অতিদ্রুত আমাদের অর্গানিক কৃষিতে যেতে হবে: শাইখ সিরাজ
বাংলাদেশের কৃষি উন্নয়নের পথিকৃৎ ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব শাইখ সিরাজ রেডিও তেহরানের সাথে কৃষি ও কৃষকের সংকট নিয়ে এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে বলেছেন, দুঃখজনক হলেও সত্য যে আমাদের কৃষির মূল খাতের বাইরে অর্থাৎ উপখাত যেগুলো আছে- যেমন ধরেন- ফিশারিজ, ডেইরি ও পোল্ট্রি- এসব খাতে সেভাবে দৃষ্টি দেয়া হচ্ছে না।
পল্ট্রির ক্ষেত্রে আমি বলব দেশে প্রায় দেড় থেকে দুই লক্ষ পল্ট্রি খামার তৈরি হয়েছিল। তরুণ উদ্যোক্তারা এবং বেকার যুবকরা এতে এগিয়ে এসেছিল। কিন্তু সেই সম্ভাবনাময় পল্ট্রি শিল্প আমাদের চোখের সামনে নষ্ট হয়ে গেল। একটার পর একটা ধস নামল। সরকার পল্ট্রির জন্য কিছু করতে পেরেছে এমনটি অন্তত আমি দেখিনি।
পোল্ট্রি খামারিরা ব্যাংক ঋণের সুবিধা পায় না। এটাকে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ একটা রিস্কি খাত হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। এখাতে বীমার সুপারিশ করেছি আমি।
সামগ্রিক কৃষি ব্যবস্থা নিয়ে আধুনিকভাবে চিন্তাভাবনা করতে হবে বলে শাইখ সিরাজ মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, কৃষকদের নিজেদের কোনো সংগঠন না থাকায় তারা তাদের দাবি দাওয়াগুলো তুলে ধরতে পারছে না। দেখা যায় বাংলোদেশে প্রায় প্রতিটি বিষয়ের সংগঠন আছে এবং তারা তাদের সুবিধা অসুবিধা নিয়ে দাবি দাওয়া তুলতে পারে। আর কৃষকদের কোনো সংগঠন না থাকার ফলে তাদের প্রতিবাদের কোনো জায়গা আসলে থাকে না।
বিশ্বের উন্নত দেশগুলো অর্গানিক কৃষিতে চলে গেছে। আমাদেরও উচিত অতি দ্রুত অর্গানিক কৃষিতে যাওয়া। আমি এ ব্যাপারে সরকার এবং কৃষকদের কাছে আহ্বান জানাবো যাতে তারা দ্রুত অর্গানিক কৃষিতে যান। আমাদের জমির উর্বরতাকে আবার ফিরিয়ে আনা দরকার।
সাক্ষাৎকারের দ্বিতীয় পর্বটি উপস্থাপন করা হলো। সাক্ষাৎকারটি গ্রহণ ও উপস্থাপনা করেছেন গাজী আবদুর রশীদ।
রেডিও তেহরান: জনাব শাইখ সিরাজ, কৃষি ও কৃষকের নানাবিধ সংকটের মধ্যে বিশেষ করে ধানের ন্যায্য মূল্য না পাওয়া, সরকার নির্ধারিত ধান বা চালের দাম না পাওয়া, কৃষিতে উৎপাদিত পণ্য শ্রমিকের দামের ভারসাম্যহীন অবস্থা সম্পর্কে রেডিও তেহরানের সাথে দেয়া সাক্ষাৎকারের প্রথম পর্বে আপনি সুবিন্যাস্ত আলোচনা করেছেন।
আমরা একইসাথে আপনার কাছে জানতে চেয়েছিলাম- এসব সমস্যা সমাধানে আসলে করণীয় কি। সে সম্পর্কে প্রথম পর্বের আলোচনায় খুব ছোট করে এসেছে কিন্তু বিষয়টি আসলে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির সাথে জড়িত। কারণ বাংলাদেশ হচ্ছে কৃষি নির্ভর দেশ। আপনি আপনার আলোচনায় বলেছেন- ধানের উৎপাদন খরচ কমানো গেলে কৃষক বর্তমানের চেয়েও খানিকটা সুবিধা পাবে। আর উৎপাদন খরচ কমানোর জন্য আপনি ম্যাকানাইজেশনের পরামর্শ দিয়েছেন।
তবে আমাদের প্রশ্ন হচ্ছে ম্যাকানাইজেশন করাটা কি খুবই দুসাধ্য ব্যাপার?
