জুলাই ০৩, ২০১৭ ১২:৩৬ Asia/Dhaka

বিশ্বনবী হজরত মোহাম্মাদ (সা.)'র আচার-ব্যবহার সম্পর্কে হজরত আলী (আ.) বলেছেন, মহানবী (সা.)কথাবার্তা বলার সময় বিতর্ক বা ঝগড়া করতেন না। বাচালতা করতেন না এবং যে কাজের সাথে তাঁর কোনো সম্পর্ক নেই সেকাজে হস্তক্ষেপ করতেন না।

মূল্যবান হাদিসের পর আবার চিঠিপত্রের দিকে নজর দেই। আসরের শুরুতেই যে চিঠি হাতে তুলে নিয়েছি তা এসেছে বাংলাদেশ থেকে। সিরাজগঞ্জ জেলার জিধুরী নতুন পাড়ার নিউ রেডিও শ্রোতা ক্লাব থেকে এটি লিখেছেন,ক্লাবের সদস্য রানা, মাসুম, বেল্লাল এবং ঝর্ণা। রেডিও তেহরান অনেক দিন থেকেই শুনছেন উল্লেখ করে এ শ্রোতাবন্ধুরা জানতে চেয়েছেন, যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে রেডিও তেহরান কি ধরণের পরিবর্তনের কথা ভাবছে?

বহলুল: এ ভাবনার প্রথম ছোঁয়াই হলো রেডিও তেহরানের সমৃদ্ধ ওয়েবসাইট।

হ্যাঁ ঠিক বলেছেন বহলুল ভাই। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ঘটে যাওয়া ঘটনাবলীর খবরাখবর প্রায় তাৎক্ষণিকভাবে আমাদের ওয়েবসাইটে আপটডেট করা হয়। এ ছাড়া, খবরের পাশাপাশি আরো অনেক জিনিসই এখানে পাবেন। সেইসঙ্গে আগামীতে এখানে আরো নতুন নতুন অনেক কিছু সংযোজন করা হবে বলে আমরা আশ্বাস দিতে পারি।

বহলুল: তা ভাই বোনেরা আপনারা খুশি হয়েছেন নিশ্চয়ই। ভবিষ্যতে আরো চিঠি দেবেন এই আশা রইল।

বহলুল ভাই, এ শ্রোতাবন্ধুদের চিঠি এখনো শেষ হয়নি। তারা আরো লিখেছেন, রেডিও তেহরান নিজের প্রচারে বড়ই বিমুখ। রেডিও তেহরানের মনোগ্রাম দেয়া কলম, ক্যালেন্ডারসহ নানা জিনিস শ্রোতাদের পাঠালে তাতে ফল অনেক ভালো হতো। বাড়ত শ্রোতাদের সংখ্যা।

আপনাদের অভিযোগ অনেকাংশে সত্য।  কিন্তু কিছু সীমাবদ্ধতার কারণে আমরা মনোগ্রামসমৃদ্ধ উপহার সামগ্রী আপাতত পাঠাতে পারছি না। আপনাদের দোয়ায় সে সীমাবদ্ধতা দূর হলে ভবিষ্যতে নিশ্চয়ই সে পদক্ষেপ নেয়া হবে।

এবারে একটি ইমেইল হাতে তুলে নিয়েছি। বাংলাদেশের ফরিদপুর জেলার বোয়ালমারী উপজেলার কানখরদী গ্রাম থেকে এসেছে মেইলটি। ওই গ্রামের ভালোবাসি রেডিও শ্রোতা ক্লাব থেকে এটি পাঠিয়েছেন ক্লাবের সভাপতি এন জামাল আহমেদ সুবর্ণ। তিনি লিখেছেন, জীবনটা  বহমান নদীর মত,শুধু বয়ে যায়,তার কুল কিনারা কোথায় কেউ জানে না/ রেডিও তেহরানও বয়ে যাচ্ছে,একইভাবে এর শেষ কোথায়  কেউ জানে না/ যত দিন জীবন বয়ে যাবে,ততো দিন রেডিও তেহরানের সাথে থাকবো।

বহলুল: কবিতার মতো মনে হলো কথাগুলো। চমৎকার! আর আমরাও আপনাদের সাথে আছি এবং থাকবো ভাই সুর্বণ।

ভবিষ্যতে আরো চিঠি দেবেন এবং অনুষ্ঠান নিয়ে আলোচনা করবেন বলে আশা করছি। এর পরের চিঠি এসেছে বাংলাদেশের নওগা জেলার হাটখোলার ধামইর হাট থেকে। এটি লিখেছেন শ্রোতা ভাই মোহাম্মদ আলী। খুবই সংক্ষিপ্ত এ চিঠিতে তিনি লিখেছেন, রেডিও তেহরান শুনতে ভালো লাগে তাই শুনবো। এ ছাড়া, আর কিছু বলার নেই। কারণ সবকটা আসর মানে পুরো অনুষ্ঠানই ভালো লাগে। ধন্যবাদ।

