মার্কিন লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাল ইরানের সশস্ত্র বাহিনী
https://parstoday.ir/bn/news/iran-i161358-মার্কিন_লক্ষ্যবস্তুতে_ক্ষেপণাস্ত্র_ও_ড্রোন_হামলা_চালাল_ইরানের_সশস্ত্র_বাহিনী
ইরানের সশস্ত্র বাহিনী কুয়েত ও জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোর বিরুদ্ধে নতুন দফার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। তেহরান জানিয়েছে, ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় উপকূল ও কয়েকটি শহরে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হামলার জবাব হিসেবে এসব অভিযান পরিচালিত হয়েছে।
(last modified 2026-07-16T09:56:41+00:00 )
জুলাই ১৬, ২০২৬ ১৫:৫৩ Asia/Dhaka
  • মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে ইরানের প্রতিশোধমূলক হামলার ফুটেজ থেকে নেওয়া একটি ছবি
    মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে ইরানের প্রতিশোধমূলক হামলার ফুটেজ থেকে নেওয়া একটি ছবি

ইরানের সশস্ত্র বাহিনী কুয়েত ও জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোর বিরুদ্ধে নতুন দফার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। তেহরান জানিয়েছে, ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় উপকূল ও কয়েকটি শহরে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হামলার জবাব হিসেবে এসব অভিযান পরিচালিত হয়েছে।

বুধবার পরিচালিত এই অভিযানের সঙ্গে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) সতর্ক করে বলেছে, আপাতত ইরানের প্রতিশোধমূলক হামলা কেবল অঞ্চলে থাকা মার্কিন আক্রমণাত্মক সামরিক অবকাঠামোর ওপর কেন্দ্রীভূত রয়েছে, তবে এর পরবর্তী ধাপও শিগগিরই শুরু হবে।

বিধ্বংসী আঘাত

আইআরজিসি জানায়, তাদের প্রতিশোধমূলক অভিযান "অপারেশন নাসর (বিজয়)–২"-এর অষ্টম ধাপে নৌবাহিনী ও মহাকাশ বাহিনী যৌথভাবে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এই অভিযান ছিল আগের রাতে ইরানের দক্ষিণ উপকূল ও দক্ষিণাঞ্চলীয় শহরগুলোর ওপর শত্রুপক্ষের হামলার জবাব।

বাহিনীটির বিবৃতিতে বলা হয়েছে, অভিযানে কুয়েতের আলি আল-সালেম বিমানঘাঁটিতে অবস্থিত সি-র‍্যাম (C-RAM) প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার আগাম সতর্কীকরণ রাডার এবং সেখানে অবস্থানরত "সন্ত্রাসী মার্কিন সেনাবাহিনীর অপরাধী সেনাদের সমাবেশস্থল" লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করা হয়।

আইআরজিসির ভাষ্য অনুযায়ী, এই হামলায় মার্কিন বাহিনী "বিধ্বংসী আঘাত" পেয়েছে।

কুয়েতের জনগণের উদ্দেশে আইআরজিসি এক বিবৃতিতে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র কুয়েতের ভূখণ্ড ব্যবহার করে ইরানের বিরুদ্ধে বিনা উসকানিতে আগ্রাসন চালাচ্ছে। তারা কুয়েতিদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছে, "আপনাদের দেশকে এই আগ্রাসীদের উপস্থিতি থেকে মুক্ত করুন এবং নিজেদের ইসলামি দায়িত্ব পালন করে জাতির ঐতিহাসিক সম্মান ও মর্যাদা রক্ষা করুন।"

অন্যদিকে, ইরানের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তাদের প্রতিশোধমূলক "অপারেশন সাঈকেহ (বজ্রপাত)"-এর নবম ধাপে জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোর বিরুদ্ধে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে।

সেনাবাহিনীর বিবৃতি অনুযায়ী, জর্ডানের আল-আজরাক বিমানঘাঁটিতে মার্কিন বাহিনীর স্থায়ী রাডার কেন্দ্র, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং জ্বালানি ডিপোতে ঘুরে বেড়ানো হামলাকারী ড্রোন বা লয়টারিং মিউনিশন ব্যবহার করা হয়।

বিবৃতিতে আল-আজরাক ঘাঁটিকে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মোতায়েন কেন্দ্র এবং "পশ্চিম এশিয়া অঞ্চলে মার্কিন বাহিনীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত ও কমান্ড কেন্দ্র" হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।

