ইরান অত্যন্ত উন্নত ও অনুকরণীয় একটি দেশ: বাংলাদেশ বেতারের মহাপরিচালক
-
বাংলাদেশ বেতারের মহাপরিচালক এ কে এম নেছার উদ্দিন ভুঁইয়া
বাংলাদেশ বেতারের মহাপরিচালক (ডিজি) এ কে এম নেছার উদ্দিন ভুঁইয়া বলেছেন, ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান অত্যন্ত উন্নত এবং অনুকরণীয় একটি দেশ। ইরানের কৃষ্টি-কালচার অত্যন্ত উন্নত। নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবি রাখে। এখানকার মানুষের জীবন এবং সামাজিক জীবন অত্যন্ত শৃঙ্খলাবদ্ধ। দেশটির সর্বত্রই শৃঙ্খলা বিরাজ করছে।
রেডিও তেহরানকে দেয়া সাক্ষাৎকারে জনাব এ কে এম নেছার উদ্দিন ভুঁইয়া এসব কথা বলেন।
সম্প্রতি তেহরানে অনুষ্ঠিত হয়েছে এশিয়া-প্যাসিফিক ইনস্টিটিউট ফর ব্রডকাস্টিং ডেভেলপমেন্ট বা এআইবিডি`র ১৫তম সাধারণ সম্মেলন। সম্মেলনে তিনি বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিয়েছেন। সম্মেলন শেষে তিনি রেডিও তেহরানের সাথে একান্তে কথা বলেন।
সাক্ষাৎকারটি গ্রহণ ও উপস্থাপন করেছেন গাজী আবদুর রশীদ।
রেডিও তেহরান: ইরান এবং বাংলাদেশের মধ্যে মিডিয়া পর্যায়ে যে সম্পর্ক রয়েছে আপনার দৃষ্টিতে তা কতটা শক্তিশালী? এ বিষয়ে যদি একটু বিস্তারিত বলেন।
নেছার উদ্দিন ভুঁইয়া: আমি শুনেছি ইরানে ৩২ টি ভাষায় রেডিও অনুষ্ঠান তৈরি এবং প্রচার করা হয়। আরো আনন্দের কথা হচ্ছে যে এই ৩২ টি ভাষার মধ্যে রেডিও তেহরান থেকে বাংলা ভাষায় অনুষ্ঠান সম্প্রচারিত হয়। এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত গর্বের বিষয়।
যেহেতু ঐতিহ্যগতভাবে ইরানের সাথে আমাদের সম্পর্ক অত্যন্ত সুদৃঢ়। ইরানের কবি, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব- সুফি সাধক- শেখ সাদি, হাফিজ, মাওলানা রুমিসহ অনেকের লেখা এবং সৃষ্টি দ্বারা আমরা প্রভাবিত। ইরান মুসলিম বন্ধুপ্রতীম দেশ। সেই ইরান থেকে বাংলা ভাষায় রেডিও অনুষ্ঠান প্রচার করা হয় সেটা আমাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দের কথা।
ইরানের ফার্সি ভাষা শত শত বছর আমাদের দেশের রাষ্ট্রীয় ভাষা ছিল। আমাদের দাপ্তরিক ভাষা ছিল ফার্সি। এখনও মাদ্রাসায় যারা পড়েন এবং উচ্চ শিক্ষা নিয়ে থাকেন তাদেরকে প্রথমে শুরু করতে হয় ফার্সি ভাষায় তারপর আরবিতে। সুতরাং ইরানের বা পারস্যের সাথে যুগ যুগ ধরে হাজার বছরের নিবিড় বন্ধন রয়েছে।
ইরান থেকে সুফি সাধকরা আমাদের দেশে গিয়ে ইসলাম প্রচার করেছেন। সুতরাং আমরা ইরানের কাছে সাংস্কৃতিকভাবে ঋণি। ইরানের বহু কিছু দিয়ে আমরা প্রভাবিত। সুতরাং ইরানের সাথে আমাদের সাংস্কৃতিকসহ সামগ্রিক সম্পর্ক আরো সুদৃঢ় হবে এমনটাই প্রত্যাশা করি।
রেডিও তেহরান: এবার একটু ভিন্ন প্রসঙ্গ। ....ইরান সফর করলেন আপনি। তো সামগ্রিকভাবে এ দেশের কৃষ্টি-কালচার ও গণমাধ্যকে কেমন দেখলেন?
