অক্টোবর ২৬, ২০২২ ১৩:২৩ Asia/Dhaka

সুপ্রিয় পাঠক/শ্রোতা: ২৬ অক্টোবর বুধবারের কথাবার্তার আসরে স্বাগত জানাচ্ছি আমি বাবুল আখতার। আশা করছি আপনারা প্রত্যেকে ভালো আছেন। আসরের শুরুতে ঢাকা ও কোলকাতার গুরুত্বপূর্ণ বাংলা দৈনিকগুলোর বিশেষ বিশেষ খবরের শিরোনাম তুলে ধরছি।

বাংলাদেশের শিরোনাম :

  • গণতন্ত্র হরণকারীরাই গণতন্ত্রের জন্য মায়াকান্না করছে: দীপু মনি-যুগান্তর
  • ১ লাখ ৩০ হাজারে এনআইডি নিচ্ছেন রোহিঙ্গারা, গ্রেপ্তার ১০-প্রথম আলো
  • পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল মোমেন বললেন-‘নিষেধাজ্ঞার খেলায় উন্নয়নশীল দেশগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে’-কালের কণ্ঠ

  • বাংলাদেশে চীনের কোন ঋণের ফাঁদ নেই: রাষ্ট্রদূত লি জিমিং -মানবজমিন
  • ডা. জাহাঙ্গীর কবিরের চেম্বারে অভিযান–ইত্তেফাক

কোলকাতার শিরোনাম:

  • ভারত বিদ্বেষী’ সুয়েলাতেই আস্থা ঋষির, তুমুল ক্ষোভের মুখে ভারতীয় বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী!--সংবাদ প্রতিদিন
  • যথাসাধ্য চেষ্টা করব দলকে আবার স্বমহিমায় ফিরিয়ে আনতে, কংগ্রেস সভাপতি পদে শপথ নিয়ে বার্তা খাড়গের –আজকাল
  • পার্থে কড়া তৃণমূল মানিক অনুব্রতে চুপ কেন? দলের অবস্থান স্পষ্ট করলেন প্রবীণ সাংসদ সৌগত -আনন্দবাজার পত্রিকা

এবার বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি খবরের বিস্তারিত:

১ লাখ ৩০ হাজারে এনআইডি নিচ্ছেন রোহিঙ্গারা, গ্রেপ্তার ১০-প্রথম আলো

১ লাখ ৩০ হাজার টাকায় জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নিচ্ছেন রোহিঙ্গারা। এ কাজে জড়িত থাকার অভিযোগে রোহিঙ্গাসহ ১০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে চট্টগ্রাম গোয়েন্দা পুলিশ।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন কামাল হোসেন, সোনা মিয়া, মো. কামাল, নুরুল আবছার ও সামসু মাস্টার। এ ছাড়া নির্বাচন কমিশনের (ইসি) অস্থায়ী কর্মচারী পাঁচ ডেটা এন্ট্রি অপারেটর হলেন ইয়াসিন আরাফাত, নূরনবী, মিজানুর রহমান, ফরহাদুল ইসলাম ও ইমন দাস।

নগর গোয়েন্দা পুলিশের উপকমিশনার (পশ্চিম) মোহাম্মদ আলী হোসেন আজ বুধবার দুপুরে নগরের মনসুরাবাদ নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের বলেন, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে খবর পেয়ে গতকাল মঙ্গলবার নগরের হালিশহর হাউজিং এস্টেট উচ্চবিদ্যালয় থেকে ১০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। সেখানে রোহিঙ্গারা এনআইডি করতে এসেছিলেন। তাঁদের মধ্যে পাঁচজন ইসির অস্থায়ী কর্মচারী ডেটা এন্ট্রি অপারেটর। মোহাম্মদ আলী হোসেন বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা স্বীকার করেন, সামসু মাস্টার রোহিঙ্গাদের কাছ থেকে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা করে নেন। পরে তিনি দালাল নুরুল আবছারকে দেন। আবছার ঢাকায় একটি চক্রের মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের জন্মনিবন্ধন করেন। এরপর ওই জন্মনিবন্ধন দিয়ে এনআইডি করেন। ইসির সার্ভারে এনআইডিটি দেখা যায়।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল মোমেন বললেন-‘নিষেধাজ্ঞার খেলায় উন্নয়নশীল দেশগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে’-কালের কণ্ঠ

