প্রিয়জন : 'রেডিও তেহরান শ্রোতা/পাঠক ভাইবোনদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলে'
বন্ধুরা, সালাম ও শুভেচ্ছা নিন। আশাকরি সবাই ভালো আছেন। আজ আমরা পবিত্র কুরআনের একটি আয়াত শুনিয়ে আসর শুরু করবো।
পবিত্র কুরআনের সুরা বাকারার ২৫৬ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, "ধর্ম গ্রহণের ক্ষেত্রে কোন জোর জবরদস্তি নেই। কারণ, বিভ্রান্তির পথ থেকে সত্য পথকে সুস্পষ্ট করা হয়েছে। যে তাগুতকে অস্বীকার করেছে এবং আল্লাহর ওপর বিশ্বাস স্থাপন করেছে, সে এমন সুদৃঢ় রজ্জু ধরে আছে যা কখনও ছিন্ন হওয়ার নয়। আর আল্লাহ শ্রবণকারী, মহাজ্ঞানী।"
আসলে ঈমান বা বিশ্বাসের সম্পর্ক হৃদয়ের সাথে। আর বিশ্বাস কখনও জোর করে চাপিয়ে দেয়া যায় না। আচার আচরণ,দলীল প্রমাণ ধর্মীয় উপদেশ বা বক্তৃতা মানুষের মনকে কোন ব্যক্তি বা আদর্শের প্রতি বিশ্বাসী করে তোলে। মহান আল্লাহ মানুষের পূর্ণতা ও উন্নতির জন্য একদিকে নবী রাসুল ও ঐশী গ্রন্থ পাঠিয়েছেন, তেমনি অন্যদিকে মানুষকে তার ইচ্ছামত নবী বা ঐশী গ্রন্থ বেছে নেয়ার বা তা অস্বীকার করারও অধিকার দিয়েছেন। আর এজন্যে নবীরা ঈমান আনার জন্যে কাউকে বাধ্য করেননি। এছাড়া তাঁরা জানতেন জোর করে বিশ্বাস করানোর কোন মূল্য নেই। আমরা সবাই এ বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেব,এ প্রত্যাশার মধ্যদিয়ে এবার চিঠিপত্র হাতে নিচ্ছি। আসরের প্রথম ইমেইলটি পাঠিয়েছেন রেডিও তেহরানের পুরনো শ্রোতা ভাই মারুফ দেওয়ান। অবশ্য কোথা থেকে এ ইমেইলটি পাঠানো হয়েছে তা উল্লেখ করেন নি আমাদের এ বন্ধু। চিঠির শুরুতেই বাংলা বিভাগের সবাইকে সালাম,প্রীতি ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন তিনি। নিজেকে পুরনো শ্রোতা হিসেবে পরিচয় দিয়ে মারুফ দেওয়ান আরো লিখেছে, বেশ কয়েক বছর ব্যস্ততার জন্য রেডিও তেহরানের অনুষ্ঠান শোনা হয়ে ওঠেনি। এখন থেকে আবারো অনুষ্ঠান শুনবো ইনশাল্লাহ।
বহলুল: ছোট চিঠিতে অনেক কথা বলেছেন ভাই মারুফ। চিঠিতে ঠিকানা না থাকলে ডাকঘরের সিল থেকে বা ডাকটিকেট দেখে বোঝা যেত কোথা থেকে এসেছে। ইমেইল তেমনটি করা সম্ভব নয়।
বন্ধুরা, ইমেইল করার সময় নিজের ঠিকানা লেখার অনুরোধ রইলো। আর ভাই মারুফ ভবিষ্যতে আপনার ঠিকানাসহ ইমেইল পাওয়ার অপেক্ষায় রইলাম এবং ইমেল করার জন্য আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ। বাংলাদেশের বগুড়া জেলার বড়চাপড়া থেকে এবারের চিঠিটি পাঠিয়েছেন রেডিও তেহরানের পুরনো এবং বেশ সক্রিয় শ্রোতাভাই ডাঃ শাহিনুর আলম। রেডিও তেহরানের সবাইকে সালাম জানিয়ে তিনি লিখেছেন, সবাইকে নওরোজের শুভেচ্ছা।
বহলুল: নওরোজ মানে ফার্সি নববর্ষের বন্ধ শেষ করে ফিরলাম। এবার যা বৃষ্টি হয়েছে! এমনটা এর আগে দেখি নি! তা যাইহোক প্রিয়জনের আসরে বসে নওরোজের শুভেচ্ছা পেতে খুবই ভাল লাগছে।
এ ভাই আরো লিখেছেন, নওরোজ নিয়ে কথিকা গুলো অনেক ভাল লাগছে। হাফত সিন সম্বন্ধে জেনে খুব ভাল লাগলো।