শাইখ সিরাজ: দেখুন, এই ম্যাকানাইজেশন করাটা খুব দুসাধ্য ব্যাপার নয়। বর্তমানে দেশে প্রায় শতকরা ৯০ ভাগ জমি ট্রাক্টরে চাষ করা হচ্ছে। এটা কেন এবং কিভাবে সম্ভব হলো। এ বিষয়ে আমি বলব ২০১০ সালে সরকার ঘোষণা দিল যারা ট্রাক্টর কিনতে আগ্রহী তাদের শতকরা ২৫ ভাগ ভর্তুকী দেয়া হবে। কৃষক তখন ব্যাপকভাবে ভরতুকির আওতায় ট্রাক্টর কেনে। তখন ২০১০ থেকে ২০১২ এই দুবছরে প্রায় ৪০ ভাগ জমি ট্রক্টরের আওতায় চলে আসে। এরপর তা বৃদ্ধি পেতে থাকে। একইভাবে যদি ধানের চারা রোপন এবং ধান মাড়াইয়ের ক্ষেত্রেও মেশিনপত্র কিনতে যদি সরকার ভরতুকি দেয় তাহলে স্বাভাবিকভাবেই কিন্তু কৃষকের উৎপাদন ব্যয় কমে আসবে।
তাছাড়া প্রতিবছর ধান কাটার মৌসুমে এবং ধান লাগানোর সময় লেবার সংকট দেখা দেয়। সেটা থেকেও পরিত্রান পেতে পারে কৃষকরা। আর সেটা খুব শিগগিরি হবে বলে আমি আশাকরি।
এবার আমি কৃষি বাজেটে এ ব্যাপারে প্রস্তাবনা দিয়েছি। সেখানে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছি ধান উৎপাদনের ক্ষেত্রে ধান লাগানো, রোয়া এবং কাটা সব বিষয়ে যারা মেশিন কিনবে তাদেরকে যেন ভরতুকি দেয়া হয়। এরফলে ধানের উৎপাদন ব্যায় কমে আসবে।
আমি এ প্রসঙ্গে বলতে চাই, আপনারাও নিশ্চয়ই জানেন দেশের হাওড় অঞ্চল অর্থাৎ বৃহত্তর সিলেটসহ ৬ টি জেলায় প্রতিবছর বোরো মৌসুমে দেখা যায় কৃষকের সোনার ধান মাঠে হাসছে। হয়তো কাল থেকে কাটা শুরু করবে। দেখা গেল তার আগের রাতে পাহাড়ী ঢল এসে সবকিছু পানিতে ডুবিয়ে দিয়ে গেল। এবারই তাই হয়েছে। ফলে ওই এলাকার জন্য হার্ভেস্টিং মেশিন অনেক জরুরি। মেশিন থাকলে একদিনের মধ্যেই কৃষক তার ধান কেটে বাড়িতে আনতে পারবে। আর যদি মেশিন না থাকে তাহলে তাকে অপেক্ষা করতে হবে কখন সে লেবার পাবে তার জন্য! ফলে সামগ্রিক বিষয় বিবেচনায় নিলে দেখা যাবে সত্যিই কৃষক ধানের ন্যায্য মূল্য পায় না। কোনো দিন পায়নি। তবে ন্যায্য মূল্য পাওয়ার জন্য কিছু পলিসি ইস্যুতে আনতে হবে। যদি আনা যায় তাহলে কৃষক যে ধানের ন্যায্য মূল্য পায় না সে বিষয়টা থেকে খানিকটা পরিত্রান পাওয়া যাবে। কিন্তু তা না করে মূল্য বাড়িয়ে দিয়ে সরকার যদি কিছু করতে যায় তাহলে প্রতিবেশী দেশ ভারত থেকে এখানে ধান-চাল ঢুকবে। তখন ধানের মূল্য আরো কমে যাবে।
রেডিও তেহরান: কৃষকের সংকট সমাধানে ম্যাকানাইজেশনের বাইরে আর কিছু কি করণীয় আছে বলে মনে করেন। একইসাথে জানতে চাইব সরকারের কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী সবসময় বলে আসছেন এই সরকার কৃষি-বান্ধব সরকার। আপনার কী মনে হয় তার এ বক্তব্য যথেষ্ট যৌক্তিক।
