মে ৩১, ২০১৭ ১১:২৭ Asia/Dhaka

রমজান মাসে পাপ থেকে দূরে থাকা প্রসঙ্গে গত পর্বে গীবত ও অপবাদের মত জিহ্বার নানা পাপের ধরণ এবং এ ধরনের পাপ থেকে দূরে থাকার নানা পন্থা সম্পর্কে আমরা আলোচনা শুনেছি।

অন্যদের সম্পর্কে আজেবাজে বা অশালীন কথার আসরে যোগ দেয়াও একটি বড় পাপ। কোথাও কারো দুর্গতির কথা শুনে খুশি না হয়ে বরং সমবেদনা জানানো উচিত এবং যারা ওই ব্যক্তির নিন্দা করছে বা  তার সম্পর্কে অশালীন কথা বলছে তাদেরকে সতর্ক করে দেয়া মু’মিন বা বিশ্বাসীর দায়িত্ব। আর তারা যদি এই সতর্ক-বাণীতে কান না দেয় তাহলে সেখান থেকে চলে যাওয়া মু’মিনের কর্তব্য। এ ধরনের নিন্দার আসর ত্যাগের প্রশংসা রয়েছে পবিত্র কুরআনে। সুরা কাসাসের ৫১ নম্বর আয়াতে আল্লাহ বলছেন, ‘যখন তারা অন্যের নিন্দাবাদ শোনে বা অবাঞ্চিত বাজে কথাবার্তা শোনে, তখন তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয় এবং বলে, আমাদের জন্যে আমাদের কাজ এবং তোমাদের জন্যে তোমাদের কাজ। তোমাদের প্রতি সালাম। আমরা অজ্ঞদের সাথে জড়িত হতে চাই না।’

গীবত শোনাকে গিবতে শরিক হওয়ার সমান পাপ হিসেবে ধরা হয়। তাই গিবতের প্রতিবাদ করা সম্ভব না হলেও অন্তত গীবত শোনা এড়ানোর জন্য দ্রুত কোনো কাজে বা অন্য দিকে মন সরিয়ে নেয়ার মত তৎপরতায় জড়িত হওয়ার পরামর্শ দেয়া হয়।

কারো ব্যাপারে গোয়েন্দাবৃত্তি করাও বড় পাপ। এর ফলে পরস্পরের গোপন নানা দিক ফাঁস হয়ে পড়ে ও নানা ধরনের ভুল তথ্য প্রচার হয়। এ ধরনের কাজ পরস্পরের মধ্যে দূরত্ব ও অবিশ্বাসের দেয়াল গড়ে তোলে।

চোগলখুরি একটি বড় পাপ। চোগলখুরি হল একজনের নেতিবাচক কথা বা মন্তব্যকে অন্যের কাছে তুলে ধরা এবং এভাবে পরস্পরের মধ্যে দূরত্ব বা ঘৃণা তৈরি করা। অথচ মুমিন ব্যক্তির উচিত এক মু’মিন সম্পর্কে অন্য মু’মিনের কেবল ভালো কথাগুলো তাদের সামনে তুলে ধরা এবং মন্দ কথাগুলো গোপন রাখা। এমনকি দু’জন মুসলমানের মধ্যে বিবাদ বা মনোমালিন্য দূর করার জন্য তাদের পরস্পরের কাছে পারস্পরিক প্রশংসাসূচক মন্তব্যের মিথ্যা উদ্ধৃতি তুলে ধরাকেও উৎসাহ দেয় ইসলাম।

আমরা জীবনে এ পর্যন্ত যত গীবত করেছি, যত চোগোলখুরি করেছি এবং যত অপবাদ দিয়েছি ও অন্য মু’মিনের বিষয়ে যত গোয়েন্দাবৃত্তি করেছি তারা জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত। শুধু তাই নয় সব কিছুর আগে এসব পাপের মাধ্যমে যাদের ক্ষতি করেছি তাদের কাছেও ক্ষমা চাইতে হবে। ক্ষমা চাওয়া সম্ভব না হলে বা ক্ষমা চাইতে গিয়ে মহাবিপত্তি ঘটার আশঙ্কা থাকলে তাদের জন্য আল্লাহর দরবারে ক্ষমা চাইতে হবে ও তাদের নামে দান-সদকা দেয়া এবং নানা সৎকর্ম যেমন, দরুদ পাঠ, কুরআন পাঠ –এসবের সওয়াব উৎসর্গ করতে হবে।  

তবে কোন্ কোন্ ক্ষেত্রে গীবত বা অন্যের দোষ কিংবা অপরাধ তুলে ধরা যায় তা জানতে হবে ধর্মীয় বিধানের বই বা আলেমদের কাছ থেকে। যেমন, কোনো ব্যক্তি কারো মাধ্যমে অবিচারের শিকার হওয়ার পর কোনো বিচারকের কাছে ওই ব্যক্তির অপরাধের কথা তুলে ধরতে পারে। কয়েকটি পাপাচারে জড়িত কোনো ব্যক্তিকে ওইসব পাপাচার অব্যাহত রাখার অবস্থা থেকে মুক্ত করার জন্য পরামর্শ বা সাহায্য চাইতে গিয়ে ওইসব পাপের উল্লেখ করা বৈধ হতে পারে। কারো কোনো কাজ বৈধ না অবৈধ তা জানার জন্য পরিস্থিতি তুলে ধরে কোনো মুসলিম আলেমের পরামর্শ চাওয়া বৈধ,  তবে এক্ষেত্রে ওই ব্যক্তির নাম বা পরিচয় গোপন রাখতে হবে।   

কেউ প্রকাশ্যে নিজের নানা পাপের কথা বলে বেড়ালে তার উল্লেখ অবৈধ নয়। কাউকে সতর্ক করার জন্য কোনো ব্যক্তির দোষ তুলে ধরা বৈধ। যেমন, অন্যদের এমন ব্যক্তি সম্পর্কে সতর্ক করা যে ব্যক্তিটি চোর বা প্রতারক বলে প্রমাণ রয়েছে। এক্ষেত্রে সতর্ক করে দেয়া প্রত্যেকের দায়িত্ব।

পাপ থেকে দূরে থাকার উদ্দেশ্য হল আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন। বলা হয় কোনো ক্ষুদ্র পাপকেও ক্ষুদ্র মনে করা হলে তা বড় পাপ হিসেবে আমলনামায় লেখা হয়। কারণ, সব পাপই আল্লাহর নজরে আসে এবং এমন কোনো স্থান বা সময় নেই যা আল্লাহর উপস্থিতি ও নজরের আওতামুক্ত।

খোদাপ্রেমের মাস রমজান। যে আল্লাহ মানুষকে এত দয়া ও করুণা করে সৃষ্টি করেছেন এবং তাকে দিয়েছেন এতো অজস্র নিয়ামত তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞচিত্ত না হওয়া ও তাঁকে ভালো না বাসাটা সত্যিই সবচেয়ে বড় হৃদয়হীনতা। আর মহান আল্লাহকে স্মরণ করার ও বিশেষ করে তাঁকে কৃতজ্ঞ-চিত্তে স্মরণ করার এক বড় উপায় হল পাপ থেকে দূরে থাকা।  মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে রমজান মাসসহ সব সময় সব ধরনের পাপ থেকে দূরে থাকার ও ভুলবশত পাপ করে ফেললে সে জন্য তওবা করার তৌফিক দান করুন। #

পার্সটুডে/আমির হুসাইন/আশরাফুর রহমান/৩১