জুন ১৯, ২০১৭ ১২:৫৩ Asia/Dhaka

মহান আল্লাহর ভালবাসা অর্জনের জন্য মু’মিনকে পবিত্র কুরআন এবং বিশ্বনবী (সা) ও তাঁর পবিত্র আহলে বাইতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হতে হবে। বিশ্বনবী (সা) বলেছেন, "আমি তোমাদের মাঝে দুটি ভারি,মূল্যবান বস্তু রেখে যাচ্ছি : প্রথমত আল্লাহর কিতাব কুরআন,যা আকাশ থেকে জমিন পর্যন্ত বিস্তৃত আল্লাহর রজ্জু, আর দ্বিতীয়ত আমার আহলে বাইত।

তোমরা যদি এ দুটি কে আঁকড়ে ধর তবে কখনোই বিপথগামী হবে না,এ দুটি আমার সাথে হাউজে কাউসার-এ মিলিত না হওয়া পর্যন্ত পরস্পর বিচ্ছিন্ন হবে না"

মহানবী (সা) তাঁর আহলে বাইতের আনুগত্য ও তাঁদের যথাযথ অনুসরণের ব্যাপারে উম্মতকে বার বার সতর্ক করেছেন। পবিত্র কুরআনে সুরা বাকারার ২৫৬ নম্বর আয়াতে মহান আল্লাহ বলেছেন,

এখন যারা বিভ্রান্তকারী ‘তাগুত’দেরকে তথা শয়তানসহ খোদাদ্রোহী সব শক্তিকে মানবে না এবং আল্লাহতে বিশ্বাস স্থাপন করবে,তারা ধারণ করে নিয়েছে সুদৃঢ় হাতল যা ভাঙবার নয়। আর আল্লাহ সবই শুনেন এবং জানেন।

সুন্নি সূত্রে বর্ণিত একটি হাদিসে এবং বিশ্বনবী (সা)’র পবিত্র আহলে বাইতের সদস্য হযরত ইমাম রেজা (আ)’র বর্ণিত হাদিসে এসেছে, মহানবী (সা) বলেছেন, আমার মৃত্যুর পর এক অন্ধকার ফিতনা ও নানা ধরনের জুলুম দেখা দেবে। এ সময় কেবল তারাই মুক্তি পাবে যারা উরওয়াতুল উসকা  তথা সুদৃঢ় হাতল আঁকড়ে ধরবে। তখন প্রশ্ন করা হল, হে আল্লাহর রাসুল! উরওয়াতুল উসকা  কী? তিনি বললেন, সাইয়্যেদ আওসিয়ার নেতৃত্ব। বলা হল, সাইয়্যেদ আওসিয়া কী- হে আল্লাহর রাসুল? তিনি বললেন, আমিরুল মু’মিনিন বা মুমিনদের নেতা। তখন প্রশ্ন উঠলো: আমিরুল মু’মিনিন কে? তখন রাসুলে খোদা বললেন, আমার ভাই আলী ইবনে আবু তালিব।

 

আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের চার ইমামের অন্যতম,ইমাম শাফেয়ী আহলে বাইতের শানে সম্মান দেখিয়ে এক কবিতায় লিখেছেন, ‘হে আল্লাহর রাসূলের আহলে বাইত,আপনাদের ভালবাসা আল্লাহর পক্ষ থেকে ফরজ করা হয়েছে, যা কোরআনের উল্লেখ আছে। আপনাদের শ্রেষ্ঠ গৌরবের জন্যে এটাই যথেষ্ট যে, যে ব্যক্তি নামাজে আপনাদের উপর দরুদ পাঠ করে না তাদের নামাজই হয় না। যখন লোকজনদের দেখেছি তারা তাদের পথকে গোমরাহীর সাগরে ভাসিয়ে দিয়েছে, তখন আমি আল্লাহর নামে উঠে পড়লাম আহলে বাইতে মোস্তফার নাজাতের তরীতে। আল্লাহর রশ্মি আকড়ে ধরেছি যা হচ্ছে তাঁদের প্রতি ভালবাসা কেননা এ রশ্মিকে আঁকড়ে ধরে থাকার দেয়া হয়েছে নির্দেশ।

