জুলাই ২১, ২০১৮ ১১:১৯ Asia/Dhaka

সুপ্রিয় পাঠক/শ্রোতা: ২১ জুলাই শনিবারের কথাবার্তার আসরে স্বাগত জানাচ্ছি আমি গাজী আবদুর রশীদ । আশা করছি আপনারা প্রত্যেকে ভালো আছেন। আসরের শুরুতে ঢাকা ও কোলকাতার গুরুত্বপূর্ণ বাংলা দৈনিকগুলোর বিশেষ বিশেষ খবরের শিরোনাম তুলে ধরছি। এরপর গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি খবরের বিশ্লেষণে যাবো। বিশ্লেষণ করবেন সহকর্মী সিরাজুল ইসলাম।

বাংলাদেশের শিরোনাম:

  • নগরজীবন-ভবিষ্যতে ঢাকায় বাস করা যাবে? -দৈনিক প্রথম আলো
  • চার জেলায় মাদকবিরোধী অভিযানে নিহত ৪-দৈনিক যুগান্তর
  • প্রধানমন্ত্রীকে গণসংবর্ধনা : সোহরাওয়ার্দীতে নেতাকর্মীদের ঢল-দৈনিক ইত্তেফাক
  • ‘জনপ্রিয়তা প্রমাণের জন্য প্রধানমন্ত্রী তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ঘোষণা দেবেন’: মওদুদ-দৈনিক মানবজমিন
  • গভর্নরের পদত্যাগ করা উচিত: মওদুদ আহেমদ-দৈনিক নয়া দিগন্ত

ভারতের শিরোনাম:

  • গণপিটুনি ইস্যুতে একুশের মঞ্চে বিজেপিকে তুলোধোনা মমতার-সংবাদ প্রতিদিন 
  • বিরোধীদের ধুলোয় মিশিয়ে বিপুল জয়েও মোদী ঠিক মোদীতে নেই! ‘-দৈনিক আনন্দবাজার
  • ১২০ জন মহিলাকে ধর্ষণ, গ্রেপ্তার হরিয়ানার মন্দিরের প্রধান পুরোহিত-দৈনিক আজকাল

পাঠক/শ্রোতা! এবারে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি খবরের বিশ্লেষণে যাব। জনাব সিরাজুল ইসলাম কথাবার্তার আসরে আপনাকে স্বাগত জানাচ্ছি।

কথাবার্তার বিশ্লেষণের বিষয়:

১. আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, জোয়ার আওয়ামী লীগের পক্ষে এবং আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগ আবার ক্ষমতায় আসবে। কীভাবে দেখছেন তার এ বক্তব্যকে?

২. ইয়েমেনের ওপর সৌদি-নেতৃত্বাধীন আগ্রাসন বন্ধ এবং চলমান সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে মধ্যস্থতার আহ্বান জানিয়েছে হুথি আন্দোলন। পুতিন কী এতে সাড়া দেবেন এবং এখানে পুতিনের করণীয় কী?

