জুন ১৮, ২০১৭ ১৩:৩২ Asia/Dhaka

মহান আল্লাহর অশেষ রহমত. বরকত ও মাগফিরাতের নেয়ামতসহ নানা অনুগ্রহের অশেষ মনি-মুক্তা আর হিরা-জহরতে ভরপুর পবিত্র রমজানের দিনগুলো শেষ হয়ে আসছে! খোদাপ্রেমের অসীম সাগরে ডুব দিয়ে থাকতে আগ্রহী মু’মিনরা সারা বছর ধরে এই মাসের জন্য অধীর আগ্রহে প্রতীক্ষায় ছিলেন।

আবার আরও একটি রমজান জীবনে আসবে কিনা তা কে জানে? তাই মহাপবিত্র এ মাসের প্রতিটি মুহূর্তকে সর্বোচ্চ মাত্রায় কাজে লাগাতে হবে যে প্রেমময় মাসে বান্দার প্রতিটি শ্বাস-প্রশ্বাস ও ঘুমকেও সাওয়াব হিসেবে বরাদ্দ করেছেন অপার করুণার আধার রাব্বুল আলামিন।

আত্মগঠন ও আত্মিক পরিশুদ্ধিসহ সার্বিক আত্ম-উন্নয়নের জন্য এবং সর্বোপরি খোদাপ্রেমের আসল রহস্য আর সঠিক ঠিকানাগুলো জেনে নেয়ার জন্য ইসলামী জ্ঞান অর্জন জরুরি। এ জন্যই ইসলাম এক ঘণ্টার জ্ঞানগত চিন্তাভাবনাকে ৭০ বছরের নফল ইবাদতের চেয়েও বেশি গুরুত্ব দেয়। তাই রমজানে সবচেয়ে বেশি সাওয়াব অর্জনের এই সুযোগ হাতছাড়া করা উচিত নয়।

রাতের আকাশের তারকারাজির দিকে তাকিয়ে ভাবার চেষ্টা করুন মহান আল্লাহর এই বিশ্বজগত কতো বড় এবং তার ভেতরে আমাদের এই জগত ও আমরা কত ক্ষুদ্র! কিংবা ভাবুন মানবদেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলো, বিশেষ করে মস্তিষ্কসহ নানা অংশ কিভাবে এতোসব জটিল কাজ করে যাচ্ছে!

কোনো কোনো সময় জিহাদ বা হজযাত্রার চেয়েও অসুস্থ বাবা-মা, যে কোনো অসহায় রোগী বা আত্মীয়-স্বজন, অসুস্থ প্রতিবেশী বা ইয়াতিমের দেখাশুনা করা বেশি জরুরি।

ইসলামী বিধি-বিধান ও স্থান-কাল-পাত্রের জ্ঞানই আপনাকে বলে দেবে কখন আপনার জন্য কোন্ কাজটা আল্লাহর কাছে বেশি প্রিয় হবে। 

ইসলামী জ্ঞানের উৎস কুরআনে আল্লাহ বলেছেন, তিনি তওবাকারীদের ভালোবাসেন। তিনি ভালবাসেন ধৈর্যশীলদের ও সৎকর্মশীলদের। খোদাপ্রেমের এমন আরও অনেক সূত্র রয়েছে যা জেনে নেয়া জরুরি।   

মহান আল্লাহর ভালোবাসা অর্জনের জন্য পবিত্র কুরআনের আলোকে জীবন গড়া জরুরি। আর এ জন্য পবিত্র কুরআনের আলোকে বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মাদ (সা) ও তাঁর পবিত্র আহলে বাইতের পরিচিতি অর্জন করাও জরুরি। কারণ কুরআনের বাণী অনুযায়ী মহান আল্লাহর ভালবাসা অর্জন করতে হলে তাঁর সর্বশেষ রাসুলের ও  এই রাসুলের প্রকৃত প্রতিনিধিদেরও অনুসরণ করতে হবে।

