জুন ২৫, ২০১৭ ১৪:৫২ Asia/Dhaka

আজ অফুরন্ত রহমত,বরকত ও মাগফিরাতের মাস রমজানের শেষ দিন। মহান আল্লাহ যেন এবারের রমজানকেই জীবনের শেষ রমজান না করেন। এই এক মাস ধরে আমাদের আতিথ্য দেয়ার জন্য ও রোজা পালনের সুযোগ দেয়ার জন্য মহান আল্লাহকে জানাচ্ছি অশেষ শুকরিয়া।

আমরা রমজানে অর্জিত খোদাভীতি ও খোদাপ্রেমকে যেন সারা জীবনের জন্য ধরে রাখতে পারি এবং দিনকে দিন আল্লাহর আরো প্রিয়পাত্র হতে পারি সে চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। বলা হয় যে দিনটিতে মুসলমান কোনো পাপ করে না সে দিনটিই হল তার প্রকৃত ঈদের দিন। 

পবিত্র ঈদের জামাআতে শরিক হওয়ার আগেই ঈদের ফিতরা পরিশোধ করা উত্তম। আপনার প্রধান খাদ্যগুলোর প্রায় তিন বা সাড়ে তিন কেজি'র আর্থিক মূল্যই হচ্ছে একজনের জন্য প্রদেয় সর্বনিম্ন ফিতরা। ইসলামী ঐক্য প্রতিষ্ঠা ও সাম্রাজ্যবাদীদের জুলুমের বিরুদ্ধে সংগ্রাম রমজানের আরেকটি বড় শিক্ষা। পবিত্র ঈদের জামাত এই ইসলামী ঐক্যের একটি মাধ্যম। তাই বলা হয়েছে, যতটা সম্ভব মুসলিম নারীরাও যেন ঈদের জামাতে শরিক হয় যাতে ইসলামের শত্রুরা মুসলমানদের আধিক্য দেখে তাদের সমীহ করে। 

মুসলমানরা যেদিন বিশ্বব্যাপী ন্যায়বিচার ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় সক্ষম হবে এবং দুর্নীতিমুক্ত ইসলামী সরকার-ব্যবস্থার কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে পারবে সে দিনই হবে তাদের জন্য প্রকৃত ঈদের দিন। আর এ জন্য প্রত্যেক মু’মিন মুসলমানের কাজ করার ও আত্মশুদ্ধি আর জ্ঞানগত যোগ্যতাসহ সব ধরনের দরকারি যোগ্যতা অর্জনের চেষ্টা চালানো উচিত। আমরা সবাই মহান আল্লাহর কাছে এ জন্য তৌফিক চাইছি। মহান আল্লাহ যেন মুসলিম বিশ্বের জন্য তাঁর মনোনীত পছন্দের বান্দাকে বিশ্বব্যাপী প্রকৃত ইসলামের ঝাণ্ডা তুলে ধরার পরিবেশ সৃষ্টিতে সহায়তা করেন এবং দেশে দেশে সংগ্রামরত প্রকৃত মুমিন মুসলমানদের মধ্যে আন্তরিকতা, ঐক্য ও পারস্পরিক সহযোগিতা আর ভালবাসা জোরদারের সুযোগ করে দেন-এই দিনে আসুন আমরা সেই মুনাজাতও করি পরম করুণাময় ও সর্বশক্তিমান আল্লাহর কাছে।  