বিশ্লেষণের বাইরের একটি খবর

নগরজীবন-ভবিষ্যতে ঢাকায় বাস করা যাবে?-দৈনিক প্রথম আলো

মহানগরী ঢাকায় যানজট

ঢাকা মহানগর এক অদ্ভুত জায়গা। এর আকর্ষণ এত তীব্র যে বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার ১০ শতাংশই এসে জড়ো হয়েছে এই মহানগরে। এ দেশের শহরাঞ্চলে মোট যত মানুষ বাস করে, তাদের ৩৬ শতাংশই এখন ঢাকাবাসী। কিন্তু একটা সময় ছিল, যখন ঢাকায় এসে বসবাস করার ঝোঁক এতটা তীব্র ছিল না। সরকারি-বেসরকারি চাকরিজীবীদের যাঁর যে শহরে পদায়ন হতো, তিনি ওই পদায়নের সময়টুকু সেই শহরেই বাস করতেন সপরিবার। কিন্তু এখন আর সেই দিন নেই। এখন ডিসি-এসপি দূরে থাক, ছোট সরকারি কর্মকর্তারাও আর কর্মস্থলে সপরিবার বাস করেন না। অধিকাংশের পরিবার ঢাকায় থাকে। শুধু তা–ই নয়, যাঁরা একটা সময় বাড়ি ছাড়তে চাইতেন না, তাঁরাও এখন ঢাকামুখী। শুধু ধনী ও মধ্যবিত্তরাই যে ঢাকা আসছেন, তা মোটেও নয়, বরং দরিদ্র মানুষের ঢাকামুখী ঢল অনেক বড়। তাঁরা ঢাকায় এসে বস্তিতে থাকেন; বিশ্বব্যাংকের হিসাবে ঢাকায় এখন বস্তিবাসী মানুষের সংখ্যা প্রায় ৩৫ হাজার। নদীভাঙনে বাস্তুহারা মানুষের প্রধান গন্তব্য ঢাকা। কৃষিশ্রমিকেরাও দলে দলে ঢাকায় এসে রিকশা চালাচ্ছেন। দুই সিটি করপোরেশন মিলিয়ে ঢাকায় মোট নিবন্ধিত রিকশার সংখ্যা প্রায় ৮৭ হাজার, কিন্তু অবৈধ রিকশার সংখ্যা ১০ থেকে ১৫ লাখ বলে পত্রপত্রিকায় লেখা হয়। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো ও জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিলের (ইউএনএফপি) হিসাবে বাংলাদেশে এখন জনসংখ্যা বাড়ছে ১ দশমিক ৪ শতাংশ হারে, কিন্তু ঢাকা মহানগরে তা বাড়ছে ৩ দশমিক ৮২ শতাংশ হারে। এই হিসাবে ঢাকায় প্রতিদিন যুক্ত হচ্ছে গড়ে ১ হাজার ৭০০ মানুষ। কিন্তু এখানেই শেষ নয়, সামনে আরও কত বছর ধরে মানুষের এই মাত্রার ঢাকামুখী ঢল অব্যাহত থাকবে, তা কেউ জানে না।

 কিন্তু অধিবাসীর সংখ্যার তুলনায় ঢাকার আয়তন খুবই কম: মাত্র ৩০৬ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই নগরে এখন বাস করে ১ কোটি ৮০ লাখ মানুষ। ফলে ঢাকা এখন পৃথিবীর সর্বোচ্চ জনঘনত্বের নগর। অর্থনৈতিক, সামাজিক, স্বাস্থ্য, পরিবেশগত ক্ষেত্রসহ অন্যান্য সব বিবেচনায় সুস্থ-স্বাভাবিক জীবনযাপনের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত জনঘনত্ব এক বিরাট অন্তরায়। বিভিন্ন জরিপে দেখা যাচ্ছে, ঘন যানজটের কারণে ঢাকা মহানগরীতে এখন মোটরযান চলাচলের গতি কমে প্রতি ঘণ্টায় ছয় কিলোমিটারে নেমেছে। এটা মানুষের হাঁটার গতির প্রায় কাছাকাছি। ঢাকার জনঘনত্ব যেভাবে বেড়ে চলেছে, এভাবে বাড়তে থাকলে অদূর ভবিষ্যতে এই মহানগর বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়বে।

এবার ভারতের কয়েকটি খবর তুলে ধরছি

গণপিটুনি ইস্যুতে একুশের মঞ্চে বিজেপিকে তুলোধোনা মমতার-দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন

একুশের মঞ্চে মমতা ব্যানার্জী-মোদি সরকারের তীব্র সমালোচনা

দেশে একের পর এক গণপিটুনির ঘটনায় কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকে একুশের মঞ্চে তুলোধোনা করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবার রাতেই রাজস্থানের আলওয়ারে গরু পাচারকারী সন্দেহে একজনকে পিটিয়ে খুনের অভিযোগ উঠেছে। আর শনিবারই গণপিটুনি ইস্যুতে বিজেপিকে আক্রমণ করলেন মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, ‘প্রতিদিন গণপিটুনিতে মৃত্যু হচ্ছে। মানুষ খুন করছে। উসকানি দিয়ে মানুষে মানুষে হিংসার সঞ্চার করছে। এরা দেশটাকেই ভেঙে দিচ্ছে।’

