ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পারিকরের দুদিনের ঢাকা সফর
প্রিয় পাঠক! সালাম ও শুভেচ্ছা নিন।আমাদের নিয়মিত আয়োজন কথাবার্তার আসরে অাপনাদের স্বাগত জানাচ্ছি । আজ ৩০ নভেম্বর বুধবারের কথাবার্তার আসরের শুরুতেই বাংলাদেশ ও ভারতের গুরুত্বপূর্ণ দৈনিকের বিশেষ বিশেষ খবরের শিরোনাম। এরপর বাছাইকৃত কিছু খবরের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
বাংলাদেশের শিরোনাম:
- ভারতীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী ঢাকায়: প্রথম আলোসহ বিভিন্ন পত্রিকায়
- সাংবাদিক মানিক সাহা হত্যায় ৯ জনের যাবজ্জীবন:প্রথম আলো
- সাত খুন মামলার রায় ১৬ জানুয়ারি:ইত্তেফাক
- বিনা বিচারে আটক চার নারীকে আদালতে হাজিরের নির্দেশ
- আসামিদের কেন জামিন দেয়া হবে না: হাইকোর্টের রুল: মানব জমিন,ইত্তেফাক,
- রেলওয়ের ঠিকাদারি কাজে শত কোটি টাকা লোপাটের অভিযোগ: ইত্তেফাক
- মাহফুজুর ও মোজাম্মেল বাবুর বিরুদ্ধে সাগরের মামলা: নয়াদিগন্ত
ভারতের শিরোনাম:
- জাল নোট এবং নোট বদল, যুক্তিজালটা কিন্তু জ্যালজেলে: আনন্দবাজার পত্রিকা
- লখনউয়ের মঞ্চ থেকে মোদিকে আক্রমণ নোট বাতিলের বদলা নেবেন মানুষ: মমতা: বর্তমান পত্রিকা
- পাকিস্তানে নতুন সেনাপ্রধান দায়িত্ব নিতেই উরির ধাঁচে আক্রমণ,ফের জম্মুতে সেনা শিবিরে জঙ্গি হানা নিহত ৭ সেনা:পত্রিকাটির আরেকটি শিরোনাম
- শ্রোতাবন্ধুরা/ পাঠক! শিরোনামের পর এবার বাংলাদেশ ও ভারতের সবচেয়ে আলোচিত কয়েকটি খবরের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। প্রথমেই বাংলাদেশ।
ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ঢাকায়: প্রথম আলো।
ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী মনোহর পারিকর বাংলাদেশ সফরে এসেছেন। তাঁর নেতৃত্বে এসেছে ১১ সদস্যের উচ্চ পর্যায়ের এক প্রতিনিধিদলও। ভারতীয় বিশেষ বিমানে করে তাঁরা আজ বুধবার কুর্মিটোলায় বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর ঘাঁটি বঙ্গবন্ধুতে পৌঁছান।
এ সময় সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. মাহফুজুর রহমান তাঁদের অভ্যর্থনা জানান। সেখানে ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনার হর্ষবর্ধন শ্রিংলাও উপস্থিত ছিলেন।
আইএসপিআর-এর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রতিনিধি দলটিতে থাকা ভারতীয় সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর উপপ্রধানগণ যথাক্রমে বাংলাদেশের সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর প্রধানগণের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। সাক্ষাৎকালে তাঁরা পারস্পরিক কুশলাদি বিনিময় ছাড়াও দু’দেশের বাহিনীসমূহের মধ্যে বিদ্যমান সুসম্পর্ক ও সহযোগিতা সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন।