শাইখ সিরাজ: দেখুন, আপনার প্রশ্নের দ্বিতীয় অংশের ব্যাপারে অর্থাৎ আপনি যে জানতে চেয়েছেন সরকারের কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী সবসময় বলে আসছেন এই সরকার কৃষি-বান্ধব সরকার। এ বক্তব্য যথেষ্ট যৌক্তিক কিনা! এ ব্যাপারে আমার অবস্থান থেকে মন্তব্য করা ঠিক নয় বলে আমি মনে করি। রাজনৈতিক সরকার যখন রাষ্ট্র চালায় তখন তাদের রাজনৈতিক অনেক কথাবার্তা থাকতে পারে এবং আসে। এটা সব দেশে সবসময় দেখা যায়।
তবে বাংলাদেশ কৃষিপ্রধান দেশ হিসেবে আমার কাছে মনে হয়, শুধুমাত্র ধান উৎপাদনকেন্দ্রীক কৃষি ব্যবস্থাকে মাথায় রেখে যদি সবকিছু চালানোর কথা ভাবা হয় সেটা ঠিক হবে না। কারণ এখন কৃষকরা তাদের নিজস্ব পছন্দগুলো বেছে নিয়েছে। কে কোথায় কি কৃষিপণ্য উৎপাদন করবে তা তারা নিজেরাই ঠিক করে নিচ্ছে।
তবে একথা সত্য যে স্বাধীনতা পরবর্তী যতগুলো সরকার বাংলাদেশে ক্ষমতায় এসেছে তারমধ্যে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ের সবচেয়ে বড় বিষয় ছিল যে –তাদের সময় খাদ্য ঘাটতি হয়নি। অর্থাৎ তারা সবসময় ধান উৎপাদনকেন্দ্রীক কৃষি ব্যবস্থাকে প্রাধান্য দিয়েছে বলে এ বিষয়টিকে তারা রাজনৈতিকভাবে তাদের কাছে নিয়েছে এবং বলছে তাদের সময় কখনও খাদ্য সংকট হয়নি।
এ ব্যাপারে যদি অর্থনৈতিক সমীক্ষার ভিত্তিতে বিশ্লেষণ করা যায় তাহলে দেখা যাবে তাদের বক্তব্য সঠিক। তাদের শাসনামলের সময়গুলোতে খাদ্য ঘাটতি লক্ষ্যণীয় নয়। একইসাথে কৃষির অন্যান্য দিক বিশেষ করে ভরতুকির দিকে আওয়ামী লীগ সরকার বিশেষভাবে দৃষ্টি দিয়েছে।
রেডিও তেহরান: আচ্ছা কৃষকের ধান-চালের বাইরে আরো কিছু বিষয় আছে যেমন-ডেইরি, পোল্ট্রি এবং ফিশারিজ এসব বিষয় নিয়ে আপনি কি বলবেন?
শাইখ সিরাজ: দেখুন, দুঃখজনক হলেও সত্য যে আমাদের কৃষির মূল খাতের বাইরে অর্থাৎ উপখাত যেগুলো আছে- যেমন ধরেন- ফিশারিজ, ডেইরি ও পোল্ট্রি- এসব খাতে সেভাবে দৃষ্টি দেয়া হচ্ছে না।
পল্ট্রির ক্ষেত্রে আমি বলব দেশে প্রায় দেড় থেকে দুই লক্ষ পল্ট্রি খামার তৈরি হয়েছিল। তরুণ উদ্যোক্তারা এবং বেকার যুবকরা এতে এগিয়ে এসেছিল। কিন্তু সেই সম্ভাবনাময় পল্ট্রি শিল্প আমাদের চোখের সামনে নষ্ট হয়ে গেল। একটার পর একটা ধস নামল। সরকার পল্ট্রির জন্য কিছু করতে পেরেছে এমনটি অন্তত আমি দেখিনি।
আমি যখন কৃষি বাজেট করেছি তখন বিভিন্ন সময় পোল্ট্রি শিল্পের সাথে জড়িত হাজার হাজার খামারি আমার কাছে এসেছে। তারা পল্ট্রির জন্য সরকারি বরাদ্দ চেয়েছে এবং পল্ট্রি শিল্পের একটা নীতিমালা চেয়েছে। এগুলো দীর্ঘদিন যাবত ঝুলে আছে।
দেখুন এখানে বিষয়টি হচ্ছে দৃষ্টিভঙ্গির। আসলে পলিসিগত দৃষ্টিভঙ্গিই এখানে মূলকথা। যেমন ধরুন আপনি দেশের ডেইরি শিল্পের উন্নয়নের জন্য প্রণোদনা দেবেন নাকি বিদেশি গুড়ো দুধ আনবেন। এখনও পর্যন্ত আমাদের গোটা দুধের চাহিদা মাত্র বিশ ভাগ আমাদের দেশীয়ভাবে মিটিয়ে থাকি। আর বাকি ৮০ ভাগ বিদেশ থেকে আনা পাউডার দুধ তরল করে আমাদের চাহিদা মেটানো হয়।