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেছেন, জাতিসংঘের সঙ্গে আলোচনা না করেই রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা-পাল্টা নিষেধাজ্ঞার খেলায় উন্নয়নশীল দেশগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। জাতিসংঘের শক্তিশালী ভূমিকা থাকলে গরিব রাষ্ট্রগুলোর এমন খারাপ অবস্থা হতো না।  

বুধবার (২৬ অক্টোবর) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে বাংলাদেশ প্রগতিশীল কলামিস্ট ফোরাম আয়োজিত ‘জাতিসংঘের আঙিনায় শেখ হাসিনা’ শীর্ষক সেমিনারে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেছেন।

আব্দুল মোমেন বলেন, 'যুদ্ধ থামাতে যা-ই করা হোক- তা জাতিসংঘের মাধ্যমে সমন্বয় করা হলে ভালো হয়, কার্যকর হয়। জাতিসংঘের সঙ্গে আলাপ না করেই স্যাংশন (নিষেধাজ্ঞা) বসানো হলো। এর পরিণতি আমরা ভোগ করছি। যাদের বিরুদ্ধে স্যাংশন, তাদের কিছুই হয় না। ’ তিনি আরো বলেন, ‘জাতিসংঘ সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে তা বলা যাবে না। যুদ্ধ-বিগ্রহ বন্ধের বিষয়ে জাতিসংঘের দুর্বলতা রয়েছে। তবে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ এখনো হয়নি- এটাও জাতিসংঘের অবদান। নিরাপত্তা পরিষদে কোনো গণতন্ত্র নেই। পাঁচ দেশের ইচ্ছামতো সব কিছু চলছে। নিরাপত্তা পরিষদে নিয়মগুলোর সংস্কার এখন সময়ের দাবি। আমরা চাই জাতিসংঘ আরো শক্তিশালী হোক। '

ডা. জাহাঙ্গীর কবিরের চেম্বারে অভিযান–ইত্তেফাক

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচিত ডা. জাহাঙ্গীর কবিরের চেম্বারে অভিযান চালানো হচ্ছে। বুধবার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের ঢাকা জেলা কার্যালয়ের অফিস প্রধান মো. আব্দুল জব্বার মণ্ডলের নেতৃত্বে এ অভিযান শুরু হয়। আব্দুল জব্বার মণ্ডল গণমাধ্যমকে বলেন, ডা. জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে অনুমোদনহীন ওষুধ বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। অভিযান শেষ হলে বিস্তারিত জানানো হবে।

গত ৩ বছর ধরে প্রচলিত ধারার চিকিৎসার তুলনায় একটু আলাদা ধরনের চিকিৎসা পরামর্শ দিয়ে আলোচিত হন জাহাঙ্গীর কবির। এর আগে, চিকিৎসক ফেসবুক ও ইউটিউবে বিকল্প বা ব্যতিক্রমী চিকিৎসার পরামর্শ দিয়ে ডাক্তারদের রোষানলে পড়েছিলেন জাহাঙ্গীর কবির।

গণতন্ত্র হরণকারীরাই গণতন্ত্রের জন্য মায়াকান্না করছে: দীপু মনি-যুগান্তর

শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছেন, যারা গণতন্ত্র হত্যা করেছেন, তারাই আজ গণতন্ত্রের জন্য মায়াকান্না করেন। তারা দেশকে অস্থিতিশীল করার হুমকি দিচ্ছেন। দেশের মানুষ শান্তি চায়, স্থিতিশীলতা চায়। তারা জনগণের চাওয়ার ঠিক উল্টো করতে চায়। তারা অগ্নিসংযোগকারী, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধ্বংসকারী। তাদের কাছ থেকে ভালো কিছু আশা করা যায় না।  বুধবার বেলা ১১টার দিকে যশোর সরকারি মাইকেল মধুসূদন (এমএম) কলেজ পরিদর্শনে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।  মন্ত্রী আরও বলেন, আগামী ৬ নভেম্বর এইচএসসি সমমানের পরীক্ষা শুরু হবে। বিএনপির প্রতি আহ্বান থাকবে— শিক্ষার্থীদের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই যেন কর্মসূচি ঘোষণা করে।

