এপ্রিল ০৬, ২০২৩ ১৬:৫৯ Asia/Dhaka

বিয়ের প্রথাকে ইসলাম সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরেছে। বিয়ে করা মহানবীসহ (সা) সব নবী-রাসুলের সুন্নাতের অংশ।

পবিত্রতম যে বার

পরিবার মানে স্বর্গসুখের নীড়

বসবাস ও মাথা গোজার নিরাপদ আশ্রয়যেখানে থাকা যায় নির্ভাবনায়

অন্তরঙ্গতায় ধরে না যেখানে কোনো চিড়।

যেখানে ক্লান্ত পাখির মত ঘুমিয়ে পড়া যায় এবং হওয়া যায় নিশ্চিন্ত নির্ভয়!  

পরিবার মানে আপনজনার প্রিয় ভুবন

অবিচ্ছিন্ন স্নেহ-মায়া ও প্রেমের বন্ধন!

পরিবার মানে মা-পাখির ডানার নিচে ছানাদের সুখময় গুঞ্জন

শিশুদের কলকাকলী, উৎসব কিশোর-কিশোরী ও তারুণ্যের!

পরিবার মানে প্রিয়জনের তরে আত্মত্যাগ আর সহনশীলতার জেরবার

 অল্পে তুষ্টির মত অফুরন্ত সুখ আর সৌভাগ্যের আধার!

পরিবার মানে একাকিত্ব থেকে মুক্তি!

শরীর ও মনের প্রাণবন্ত শক্তিপায়ে দলে যাওয়া অনৈতিকতার প্রলোভন,

বিচ্যুতি ও পদস্খলন!

পরিবার মানে সুরক্ষা মানব-প্রজন্মের!

সুরক্ষা শরীর ও স্বাস্থ্যের

পরিবার নর-নারীর সুসম্পর্কের মণিহার,

পরিবার খোদার সেরা উপহার!

মহানবী মুহাম্মাদ (সা) বলেছেন, যে বিয়ে করলো সে যেন ধর্মের অর্ধেককে পালন বা রক্ষা করল। -বিয়ে করাটা সৃষ্টিকুলের প্রকৃতি, ভারসাম্য ও  সৌভাগ্যের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টির সহায়ক। নর ও নারীর যে জৈবিক চাহিদা তা পূরণের ন্যায়সঙ্গত, বৈধ ও স্বাভাবিক মাধ্যম হল বিয়ে। বিয়ের প্রথা মানুষের চারিত্রিক পবিত্রতাকে সমুন্নত রাখে। এ ছাড়াও পরিবার গঠনের মাধ্যমে ব্যক্তি অর্জন করে এক ধরনের স্বাধীন ও স্বতন্ত্র জীবন। ব্যক্তি জীবনের পূর্ণতা ও বিকাশের সহায়ক প্রশান্তি এনে দেয়ার ক্ষেত্রে এই স্বাধীনতার অনুভূতির ব্যাপক প্রভাব রয়েছে।দেখা গেছে সমাজের বেশিরভাগ অপরাধী ও পাপীরাই হয় অবিবাহিত অথবা পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন। তাই বিয়ে ও পরিবার গঠনের প্রথা সামাজিক নিরাপত্তার পরিবেশ সৃষ্টি করে। আর একটি সমাজের উন্নয়নমূলক সব তৎপরতার সাফল্য নির্ভর করে নিরাপত্তার ওপর।

Image Caption

 

পরিবারের সুরক্ষার জন্য দায়িত্বশীলতা ও ঠেকে-শেখার মত গুণগুলো অপরিহার্য। আর এ গুণগুলো বিয়ে করার মাধ্যমেই অর্জন করা সম্ভব। পরিবার সন্তানকে সুশিক্ষা দেয়ার কেন্দ্র বলে পারিবারিক বন্ধন খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং পবিত্রতম মানবীয় বন্ধন।   আধুনিক যুগে সামাজিক ও ব্যক্তিগত চাহিদা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে পরিবারগুলোতে দেখা দিচ্ছে নানা ধরনের সমস্যা ও সংকট। তাই বর্তমান যুগের অনেক মানুষই হয়ে পড়ছেন ব্যক্তি-কেন্দ্রিক বা আত্মস্বার্থ-প্রবণ।  অনেকেই এইসব সমস্যা থেকে মুক্ত হতে বেছে নিচ্ছেন বিবাহ-বিচ্ছেদ বা তালাকের পথ। আবার অনেকেই যৌক্তিক সংলাপের মাধ্যমে কিংবা সংকটের মূল শেকড়গুলো অনুসন্ধানের মাধ্যমে এইসব সমস্যার সমাধান বের করছেন।  যেমন,  পরিবারকে সুদৃঢ় ও সচল রাখার অন্যতম মাধ্যম হল এর সদস্যদের জন্য বিনোদন ও আনন্দের ব্যবস্থা করা। পরিবারের সদস্যদের কেবল খাদ্য ও জামা-কাপড় দেয়া বা বাহ্যিক ভরণপোষণই যথেষ্ট নয়। তাদের চিত্ত-বিনোদন ও মনের খোরাক যোগানো এবং স্নেহ-ভালোবাসার যোগান দেয়াও জরুরি।  মানসিক আনন্দ শারীরিক সুস্থতার জন্যও অপরিহার্য।