ইমাম শাফেয়ী রাসূলের সেই হাদীসেরই সমর্থন করেছেন যেখানে মহানবী (সা.) বলেছেন,“আমার আহলে বাইত নূহের তরী-সদৃশ। যে ব্যক্তি তাতে আরোহন করবে সে নাজাত পাবে আর যে ঐ তরী থেকে দূরে সরে থাকবে সে ধ্বংস হয়ে যাবে।

এ হাদীসটি এগারটি সুন্নি সূত্রে বিভিন্ন গ্রন্থে লিপিবদ্ধ হয়েছে।

মহান আল্লাহ কাদের ভালবাসেন বা কাদের প্রশংসা করেছেন সে বিষয়ক কুরআনের আয়াতগুলো সার্চ দিলে দেখা যায় তিনি বিশেষ বৈশিষ্ট্য ও চরিত্রের অধিকারী লোকদের পছন্দ করেন। যেমন, আল্লাহ মুত্তাকীদের তথা খোদাভীরুদের, ধৈর্যশীলদের, দানশীলদের, মানব জীবন রক্ষাকারীদের এবং তাদেরকে ভালবাসেন, যারা তাঁর পথে সারিবদ্ধভাবে লড়াই করে,যেন তারা সিসা-ঢালা প্রাচীর। আর আল্লাহ কাদের ভালবাসেন না, বা কাদের তিরস্কার করেন সে বিষয়ে কুরআনের আয়াতগুলো সার্চ দিলে দেখা যায় তিনি বিশেষ কিছু খারাপ দিকের অধিকারী ব্যক্তিদের ভালবাসেন না। যেমন, আল্লাহ কাফির-মুশরিকদের, নিরপরাধ মানুষ হত্যাকারী, দাম্ভিকদের এবং বিশ্বাসঘাতক অকৃতজ্ঞকে, বিশ্বাসঘাতক পাপীকে, ধোঁকাবাজ বা প্রতারককে, সীমালঙ্ঘনকারী বা বিদ্রোহীদেরকে, দাম্ভিক অহংকারীকে, ফেতনা-ফ্যাসাদ সৃষ্টিকারীদের ও জালিমদেরকে ভালবাসেন না। এভাবে পবিত্র কুরআন থেকে ইতিবাচক ও নেতিবাচক চরিত্রের ধারণা অর্জন করে জীবনকে গড়ে তুলতে হবে।

 

কুরআনে এমন অনেক ব্যক্তির কথাও আছে যারা প্রথম জীবনে বা শৈশবেই বড় পাপী ছিল না। বরং তাদের কেউ কেউ ছিল সৎকর্ম ও ইবাদতের জন্য খুবই বিখ্যাত। যেমন, ইবলিস শয়তান ও বনি ইসরাইলের বালাম বিন বাউরা।  হযরত আলী (আ)’র ঘাতক ইবনে মুলজেম ও ইমাম হুসাইন (আ)’র অন্যতম ঘাতক শিমার-এরাও এক সময় খুব ভালো মানুষ ছিলেন বলে শোনা যায়। কিন্তু বিভ্রান্তি, অহংকার ও লোভ অনেক ভাল মানুষকেও বিভ্রান্ত করে। তাই আমাদেরকে জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ভালো থাকার ও ঈমান নিয়ে মৃত্যু বরণ করার জন্য সচেষ্ট থাকতে হবে। আর এ জন্য সব সময় আল্লাহর সাহায্যও চাইতে হবে। মহান আল্লাহ যেন পবিত্র কুরআন অধ্যয়ন এবং মহানবী (সা) ও তার পবিত্র আহলে বাইতের প্রতি ভালবাসার উসিলায় আমাদেরকে মুমিন ও নেককারের মৃত্যু দান করেন।

 

রমজান মাসের শেষ দশ রাত, বিশেষ করে বেজোড় রাতগুলো শবে কদরের রাত হতে পারে বলে অনেকেই মনে করেন। তাই এই রাতগুলোতে রাত্রি জেগে ইবাদত ও ইসলামী জ্ঞান-চর্চার এবং দান খয়রাতের সুযোগগুলো হাতছাড়া করা ঠিক হবে না।#

 

পার্সটুডে/মু.আমির হুসাইন/ মো: আবুসাঈদ/২৪