ভারতীয় এই প্রতিনিধিদলটির প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা বিষয়ক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিকের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের কথা রয়েছে। এরপর বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের সঙ্গেও তাঁদের দেখা করার কথা।
সাংবাদিক মানিক সাহা হত্যায় ৯ জনের যাবজ্জীবন: প্রথম আলো
খুলনা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি সাংবাদিক মানিক সাহা হত্যা মামলায় নয়জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। দণ্ড পাওয়া আসামিদের প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
দীর্ঘ এক যুগ পর আজ বুধবার দুপুরের দিকে চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলার রায় ঘোষিত হলো। খুলনা বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক এম এ রব হাওলাদার এই রায় ঘোষণা করেন। একই ঘটনায় বিস্ফোরকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে দায়ের হওয়া মামলার রায়ও আজ ঘোষণা করা হয়। একই আদালতে এই মামলায় ১০ আসামির সবাই খালাস পেয়েছেন। মামলার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এনামুল হক বলেন, রায়ের কপি হাতে পাওয়ার পর তা দেখে তাঁরা পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবেন। একুশে পদক পাওয়া সাংবাদিক মানিক সাহাকে ২০০৪ সালের ১৫ জানুয়ারি খুলনা প্রেসক্লাবের মাত্র ৫০ গজ দূরে সন্ত্রাসীরা বোমা মেরে হত্যা করে।
বিনা বিচারে বন্দি চার নারীকে আদালতে হাজিরের নির্দেশ: মানবজমিন
মানবজমিন এই শিরোনামে লিখেছে, বিনা বিচারে কাশিমপুর কারাগারে সাত বছর ধরে কারাবন্দি চার নারীকে ১৬ জানুয়ারি আদালতে হাজির করতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। বুধবার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি জেবিএম হাসানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ আদেশ দেন। একই সঙ্গে তাদেরকে কেন জামিন দেওয়া হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন আদালত।
এর আগে অ্যাডভোকেট আইনুন-নাহার সিদ্দিকা বিষয়টি আদালতের নজরে আনেন। আইনুন নাহার সিদ্দিকা জানান, মহিলা কারাগারে পৃথক হত্যা মামলায় বিনা বিচারে আটক চার নারী বন্দীকে ১৬ জানুয়ারি সকাল সাড়ে ১০টায় আদালতে হাজির করতে বলা হয়েছে। হত্যা মামলার নথিও আদালতে তলব করা হয়েছে। পৃথক চারটি হত্যা মামলায় নারায়ণগঞ্জের শাহনাজ বেগম ২০০৮ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর, একই জেলার সুমি আক্তার রেশমা ২০০৯ সালের ১৫ জানুয়ারি, একই বছরের ২১ মে গাজীপুরের রাজিয়া সুলতানা ও ২১ নভেম্বর ময়মনসিংহের রাণী ওরফে নূপুর কারাগারে যান। পরে এসব মামলায় তাদেরকে ৫০ থেকে ৭৬ বার আদালতে হাজির করা হলেও বিচার কাজ শেষ হয়নি। ফলে প্রায় আট বছর ধরে তারা বিনা বিচারে বন্দী রয়েছেন।
