জুন ০২, ২০১৭ ১২:১৫ Asia/Dhaka
  • খোদাপ্রেমের অনন্য মাস রমজান (পর্ব-৭)

বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মাদ (সা) বলেছেন, প্রকৃত ধর্ম হচ্ছে কল্যাণকামীতা। ইসলাম এসেছে মানুষের সার্বিক কল্যাণের জন্য। ইসলামের নামাজ ও রোজাসহ সব কিছুই মানুষের জন্য অশেষ কল্যাণের উৎস। কিন্তু শয়তান ও মানুষের পাপ-প্রবৃত্তি অসচেতন মানুষকে ইসলাম ও ইসলামের বিধি-বিধান পালন থেকে দূরে ঠেলে দেয়।

ফলে পাপী মানুষ প্রকৃত সব কল্যাণের উৎস তথা আল্লাহ’র ভালোবাসা থেকে নিজেকে বঞ্চিত রাখে।  আসলে পাপের উৎস হচ্ছে অজ্ঞতা, লোভ ও দুনিয়া প্রেম যা মানুষকে খোদাপ্রেম থেকে দূরে রাখে।

আমাদের জীবনে যত অকল্যাণ ও মন্দ আমরা দেখি তা আসলে আমাদের পাপের ফসল। তাই বুদ্ধিমান ব্যক্তিরা তথা খোদাপ্রেমিকরা মনে করেন, মন্দ সব কিছু আমাদেরই হাতের কামাই, আর ভালো, কল্যাণকর ও পবিত্র সব কিছু আসে মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে।

বিশ্বনবীর (সা) পবিত্র আহলে বাইতের সদস্য হযরত ইমাম মুসা কাজিম (আ) বলেছেন,  যে আল্লাহর সম্পর্কে চিন্তা ভাবনা করে না সে আল্লাহর থেকে ভয় করে না। আর যে আল্লাহর সম্পর্কে চিন্তা ভাবনা করে না সে তাঁর পরিচয়-জ্ঞানে আন্তরিক হয় না।  অন্যদিকে যে আল্লাহ সম্পর্কে ভাবে তাঁর কাছে খোদার পরিচিতি স্থায়ী হবে এবং তা দিয়ে সে চক্ষুস্মান হবে এবং তাঁর হকিকত অন্তরে গেঁথে যাবে। আর কেউ এরূপ হবে না যতক্ষণ তার কথা ও কাজ এক না হবে আর তার প্রকাশ্য ও গোপন অবস্থা অনুরূপ না হবে।

মহান আল্লাহ হযরত দাউদ (আ)-কে বলেছেন, ‘হে দাউদ! জমিনে থাকা আমার বান্দাহদের বলুন: আমি তার বন্ধু যে আমাকে ভালোবাসে। আমি তার সহাবস্থানে থাকি যে আমার সঙ্গে থাকে। আমি তার সঙ্গে একাত্ম হই যে আমাকে স্মরণ করতে ও আমার নাম নিতে ভালোবাসে। আমি তার সফর-সঙ্গী যে আমার পথে চলে। আমি তাকে বেছে নেই যে আমাকে বেছে নেয় ও আমি তার কথা শুনি যে আমার নির্দেশ মেনে চলে। যে আমাকে অন্তর থেকে ভালোবাসে আমি তাতে নিশ্চিত হই। আর সেক্ষেত্রে আমি তাকে নিজেই গ্রহণ করি ও তাকে এতো ভালবাসি যে অন্য কোনো বান্দাহ তার চেয়ে এগুতে পারে না তার চেয়ে বেশি প্রাধান্য পায় না আমার কাছে। যে সত্যিকার অর্থে আমাকে খোঁজে সে আমাকে পায়, আর যে আমাকে ছাড়া অন্য কাউকে খোঁজে  সে আমাকে পাবে না। তাই হে জমিনের অধিবাসীরা! তোমরা দুনিয়ার এইসব প্রতারণা ও মিথ্যা ত্যাগ কর; বরং আমার দয়া, আমার সাহচর্য, আমার সহাবস্থান ও আমার সঙ্গে মিলনের দিকে ছুটে আস এবং আমাকে ভালবাস যাতে আমিও তোমাদেরকে ভালবাসি ও তোমাদেরকে ভালোবাসার দিকে ছুটে যাই।’  

রিজিকের ভয় বা দারিদ্রের ভয় দুর্বল ইমানের অধিকারী মানুষকে খোদাপ্রেম ও ধর্ম থেকে দূরে রাখে। বিশ্বনবীর (সা) পবিত্র আহলে বাইতের সদস্য হযরত ইমাম মুসা কাজিম (আ) বলেছেন,   যে পরকালকে কামনা করে দুনিয়া তাকে কামনা করে যাতে তার রুজি তা থেকে পায়। আর যে দুনিয়াকে কামনা করতে থাকে পরকাল তার পিছে পিছে থাকে যতক্ষণ না তার মৃত্যু উপস্থিত হয়। তখন তার দুনিয়া ও পরকালকে তার জন্যে ধ্বংস করে দেয়। যে সম্পদ বিনা অভাবহীন হতে চায় এবং হিংসার জ্বালা থেকে অন্তরে স্বস্তি চায় আর দীনের ক্ষতির ব্যাপারে নিরাপদ হতে চায় তার উচিত আল্লাহর দরবারে ক্রন্দন করা এবং প্রার্থনা করা উচিত যাতে তিনি তার বুদ্ধিকে পূর্ণাঙ্গ করেন। যে ব্যক্তি বুদ্ধিমান হয় সে যা কিছুতে তার জীবন মোটামুটি চলে যায় তাতেই তুষ্ট থাকে। ফলে সে অভাবমুক্ত হয়ে যায়। আর যে ব্যক্তি যা কিছুতে তার জীবন মোটামুটি চলে তাতে তুষ্ট হয় না সে কখনো অভাবমুক্ত হতে পারে না। ...যার মুখের ভাষা সত্য হয় তার কাজ পবিত্র হয়। যার নিয়্যত ভাল তার রুজি বৃদ্ধি পায়। আর যে নিজের ভ্রাতৃবর্গ ও পরিবারবর্গের সাথে সুন্দর আচরণ করে তার আয়ু দীর্ঘ হয়।

অনেক সময় হতাশা মানুষকে পাপের দিকে ঠেলে দেয়। মহান আল্লাহ’র রহমতের প্রতি অবিশ্বাসই মানুষকে হতাশ করে সৌভাগ্য ও সুদিন আসার ব্যাপারে। অথচ খোদাপ্রেমিক বা মু’মিনের উচিত সৌভাগ্য সম্পর্কিত আল্লাহর বাণীসহ তাঁর সব বাণীর ওপর ভরসা করা ও তাতে গভীর আস্থা রাখা। আমরা যদি সত্যিই আল্লাহকে ভালবাসতে চাই তাহলে এমন সব কাজ করা উচিত যা আল্লাহ পছন্দ করেন।

আমরা সবাই যেন মহান আল্লাহর নৈকট্য ও ভালোবাসা অর্জনের মত কাজ করতে পারি এবং এ জন্য যথেষ্ট জ্ঞানও অর্জন করতে পারি মহান আল্লাহর কাছে সেই তৌফিক কামনা করছি।

পার্সটৃুডে/আমির হুসাইন/আশরাফুর রহমান/২