নেছার উদ্দিন ভুঁইয়া: ইরানের কৃষ্টি-কালচার অত্যন্ত উন্নত, প্রশংসার দাবি রাখে। এখানকার জীবন শৃঙ্খলাবদ্ধ। আমাদের সমাজ থেকে ইরানের সমাজ অনেক অগ্রসর এটা অস্বীকার কোনো উপায় নেই। এখানকার মানুষরা অত্যন্ত শৃঙ্খলাবদ্ধ এবং শান্তিপূর্ণ সমাজ। সবাই নিয়ম-কানুন যথাযথ মেনে চলে। ইরানের এসব বিষয়গুলো অত্যন্ত অনুকরণীয়। আমাদের দেশকে এ জায়গায় যেতে হয়তো আরো বহু দিন লেগে যেতে পারে। সামগ্রিকভাবে ইরান অত্যন্ত ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতির অধিকারী। অনুসরণীয় সংস্কৃতির উত্তরাধিকার বহন করছে ইরান। ইরানের কাছে বাংলাদেশের অনেক কিছুই শেখার আছে, অনেক কিছুই ইরানের কাছ থেকে বাংলাদেশের অনুকরণ করার আছে বলে আমি মনে করি। ফলে ইরানকে দেখে আমার মূল্যায়ন হচ্ছে এটি অত্যন্ত চমৎকার একটি দেশ। সর্বত্রই শৃঙ্খলা বিরাজ করছে।
এতবড় একটা আন্তর্জাতিক মানের সম্মেলন হলো। আমাদের দেশে এরকম একটা সম্মেলন হলে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর বহু সদস্য থাকত। কিন্তু এখানে আমি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর একজন সদস্যকেও দেখিনি। প্রায় ৪৮ টি দেশের প্রতিনিধিরা এই সম্মেলনে অংশ নিয়েছিলেন। ১০১ টা গণমাধ্যমের একাধিক প্রতিনিধি এখানে এসেছিলেন। বাংলাদেশ থেকে আমরা ৬ জন এসেছি, এভাবে সব দেশ থেকেই এসেছে। বহু পণ্ডিত ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিরা এখানে এসেছেন। অথচ এতবড় একটা আন্তর্জাতিক সম্মেলনের জন্য পুলিশ ডেকে আনতে হলো না। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের ডেকে আনতে হলো না। অত্যন্ত সুন্দরভাবে এআইবিডি’র তিন দিনের সম্মেলন শেষ হলো। এসব বিষয় অত্যন্ত প্রশংসার দাবি রাখে এবং এখান থেকে অনেক শিক্ষণীয় বিষয় রয়েছে।
রেডিও তেহরান: আমরা জেনেছি যে, আপনি এই প্রথম ইরান সফর করছেন। ইসলামি বিপ্লবের দেশ ইরান সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন কী?
নেছার উদ্দিন ভুঁইয়া: ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান অত্যন্ত উন্নত একটি দেশ। সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক, গণমাধ্যম, আর্থ-সামাজিকসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ইরান আমাদের দেশকে সহযোগিতা করতে পারে। এই সহযোগিতা যাতে দিন দিন আরো বাড়ে সেটাই আমাদের প্রত্যাশা। আমরা ইরানের উত্তরোত্তর উন্নতি কামনা করি।#
পার্সটুডে/গাজী আবদুর রশীদ/৩০