এখন আমি পাউডার দুধের বিষয়টা একটু বলি, এক কেজি পাউডার দুধ তরল করলে ৯ লিটার দুধ হয়। আর এই ৯ লিটার দুধের যে দাম আর স্থানীয়ভাবে খামারিরা যে দুধ উৎপাদন করে তার প্রতি লিটারের দাম পড়ে প্রায় ৪০ টাকা। সেক্ষেত্রে ৭ লিটার দুধের ব্যায়ের সাথে স্থানীয় দুধের লিটার প্রতি ৪০ টাকার তো ব্যাপক ব্যবধান হয়ে যায়।
অন্যদিকে মিল্ক ভিটা উৎপাদনে সরকার যে পরিমাণ ভরতুকি দেয় সেই ভরতুকিটা সাধারণ খামারিরা পায় না। তাহলে এখানে একই জায়গায় তিনটা সুস্পষ্ট বৈষম্য লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এরকম একটি অবস্থা থেকে নীতিমালাই বলে দেবে আসলে আমরা সত্যি সত্যিই দুগ্ধ শিল্পের উন্নতি চাই কি না। আর যদি সত্যিই ডেইরি শিল্পের উন্নয়ন চাওয়া হয় তাহলে সেখানে বিশভাগ কৃষকের দুগ্ধ খামার এবং গরুর খামার করার ব্যাপারে যে প্রণোদনা দেয়া দরকার সেটা সেভাবে দেয়া হচ্ছে না। ডেইরির জন্য যেসব অন্যান্য সুযোগ সুবিধার বিষয় রয়েছে সেগুলোকে আরো এগিয়ে নিতে হবে। আর তা নাহলে দেখা যাবে কৃষকরা তাদের ডেইরির দুধ রাস্তায় ঢেলে দিয়ে প্রতিবাদ জানাবে, কেউ কেউ দুধ বিক্রি করতে পারবে না। এধরনের ঘটনা ঘটতে থাকবে।
আর পোল্ট্রিগুলো নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। কারণ খাদ্যের দাম অনেক বেশি। একদিন বয়সের একটি মুরগির বাচ্চা কৃষকের কেনার কথা ৭ টাকায় সেই বাচ্চা কখনও কখনও ৮০ টাকা দিয়ে কিনতে হচ্ছে। তো কৃষক যদি ৮০ টাকা দরে একদিন বয়সের বাচ্চা কেনে তারপর তিনমাস লালনপালন করার পর, তার পেছনে খাওয়া খরচ, ভেকসিন খচর এসব দেয়ার পর প্রতি কেজি বয়লার মুরগি সে বিক্রি করছে ১০০ থেকে ১১০ টাকা বা ১২০ টাকায়। দেখা যায় তার উৎপাদন খরচই হয় প্রায় ১৪০ টাকার মতো। ফলে এসব কারণে অনেক পোল্ট্রি খামার বন্ধ হয়ে গেছে।
এছাড়া পোল্ট্রি খামারিরা ব্যাংক ঋণের সুবিধা পায় না। এটাকে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ একটা রিস্কি খাত হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। তারা বলে মড়ক লাগলে তো সব মুরগি মারা যাবে। এসব ব্যাপারে আমি কয়েকবার রিটার্ন দিয়েছি যে ফিশারি, ডেইরি এবং পোল্ট্রিকে ক্রপ ইনসিওরেন্সের আওতায় আনা। এগুলো বীমার আওতায় আনার কথা বলেছি। তবে মাননীয় অর্থমন্ত্রী বলেছেন, আমাদের দেশে ক্রপ বীমা করারটা সমস্যা। কারণ আমাদের জমির হোল্ডিংগুলো আকারে ছোটো ছোটো। সেক্ষেত্রে আমি বলেছিলাম অন্তত উপখাতগুলো যেমন ফিশারিজ,ডেইরি ও পোল্ট্রিতে এ ব্যবস্থা করা হোক।
যদি বিমার ব্যবস্থা করা হয় তাহলে মড়ক লেগে মুরগি মারা গেলে কৃষক কিন্তু বীমা দাবি করতে পারত। আর বীমার আওতায় ক্ষতিগ্রস্থ কৃষক ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে পারত। আর তখন দিনে খামারগুলো বন্ধ না হয়ে আবার তারা দাঁড়াতে পারত।
