খোদাপ্রেমের অনন্য মাস রমজান (পর্ব-১১)
মহান আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে এবং মহানবীর আহলে বাইতকে (আ.) ভালভাবে না চেনাসহ নানা ধরনের অজ্ঞতার কারণে আমরা নানা পাপে জড়িত হচ্ছি।
মহান ধর্মীয় নেতারা এ জন্যই সব পাপ এড়াতে একটি দোয়া খুব গুরুত্ব দিয়ে পাঠ করতেন। ওই দোয়ায় বলা হয়:
‘হে আল্লাহ! আপনিই আমাকে সুযোগ দিন আপনাকে চেনার। কারণ, আপনি যদি আপনার পরিচয় আমার কাছে না তুলে ধরেন তাহলে আপনার রাসুল বা প্রেরিত পুরুষকে চিনতে পারব না। হে আল্লাহ! আপনার রাসুলকে আমাদের কাছে পরিচিত করুন, যদি আপনি তা না করেন তাহলে আপনার নবীর প্রতিনিধি বা ইমামকে চিনতে পারব না। হে আল্লাহ! আপনার রাসুলের প্রতিনিধিকে চিনিয়ে দিন, কারণ আপনার রাসুলের প্রতিনিধিকে চিনতে না পারলে আমরা বিভ্রান্ত হয়ে যাব।’
আমরা কখনও পাপ করছি শয়তানের কুমন্ত্রণা বা কুযুক্তির জবাব না জানার কারণে। আর এ জন্যই ধর্মীয় জ্ঞান-চর্চাকে ফরজ করা হয়েছে। স্রেফ অজ্ঞতার কারণে যে পাপ করা হয় আল্লাহ তা ক্ষমা করবেন। কিন্তু আমরা কখনও জেনে-শুনেও পাপ করছি ঈমানের দুর্বলতার কারণে। যেমন, আমরা জানি যে মৃত ব্যক্তি মানুষের কোনো ক্ষতি করতে পারে না, কিন্তু তারপরও রাতের বেলায় একটি লাশের পাশে একাকী থাকতে আমরা ভয় করি। আমরা সবাইই তো জানি যে গিবত অত্যন্ত জঘন্য মহাপাপ, একজনের কথা অন্য কারো কাছে লাগানো বা চোগলখোরিও বড় পাপ, তবুও আমরা যখন এ জাতীয় পাপ করি তখন আসলে আমরা আল্লাহর ওপর বিশ্বাস, ভালবাসা ও আল্লাহর নজর এবং শাস্তির কথা মাথায় রাখি না!
এক ব্যক্তি ইমাম হুসাইন (আ.)’র কাছে আরজ করেন যে তিনি কোনোভাবেই পাপ এড়াতে পারছেন না! ইমাম (আ.) বললেন, “পাঁচটি কাজ করার পর বা ৫ টি বিষয়ে নিশ্চিন্ত হওয়ার পর যত ইচ্ছা পাপ কর। প্রথমত: আল্লাহর রিজিক না খেয়ে যত ইচ্ছা পাপ কর। দ্বিতীয়ত: এমন স্থানে চলে যাও যেখানে আল্লাহর কর্তৃত্ব নেই এবং সেখানে যত ইচ্ছা পাপ কর। তৃতীয়ত: এমন জায়গায় যাও যেখানে আল্লাহ তোমাকে দেখবেন না, সেখানে যত পার গোনাহ কর। চতুর্থত: যখন মালেকুল মওত বা মৃত্যুর ফেরেশতা তোমার রুহ বা প্রাণ নিতে আসবে তখন তুমি নিজেকে রক্ষা করতে পারলে যত ইচ্ছা গোনাহ কর। পঞ্চমত: যখন আজাবের ফেরেশতা তোমাকে আগুনে নিক্ষেপ করবে তখন যদি তা থেকে বাঁচতে পার তাহলে এখন যত খুশি পাপ করে যাও।”
পাপ থেকে মুক্ত থাকার জন্য সাধনা, অধ্যবসায় ও একনিষ্ঠতা জরুরি। কুরআনে বলা হয়েছে, 'তোমরা সত্যকে গ্রহণ ও মিথ্যাকে বর্জন কর সেটা যতই কঠিন হোক না কেন।' কিন্তু শয়তান আমাদের বলতে চায় যে, তুমি তো আর নবী-রাসুল বা ইমামদের মত জ্ঞানী নও যে সব বুঝে সঠিক পথটি বাছাই করতে পারবে বা তাঁদের মতই মহান আল্লাহর প্রিয়পাত্র নও যে আল্লাহ তোমাকে ইসলামের পথে ত্যাগ স্বীকারের জন্য অলৌকিকভাবে সহায়তা করবেন, তাই সবক্ষেত্রে ঈমান ও ইসলামের পথে থাকার চেষ্টা করে লাভ নেই! এর উত্তর হল আসলে প্রত্যেক মানুষের মধ্যেই রয়েছে সচেতন খোদা-প্রেমিক হওয়ার অসীম সম্ভাবনা। একটি হাদিসে কুদসির বর্ণনা অনুযায়ী যে কোনো সাধারণ মু'মিন বা মুসলমান মানুষ নফল ইবাদতের মাধ্যমে আল্লাহর এত বেশি নৈকট্য অর্জন করতে পারে যে সে তখন যা চায় তা-ই করতে পারে বৈধ আশার ভিত্তিতে।
আমাদের এ কথা মনে রাখা উচিত যে, খোদার পথে চলতে গিয়ে আমরা যদি হই বন্ধুহীন, আর আমাদের হাত যদি হয় তাতে সম্পদশূন্য ও অস্ত্রহীন, কিন্তু আল্লাহ যদি আমাদের ওপর সন্তুষ্ট হন বা আমরা যদি হতে পারি প্রকৃত খোদা-প্রেমিক তাহলে বিশ্বের সবাই মিলেও আমাদের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না, আর যদি আল্লাহকে না পেয়ে তথা আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন না করে আমরা যদি বিশ্বের সব সম্পদ ও সব মানুষেরও সমর্থন পাই তাহলেও বাস্তবে আমরা হব নিঃস্ব, নিঃসঙ্গ ও অসহায়।
মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে খোদা-প্রেমের এই মহান সূত্র সব সময় মেনে চলার সুযোগ দিন। #
পার্সটুডে/মু.আ.হুসাইন/৬