মাহফুজুর ও মোজাম্মেল বাবুর বিরুদ্ধে সাগরের মামলা
নয়িাদিগন্ত জানিয়েছে,এটিএন বাংলার চেয়ারম্যান মাহফুজুর রহমান এবং একাত্তর টিভি’র সিইও মোজাম্মেল বাবুর বিরুদ্ধে ১০০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করে একটি মানহানির মামলা দায়ের করেছেন চ্যানেল আই’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদুর রেজা সাগর।
গতকাল মঙ্গলবার ঢাকার প্রথম যুগ্ম জেলা জজ আদালতে চ্যানেল আইয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদুর রেজা সাগর মামলাটি করেন। বিচারক মামলাটি আমলে নিয়ে আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি বিবাদীদের আদালতে হাজির হয়ে জবাব দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলার আবেদনে বলা হয়, গত ১৩ নভেম্বর ‘মিডিয়া ইউনিটি’র এক সভায় মাহফুজুর রহমান এবং মোজাম্মেল বাবু ফরিদুর রেজা সাগরকে উদ্দেশ্য করে অসৌজন্যমূলক বক্তব্য রাখেন। মামলার পরবর্তী তারিখ আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৭। উল্লেখ্য, গত ১৩ নভেম্বর দুপুরে ঢাকা ক্লাবে মিডিয়া ইউনিটির এক সমাবেশে বিজ্ঞাপন জালিয়াতি চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদুর রেজা সাগরকে `নব্য সাংস্কৃতিক রাজাকার’ বলে মন্তব্য করেন এটিএন বাংলার চেয়ারম্যান মাহফুজুর রহমান।
মাহফুজুর রহমান ওইদিন বলেন, ‘একটি জালিয়াত চক্র বিদেশি চ্যানেলে বাংলাদেশি বিজ্ঞাপন প্রচার করছে, আমি বলি, যে ব্যক্তি এই কাজ করছে তার সঙ্গে আমার ঘনিষ্ট সম্পর্ক এবং পরিচয় আছে। তিনি আমাদের সাগর ভাই। সাগর ভাই আপনাকে বলবো- এই কাজ বন্ধ করেন। মানিলন্ডারিং বন্ধ করেন। দেশীয় প্রতিষ্ঠানের বুকে লাথি মারবেন না’।
পাঠক/শ্রোতাবন্ধুরা ! ভারতের বাংলা দৈনিকগুলোর গুরুত্বপূর্ণ খবরের অংশ বিশেষ তুলে ধরছি।
জাল নোট এবং নোট বদল, যুক্তিজালটা কিন্তু জ্যালজেলে’
আনন্দবাজার পত্রিকা এ বিষয়ে লিখেছে, নোট বাতিলের সরকারি সিদ্ধান্ত আর তার পরবর্তী ‘আসল’ নোটের দেশজোড়া বিপুল হাহাকার— এর সঙ্গে এখন পরিচিত আম আদমি। ব্যাঙ্ক, এটিএমের সুদীর্ঘ লাইন এখন সমস্যার হাইওয়ে ছেড়ে সোশ্যাল মিডিয়ার টিপ্পনির এঁদো গলিতে। কালো টাকা আর জাল নোট পাকড়াও করার ‘মোদী’য় আশ্বাসের ডিঙিতে সওয়ার হয়ে দুর্নীতিহীন সেই ইউফোরিয়ায় পৌঁছতে চাইছে মানুষ।
যাবতীয় অসুবিধা মাথায় করে নিয়ে আম আদমির বক্তব্য, ভাল কাজে প্রাথমিক কিছু সমস্যা তো হবেই। কিন্তু এ তো গেল আবেগের কথা। তথ্য কী বলছে? ৫০০ আর হাজারের নোট বাতিল করে জাল নোটের কারবারে কতটা রাশ টানা সম্ভব?