আর ফিশারিজ এমন একটি বিষয় যে দেশের মানুষের সাথে মানুষের সামাজিক সম্পর্ক এবং অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে শক্রতাবশত দেখা গেল যে একজনের পুকুরে বিষ ঢেলে দিল। দেখা গেল তাতে কৃষকের খামারের সব মাছ মরে গেল। যদি ওই ফিশারিজ মালিকের সেফকাভার থাকত তাহলে সে বেঁচে যেত।
ডেইরির ক্ষেত্রে দেখা যায় একজন কৃষক প্রায় এক দেড়লাখ টাকা খরচ করে একটি গাভি পালন করল। কোনো কারণে গাভিটি মারা গেলে যদি সেটার বীমা করা থাকত তাহলে সে ক্ষতিপূরণ পেতে পারত।
ফলে সামগ্রিক কৃষি ব্যবস্থা নিয়ে আধুনিকভাবে চিন্তাভাবনা করতে হবে। কৃষকদের নিজেদের কোনো সংগঠন না থাকায় তারা তাদের দাবি দাওয়াগুলো তুলে ধরতে পারছে না। দেখা যায় বাংলোদেশে প্রায় প্রতিটি বিষয়ের সংগঠন আছে এবং তারা তাদের সুবিধা অসুবিধা নিয়ে দাবি দাওয়া তুলতে পারে। আর কৃষকদের কোনো সংগঠন না থাকার ফলে তাদের প্রতিবাদের কোনো জায়গা আসলে নেই।
রেডিও তেহরান: কৃষি সমস্যা সমাধানসহ কৃষকের নানাবিধ বিষয় নিয়ে কথা বলার জন্য কৃষকদের তো কোনো সংগঠিত রূপ কিন্তু নেই। এর কি প্রয়োজনীয়তা আছে বলে আপনি মনে করেন?
শাইখ সিরাজ: জ্বি, আমার কাছে মনে হয় কৃষকদের সংগঠন হওয়া খুবই জরুরি। বাংলাদেশের কৃষি এখন বিশ্বের কৃষি ব্যবস্থার সাথে তাল মিলিয়ে চলার চেষ্টা করছে। অনেক কিছুতে আমরা সফল হয়েছি। মাছ উৎপাদনে আমরা বিশ্বের মধ্যে চতুর্থ অবস্থানে আছি। গ্রেইন উৎপাদনে আমরা তৃতীয় অবস্থানে আছি। ফল উৎপাদনে আমরা পঞ্চম স্থানে আছি। এগুলো কৃষকদের কর্মকাণ্ডের ফলে সম্ভব হয়েছে। সরকার বিভিন্ন সময় কৃষকদের কিছু প্রণোদনা দিয়েছে বিশেষ করে গ্রেইন উৎপাদনের ক্ষেত্রে। তবে কৃষি উৎপাদনের ক্ষেত্রে দেশে ব্যাপকভাবে কৃষকরা বিষ ব্যবহার করছে। তাছাড়া আমাদের দেশের মাটিতে প্রচুর পরিমাণে রাসায়নিক সার ব্যবহার করছে কৃষকরা।
আমি পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ঘুরে ঘুরে দেখেছি এবং বিভিন্ন প্রতিবেদন করেছি। বিশ্বের উন্নত দেশগুলো অর্গানিক কৃষিতে চলে গেছে। আমাদেরও উচিত অতি দ্রুত অর্গানিক কৃষিতে যাওয়া। আমি এ ব্যাপারে সরকার এবং কৃষকদের কাছে আহ্বান জানাবো যাতে তারা দ্রুত অর্গানিক কৃষিতে যান। আমাদের জমির উর্বরতাকে আবার ফিরিয়ে আনা দরকার। যেসব শস্যের জন্য আমাদের ক্ষতি হচ্ছে সেসব শস্যের উৎপাদন থেকে আমাদের সরে আসা উচিত। জমিতে জৈব সারের ব্যবহার বাড়াতে হবে। আর এগুলো করা না হলে আমাদের জমিতে পুনরায় আর কোনো উৎপাদন আসবে বলে আমার মনে হয় না। জমিকে ধরে রাখতে হবে। তিন ফসলি জমি নষ্ট না করার জন্য দ্রুত আইন করা দরকার। এসবই এখনকার সময়ের চাহিদা।#
পার্সটুডে/গাজী আবদুর রশীদ/৫