বহলুল: ধন্যবাদ আপনাকেও। ভবিষ্যতে আরো চিঠি লিখবেন আশা করছি।

আসরের এ পর্যায়ে রেডিও তেহরানের ওয়বসাইট পার্সটুডে  এবং ফেসবুকে প্রকাশিত খবরে যে সব মন্তব্য হয়েছে সেদিকে নজর দেবো। আমেরিকাকে শাস্তি দেয়ার উপকরণ ইরানের কাছে রয়েছে: জেনারেল জাযায়েরি- শিরোনামের খবরটি প্রকাশিত হয়েছে ১৭ জুন।  এ খবরে বলা হয়েছে, ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর ডেপুটি চিফ অব স্টাফ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাসুদ জাযায়েরি বলেছেন,আমেরিকা ও ইহুদিবাদী ইসরাইল যদি তাদের বর্তমান আচরণে পরিবর্তন না আনে,তাহলে ইরান মৌলিক পদক্ষেপ নেবে। আমেরিকাকে শাস্তি দেয়ার উপকরণ ইরানের হাতে রয়েছে। ইরানের জাতীয় সম্প্রচার সংস্থা আইআরআইবি-কে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বাভাবিকভাবেই ফেসবুকের গ্রুপে এ খরব বেশ আলোড়ন তৈরি করেছে। এ খবরে জালাল শাহ মন্তব্য করেছেন, “একেই বলে বাঘের বাচ্চা।” আর রাজু খান লিখেছেন, “আমি আপনাদের সঙ্গেই আছি। হ্যাঁ একেই বলে বাঘের বাচ্চা।” এদিকে "কাতারের মতো ১০ দেশে খাদ্য সরবরাহ করতে পারে ইরান" শিরোনামের খবরটি প্রকাশিত হয়েছে ১৭ জুন। এ খবরে বলা হয়েছে, ইরান বলেছে,দেশটি কাতারের বর্তমান মোট চাহিদার সব খাবার সরবরাহ করার ক্ষমতা রাখে। ইরানের সরকারি বাণিজ্য সংস্থার উপপ্রধান আব্বাস মারুফান এ ঘোষণা দিয়ে বলেছেন,কাতারের মতো ১০টি দেশে যুগপৎভাবে খাদ্যদ্রব্য সরবরাহ করতে প্রস্তুত রয়েছে ইরান।

সফিউল ইসলাম এ খবরে মন্তব্য করতে গিয়ে লিখেছেন, “মাশাল্লাহ।” আর আমি মজলুম ছদ্মনামে এক পাঠক ভাই মন্তব্য করেছেন, “সাবাশ ইরান।” এ ছাড়া, হেলেনা হোসেইন হেলেনা, জামাল খান কুতুবি, রাজ্জাক মজুমদার- এরা তিনজনই লিখেছেন ‘সাবাস’।  এম এ সাত্তার মন্তব্য করেছেন ‘মারহাবা’। আর চোরাবালি ছদ্মনামের পাঠক ভাই মন্তব্য করেছেন ‘গ্রেট’।

এদিকে মার্কিন যু্দ্ধবিমান কেনার চুক্তির পর নরম হলো কাতারের প্রতি সৌদির সুর- শীর্ষক খবরটি প্রকাশিত হয়েছে ১৭ জুন।  এ খবরে বলা হয়েছে, সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আদেল আল-জুবাইর কাতারকে "মিত্র" হিসেবে মন্তব্য করেছেন। এতে দোহাকে নিয়ে রিয়াদের সুর আগের চেয়ে খানিটকা নরম হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। দুই পক্ষের মধ্যে যখন কূটনৈতিক উত্তেজনা তুঙ্গে তখন তিনি এ মন্তব্য করলেন।

ফেসবুকের এ খবরে মন্তব্য হয়েছে অনেক। কিন্তু সময়ের অভাবে প্রতিনিধিত্বশীল একটি মন্তব্যই তুলে ধরবো আর সেটি করেছেন মো. ইমাম হাসান। তিনি লিখেছেন,"যেমন কুকুর তেমন মুগুর"।  

বহলুল: সত্যি বাংলা প্রবাদের তুলনা মেলা ভার। এদিকে সময় শেষ হয়ে এসেছে। এবার বিদায় নিতে হবে।   

 হ্যা বন্ধুরা, প্রযোজক অনুষ্ঠানের সময় শেষ হয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছেন।  তাই এবার বিদায় নিতে হবে। আপনাদের সবার সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনে করে এখানেই বিদায় চাইছি প্রিয়জনের আজকের আসর থেকে। #

 

পার্সটুডে/মুসা রেজা/মো.আবুসাঈদ/৩