ইরানের সেনাবাহিনী জানায়, দক্ষিণাঞ্চলীয় ইরানশাহরে অবস্থিত বাম্পুর সেনাঘাঁটিসহ ইরানের বিভিন্ন স্থানে শত্রুপক্ষের হামলার প্রতিশোধ হিসেবেই এই অভিযান পরিচালিত হয়েছে। ওই হামলায় সেনাবাহিনীর স্থলবাহিনীর সাতজন নন-কমিশন্ড কর্মকর্তা ও সৈন্য নিহত হন।

বিবৃতিতে ইরানশাহরের সামরিক ব্যারাকে শত্রুপক্ষের "বর্বরোচিত হামলার" নিন্দা জানিয়ে বলা হয়, এসব কর্মকাণ্ড শত্রুর "অমানবিক চরিত্রের" প্রতিফলন।

সেনাবাহিনী আরও বলেছে, এই হামলাগুলো "ইতিহাসের পাতা থেকে কখনো মুছে যাবে না" এবং ইরানি সেনারা "ইরানি জাতি ও ইসলামি মাতৃভূমিকে রক্ষা করার সম্মানজনক দায়িত্ব অথবা প্রিয় শহীদদের রক্তের প্রতিশোধ নেওয়ার পথ থেকে বিন্দুমাত্রও সরে আসবে না।"

আইআরজিসির আরও প্রতিশোধমূলক অভিযানের সতর্কবার্তা

সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে আইআরজিসির মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হোসেইন মোহেব্বি বলেন, শত্রুপক্ষের এমন ধারণা করা উচিত নয় যে, তারা বর্তমান সংঘাতকে দীর্ঘস্থায়ী ক্ষয়যুদ্ধে পরিণত করতে পারবে।

তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ লিখেছেন, "শত্রুর এমন ধারণা করা উচিত নয় যে, তারা বর্তমান যুদ্ধক্ষেত্রের পরিস্থিতিকে ধরে রেখে এই যুদ্ধকে ক্ষয়যুদ্ধে রূপ দিতে পারবে।"

তিনি আরও বলেন, "ইরানের বর্তমান অভিযানগুলো অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের আক্রমণাত্মক অবকাঠামো ধ্বংসের দিকে কেন্দ্রীভূত রয়েছে। এরপর পরবর্তী ধাপের অভিযান শুরু হবে।"

অনুপ্রবেশকারী শত্রু ড্রোন ভূপাতিত

এদিকে আইআরজিসি জানিয়েছে, তাদের বিমান প্রতিরক্ষা ইউনিট দক্ষিণ ইরানের বন্দর আব্বাসের আকাশে একটি মার্কিন লুকাস ড্রোন শনাক্ত ও ভূপাতিত করেছে। বাহিনীটির দাবি, দেশের সমন্বিত বিমান প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্ক প্রথমে ড্রোনটিকে শনাক্ত করে এবং পরে ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার মাধ্যমে সেটিকে ধ্বংস করা হয়।

আরেক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, দক্ষিণ ইরানের আন্দিমেশক শহরের আকাশে একটি মার্কিন এমকিউ-৯ ড্রোনও তাদের মহাকাশ বাহিনীর উন্নত বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ভূপাতিত করা হয়েছে।

গত ৭ এপ্রিল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একতরফাভাবে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করার পরও যুক্তরাষ্ট্র একাধিকবার ইরানের ভূখণ্ড লঙ্ঘন করেছে বলে তেহরানের অভিযোগ।

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় গত মাসে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের প্রথম ধারায় সব ধরনের আগ্রাসন বন্ধ রাখার কথা উল্লেখ থাকলেও এসব লঙ্ঘন অব্যাহত রয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

এছাড়া, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের নির্ধারিত নিরাপদ ও বৈধ নৌপথ এড়িয়ে জাহাজ চলাচল করাতে এবং অবৈধ রুট ব্যবহার করে হরমুজ প্রণালি অতিক্রমে সহায়তা করার চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

ইরানের সশস্ত্র বাহিনী জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে অবৈধ জাহাজ চলাচলকে সহায়তা করা কিংবা অন্য যেকোনো ধরনের লঙ্ঘনের জবাবে তারা কঠোর ও আপসহীন প্রতিক্রিয়া অব্যাহত রাখবে।#

পার্সটুডে/এমএআর/১৬

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।