প্রত্যেক মানুষকেই মৃত্যুর স্বাদ আস্বাদন করতে হবে। কিন্তু মৃত্যুর আগে পরকালের সফরকে নির্বিঘ্ন ও বেহেশত নিশ্চিত করতে কিছু উপহার সঙ্গে নিতে হবে। এক ব্যক্তি মহানবী (সা)’র কাছে এসে বলে: আপনি কি আমাকে মৃত্যুর আকাঙ্ক্ষা করার অনুমতি দেবেন? তিনি বললেন, মৃত্যু এমন এক বিষয় যা থেকে কেউ রেহাই পাবে না এবং এ এক দীর্ঘ সফর যে এ সফরের প্রত্যেক যাত্রীকে সঙ্গে নিতে হবে ৪০টি উপহার। ওই ব্যক্তি প্রশ্ন করেন, কী উপহার? উত্তরে মহানবী (সা) বললেন, মৃত্যুদূত বা আজরাইল, কবর, কবরে প্রশ্নকারী মুনকির ও নাকির, মিজান বা আমলনামার নিক্তি, পুলসিরাত, দোযখের প্রহরী, বেহেশতের প্রহরী, নবী-সা., জিবরাইল ও আল্লাহর জন্য চারটি করে মোট ৪০টি উপহার নিতে হবে। এর মধ্যে আজরাইলকে চারটি উপহার দেখাতে হবে। এসব হল: অধিকার রাখেন এমন সবার সন্তুষ্টি, যেসব নামাজ আদায় করা হয়নি সেসবের কাজা, আল্লাহর প্রতি ভালবাসা ও নিজের মৃত্যুর আকাঙ্ক্ষা। কবরেও নিতে হবে চারটি উপহার। এসব হল: চোগলখোরি তথা একজনের নেতিবাচক কথা আরেক জনের কাছে লাগিয়ে দ্বন্দ্ব বাধানোর অভ্যাস ত্যাগ করা, প্রস্রাবের পর মূত্রনালিকে প্রস্রাব থেকে পুরোপুরি মুক্ত করা তথা এসতেবরা করা, কুরআন তিলাওয়াত ও গভীর রাতের নামাজ তথা তাহাজ্জদ নামাজ আদায় করা।

মহানবী (সা) আরও বলছিলেন, আর মুনকির-নাকিরের জন্য দেখাতে হবে চার উপহার যা হল: সত্যবাদীতা, গিবত পরিহার, ন্যায্য বা উচিত  কথা বলা ও সবার কাছে বিনম্র থাকা। আর মিজান বা পাল্লায় দেয়ার জন্য চার উপহার হল: রাগ দমন, প্রকৃত খোদাভীরুতা, ইসলামের সামষ্টিক ইবাদত, জমায়েত ও জামাআতের নামাজে শামিল হওয়া এবং মানুষকে ভালো কাজের আহ্বান জানানো। আর পুলসিরাতের জন্য চার উপহার হল: আন্তরিকতা, সুন্দর স্বভাব, বিপুল মাত্রায় জিক্‌র ও অন্যদের সৃষ্ট অসুবিধা সহ্য করা।

আর দোযখের প্রহরীকে দেখাতে হবে চারটি উপহার যা হল:  আল্লাহর ভয়ে কাঁদা, গোপনে সদকা দেয়া বা দান করা, পাপ পরিহার এবং বাবা-মায়ের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করা।

মহানবী (সা) আরও বলছিলেন, বেহেশতের প্রহরীকেও দেখাতে হবে চারটি উপহার। এই উপহারগুলো হল: সংকট ও অসুবিধার সময় ধৈর্য ধারণ, আল্লাহর নেয়ামতগুলোর জন্য শোকর করা, আল্লাহর রাস্তায় সম্পদ দান করা এবং ওয়াকফের সম্পদের ব্যাপারে বিশ্বস্ত থাকা।

আর খোদ্‌ মহানবীর (সা) জন্যও আনতে হবে চার উপহার যা হল: তাঁর প্রতি ভালবাসা, তাঁর সুন্নাত তথা রীতি-নীতির অনুসরণ করা, তাঁর আহলে বাইতের প্রতি ভালবাসা এবং জিহ্বার সততা।   

আর জিবরাইলের জন্য রাখতে হবে চার উপহার যা হল: কম খাওয়া, কম ঘুমানো,কম কথা বলা ও সব সময় আল্লাহর প্রশংসা করা।

আর মহান আল্লাহর জন্যও রাখতে হবে চার উপহার যা হল: সৎ কাজের আদেশ দেয়া ও অসৎ কাজে নিষেধ করা,মানুষের কল্যাণ চাওয়া এবং সব মানুষের প্রতি দয়ার্দ্র হওয়া।

মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে এইসব উপহার সংগ্রহের তৌফিক দান করুন। # 

পার্সটুডে/মু.আমির হুসাইন/ মো: আবুসাঈদ/৩০