প্রিয়জন : "একমাত্র ইরানের মানুষদেরই রয়েছে সাচ্চা ঈমানি শক্তি"
বন্ধুরা, আপনাদের সবাইকে একরাশ প্রীতি ও শুভেচ্ছা জানিয়ে শুরু করছি আপনাদেরই চিঠিপত্রের আসর প্রিয়জন। আশা করছি বিশ্বের যে প্রান্তে বসেই আমাদের অনুষ্ঠান শুনছেন না কেন সবাই ভালো আছেন।
ইরানের একজন বিখ্যাত আলেমের একটি বক্তব্য দিয়ে আজকের আসর শুরু করবো। ইরানের মরহুম আয়াতুল্লাহ বাহজাত (রহ.) –কে প্রশ্ন করা হয়েছিল, ইবাদতের আনন্দ ও তৃপ্তি কীভাবে লাভ করা সম্ভব? উত্তরে তিনি বলেন, গোনাহ বা পাপ কাজের আনন্দ পরিত্যাগ করুন, তাহলেই ইবাদতের আনন্দ ও তৃপ্তি নিজে নিজেই চলে আসবে।
আমরা সবাই আয়াতুল্লাহ বাহজাত (রহ.)’র দিকনির্দেশনা মেনে চলার চেষ্টা করবো-এ আশা রেখে এবার চিঠিপত্র ও ইমেইলের দিকে নজর দিচ্ছি। আজকের আসরে প্রথম চিঠিটি এসেছে বাংলাদেশ থেকে। পাবনা জেলার চাটমোহরের লাঙ্গলমোড়া থেকে এটি লিখেছেন ভাই ডা. মো. রফিকুল আজিজ। তিনি সবাইকে সুদীর্ঘ রাতের ঝিকিমিকি মিষ্টি মিষ্টি তারার শুভেচ্ছা জানানোর মধ্য দিয়ে চিঠিটি শুরু করেছেন।
বহলুল: আপনার এ শুভেচ্ছার মধ্য দিয়ে রাতের তারাভরা আকাশ তার সমগ্র সৌন্দর্য নিয়ে আমাদের চোখে ভেসে উঠল। চমৎকার শুভেচ্ছা জানানোর জন্য আপনাকে প্রাণঢালা ভালোবাসা জানাচ্ছি। হ্যাঁ তারপর এ ভাই আর কি লিখেছেন?
এ ভাই লিখেছেন, তিনিসহ বিল চলন রেডি ক্লাবের বন্ধুরা নিয়মিত রেডিও তেহরানের অনুষ্ঠান শোনেন। রেডিও তেহরানের সব অনুষ্ঠান ভালো লাগে- এ কথা উল্লেখ করে তিনি জানিয়েছেন, সমগ্র বিশ্বে মুসলমানদের পক্ষে মাথা উঁচু করে কথা বলার কোনো দেশ যদি থাকে তবে সেটি হলো ইরান। পশ্চিমা দেশগুলো ইরানকে অনেক হুমকি ধমকি দিয়েছে এবং এখনো দেয়া অব্যাহত রেখেছে। তারপরও ইরানকে টলানোর ক্ষমতা তাদের নেই। এর কারণ হলো একমাত্র ইরানের মানুষদেরই রয়েছে সাচ্চা ঈমানি শক্তি। সবাইকে বিদায়ী শুভেচ্ছা জানানোর মধ্য দিয়ে এ চিঠি শেষ করেছেন তিনি।
বহলুল: আপনার চিঠি আমাদের নতুন করে উদ্দীপনা যোগাবে। আর হ্যাঁ ভাই চিঠি লেখা অবশ্যই অব্যাহত রাখবেন। এর পরের চিঠিও এসেছে বাংলাদেশ থেকে।
হ্যাঁ এটি এসেছে নারায়ণগঞ্জ জেলার মদনগঞ্জের আলী সাহারদি’র উৎস ডিএক্স কর্নার থেকে। আর এটি লিখেছেন আমাদের অনেক পুরনো শ্রোতা ভাই এইচ এম তারেক।
বহলুল: ভাই এইচ এম তারেক সেই সেই ১৯৯৪ সাল থেকে রেডিও তেহরানের সঙ্গে আছেন। তাই না?
