতিয়ার যুক্তরাষ্ট্রের-মানবজমিন

  • আমাদের অস্তিত্ব বিলুপ্তের চেষ্টার কী বাকি রেখেছেন, সরকারকে প্রশ্ন সন্তু লারমার-প্রথম আলো
  • নির্বাচন হতে না দেওয়ার আস্ফালন করে লাভ নেই: ওবায়দুল কাদের-দৈনিক ইত্তেফাক
  • ১৪ দলীয় জোটে ক্ষোভ-জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির দায় নেবে না শরিকরা-দৈনিক যুগান্তর

  • হেলিকপ্টার দুর্ঘটনা : চলেই গেলেন র‍্যাব কর্মকর্তা ইসমাইল-কালের কণ্ঠ
  • আমরা একটু অসুবিধায় আছি, টাকার ঘাটতি পড়ে গেছে : পরিকল্পনামন্ত্রী-বাংলাদেশ প্রতিদিন

ভারতের শিরোনাম:

  • ভারতের আপত্তি সত্ত্বেও শ্রীলঙ্কার দিকে এগিয়ে আসছে চিনা জাহাজ! বাড়ছে চাঞ্চল্য-সংবাদ প্রতিদিন
  • বিজেপির সঙ্গে জোট ভাঙার পরেই মুখ্যমন্ত্রী পদে ইস্তফা নীতীশ কুমারের  -আজকাল 
  • বিহারে সঙ্কট বুঝেই বাদল অধিবেশন শেষ! মোদী-শাহ পালালেন বলে আক্রমণ তৃণমূলের-আনন্দবাজার পত্রিকা

শিরোনামের পর এবার দু'টি খবরের বিশ্লেষণে যাচ্ছি- 

জনাব সিরাজুল ইসলাম কথাবার্তার বিশ্লেষণে আপনাকে স্বাগত জানাচ্ছি। 

কথাবার্তার প্রশ্ন (০৯ আগস্ট)
১. বিক্ষোভ সমাবেশে জি এম কাদের- দেশ শ্রীলঙ্কার মতো পরিণতির দিকে এগোচ্ছে। কী বলবেন তার এ বক্তব্য সম্পর্কে?
২. রাশিয়াকে সব জায়গায় নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তিনি বলেছেন, সংকট সমাধানের এটিই একমাত্র পথ। আপনি কী বলবেন?

আইজিপি প্রসঙ্গে জাতিসংঘ মুখপাত্র-কাউকে ভিসা ও প্রবেশের অনুমতির এখতিয়ার যুক্তরাষ্ট্রের-মানবজমিন

মানবাধিকার লঙ্ঘনের দায়ে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও দেশটিতে অনুষ্ঠেয় জাতিসংঘের চিফ অব পুলিশ সামিটে (ইউএনকপ) আইজিপি বেনজির আহমেদের অংশ নেয়া প্রসঙ্গে সংস্থাটির মহাসচিব আন্থনি গুতেরেসের মুখপাত্র স্টিফেন ডোজারিক বলেছেন, সভায় প্রতিনিধিত্ব কে করবে এটা জাতিসংঘের তরফে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয় না বরং সদস্য রাষ্ট্রগুলো তাদের নিজ দেশের প্রতিনিধি মনোনয়ন দিয়ে থাকে। তবে ভিসা এবং প্রবেশের অনুমতি দেয়ার এখতিয়ার যুক্তরাষ্ট্রের।

সোমবার জাতিসংঘের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে আইজিপির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত নিষেধাজ্ঞা এবং সম্মেলনে যোগ দিতে সে দেশে যাওয়ার অনুমতি প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মুখপাত্র ডোজারিক এসব কথা বলেন।

জাতিসংঘ স্থায়ী সংবাদদাতা মুশফিকুল ফজল আনসারীর এক প্রশ্নের জবাবে  জাতিসংঘের মুখপাত্র ডোজারিক বলেন, এখানে দুইটি বিষয় রয়েছে। প্রথমত, জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্র অর্থাৎ নিজ দেশ যে কাউকে সংস্থাটির সম্মেলনে যোগ দেবার জন্য বাছাই করতে পারে। এটা জাতিসংঘের তরফে সিদ্ধান্ত দেয়া হয় না। আর পরের বিষয়টি হলো-প্রবেশের অনুমতি আর ভিসা দেবার প্রশ্ন। এ বিষয়টি নিয়ে এখানে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্র মিশনকে প্রশ্ন করা যেতে পারে। কারণ তাঁরাই ভিসা বা প্রবেশের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে। 

আমাদের অস্তিত্ব বিলুপ্তের চেষ্টার কী বাকি রেখেছেন, সরকারকে প্রশ্ন সন্তু লারমার-প্রথম আলো

বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সভাপতি জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় সন্তু লারমা বলেছেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর থেকে যারা ক্ষমতায় এসেছে, তারা কেউ ক্ষুদ্র জাতিসত্তার মানুষের স্বার্থ দেখেনি। বরং তাদের অস্তিত্ব যাতে বিলুপ্ত হয়, সেই চেষ্টাই করে গেছেন শাসকেরা। এখন সেই চেষ্টার আর কতটুকু বাকি আছে, সেই প্রশ্ন করেছেন ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর সবচেয়ে বড় সংগঠনের এই নেতা।

