নভেম্বর ১৬, ২০১৬ ১২:০২ Asia/Dhaka

বন্ধুরা, আপনাদের সবাইকে অনেক অনেক সালাম ও শুভেচ্ছা জানিয়ে শুরু করছি আপনাদেরই চিঠিপত্রের আসর প্রিয়জন। আশা করছি প্রত্যেকে ভালো আছেন। অনুষ্ঠান উপস্থাপনায় আজ আপনাদের সঙ্গে রয়েছি আমরা তিনজন।

প্রতি আসরের মতো আজও আলোচনা শুরু করবো একটি হাদিস শুনিয়ে। বিশ্বনবী হজরত মোহাম্মাদ (স.) বলেছেন, বিশ্বনবী হজরত মোহাম্মদ (সা.) বলেছেন,  তিনটি কাজের সওয়াব দুনিয়া ও আখিরাতে বিস্তৃত: -হজ্ব যা দারিদ্র্য দূর করে, -সদকাহ্ যা বিপদ থেকে রক্ষা করে আর -আত্মীয়ের সম্পর্ক জোড়া লাগানো যা আয়ু বৃদ্ধি করে।

হাদিসের পর আসরের প্রথমেই হাতে তুলে নিচ্ছি বাংলাদেশ থেকে আসা একটি চিঠি। চট্রগ্রাম জেলার ফতেহাবাদ গ্রামের সাউথ এশিয়া ক্লাব থেকে এটি লিখেছেন, ক্লাবের উপ পরিচালক এম ফোরকান। চিঠিতে তিনি বলেছেন, রেডিও তেহরান কেনো শুনি-এমন প্রশ্ন করা হলে বলবো-  ভালো লাগে তাই শুনি। ভালো লাগার কারণ কি বলা হলে জবাব দেবো, একটা নয় অনেক কারণ রয়েছে। যেমন সঠিক বিশ্ব সংবাদ বিশেষ করে মুসলিম বিশ্বের সংবাদ পেতে রেডিও তেহরান শুনি। রেডিও তেহরান শুনি- ইসলাম সম্পর্কে জানতে। রেডিও তেহরান শুনি ইসলামি বিপ্লব সম্পর্কে জানতে। আমরা রেডিও তেহরানকে অনুভব করি সব সময়ই। তা রেডিও তেহরান কি আমাদের অনুভব করে? এমন প্রশ্নের উত্তর করতে ইচ্ছা হয়।

বহলুল: প্রশ্ন করা খুবই ভালো কাজ। যত পারেন প্রশ্ন করবেন। নিয়মিত প্রশ্ন করবেন।

বহলুল ভাই, ভাই ফোরকানের প্রশ্নের জবাব  তো দেয়া হলো না। যাক, উত্তরটা আমিই দিচ্ছি। আমরা শ্রোতা এবং পাঠক বন্ধুদের নিয়মিত অনুভব করি বলেই তো প্রিয়জন নিয়ে সপ্তাহে দু’বার আপনাদের কাছে হাজির হই। আপনারা আমাদের অনুষ্ঠানের প্রাণ। শ্রোতাবন্ধুরা না থাকলে এতসব আয়োজন নিয়ে রেডিওতে হাজির হওয়ার কোনো অর্থ হয় না। কাজেই আপনারা আমাদেরকে যতটা ভালোবাসেন আপনাদের প্রতিও আমাদের ভালোবাসা তার চেয়ে কোনো অংশে কম নয়, বরং বেশি।

এ  শ্রোতা ভাইয়ের যে প্রিয়জন খুব ভালো লাগে তা কিন্তু চিঠিতে উল্লেখ করেছেন তিনি। ভালো লাগার যে তালিকা দিয়েছেন তাতে কোরআনের আলোর পরই প্রিয়জনের নাম রয়েছে। এ ছাড়া, এতে বিশ্ব সংবাদ, দৃষ্টিপাত এবং ঢাকা থেকে রেডিও তেহরানের বিশেষ প্রতিনিধির পাঠানো প্রতিবেদনের নামও রয়েছে। চিঠির শেষে তিনি লিখেছেন, হয়ত একদিন তেহরানের রাস্তায় আপনাদের সঙ্গে আমার দেখা হয়েই যাবে।

বহলুল: তেহরানের রাস্তায় শ্রোতার সঙ্গে দেখা?! বাহ! ভাবতেই না বেশ ভালো লাগছে। যদি সেরকম কিছু হয়ে যায় তাহলে কিন্তু আপনাদের চেয়ে আমাদেরই বেশি ভালো লাগবে। তা ভাই ফোরকান, চিঠি লেখার জন্য আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।

এবারে হাতে তুলে নিচ্ছি ভারত থেকে আসা একটি চিঠি। পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার রায়পুর গ্রাম থেকে এটি পাঠিয়েছেন শ্রোতাভাই খোশ মোহাম্মদ। চিঠির শুরুতেই তিনি বলেছেন, মানুষের চেতনা জাগ্রত করার মহান দায়িত্ব পালন করছে রেডিও তেহরান। ধর্ম এবং নীতি আদর্শ প্রচারে রেডিও তেহরানের জুড়ি নেই। এরপর তিনি লিখেছেন, তেহরানে গরমকালে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা এ পর্যন্ত কতো হয়েছে? আর শীতকালে কি এক নাগাড়ে ৮/১০ দিন বরফ পড়েছে?