মমতার জনসভা

কেন্দ্রে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই সাম্প্রদায়িকতা, গণপিটুনির মতো ঘটনাকে হাতিয়ার করে বারবারই সরকারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে দেখা গিয়েছে বিরোধীদের৷ আসন্ন লোকসভা ভোটের আগে সেই সুর সপ্তমে পৌঁছাতে সুরু করেছে কংগ্রেসের গলায়৷

বিরোধীদের ধুলোয় মিশিয়ে বিপুল জয়েও মোদী ঠিক মোদীতে নেই! ‘-দৈনিক আনন্দবাজার

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি

প্রত্যাশা মতোই বিরোধীদের আনা অনাস্থা প্রস্তাবকে পর্যুদস্ত করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। কিন্তু বিপক্ষকে ধূলিসাৎ করে যে নিরঙ্কুশ জয় পেতে তিনি সাধারণ ভাবে অভ্যস্ত, ঠিক তেমনটা ঘটল না শুক্রবার।এ দিন সকালে আচমকা আলিঙ্গনে যে লড়াইটা বিজেপি শিবিরে পৌঁছে দিয়েছিলেন রাহুল গাঁধী, নিজের বক্তৃতায় মোদী তার জবাব দেবেন— এমনটাই আশা ছিল শাসক পক্ষের। কিন্তু রাত ৯টার পরে প্রধানমন্ত্রী যখন বলতে উঠলেন, তখন দেখা গেল, মোদী ঠিক মোদীতে নেই। রাজনীতির ময়দানে সাধারণ ভাবে নিজের নিয়মে খেলতে পছন্দ করেন মোদী। কিন্তু আজ তাঁকে খেলতে হল রাহুলের ঠিক করে দেওয়া পথে। এবং প্রতি পদে বোঝা গেল, তিনি ঠিক স্বচ্ছন্দ নন। কটাক্ষের সুরে রাহুলের আলিঙ্গনের জবাব দিলেন, কিন্তু সেটা ঠিক প্রধানমন্ত্রীসুলভ হল না

১২০ জন মহিলাকে ধর্ষণ, গ্রেপ্তার হরিয়ানার মন্দিরের প্রধান পুরোহিত-দৈনিক আজকাল

বালকনাথ মন্দিরের প্রধান পুরোহিত বাবা অমরপুরি ১২০ মহিলাকে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেফতার

এ যেন আরেক বাবা রামরহিম। নিজের আশ্রমে একাধিক মহিলা ভক্তকে যৌন নির্যাতন করত স্বঘোষিত ধর্মগুরু রামরহিম। আপাতত জেলবন্দি সে। কিন্তু সেই হরিয়ানায় খোঁজ মিলল একইরকম আরও এক পাষণ্ডের। একজন বা দু’জন নয়, ১২০ জন মহিলাকে ধর্ষণ করার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হল হরিয়ানার ফতেহাবাদের বাবা বালকনাথ মন্দিরের প্রধান পুরোহিত বাবা অমরপুরিকে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ওই পুরোহিতের কুকীর্তির ভিডিও ছড়িয়ে পড়তেই শুক্রবার তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিস। ইতিমধ্যে ভারতীয় দণ্ডবিধির একাধিক ধারায় মামলা রুজু করে তদন্তে নেমেছে পুলিস।

প্রতিবেশী দেশে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিল পাসের আহ্বান সুষমার-ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস টাইমস

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ

ভারতের রাজ্যসভায় সিটিজেনশিপ অ্যাক্ট বা নাগরিকত্ব আইন সংশোধন করার বিল পাস করার জন্য সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ। এই বিল পাস হলে বাংলাদেশ, পাকিস্তানের মতো প্রতিবেশী দেশগুলোতে বসবাসকারী সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা আরো নিশ্চিত হবে। শুক্রবার রাজ্যসভায় বক্তব্য দেয়ার সময় তিনি ওই বিল পাস করার আহ্বান জানান। এ সময় প্রতিবেশী দেশগুলোতে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে ক্রাইমের বিষয়ে ভারত উদ্বিগ্ন বলে তিনি মন্তব্য করেন। এ খবর দিয়েছে অনলাইন ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস টাইমস। এতে আরো বলা হয়, রাজ্যসভায় সুষমা স্বরাজ এদিন আরো বলেন, বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে।#

পার্সটুডে/গাজী আবদুর রশীদ/২১