আজ মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস। সে উপলক্ষে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আয়োজিত কেন্দ্রীয় কর্মসূচিতে এ কথা বলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান সন্তু লারমা। এর আয়োজন করে বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম। এবারের আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবসের প্রতিপাদ্য ‘প্রথাগত জ্ঞান সংরক্ষণ ও প্রসারে আদিবাসী নারী সমাজের ভূমিকা’।

আদিবাসী দিবসের অনুষ্ঠান এভাবেই নেচে–গেয়ে প্রাণবন্ত করে তোলেন শিল্পীরা। করোনার কারণে টানা দুই বছর আদিবাসী দিবসের প্রকাশ্য অনুষ্ঠান বন্ধ ছিল। এবারে তাই শহীদ মিনারে আদিবাসী দিবসের অনুষ্ঠান ঘিরে ছিল উচ্ছ্বাস। সরকারি হিসাবে, দেশে মোট ৫০টি ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মানুষের সংখ্যা সাড়ে ১৬ লাখের বেশি। যদিও এসব জাতির মানুষেরা দাবি করেন, প্রকৃত সংখ্যা এর চেয়ে বেশি। প্রতিবছর এ দিবসে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মানুষ একত্র হন, তাঁদের অধিকার আদায়ের কথা বলেন। এবারও তাঁরা উচ্চকিত ছিলেন অধিকারের প্রশ্নে।

আজ বক্তৃতায় সন্তু লারমা সরকারের কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি সরকারকে দুর্নীতিগ্রস্ত এবং সাম্প্রদায়িক হিসেবে আখ্যায়িত করেন। সন্তু লারমা বলেন, সরকার উন্নয়নের গালভরা বুলি দিচ্ছে। কিন্তু পাহাড়ি বা সমতলে উন্নয়ন কার জন্য হচ্ছে? উন্নয়নের নামে আসলে ক্ষুদ্র জাতিসত্তার মানুষের অস্তিত্ব বিলুপ্ত করার চেষ্টাই চলছে। পাহাড়ের রাস্তাঘাট করা হচ্ছে পর্যটনের জন্য। এতে পাহাড়ি মানুষের কোনো স্বার্থ নেই।

আমরা একটু অসুবিধায় আছি, টাকার ঘাটতি পড়ে গেছে : পরিকল্পনামন্ত্রী-বাংলাদেশ প্রতিদিন

আমরা একটু অসুবিধার মাঝে আছি, টাকার ঘাটতি পড়ে গেছে বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান।

তিনি বলেন, ‘আমরা বিদ্যুৎ দিছি ঘরে ঘরে। এখন একটু কম আয়র (আসতেছে), আর এখান (এক) মাস ক্লিয়ার অইযিব (হয়ে যাবে) ইনশাআল্লাহ। আমরা একটু অসুবিধার মাঝে আছি, টাকার ঘাটতি পড়ে গেছে। আমরার লাগি (জন্য) না, অন্যান্য দেশের মাতব্বরে লাড়াই (যুদ্ধ) করের। আর এটা আমাদের ওপর এসে পড়েছে। আমরা সবুর (সহ্য) করে বসে আছি। ঊর্ধ্বে এক দেড় মাস। সব কিছু ঠিক হয়ে যাবে।’ আজ মঙ্গলবার সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার এফআইডিবি হলেআর্থিক অনুদান বিতরণকালে তিনি এসব কথা বলেন। পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ‘বন্যায় যাদের ক্ষতি হয়েছে তাদের কষ্ট দূর করার জন্য সরকার চেষ্টা করেছে আরও করবে। সরকার আমরার লগে (সাথে) আছে। আরেকটা কথা শেখা হাসিনার, যেটায় আমি অবাক হয়ে গেছি। যারা অসহায় ভূমিহীন, জমি নাই, ভিটাও নাই তারারে দুই শতক জায়গা সাফ কেওয়ালা কইরা ঘরসহ দের। আমার জীবনে আমি এর থেকে ভালো কাজ দেখছি না।’ 

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন শান্তিগঞ্জ উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান প্রভাষক নুর হোসেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আনোয়ারুজ্জামান, পরিকল্পনামন্ত্রীর ব্যক্তিগত রাজনৈতিক সচিব আবুল হাসনাত প্রমুখ।