হ্যাঁ, তিনি আগের এক চিঠিতে আমাদের এ কথা বলেছিলেন। আর আমাদেরও মনে আছে, ভাই এইচ এম তারেক দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে রেডিও তেহরানের সঙ্গে আছেন। সে যাই হোক, এ চিঠিতে তিনি লিখেছেন, রেডিও তেহরান সময়ের সঙ্গে সঠিকভাবে তাল মেলাতে পারবে। তা ছাড়া, সময়কে বেতালও হতে দিচ্ছে না রেডিও তেহরান। এ কথাটি বললাম এ জন্য যে, যখন সত্য খবর প্রকাশ করা কঠিন হয়ে উঠেছে তখন রেডিও তেহরানের খবরই সত্যকে প্রকাশের দুঃসাহস দেখাচ্ছে। তিনি চিঠিতে দু’টি অভিযোগ করেছেন। প্রথম অভিযোগ হলো, রেডিও তেহরান অনেক দিন যাবৎ কোনো ম্যাগাজিন বা বই পাঠায় না কেন?
কিছু সীমাবদ্ধতার জন্য আপাতত এ কর্মসূচি স্থগিত রাখতে হয়েছে ভাই তারেক। এ অভিযোগটি আপনার একার নয়। আমাদের নতুন- পুরনো সব শ্রোতাই এ অভিযোগটি করছেন। সীমাবদ্ধতা কেটে গেলে হয়তো আমরা আবার শ্রোতাদের কাছে ম্যাগাজিন-বই ইত্যাদি পাঠাতে পারব।
এ ভাই’র দ্বিতীয় অভিযোগটি হলো রেডিও তেহরানের অনুষ্ঠান প্রচারের সময়সূচী এবং অধিবেশন না বাড়ানো নিয়ে। তিনি প্রশ্ন করেছেন, কেনো রেডিও তেহরান দুপুর এবং ভোরের অধিবেশনে তাজা খবর নিয়ে হাজির হচ্ছে না?
ভাই তারেক, সত্যি বলতে কি! শর্টওয়েভে রেডিও শোনার সংস্কৃতি এখন বলতে গেলে উঠেই গেছে। এখন এসেছে নতুন নতুন প্রযুক্তির যুগ। আপনি সেই ১৯৯৪ সালে যখন রেডিও তেহরান শোনা শুরু করেছিলেন তখন এখনকার কত কিছুই তো ছিল না। গ্রাম-বাংলার পরিবেশও তখন অন্যরকম ছিল। কিন্তু এখন বাংলাদেশের সবখানে মোবাইল ফোনের পাশাপাশি ইন্টারনেট সংযোগ চলে গেছে। ঘরে ঘরে এখন রেডিও’র পরিবর্তে শোভা পাচ্ছে টিভি, কম্পিউটার, মোবাইল ফোন। নতুন প্রজন্ম তো রেডিও কি জিনিস সেকথা ভুলতে বসেছে।
যুগের এই চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমরা রেডিও তেহরানের সব পসরা সাজিয়ে বসেছি আমাদের ওয়েব সাইটে। সেখানে শুধু সকাল বা দুপুর নয়, প্রতি মুহূর্তে নতুন নতুন খবর দেয়া হচ্ছে। পত্রিকার খবরাখবর ছবিসহ থাকছে। অনেক খবরের ভিডিও চিত্র দেয়া হচ্ছে। কাজেই আপনার অভিযোগটি আংশিক সত্য হলেও আমরা যে বসে নেই সেকথাও আপনাকে জানালাম। রেডিওতে হয়ত ঘড়ির টাইম মেনে সকাল এবং দুপুরের অনুষ্ঠান আমরা প্রচার করছি না। কিন্তু শ্রোতাদের চাহিদা পূরণের সব ব্যবস্থা আমরা নতুন প্রযুক্তিতে অর্থাৎ ইন্টারনেটে রেখেছি। তো ভাই, এইচ এম তারেক, চিঠি লেখার জন্য অনেক অনেক ধন্যবাদ। ভবিষ্যতে আরো চিঠি দেবেন বলে আশা করছি।
এবারের চিঠি এসেছে ভারত থেকে। পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার নোয়াপারা থেকে এটি পাঠিয়েছেন শ্রোতা ভাই সেখ জসিমউদ্দিন। তিনি লিখেছেন, ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ছাড়াও অসম, ত্রিপুরা, বিহার এবং উড়িষ্যার মতো রাজ্যগুলোতে বাংলার প্রচলন রয়েছে। গোটা ভারতে না হোক অন্তত এ সব এলাকায় যদি রেডিও তেহরানের প্রতিনিধি বা সংবাদদাতা রাখেন তবে বিশ্ব সংবাদ আরো সমৃদ্ধ হবে। প্রস্তাবটা কি একবার ভেবে দেখবেন?