বহলুল: বাপরে এক নাগাড়ে আট দশদিন বরফ পড়ছে ভাবতেই না ঠাণ্ডায় হাত-পা জমে আসছে।

ভাই খোশ মোহাম্মদ, গরমে তেহরানের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৫০ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড পর্যন্ত উঠেছে। তবে এত বেশি তাপমাত্রা বহু বছর পরপর একবার দু’বার হয়। এ ছাড়া, গ্রীষ্মকালে অর্থাৎ জুন, জুলাই ও আগস্ট মাসে তেহরানের গড় তাপমাত্রা থাকে ৩৩ থেকে ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে। কোনো কোনো দিন এ তাপমাত্রা ৩৭ থেকে ৩৯ ডিগ্রি পর্যন্ত ওঠে। আর এক নাগাড়ে ৮/১০দিন বরফ পড়ার ঘটনা গত ১০-১৫ বছরের মধ্যে ঘটেনি। গত এক/দেড় দশকে দু’এক বছর টানা ৩ দিন পর্যন্ত বরফ পড়তে দেখা গেছে। এখানে বলে রাখা ভালো ডিসেম্বর, জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে ইরানে শীতকাল থাকে এবং এ সময়কার গড় তাপমাত্রা ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। কখনো কখনো তাপমাত্রা হিমাঙ্কের নীচে চলে যায় এবং তুষারপাত সাধারণত ওই সময় হয়ে থাকে।

বহলুল: ভবিষ্যতে আরো চিঠি দেবেন আশা ভাই খোশ মোহাম্মদ। দেখুন আর দেরি সহ্য হচ্ছে না। তাই আপনাদের অনুমতি না নিয়েই শুরু করলাম একজন শ্রোতার সঙ্গে কথা বলার পর্ব। জ্বি ভাই আপনার নাম বলুন এবং পরিচয় দিন। 

তার মানে আপনি চিকিৎসা সেবা বিষয়ক লেখাপড়া করছেন তাই না?

তা ভাই ওমর সানি আপনি কি রেডিও তেহরানের অনুষ্ঠান নিয়মিত শোনেন?

ফেসবুকসহ ইন্টারনেটের নানা মাধ্যমে রেডিও তেহরানের ব্যাপক তৎপরতা রয়েছে। এসবের সঙ্গে কি আপনি সম্পর্ক স্থাপন করতে পেরেছেন?

শুনে বেশ ভালো লাগল। তা রেডিও তেহরানে সঙ্গে আপনার পরিচয় কি ভাবে হয়েছিল সে কথাটি কি মনে আছে ভাই  ওমর সানি?

রেডিও তেহরানের একজন পুরানো শ্রোতাবন্ধুর নাম সোহাগ বেপারী। তিনি অনেককেই রেডিও শুনতে এবং রেডিও তেহরানের ওয়েবভিত্তিক তৎপরতায় উদ্বুদ্ধ করেছেন। আপনাকেও সোহাগ বেপারীই রেডিও তেহরান শুনতে উৎসাহিত করেছেন,  তাই না?

বহলুল: ভাই ওমর সানি, আমাদের হাতে সময় কম, তা আপনি রেডিও তেহরানের বন্ধু এবং ওয়েবসাইট পার্সটুডে ডট কম স্ল্যাশ বিএনএর পাঠক বন্ধুদের উদ্দেশ্যে কিছু বলবেন কি?

এতোক্ষণ বাংলাদেশের শ্রোতাবন্ধু ওমর সানির সঙ্গে কথা বলছিলাম। তা হলে এবার ওয়েবসাইটের খবরের দিকে নজর দেয়া যাক, কি বলেন?

হ্যাঁ  এটি আমিই শুরু করছি। আমেরিকা এখনো ইরানের শত্রু: গোলাম রেজা জালালি- শিরোনামের খবরটি প্রকাশিত হয়েছে ২৯ নভেম্বর। এ খবরে বলা হয়েছে, পরমাণু চুক্তি সই হওয়া সত্ত্বেও আমেরিকা এখনো ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের শত্রুই রয়ে গেছে। ইরানের বেসামরিক প্রতিরক্ষা সংস্থার প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল গোলাম রেজা জালালি একথা বলেছেন। এতে অন্যতম  মন্তব্যকারী মো আজহার রুবেল লিখেছেন,

আমেরিকা সভ্যতার দুশমন। আর এ মন্তব্যকে সমর্থন দিয়েছেন হজরত আলী। তিনি লিখেছেন, ঠিক কথা! এ ছাড়া মো গোলাম কিবরিয়া লিখেছেন, আগে আমেরিকা।

বহলুল: ঠিক বলেছেন পাঠক বন্ধুরা। আমেরিকা সভ্যতার দুশমন এবং অসভ্যতার দোস্ত।

পাকিস্তানে জঙ্গি হামলায় ৫ শিয়া মুসলমান নিহত খবরটি প্রকাশিত হয়েছে ৩০ নভেম্বর। এ খবরে বলা হয়েছে, পাকিস্তানে শিয়া মুসলমানদের এক ধর্মীয় অনুষ্ঠানে সন্ত্রাসী হামলায় অন্তত পাঁচজন নিহত ও ছয়জন আহত হয়েছে। বন্দরনগরী করাচির নাজিমাবাদ এলাকায় এ হামলা চালানো হয়।

আর এ খবরের অন্যতম মন্তব্যকারী মোহাম্মদ মোনোইয়ার হোসেইন লিখেছেন, যারা নিরাপরাধ মানুষকে জেনেশুনে হত্যা করে তারা জাহান্নামী। অনন্ত কাল এরা জাহান্নামে থাকবে।

বহলুল: এক দম খাঁটি কথা। এদিকে আসরের সময় কিন্তু শেষ হয়ে এসেছে।

জ্বী। তো বন্ধুরা এবারে আসর গুটিয়ে নেয়ার পালা। আপনাদের সবাইকে আবারো শুভেচ্ছা জানিয়ে শেষ করছি প্রিয়জনের আজকের আসর।#