চলতি মাসের গোড়ায় জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণে ৫০০ এবং হাজারের নোট বাতিল ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী। বাজারে চলা নোটের সিংহ ভাগ (প্রায় ৮৬ শতাংশ) ছিল ৫০০ আর হাজারের দখলে।
নোট জাল করতে সিদ্ধহস্তদের প্রভাব তখন এতটাই প্রবল যে, আসল আর নকল নোট আলাদা করাই দুষ্কর। সাধারণ মানুষ তো বটেই, নোট চিনতে যে দুঁদে ব্যাঙ্ক কর্মীরাও নাজেহাল, একটি সরকারি তথ্যই তার জন্য যথেষ্ট। সরকারের হিসাব বলছে, প্রতি ২৫০টি জাল নোটের মধ্যে চিহ্নিত হয় মাত্র ১৬টি নোট। তাই বাজার থেকে পুরনো নোট তুলে নিয়ে নতুন নোট আনলে জাল নোটের কারবার থমকে যাবে বলে দাবি করেছিল কেন্দ্র।
|
লখনউয়ের মঞ্চ থেকে মোদিকে আক্রমণ নোট বাতিলের বদলা নেবেন মানুষ: মমতা |
|
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নোট বাতিলের সিদ্ধান্তকে উত্তরপ্রদেশের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে কার্যত প্রধান ইস্যু করে দিয়ে গেলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বর্তমান পত্রিকা আরও লিখেছে,একইসঙ্গে নোট বাতিল আন্দোলনে এই মুহূর্তে দেশের বিরোধী শিবিরের প্রধান মুখ তৃণমূল সুপ্রিমোর অগ্নিকন্যা ইমেজকে নিজেদের ভোটের প্রচারে ব্যবহার করে নিল উত্তরপ্রদেশের শাসকদল সমাজবাদী পার্টি (সপা)।
একের পর এক প্রতিবাদ সভা, ধরনা আর বিক্ষোভ আয়োজনের প্রেক্ষিতে লখনউয়ের ‘ডোরিনা ক্রশিং’ হয়ে ওঠা গোমতিনগরের ১০৯০ চৌরাস্তায় দলের সবস্তরের হাজার হাজার কর্মী কর্মী-সমর্থক, কিরণময় নন্দের মতো দলের সহ-সভাপতিসহ একঝাঁক নেতা আর মন্ত্রিসভার পাঁচ গুরুত্বপূর্ণ সদস্যকে মঙ্গলবার দুপুরের সভায় পাঠিয়ে, শহরের কালীদাস মার্গের বাসিন্দা অখিলেশ সিং যাদব কুড়িয়ে নিলেন তৃণমূল সুপ্রিমোর আশীর্বাদ। দ্বিতীয়বার মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে নেমে মুলায়ম পুত্র মঞ্চ থেকে শুনলেন মমতার ভরসার বার্তা—আমি অখিলেশকে আশীর্বাদ করছি। স্বৈরাচারী বিজেপিকে হটিয়ে ফের ও ক্ষমতায় আসবে। আসন্ন নির্বাচনে সপা’র প্রধান প্রতিপক্ষ কে? বহেনজি মায়াবতীর বহুজন সমাজ পার্টি নাকি কালোধন উদ্ধারে নামা নরেন্দ্র মোদির বিজেপি? |
মোদির নোট বাতিলে বুদ্ধির ছাপ নেই, তা মানবিক নয়: অমর্ত্য সেন:আজকাল
নোট বাতিলের জেরে হয়রানির শিকার সাধারণ মানুষ। আর সেই প্রসঙ্গ তুলে বলা হচ্ছে, এই সিদ্ধান্তের ফলে আখেরে দেশের ভাল হবে। তাই এই ‘কষ্ট’ যেন মেনে নেয় মানুষ। এমন মত মানতে নারাজ নোবেল জয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন। তাঁর মতে নোট বাতিলের ফলে যে লাভ হবে তার থেকে হয়রানির পরিমান অনেক বেশি। মঙ্গলবার এন ডি টিভি–কে এক সাক্ষাতকারে তিনি বলেছেন, ‘কালো টাকা উদ্ধারে যে কোনও পদক্ষেপকেই সমর্থন করবেন ভারতীয়রা।
কিন্তু আমাদের প্রশ্ন করতে হবে, এই পদ্ধতি ঠিক কিনা।’ সেন জানিয়েছেন নগদে কালো টাকার পরিমাণ রয়েছে মাত্র ৬ শতাংশ। কোনওভাবেই তা ১০ শতাংশের বেশি হবে না। নোট বাতিলের অনেক সমালোচকের মতই অমর্ত্য সেন মনে করেন, ‘আমরা প্রত্যেকেই চাই কালো টাকা উদ্ধারে কিছু পদক্ষেপ। কিন্তু তাতে যেন বুদ্ধিমত্তার ছাপ থাকে। তা যেন মানবিক হয়। এখানে তা চোখে পড়ছে না।’#
পার্সটুডে/নাসির মাহমুদ/৩০