মে ২৭, ২০১৭ ১২:২৬ Asia/Dhaka

আজকের আসরের শুরুতেই আমরা ইমাম আলী (আ.)-এর একটি মূল্যবান বাণী শোনাব। তিনি তাঁর পুত্র ইমাম হাসান (আ.)-কে উদ্দেশ করে বলেছেন: 'যে তোমার সঙ্গে কঠোর আচরণ করে, তুমি তার প্রতি দয়ালু হও, অচিরেই সেও তোমার প্রতি নরম হবে।'

চমৎকার একটি বাণী শুনলাম। আমরা সবাই দয়ালু হব- এ আশাবাদ ব্যক্ত করে শুরু করছি চিঠিপত্রের আজকের আসর। আসরের শুরুতেই একটি ইমেইলের দিকে নজর দিচ্ছি । এটি এসেছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের পশ্চিম মেদিনীপুরের চৈতক লিসেনার্স ক্লাব থেকে। আর পাঠিয়েছেন রেডিও তেহরানে পুরনো শ্রোতা ভাই এবং এ ক্লাবের সভাপতি ডা. এস এস ভট্টাচার্য। মেইলে তিনি রেডিও তেহরানের সবাইকে বাংলা ১৪২৪ সালের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। এ ছাড়া, চমৎকার অনুষ্ঠানমালা প্রচারের জন্য জানিয়েছেন আন্তরিক শুভেচ্ছা।

বহলুল: ভাই এস এস ভট্টাচার্য, আপনার বাংলা নববর্ষের শুভেচ্ছা আমরা দু’হাত ভরে গ্রহণ করলাম। এর মাধ্যমে আপনাদের সবাইকেও একই শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।

এ শ্রোতাভাই তা মেইলে নিয়মিত রেডিও শোনা এবং অনুষ্ঠান সম্পর্কে মতামত জানানোর আশাবাদ ব্যক্ত করেছে।

ইমেইল করার জন্য আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ। এবারে যে চিঠি হাতে তুলে নিয়েছি সেটাও এসেছে পশ্চিমবঙ্গ থেকে। পুরুলিয়া জেলার হিজুলী দলদলি থেকে এটি পাঠিয়েছেন রেডিও তেহরানের পুরনো শ্রোতা ভাই আবু বকর আনসারি। তিনি লিখেছেন, রেডিও তেহরানে আজকাল চিঠি লেখা কমে গেছে। মাঝে মাঝে মনে হয় কাজটা ভালো করলাম নাকি খারাপ। আমাদের ব্যস্ততা বেড়ে যাওয়ায় আগের মতো সময়ও পাই না। আপনারা ব্যাপারটিকে তো খারাপ চোখে দেখছেন না!

বহলুল: অবশ্যই না। কারণ সারা দুনিয়াতেই চিঠি লেখা কমছে। আমি নিজেই শেষ চিঠি কবে লিখেছি আর মনে নেই! তবে 'নানা অ্যাপসের মাধ্যমে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি। এমনকি আজকাল ইমেইল কম ব্যবহার করি। আর লোকাল ফোনের চেয়ে বেশি ব্যবহার করি ভয়েস চ্যাট।'- বহলুল ভাই কি এ কথাগুলোই বলতে চেয়েছিলেন?

বহলুল: দুইশ ভাগ ঠিক। কি বলতে চাই তা প্রকাশ করে দেবে এমন অ্যাপস বাজারে এসে যাবে বলেই মনে হচ্ছে। তখন আমার হবে মহা আনন্দ, একেবারে পোয়া বারো। খাবো দাবো আর ঘুমাবো। যা করার সব করবে অ্যাপস সাহেব।

যা বললেন বহলুল ভাই! তা যাকগে, এবারে যে ইমেইল হাতে তুলে নিয়েছি তা এসেছে বাংলাদেশ থেকে। গাজীপুরের টঙ্গির সফিউদ্দিন সরকার একাডেমী অ্যান্ড কলেজ থেকে এটি পাঠিয়েছেন এ কলেজের পদার্থ বিজ্ঞানের প্রভাষক রেডিও তেহরানের পুরনো বিদগ্ধ শ্রোতা ভাই ফিরোজ আলম।  তিনি লিখেছেন, আমরা জানি,বিশ্বের সকল মিডিয়ার মাঝে রেডিও  তেহরানের রয়েছে আলাদা বৈশিষ্ট্য ৷ তেমনি রেডিও তেহরানের শ্রোতারাও  মন মানসিকতা,জ্ঞান ও আকীদার দিক দিয়ে  রেডিও তেহরানের মতই ৷ রেডিও তেহরানের প্রতি আমাদের চাওয়া পাওয়াও অনেক বেশি ৷