শিক্ষার মান নিয়ে তিনি বলেন, সরকার ক্ষমতায় এসে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উন্নয়ন করেছে। বিশ্বে যে গতিতে শিক্ষার মান পরিবর্তিত হচ্ছে; সেখানে আমাদের দেশে ছোটখাটো পরিবর্তন যথেষ্ট নয়। এখন শিক্ষার মান উন্নয়ন করা হচ্ছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার মান বৃদ্ধি, আইসিটি সেক্টর ব্যবহারের দিকে সরকার নজর দিয়েছে। 

বাংলাদেশে চীনের কোন ঋণের ফাঁদ নেই: রাষ্ট্রদূত লি জিমিং -মানবজমিন

ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত লি জিমিং বলেছেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অবস্থা শ্রীলঙ্কার চেয়ে অনেক ভালো এবং বাংলাদেশে চীনের কোন ঋণের ফাঁদ নেই। বুধবার মধ্যাহ্নে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত ডিকাব-টক অনুষ্ঠানে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ দাবি করেন। মেগা প্রকল্পে দফায় দফায় ব্যয় বাড়ার পাশাপাশির চীনা ঋণের পরিমাণ বৃদ্ধি নিয়ে উদ্বিগ্ন অর্থনীতিবিদরা শ্রীলঙ্কার উদাহরণ টেনে বাংলাদেশও ফাঁদে পড়তে যাচ্ছে কি-না? তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে রাষ্ট্রদূত লি জিমিং বলেন, "শুধু বাংলাদেশে নয় বিশ্বের কোথাও চীনা ঋণের কোনো ফাঁদ নেই। পশ্চিমা বাণিজ্যিক ঋণ এবং বহু-আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঋণ শ্রীলঙ্কার বৈদেশিক ঋণের সিংহভাগ। সেই দেশের (শ্রীলঙ্কা) মোট বৈদেশিক ঋণের ১০ ভাগেরও কম চীনা ঋণ। বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও একই অবস্থা, বিদেশি ঋণের মাত্র ৬ শতাংশ চীনের ঋণ। সেই বিবেচনায় আমি বলব যে বাংলাদেশের অবস্থা শ্রীলঙ্কার চেয়ে অনেক ভালো। বাংলাদেশের মোট বৈদেশিক ঋণের মাত্রাও অনেক কম। 

যথাসাধ্য চেষ্টা করব দলকে আবার স্বমহিমায় ফিরিয়ে আনতে, কংগ্রেস সভাপতি পদে শপথ নিয়ে বার্তা খাড়গের –আজকাল

সাত হাজারেরও বেশি ভোটে জিতে কংগ্রেস সভাপতির পদ রেয়েছিলেন মল্লিকার্জুন খাড়গে।

গান্ধী পরিবারের উপস্থিতিতে বুধবার সভাপতি পদে দায়িত্ব নিলেন তিনি। ২৪ বছর পর গান্ধী পরিবারের বাইরে কারোর হাতে গেল সভাপতির পদ। এদিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সনিয়া গান্ধী, রাহুল গান্ধী। ভারত জোড়ো যাত্রা থেকে বিরতি নিয়ে এদিনের অনুষ্ঠানে এসেছিলেন রাহুল। শপথগ্রহণের আগে এদিন প্রথমে গান্ধীজির সমাধিস্থলে যান নয়া নির্বাচিত সভাপতি। সেখানে প্রণাম সেরে তারপর মঞ্চে ওঠেন।

