'পলাতক নেতাকর্মীরা আসতে পারবেন না বলেই কেক কাটেননি': মাহবুবুল আলম হানিফ
সুপ্রিয় পাঠক/শ্রোতা! সালাম ও শুভেচ্ছা নিন। ১৫ আগস্ট সোমবারের কথাবার্তার আসরে আপনাদের স্বাগত জানাচ্ছি আমি নাসির মাহমুদ ও মুজাহিদুল ইসলাম। যথারীতি বাংলাদেশ ও ভারতের গুরুত্বপূর্ণ দৈনিকের বিশেষ বিশেষ খবর সবিস্তারে তুলে ধরবো। প্রথমেই শিরোনাম।
ঢাকার দৈনিকগুলোর গুরুত্বপূর্ণ শিরোনাম:
- বিনম্র শ্রদ্ধায় জাতির জনককে স্মরণ: প্রথম আলো
- খালেদা জিয়ার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাই: প্রথম আলো
- 'পলাতক নেতাকর্মীরা আসতে পারবেন না বলেই কেক কাটেননি':ইত্তেফাক
- আমি বঙ্গবন্ধুকে বাঁচাতে পারিনি, হাত বাঁধা ছিল: কে.এম.শফি: মানবজমিন
- বঙ্গবন্ধু’র খুনীদের ফেরাতে দেশগুলো সাড়া দিচ্ছে না:আইজিপি/মানবজমিন
কোলকাতার দৈনিকগুলোর গুরুত্বপূর্ণ শিরোনাম:
- পাকিস্তানকে তীব্র আক্রমণ মোদীর: আনন্দবাজার পত্রিকা
- মমতাকে ‘প্রধানমন্ত্রী’ বলে বিতর্ক সৃষ্টি অর্থমন্ত্রীর : দৈনিক বর্তমান
- পাক অধিকৃত কাশ্মীর নিয়ে আরও আক্রমণাত্মক মোদি: সংবাদ প্রতিদিন
১৫ আগস্ট শোক দিবসের খবর শিরোনাম হয়েছে প্রায় সবকটি পত্রিকায়। প্রথম আলোর শিরোনাম: বিনম্র শ্রদ্ধায় জাতির জনককে স্মরণ: বিস্তারিত খবরে এসেছে, আজ শোকাবহ ১৫ আগস্ট। জাতীয় শোক দিবস। দিবসটিতে বিনম্র শ্রদ্ধায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর পরিবারের নিহত সদস্যদের স্মরণ করছে জাতি। সকালে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ধানমন্ডিতে জাতির জনকের প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।
শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় সশস্ত্র বাহিনীর একটা চৌকস দল গার্ড অব অনার দেয়। বিউগলে বাজানো হয় করুণ সুর। রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। সেখানে বিশেষ মোনাজাত ও পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত করা হয়। পরে মন্ত্রিসভার সদস্য ও আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে নিয়ে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানান শেখ হাসিনা।
রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী চলে যাওয়ার পর স্থানটি উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছে। শ্রদ্ধা জানাচ্ছে সাধারণ মানুষ।
বঙ্গবন্ধুর সমাধি গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায়। ১৫ আগস্ট নিহত বঙ্গবন্ধুর পরিবারের সদস্যসহ অন্যদের কবর দেওয়া হয়েছে বনানী কবরস্থানে।
সকাল সাড়ে সাতটার দিকে বনানী কবরস্থানে বঙ্গবন্ধুর পরিবারের সদস্য ও নিহত অন্যদের কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে ফাতেহা পাঠ ও মোনাজাতে অংশ নিয়েছেন তিনি।
খালেদা জিয়ার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাই: প্রথম আলোর আরেকটি শিরোনাম।
গতকাল বিএনপির পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে যে খালেদা জিয়া এবারে জন্মদিনে কোনো আনুষ্ঠানিকতা করবেন না।