বহলুল: অবশ্যই আপনার প্রস্তাব বিবেচনা করার মতো। কিন্তু ইচ্ছার সঙ্গে সুযোগ থাকতে হবে। না হলে ইচ্ছারা বাস্তব হয়ে উঠবে না।
হ্যাঁ ভাই চমৎকার প্রস্তাব দেয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ জানাতেই হয়। কিন্তু আপাতত এ প্রস্তাবকে বাস্তবরূপ দেয়া আমাদের পক্ষ সম্ভব হচ্ছে না ভাই জসিমউদ্দিন। তবে অসম, ত্রিপুরা, বিহার এবং উড়িষ্যায় আমাদের সংবাদদাতা নেই বলে কিন্তু ওইসব রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ খবর প্রচার করতে আমরা কার্পণ্য করি না। রেডিও তেহরানের ওয়েবসাইট পার্সটুডে ডট কম স্ল্যাশ বিএন ভিজিট করলে এসব রাজ্যসহ ভারতের অনেক খবরাখবর জানতে পারবেন। এরপর এ শ্রোতা ভাই প্রশ্ন করেছেন, বিশ্বব্যাপী রেডিওর শ্রোতা কমে যাওয়ার প্রভাব কি রেডিও তেহরানের ওপর পড়েছে?
প্রযুক্তি বিপ্লবের ছোঁয়া সবার ওপরই পড়ে এবং রেডিও তেহরান তার বাইরে নয়। এ বিষয়টি একটু আগেই আমরা বাংলাদেশের এক শ্রোতাভাই’র প্রশ্নের উত্তরে বলেছি। কাজেই স্বীকার করতে দ্বিধা নেই, রেডিওতে আমাদের শ্রোতা সংখ্যা কমেছে। তবে একই সঙ্গে আমাদের ওয়েবসাইটের পাঠক সংখ্যা অনেকগুণ বেড়েছে। ফলে বলা যায়, রেডিও তেহরানের শ্রোতারা আর শ্রোতা নেই বরং তারা অনেকেই পাঠক হয়ে গেছেন।
বহলুল: তো ভাই শেখ জসিম উদ্দিন, সুন্দর চিঠির জন্য আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ। এবার কিন্তু ওয়েবসাইট এবং ফেসবুকের খবরে যে সব মন্তব্য এসেছে সে দিকে নজর দেয়া দরকার। তাই না?
অবশ্যই এ জন্যেই তো খবরগুলো একটু গুছিয়ে নিচ্ছিলাম কিন্তু সময়ে আর কুলাবে না যে বহলুল ভাই। মানে আমরা আসরের শেষপ্রান্তে এসে গেছি।
ঠিক আছে, তাহলে আর কথা নয়। সবাই ভালো থাকবেন এ আশা করে আজ এখানেই বিদায় চাইছি। আবারো কথা হবে প্রিয়জনের আগামী আসরে। #