সভাপতি হওয়ার পর নিজের প্রথম ভাষণে তিনি ধন্যবাদ জানান প্রাক্তন সভাপতি সনিয়া গান্ধীকে। দলের একজন সাধারণ কর্মী থেকে সভাপতি হয়ে ওঠার যাত্রার কথাও এদিন শোনা যায় খাড়গের মুখে। সভাপতি হওয়ার জন্য তাঁকে ধন্যবাদ জানান সনিয়াও। ৮০ বছরের অভিজ্ঞ নেতার নেতৃত্বে দলের ঘুরে দাঁড়ানোর কথাও বলেন তিনি। বর্তমানে কংগ্রেস যে অন্যান্য দলের তুলনায় অনেকটাই পিছিয়ে তা বলতেও দ্বিধাবোধ করেননি প্রাক্তন সভাপতি। তবে কংগ্রেস কখনোই পরাজয় মেনে নেয়নি। সেই প্রসঙ্গ ধরেই বর্তমান বিজেপি সরকার এবং আরএসএসকে সরাসরি আক্রমণ করেন খাড়গে। তাঁর মতে, বিজেপি সরকার ভারতকে মিথ্যের পথে নিয়ে যাচ্ছে। সেখান থেকে ভারতের সাধারণ নাগরিকদের আবার সত্যের রাস্তায় ফিরিয়ে আনতে কাজ করবে কংগ্রেস। তাছাড়া জনসংযোগের জন্য রাহুল গান্ধীর ভারত জোড়ো যাত্রার কথাও বলেছেন তিনি।

ভারত বিদ্বেষী’ সুয়েলাতেই আস্থা ঋষির, তুমুল ক্ষোভের মুখে ভারতীয় বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী!--সংবাদ প্রতিদিন

একশো আশি ডিগ্রি ঘুরে গিয়েছে ইতিহাসের চাকা। ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী পদে এখন ভারতীয় বংশোদ্ভূত ঋষি সুনাক। ফলে উপমহাদেশে তাঁকে নিয়ে আলোচনার অন্ত নেই। পাকিস্তানেও সুনাকের শিকড় রয়েছে বলে দাবি অনেকের। কিন্তু ভারতীয় বংশোদ্ভূত এবং ‘ভারত বিদ্বেষী’ নেত্রী সুয়েলা ব্রেভারম্যানকে মন্ত্রিসভায় ফিরিয়ে এনে তুমুল বিক্ষোভের মুখে পড়েছেন সুনাক।

মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী পদের দায়িত্ব নিয়েছেন ঋষি সুনাক। আর মসনদে বসেই মন্ত্রিসভায় সুয়েলা ব্রেভারম্যানকে ফিরিয়ে এনেছেন তিনি। ঋষির (Rishi Sunak) দৌলতে ফের ব্রিটেনের স্বরাষ্ট্র সচিব (স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী) পদে বসেছেন ‘ভারত বিদ্বেষী’ সুয়েলা। আর সুনাকের এই সিদ্ধান্তে রীতিমতো বিতর্ক শুরু হয়ে গিয়েছে। কারণ, ভারতীয় বংশোদ্ভূত হলেও সুয়েলা যে ‘ভারত-হিতৈষী’ নন তা স্পষ্ট। বরং ভারতীয় অভিবাসীদের নিয়ে বার বার আলটপকা মন্তব্য করে বিতর্ক সৃষ্টি করেছেন তিনি। গত ২৮ অগস্ট এশিয়া কাপে অনুষ্ঠিত ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের প্রভাব পড়ে ব্রিটেনে। গন্ডগোল হয় সেখানে। এর নেপথ্যে অভিবাসী যোগ রয়েছে বলেও অভিযোগ করেছিলেন তিনি। ভারতের সঙ্গে মুক্তবাণিজ্য চুক্তি (FTA)-র ঘোর বিরোধী সুয়েলা। এহেন সুয়েলার মন্ত্রিত্বকালে অভিবাসীদের নিয়ে ‘কঠিন’ পদক্ষেপ করা হতে পারে বলেও আশঙ্কা।

 

পার্সটুডে/ এমবিএ/২৬

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।