আল্লামা যামাখশারী ও আল্লামা ফাখরে রাযী আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের প্রখ্যাত দুজন তাফসীরকারক ও বিজ্ঞ আলেম। তাঁরা সুবিখ্যাত তাফসীর গ্রন্থদ্বয় ‘আল-কাশশাফ’ ও ‘আল-কাবির’- এ লিখেছেন,যখন সুরা শুরার ২৩ নম্বর আয়াত নাযিল হলো যাতে বলা হয়েছে : (হে রাসূল) বলে দিন,  আমি আমার রেসালতের বিনিময়ে কোন পার্থিব প্রতিদান ও পারিশ্রমিক চাই না। আমি চাই যে, শুধুমাত্র তোমরা আমার নিকটতম লোকদের তথা আহলে বাইতকে ভালবাসবে ।

তখন রাসূল (সা.) বলেন: যে ব্যক্তি অন্তরে মুহাম্মদ (সা.) এর আহলে বাইতের প্রতি ভালবাসা পোষণ করে মৃত্যুবরণ করলো তার মৃত্যু হবে শহীদের মৃত্যু,  ক্ষমা প্রাপ্তির মৃত্যু, তওবাকারীর মৃত্যু ও পরিপূর্ণ ঈমানের মৃত্যু।

জেনে রেখো: যে ব্যক্তি হৃদয়ে আলে মুহাম্মদের (সা.) ভালবাসা নিয়ে মৃত্যুবরণ করবে তাকে মৃত্যুদূত তথা আযরাইল (আ.) অতঃপর মুনকির নাকিরও জান্নাতের সুসংবাদ পরিবেশন করবেন ও তাকে বেহেশতে এমনভাবে সজ্জিত করে নিয়ে যাওয়া হবে যেমনিভাবে নববধূকে সাজিয়ে স্বামীগৃহে নিয়ে যাওয়া হয়  এবং তার কবরে জান্নাত মুখী দু’টি দরজা খুলে দেয়া হবে ।

মহানবী (সা) আরও বলেন, জেনে রেখো: যে ব্যক্তি রসূলের (সা.) আহলে বাইতকে ভালবেসে মৃত্যুবরণ করলো মহান আল্লাহ তার কবরকে রহমতের ফেরেশতাদের জিয়ারতগাহে পরিণত করবেন। স্মরণ রেখো: যে ব্যক্তি আলে মুহাম্মদ (সা.) কে ভালবেসে মৃত্যুবরণ করলো সে রাসূলের সুন্নাতের পথে এবং মুসলমানদের দলভুক্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করলো। বিশ্বনবী (সা) আরও বলছিলেন, মনে রেখো: যে ব্যক্তি মুহাম্মদ (সা.) এর আহলে বাইতের প্রতি শত্রুতা পোষণ করে মারা যায় সে ক্বিয়ামতের দিনে এমন অবস্থায় উপস্থিত হবে যে তার কপালে লিখা থাকবে ‘আল্লাহর রহমত থেকে বঞ্চিত’,তার মৃত্যু হবে কাফেরের মৃত্যু ও সে কখনও বেহেশতের সুঘ্রাণ পাবে না।

বোখারি, মুসলিম ও তিরমিজি শরিফসহ সুন্নি সূত্রের অনেক হাদিস গ্রন্থে সুরা শুরার ২৩ নম্বর আয়াতের ব্যাখ্যা সংক্রান্ত মহানবীর (সা) বক্তব্যের বর্ণনা এসেছে যাতে তিনি বলেছেন, এই আয়াতে রাসুলের যে নিকটজনদের প্রতি ভালবাসা ফরজ করা হয়েছে তাঁরা হলেন, আলী, ফাতিমা. হাসান ও হুসাইন। তাঁদের সবার ওপর বর্ষিত হোক মহান আল্লাহর অশেষ দরুদ,সালাম আর রহমত। 

মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে রাসুলের আহলে বাইতের শানে বেশি বেশি দরুদ পাঠানোর ও তাঁদের অনুরাগী হওয়ার তওফিক দিন। #

 

পার্সটুডে/মু.আমির হুসাইন/ মো: আবুসাঈদ/২৩