চেয়ারপারসনের প্রেস উইংয়ের কর্মকর্তা শায়রুল কবির খান ওই দিন বিকেলে সাংবাদিকদের, তথা দেশবাসীকে জানিয়ে দিলেন, ‘চলমান সংকট, বন্যা পরিস্থিতি ও নেতা-কর্মীদের জেল-গুম-খুনসহ সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায়’ এবার খালেদা জিয়া জন্মদিনের অনুষ্ঠান না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কেবল নিজে জন্মদিন পালন না করার সিদ্ধান্ত নয়, দলীয় ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের প্রতিও আনুষ্ঠানিকতা না করার আহ্বান জানিয়েছেন। খালেদা জিয়ার এই সিদ্ধান্ত ব্যাপকভাবে আলোচিত ও প্রশংসিত হয়েছে।
এদিকে ইত্তেফাক শিরোনাম করেছে:
'পলাতক নেতাকর্মীরা আসতে পারবেন না বলেই কেক কাটেননি': মাহবুবুল আলম হানিফ
আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ বলেছেন, 'মানবিক কারণে বা বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে নয়, দলের পলাতক নেতাকর্মীরা আসতে পারবে না বলেই খালেদা জিয়া ১৫ আগস্ট মিথ্যা জন্মদিনে কেক না কাটার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।'
সোমবার দুপুরে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের ইসলামিক ফাউন্ডেশন মিলনায়তনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪১তম শাহাদাৎ বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে ‘বঙ্গবন্ধুর জীবন ও কর্ম’ শীর্ষক আলোচনা সভা ও মিলাদ মাহফিলে এসব কথা বলেন তিনি।
হানিফ বলেন, বঙ্গবন্ধু এমন ব্যক্তি ছিলেন যিনি ছাত্রজীবন থেকে অধিকার আদায়ের আন্দোলন করেছেন। শাসকগোষ্ঠীর রোষানলে পড়ে তাকে ১৪ বছর কারাগারে থাকতে হয়েছিল। তিনি অধিকার আদায়ে কথা বলতেন এটাই ছিল তার দোষ।
তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে ’৭৫-এর পর ভুল ব্যখ্যা করা হতো। অথচ ইসলামের জন্য যা করেছেন শেখ মুজিবুর রহমানই করেছেন। ২১ বছর পর ক্ষমতায় আসার পর শেখ হাসিনা বাদবাকি কাজ করছেন।
আমি বঙ্গবন্ধুকে বাঁচাতে পারিনি, হাত বাঁধা ছিল: কে.এম. শফিউল্লাহ: মানবজমিন
সাবেক সেনাবাহিনী প্রধান ও সেক্টর কমান্ডার্স ফোরামের চেয়ারম্যান কে এম সফিউল্লাহ বলেছেন, ওই সময় আমি বঙ্গবন্ধুকে রক্ষা করতে পারিনি। আমার হাত পা বাঁধা ছিল। গতকাল জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এমন মন্তব্য করেন তিনি। ‘বঙ্গবন্ধু মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশ’ শীর্ষক এ আলোচনা সভার আয়োজন করে সেক্টর কমান্ডার্স ফোরাম। সভায় আমন্ত্রিত বক্তারা বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করে পঁচাত্তরের ১৫ই আগস্টে তাকে সপরিবারে হত্যার দেশি-বিদেশি কুশীলবদের খুঁজে বের করার দাবি জানান।
এদিকে আইজিপি বলেছেন,বঙ্গবন্ধু’র খুনীদের ফেরাতে দেশগুলো সাড়া দিচ্ছে না: মানবজমিনসহ প্রায় সব পত্রিকাতেই এসেছে খবরটি।