পরিবারের অবস্থা যদি এমন হয় যে তাতে সব সময়ই বিরাজ করে টেনশন, উত্তেজনা, উদ্বেগ বা ভয়-ভীতি তাহলে এমন পরিবারের সদস্যরা হবে দুর্বল চিত্তের ও সহজেই কোনো সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম হবে না। আর অন্যদিকে পরিবারের সদস্যরা যদি মাঝে মধ্যেই প্রফুল্লতা ও আনন্দ ফুর্তির মধ্যে সময় কাটায় তাহলে তারা সবল চিত্তের অধিকারী হবে ও সহজেই নানা সিদ্ধান্ত নিতে পারবে।  চিত্ত-বিনোদনের ফলে মনের মধ্যে আসে সজীবতা এবং তা হতাশা, অলসতা, কু-চিন্তা, অর্থহীন ভাবনা ও চিন্তার বন্ধ্যাত্ব দুর করে। আর এ বিষয়টি শরীরকে সুস্থ রাখার জন্যও জরুরি। মহান আল্লাহ পবিত্র কুরআনে প্রফুল্ল ও আনন্দময় জীবন যাপন করতে মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছেন:হে রাসুল! আপনি বলুন: আল্লাহর নানা উপহার বা সাজ-সজ্জাকে, যা তিনি বান্দাদের জন্যে সৃষ্টি করেছেন এবং পবিত্র খাদ্যবস্তুসমূহকে কে হারাম করেছে? আপনি বলুন: এসব নেয়ামত আসলে পার্থিব জীবনে মুমিনদের জন্যে এবং কিয়ামতের দিন খাঁটিভাবে তাঁদেরই জন্যে।

বিজ্ঞজনেরা বলে থাকেন আনন্দ কেবল ভোগ ও বিলাসের মধ্যেই সীমিত নয়। কখনও কখনও ত্যাগের মধ্যেও রয়েছে প্রকৃত সুখ। তাই বলা হয় অসৎ আনন্দের চেয়ে পবিত্র বেদনা মহৎ। ধৈর্য তিক্ত হলেও এর ফলটা খুব সুমিষ্ট। পাপ বর্জনের যে অপার আনন্দ তার তুলনায় প্রবৃত্তির আনন্দ ও জৈবিক তৃপ্তি খুবই তুচ্ছ বা কোনো আনন্দই নয়। নিজেকে পাপ থেকে দুরে রাখা ও পরিবারকেও পাপ বা মন্দ কাজ থেকে দুরে রাখার মধ্যেও রয়েছে অপার আধ্যাত্মিক আনন্দ।পরিবারের জন্য বাহ্যিক আনন্দ বা চিত্ত-বিনোদনের মধ্যে হাসি-খুশি থাকা, সুগন্ধির ব্যবহার, উজ্জ্বল রংয়ের পোশাক পরা, সফরে যাওয়া, কাজ করা, খেলাধুলা ও ব্যায়াম বা শরীর চর্চা, কৌতুক বা হাসি-ঠাট্টা করা, উৎসব এবং সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে যোগদান, আত্মীয়দের বাসায় বেড়াতে যাওয়া ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।পবিত্র কুরআনে সফরের পরামর্শ দেয়া হয়েছে। পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ বলেছেন, তোমরা জমিনে ভ্রমণ কর যাতে সৃষ্টির নানা নিদর্শন দেখতে পাও এবং অন্যান্য জাতির পরিণতি থেকে শিক্ষা নিতে পার।

পরিপাটি থাকা ও সুন্দর পোশাক পরাও পারিবারিক সদস্যদের জন্য আনন্দ বয়ে আনে। ইসলাম উজ্জ্বল বর্ণের বিশেষ করে সাদা ও সবুজ পোশাক পরার ওপর বিশেষভাবে জোর দিয়েছে।  স্বামী বা স্ত্রীর মনোরঞ্জনের জন্যও উজ্জ্বল পোশাক পরার বেশ মনোস্তাত্ত্বিক গুরুত্ব রয়েছে। পরিবারের সদস্যদের মধ্যে রুচির ভিন্নতা থাকলেও এমন পরিবেশ সৃষ্টি করা উচিত যাতে সবাই একে অপরের প্রয়োজন অনুভব করে। বলা হয় ভিন্নতা বা মতভেদের মধ্যেও থাকে কল্যাণ। মতভেদ থাকলেও পরিবারের সদস্যরা পারস্পরিক মত-বিনিময় বা পরামর্শের মাধ্যমে সবচেয়ে ভালো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে সক্ষম হয়। #

পার্সটুডে/এমএএইচ/০৬

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।

 

ট্যাগ