বিজেপির সঙ্গে জোট ভাঙার পরেই মুখ্যমন্ত্রী পদে ইস্তফা নীতীশ কুমারের  -আজকাল 

পদত্যাগ করলেন বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার।

রাজ্যে বিজেপির সঙ্গে জোট ভাঙার ঘণ্টাখানেকের মধ্যেই এই সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি। এর ফলে বিহারে পতন হল বিহারের বিজেপি-জেডিইউ জোট সরকারের। দুই দলের ‘মধুচন্দ্রিমা’ যে ফুরোতে চলেছে তা আঁচ করা গেছিল আগেই। আজ দলের বিধায়ক এবং সাংসদদের নিয়ে বৈঠকে বসতে চলেছেন নীতীশ কুমার। মনে করা হয়েছিল জোট ভাঙার ঘোষণা হবে এই বৈঠকের পরেই। কিন্তু তার আগেই সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেওয়া হয়। রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল লালুপ্রসাদ যাদবের আরজেডি জানিয়ে দিয়েছিল, বিজেপির সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন হলে জেডিইউকে সমর্থন দেবে তারা। সেই মতোই আরজেডি-র তরফে বিবৃতি দিয়ে জানানো হয়েছে, ‘যদি বিজেপি অচলাবস্থা সৃষ্টির চেষ্টা করে কিংবা রাষ্ট্রপতি শাসন আরোপ করার চেষ্টা করে তবে আমরা সমুচিত জবাব দেব।’  আরজেডি ছাড়াও বিহার প্রদেশ কংগ্রেস এবং বামদলেরাও জেডিইউ-এর পাশে থাকবে বলে জানিয়ে দিয়েছিল। অর্থাৎ রাজ্যের সমস্ত দল একযোগে বিজেপির বিরুদ্ধে চলে গিয়েছে। আজই নীতীশ কুমারকে ফোন করেছিলেন অমিত শাহ, যদিও সেই ফোনালাপ সাত মিনিটের বেশি চলেনি বলে খবর। কোনও সমাধানও বেরয়নি। 

ভারতের আপত্তি সত্ত্বেও শ্রীলঙ্কার দিকে এগিয়ে আসছে চিনা জাহাজ! বাড়ছে চাঞ্চল্য-সংবাদ প্রতিদিন

ক্রমশই উত্তেজনা বাড়ছে শ্রীলঙ্কা (Sri Lanka) বন্দরে ভিড়তে চাওয়া চিনা (China) জাহাজকে ঘিরে। গুপ্তচর জাহাজ ‘ইউয়ান ওয়াং-৫’-এর শ্রীলঙ্কার হাম্বানটোটা বন্দরে আসার কথা আগামী বৃহস্পতিবারই। কিন্তু কলম্বো ইতিমধ্যেই নয়াদিল্লির চাপে পড়ে ‘ইউয়ান ওয়াং-৫’-এর হাম্বানটোটা সফর অনির্দিষ্ট কালের জন্য পিছিয়ে দিতে অনুরোধ করেছে। কিন্তু সেই অনুরোধে কাজ হচ্ছে না। শ্রীলঙ্কার দিকে এগিয়েই চলেছে বেজিংয়ের জাহাজটি। মনে করা হচ্ছে, ২৬ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টায় এগতে থাকা ওই জাহাজ পূর্ব নির্ধারিত দিন, অর্থাৎ ১১ তারিখ সকালেই হাম্বানটোটায় পৌঁছে যাবে।

জাহাজটির আসার কথা জানার পরই প্রতিবাদ জানিয়েছিল ভারত। বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র অরিন্দম বাগচি জানিয়েছেন, ”দেশের নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্বার্থে প্রভাব ফেলতে পারে যে বিষয়গুলি সেগুলির দিকে সব সময় নজর রেখে চলে সরকার।” তাঁর বক্তব্য থেকেই পরিষ্কার হয়ে যায়, শ্রীলঙ্কার বন্দরের দিকে নজর রাখবে ভারত।

১০০ দিনের কাজের নাম বদল হয়নি, তা-ও টাকা আটকে কেন? প্রশ্ন তুলল তৃণমূল-আনন্দবাজার পত্রিকা

১০০ দিনের কাজের ক্ষেত্রে প্রকল্পের নাম বদল করা হয়নি। তা সত্ত্বেও কেন ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত করা হল পশ্চিমবঙ্গকে? এমন প্রশ্ন তুলে কেন্দ্রীয় সরকারকে আক্রমণ করলেন তৃণমূলের দুই মুখপাত্র সুখেন্দুশেখর রায় ও চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। মঙ্গলবার তৃণমূল ভবনের সাংবাদিক সম্মেলনে প্রথম থেকেই কেন্দ্রীয় সরকার ও বিজেপিকে আক্রমণ করেন তাঁরা। সম্প্রতি দিল্লিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে দেখা করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ১০০ দিনের কাজের টাকা-সহ কেন্দ্রীয় প্রকল্প বাবদ প্রাপ্য অর্থের দাবি করেছেন। পাশাপাশি চিঠিও দিয়েছেন। অর্থ প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা বলেন, ‘‘জানুয়ারি মাস থেকে ১০০ দিনের কাজের অর্থ আটকে রাখা হয়েছে। আমরা ১০০ দিনের কাজের নিরিখে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছি। তা সত্ত্বেও, অর্থ আটকে রাখা হয়েছে।

শ্রোতাবন্ধুরা কথাবার্তার আজকের আসর এখানেই শেষ করছি।

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।