বঙ্গবন্ধু’র পলাতক খুনীরা যেসব দেশে আছে তাদের ফেরানোর বিষয়ে ওইসব দেশ সাড়া দিচ্ছে না বলে জানিয়েছেন পুলিশের আইজি একেএম শহিদুল হক। দুপুরে ধানমন্ডির ৩২নম্বরে বাংলাদেশ পুলিশের পক্ষ থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর পর তিনি উপস্থিত সাংবাদিকদের এতথ্য জানান। তিনি বলে, পলাতক খুনীদের ফিরিয়ে আনতে যে টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছিল তা কাজ করছে। খুনীরা প্রত্যেকে দেশের বাইরে আছে। তারা যেসব দেশে আছে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ হচ্ছে। কিন্তু সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না
কোলকাতার দৈনিকগুলোর গুরুত্বপূর্ণ খবর:
- পাকিস্তানকে তীব্র আক্রমণ মোদীর, বালুচিস্তানের পাশে দাঁড়ানোর স্পষ্ট ইঙ্গিত: আনন্দবাজার পত্রিকা
স্বাধীনতা দিবসের ভাষণে পাকিস্তানকে তীব্র আক্রমণ করলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সাফ বুঝিয়ে দিলেন, ভারত সরকারের পাকিস্তান নীতি সম্পূর্ণ বদলে দিয়েছেন তিনি। পাকিস্তানের প্রতি শুধু কঠোর মনোভাবই যথেষ্ট নয়, প্রতিটি পদক্ষেপে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক হওয়াই তাঁর সরকারের নীতি। দেশের ৭০তম স্বাধীনতা দিবসে এ কথা স্পষ্ট করে দিলেন নরেন্দ্র মোদী। বেনজির ভাবে লালকেল্লার প্রাচীর থেকে বালুচিস্তান, পাক অধিকৃত কাশ্মীর এবং গিলগিট-বাল্টিস্তান ইস্যুও এ দিন উস্কে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। প্রায় ঘণ্টা দু’য়েকের ভাষণের একেবারে শেষ দিকে এ দিন পাকিস্তান প্রসঙ্গ উত্থাপন করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। সন্ত্রাসবাদের প্রসঙ্গেই মূলত পাকিস্তানকে আক্রমণ করেন তিনি।
মমতাকে ‘প্রধানমন্ত্রী’ বলে বিতর্ক সৃষ্টি অর্থমন্ত্রীর : দৈনিক বর্তমান
রবিবার কন্যাশ্রীর জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত সরকারি অনুষ্ঠানে ছাত্রীরা জানলেন, প্রধানমন্ত্রীর নাম মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সৌজন্যে রাজ্যের অর্থমন্ত্রী অমিত মিত্র। এদিন অনুষ্ঠান চলাকালীন অমিতবাবু নিজের বক্তব্যের মধ্যেই আচমকা একটি প্রশ্ন করে বসেন। যা শুনে কন্যারা চমকে ওঠেন। অমিতবাবু এদিন ছাত্রীদের প্রশ্ন করেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর নাম কী?’ উত্তরও তিনিই দেন, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।’ তাঁর কথায়, ছাত্রীমহলে গুঞ্জন শুরু হলেও অমিতবাবু বলেন, ‘কন্যাশ্রী প্রকল্প যিনি চালু করেছেন, তিনি প্রধানমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।’
পাক অধিকৃত কাশ্মীর নিয়ে আরও আক্রমণাত্মক মোদি: সংবাদ প্রতিদিন
দেশের ৭০তম স্বাধীনতা দিবসে লালকেল্লায় দাঁড়িয়ে সন্ত্রাসবাদ প্রসঙ্গে পাকিস্তানকে কড়া হুঁশিয়ারি দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি স্পষ্ট ভাষায় পাকিস্তানকে সন্ত্রাসবাদে মদত দেওয়ার জন্যে দায়ী করেন। একইসঙ্গে বালুচিস্তানের মাটিতে পাকিস্তান যে হিংসা চালাচ্ছে তাও এদিন বিশ্বের সামনে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী৷ এই প্রথম স্বাধীনতা দিবসের বক্তৃতায় এরকম সংবেদনশীল বিষয়ে মুখ খুললেন কোনও প্রধানমন্ত্রী৷ মোদির হুঁশিয়ারি, কোনও অবস্থাতেই ভারতের মাটিতে জঙ্গি কার্যকলাপকে বরদাস্ত করা হবে না।
পার্সটুডে/নাসির মাহমুদ/১৫