ভাই শাহীনুর, সুন্দর চিঠি লেখার জন্য ধন্যবাদ। চিঠি লিখা অব্যাহত রাখবেন আশা করছি। পশ্চিমবঙ্গের পুরুলিয়ার হিজুলি থেকে এ চিঠি লিখেছেন রেডিও তেহরানের পুরনো শ্রোতাভাই আবুবকর সিদ্দিক। চিঠির শুরুতেই তিনি রেডিও তেহরানের সবাইকে সালাম এবং ভালোবাসা জানিয়েছেন। এরপর তিনি লিখেছেন, প্রিয়জন আসরের সবচেয়ে ভাল দিকটি হলো তা শ্রোতা ভাইবোনদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলে। মানে রেডিও তেহরান বলে গেল আর আমরা শুনে গেলাম- এরকম নয় বরং শ্রোতা বা পাঠক ভাইবোনেরা মনের আনন্দের বা দু:খের যেসব কথা বলেন তাই প্রচার করে প্রিয়জন। চমৎকার সব আয়োজন।
বহলুল: চমৎকার আপনার উপলব্ধি। চিঠি লেখার জন্য ধন্যবাদ এবং নিয়মিত চিঠি লেখা অব্যাহত রাখবেন এ কামনা করছি।
আসরের এ পর্বে আর চিঠি নয়। এবারে নজর দিতে হবে ওয়েব সাইটে এবং ফেসবুকে রেডিও তেহরানের খবরে শ্রোতাবন্ধুরা যে সব মন্তব্য করেছেন সে দিকে। হ্যাঁ দায়েশ বিরোধী অভিযানের নামে সিরিয়ার অবকাঠামো ধ্বংস করছে আমেরিকা- শীর্ষক খবরটি প্রকাশিত হয়েছে গত ১৭ মার্চ। এ খবরে বলা হয়েছে, সিরিয়া সরকার ফোরাত ও তেশরিন বাধ এবং এর আশেপাশের এলাকায় হামলা বন্ধে মার্কিন নেতৃত্বাধীন কথিত জোটের ওপর চাপ সৃষ্টির জন্য জাতিসংঘ মহাসচিবের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। সিরিয়ায় আসন্ন বিপর্যয় ঠেকানোই এ আহ্বান জানানোর উদ্দেশ্য বলে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে। ফেইসবুকে আমাদের ওয়েবপেইজে এ সংক্রান্ত খবরে মন্তব্য করেছেন শ্রোতাবন্ধ হাসান। তিনি লিখেছেন: সময় এসেছে মুসলমানদের এক হওয়ার। আমাদের কাছে কুরআনের মতো হেদায়েতের গ্রন্থ থেকেও আমরা তা অনুসরণ করিনা। আমরা নামাজ পড়ি, রোজা রাখি অথচ আজ আমাদের মধ্যে বিভেদ আর দ্বন্দ্ব চরমে। আমার মনে হয় জন্মসূত্রে মুসলমান হওয়ার কারণে এবং সঠিক জ্ঞান না থাকায় আজ আমাদের এ দুরবস্থা। আসুন আমরা সবাই কুরআন পড়ি, নিজেকে গঠন করি, পরিবার গড়ি।
বহলুল: চমৎকার, আসুন সবাই সাড়া দেই।
ধন্যবাদ ভাই হাসান ভবিষ্যতে আরো মন্তব্য করবেন। এদিকে গোয়া বিধানসভায় আস্থা ভোটে জয়ী হলেন মনোহর পাররিকার শীর্ষক খবরটি প্রকাশিত হয়েছে ১৬ মার্চ। রেডিও তেহরানের ওয়েবপেইজে এ খবরে মন্তব্য করেছেন নিয়মিত মন্তব্যকারী ভাই মহম্মদ ঘোরী শাহ্। তিনি লিখেছেন, গণতন্ত্রের এ এক নিদারুণ বাস্তবতা, সংখ্যা গরিষ্ঠ দল হয়েও ভারতের গোয়া রাজ্যের বিধানসভার বাহিরে থাকতে হচ্ছে কংগ্রেসকে। বিজেপি তেরটি আসন পেয়ে নির্দলীয় বিধায়কদের নিয়ে ক্ষমতার দখল নিল অথচ কংগ্রেসের দখলে ছিল সতেরটি আসন।কিন্তু কংগ্রেস কেন ক্ষমতা দখলে প্রচেষ্টা চালালো না, এটা অনেকেরই প্রশ্ন! এ শ্রোতা আরও দাবি করেছেন, বিজেপি'র ক্ষমতা গ্রহণের মধ্যদিয়ে জনমতের প্রতিফলন ঘটে নি বরং কেবল গণতন্ত্রের সমীকরণ রক্ষা পেয়েছে।
বহলুল: বেশ ক্ষুরধার মন্তব্য। ধন্যবাদ ভাই ঘোরীশাহ। এদিকে মনে হয় আসরের সময় শেষ হয়ে এসেছে? তাই না?
হ্যাঁ, এবারে আসর গুটাতে হবে। শ্রোতা ভাই বোনেরা চিঠি লেখা, ইমেইল করা এবং সর্বোপরি দীর্ঘ সময় ধরে অনুষ্ঠান শোনার জন্য আপনাদের সবাইকে ধন্যবাদ। অনুষ্ঠান সম্পর্কে মতামত দেয়া অব্যাহত রাখবেন আশাকরছি। যাইহোক আবারও কথা হবে আগামী আসরে। আজ গান শুনতে শুনতে এখানেই বিদায় চাইছি।#