এরপর তিনি আরো লিখেছেন, রেডিও তেহরানের নিয়মিত শ্রোতারা রেডিও  তেহরান শুনে যতটা না মুগ্ধ,তারচেয়ে বেশি মুগ্ধ ইরানের রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা ও শান্তিময় পরিবেশ সম্পর্কে জেনে ৷ আমরা বাংলাদেশেও অনুরূপ শান্তিময় রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা চাই ৷ চাই জানতে ইরান সম্পর্কে  আরও  বেশি জানতে ৷ ইরানী রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা ও শিক্ষা ব্যবস্থা সম্পর্কে তুলে ধরে আরও বিশ্লেষণ ধর্মী অনুষ্ঠান দাবি করছি।

বহলুল: ভাই ফিরোজ, আপনার দাবি ন্যায্য। এমন দাবি করার আগেই তা পূরণের যথাসাধ্য চেষ্টা করছি।

ভবিষ্যতে অনুষ্ঠান প্রণয়নের সময়ে আপনার দাবির কথা মনে রাখা হবে। ভবিষ্যতে আরো চিঠি দেবেন এ কামনা করছি। এরপরের চিঠিও এসেছে বাংলাদেশ থেকে। নওগাঁ জেলার কাশীপুর গ্রাম থেকে এটি লিখেছেন, তরুণ বেতার শ্রোতা সংঘের ফরহাদ হোসেন। চিঠির শুরুতেই তিনি লিখেছেন, রেডিও তেহরানের প্রতিনিয়ত শ্রোতা বাড়ছে তা অনুভব করা যায় ওয়েবভিত্তিক তৎপরতা দিয়ে। পুরনো এক শ্রোতা ভাই এ কথা প্রায়ই বলেন। এ সম্পর্কে আপনাদের মতামত কি?

বহলুল: যাহা বলেছে তা সত্যি। আসলে চিঠিপত্রের সংখ্যা কমলেও ওয়েবভিত্তিক তৎপরতা প্রায় প্রতিদিনই বাড়ছে।

এ নিয়ে কোনো প্রশ্ন না করে নিজেই রেডিও তেহরানের ফেসবুকের গ্রুপে যোগ দিয়ে দেখতে পারেন। এ গ্রুপটি আপনার ভালো লাগবে। কারণ প্রাণবন্ত আড্ডার পাশাপাশি জ্ঞানগর্ভ তর্ক বিতর্কও চলে নিয়মিত। এ ছাড়া, খবর নিয়ে নানা ব্যাখ্যা বিশ্লেষণতো রয়েই গেছে। ভবিষ্যতে আরো চিঠি দেবেন। পরের চিঠিটি..

বহলুল: নো চিঠি। কারণ এখন ওয়েবভিত্তিক তৎপরতার দিকে নজর দিতে হবে। তবে সময় কম হওয়ায় আজও সংক্ষেপে সারতে হবে।

হ্যাঁ, 'সন্ত্রাসবাদ বিরোধী যৌথ মহড়া শুরু করল চীন ও নেপাল'- শীর্ষক খবরটি প্রকাশিত হয়েছে ১৬ এপ্রিল। ফেসবুকে রেডিও তেহরানের গ্রুপে এ খবর লুফে নিয়েছেন অনেকেই। মোহসিন হোসেইন লিখেছেন, আশেপাশে কোনো দেশের সাথেই ভারতের সম্পর্ক ভালো নয়; বাংলাদেশের সাথেও নয়।

এদিকে মানসুর ঘোরি লিখেছেন, সত্যি যদি বিশ্ববাসী সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াই করতে চায় তাহলে সন্ত্রাসের কারখানা ইসরাইল এবং আমেরিকার বিরুদ্ধে একযোগে লড়াই করা উচিৎ।

'ইরাকের মসুলে রাসায়নিক হামলা চালিয়েছে দায়েশ'- শীর্ষক খবরটি প্রকাশিত হয়েছে ১৬ এপ্রিল। এ খবরে বলা হয়েছে, উগ্র তাকফিরি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী দায়েশ ইরাকের উত্তরাঞ্চলীয় মসুল শহরে রাসায়নিক হামলা চালিয়েছে। এর ফলে বেশ কয়েকজন ইরাকি পুলিশ মারাত্মক আহত হয়েছেন। এদিকে ফেসবুকের গ্রুপে এ খবরে মুসা শাহিন লিখেছেন 'ট্রেইন্ড বাই ইসরাইল ফান্ডেড বাই -------. তিনি আর নাম উল্লেখ করেন নি।

বহলুল: সবাই জানে, নামটি দরকার কি বলার। সে যাই হো, আজকের আসরের সময়ে শেষ হয়ে এসেছে।#

পার্সটুডে/মো:আবু সাঈদ/২৭