ইরান-ওমান সমঝোতার অর্থ হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি খুলে দেয়া নয়: গারিবাবাদি
-
ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি
পার্সটুডে: ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নতুন ব্যবস্থাপনা নিয়ে ইরান ও ওমানের মধ্যে যে সমঝোতা চলছে, তা চূড়ান্ত পর্যায়ের কাছাকাছি পৌঁছেছে। তবে এই নতুন ব্যবস্থার অর্থ হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি খুলে দেয়া নয়।
ইরনার বরাত দিয়ে পার্সটুডে জানিয়েছে, কাজেম গারিবাবাদি বলেন, ইরান ও ওমানের মধ্যে নতুন নৌপথ নির্ধারণ নিয়ে তিন সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে নিবিড় আলোচনা চলছে। তবে আঞ্চলিক পরিস্থিতির মৌলিক পরিবর্তন এবং সমুদ্রপথে চলাচলসংক্রান্ত ঐতিহাসিক সংবেদনশীলতার কারণে এই আলোচনা সহজ ছিল না।
তিনি আরও বলেন, নতুন নৌপথের মানচিত্রের পাশাপাশি উপকূলীয় রাষ্ট্রগুলোর সার্বভৌমত্ব, ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা, সামুদ্রিক যান চলাচল নিয়ন্ত্রণে ইরান-ওমানের যৌথ সমন্বয় কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা এবং হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করতে ইচ্ছুক জাহাজগুলোর তথ্য সংগ্রহের বিষয়গুলোও সমঝোতার অংশ হিসেবে চূড়ান্ত করা হচ্ছে।
গারিবাবাদি জোর দিয়ে বলেন, ইরান ও ওমানের নতুন সমঝোতা হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণভাবে উন্মুক্ত করার সমতুল্য নয় এবং এটি বাস্তবায়নের জন্য নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করতে হবে। তিনি আরও দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকের অধীনে নিজেদের প্রতিশ্রুতি লঙ্ঘন করেছে, নৌ অবরোধ পুনর্বহাল করেছে এবং আবারও যুদ্ধ শুরু করেছে। তাই ইরান আগের কাঠামো অনুসরণ করছে না; বরং বর্তমান পরিস্থিতির ভিত্তিতে একটি নতুন মডেল বাস্তবায়নের পথে এগোচ্ছে। তাঁর মতে, এই বিষয়টি শুধুমাত্র ইরান ও ওমানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকা উচিত এবং অন্য কোনো দেশের হস্তক্ষেপের অধিকার নেই।
তিনি আরও জানান, নতুন ব্যবস্থায় হরমুজ প্রণালীর দক্ষিণাঞ্চলের নৌপথ বন্ধ থাকবে এবং পূর্ববর্তী অস্থায়ী রুটগুলো বাতিল করা হবে। নতুন রুটের একটি বড় অংশ ইরানের আঞ্চলিক জলসীমার মধ্যে এবং বাকি অংশ ওমানের জলসীমায় থাকবে। এর ফলে বাণিজ্যিক জাহাজগুলো প্রবেশের সময় এবং প্রস্থানপথের একটি অংশে ইরানের জলসীমা ব্যবহার করবে।
গারিবাবাদি বলেন, এই নতুন ব্যবস্থা আপাতত অস্থায়ী এবং এটি দুই থেকে চার মাস বা তারও বেশি সময় কার্যকর থাকতে পারে। দ্বিতীয় ধাপে যাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ এবং ওমানের সঙ্গে নতুন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে।
শেষে তিনি সমঝোতার বাস্তবায়ন নিশ্চিতে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আস্থাহীনতার মধ্যেই এই আলোচনা হয়েছে এবং এর মূল ভরসা হলো ইরানের সক্ষমতা ও প্রতিরোধক্ষমতা। তিনি বলেন, ইরান প্রমাণ করেছে, কোনো একক সমঝোতার ওপর নির্ভরশীল নয়। যদি অপর পক্ষ তাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করে, তাহলে ইরানও নিজেদের অঙ্গীকার থেকে সরে আসবে এবং কোনো ধরনের বলপ্রয়োগমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হলে পরিস্থিতি অনুযায়ী উপযুক্ত কৌশল গ্রহণ করবে।#
পার্সটুডে/এমআরএইচ/৬
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।