ঢাকার ৩৫ ভাগ পরিবহন শ্রমিক মাদকাসক্ত: এনায়েত উল্লাহ
সুপ্রিয় পাঠক/শ্রোতা! ৪ আগস্ট শনিবারের কথাবার্তার আসরে স্বাগত জানাচ্ছি । আশা করছি আপনারা প্রত্যেকে ভালো আছেন। আসরের শুরুতে ঢাকা ও কোলকাতার গুরুত্বপূর্ণ বাংলা দৈনিকগুলোর বিশেষ বিশেষ খবরের শিরোনাম তুলে ধরছি।
বাংলাদেশের শিরোনাম:
- অচল ঢাকা, শিক্ষার্থীদের দখলে রাজপথ -দৈনিক মানবজমিন
- সড়কে ২৫ হাজার মানুষের মৃত্যু-দৈনিক প্রথম আলো
- শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ভিন্ন খাতে নেয়ার চক্রান্ত হচ্ছে : রিজভী -দৈনিক নয়া দিগন্ত
- ঢাকার ৩৫ ভাগ পরিবহন শ্রমিক মাদকাসক্ত: এনায়েত উল্লাহ -দৈনিক যুগান্তর
- রমিজ উদ্দিন কলেজকে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে ৫ বাস হস্তান্তর -দৈনিক ইত্তেফাক
- গণপরিবহন শূন্য রাজধানী: ভোগান্তিতে যাত্রীরা -দৈনিক মানবজমিন
ভারতের শিরোনাম:
- কংগ্রেস তো বটেই, পঞ্জি নিয়ে তৃণমূলের পাশে নেই প্রায় কোনও দলই -দৈনিক আনন্দবাজার
- গলদের চূড়ান্ত, ২০০ চিহ্নিত বিদেশির নামও ঢুকল নাগরিকপঞ্জিতে -সংবাদ প্রতিদিন
- মহিলা মুখ্যমন্ত্রীর নাম নেই নাগরিক পঞ্জির খসড়ায়, উঠছে প্রশ্ন -দৈনিক আজকাল
পাঠক/শ্রোতা! এবারে চলুন, বাছাইকৃত কয়েকটি খবরের বিস্তারিত জেনে নেয়া যাক। প্রথমেই বাংলাদেশ-
শুরুতে বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে দুই শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যু এবং সর্বশেষ পরিস্থিতি সম্পর্কিত খবর তুলে ধরছি
রাজধানীতে বাসচাপায় শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনায় ৭ ম দিনের মতো রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে শিক্ষার্থীরা-লাইসেন্স পরীক্ষা চলছে। ভিআইপি –সিআইপি- পুলিশ কাউকে ছাড় নয়। বাস চলছে না। চট্টগ্রামেও শিক্ষার্থীরা লাইসেন্স পরীক্ষা করছে। ধনমন্ডিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন করেছে। এসব খবর দৈনিক প্রথম আলোসহ প্রায় সব জাতীয় দৈনিকের অনলাইন সংস্করণের। আর যুগান্তর লিখেছে-মিরপুরে ছাত্রদের ধাওয়া খেয়ে ছাত্রলীগ পালালো। রামপুরায় শিক্ষার্থীদের ধাওয়ায় পিছু হটলো ছাত্রলীগ। তবে প্রথম আলোর একটি খবরে লেখা হয়েছে-শিক্ষার্থীদের ওপর লাঠি হাতে হামলা চালানো হয়েছে। এদিকে দৈনিক ইত্তেফাকের খবরে লেখা হয়েছে- ধামরাইয়ে দুই বাসের সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৫ এ দাঁড়িয়েছে। আহত হয়েছে ২৮ জন। দৈনিকটির অন্য একটি খবরে লেখা হয়েছে, রমিজ উদ্দিন কলেজকে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে ৫ বাস হস্তান্তর করা হয়েছে।
দৈনিক প্রথম আলোর একটি খবরের শিরোনাম- রাজধানীতে ট্রাফিকের দায়িত্বে শিক্ষার্থীরা। নিরাপদ সড়ক দিতে পারেননি মন্ত্রী-আমলারা-ছাত্ররা তা পেরেছে। ছাত্রদের নিরাপদ সড়কের দাবিতে রাস্তার কর্মসূচি ঘিরে রাজনীতিবিদদের দৃষ্টি নিয়ে দৈনিক নয়া দিগন্তের একটি খবরের শিরোনাম এরকম যে, শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ভিন্ন খাতে নেয়ার চক্রান্ত হচ্ছে : রিজভী। তিনি বলেছেন, শিক্ষার্থীদের চলমান ন্যায্য আন্দোলনকে জনদৃষ্টি থেকে ভিন্ন দিকে ফেরাতে শিক্ষার্থীদের ছদ্মাবরণে ছাত্রলীগ-যুবলীগ গাড়ি ভাংচুর, গাড়িতে অগ্নিসংযোগ সবই ছাত্রলীগ করছে বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি।
আর দৈনিক নয়া দিগন্তের খবর-নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ অভিযোগ করেছেন একটি গোষ্ঠী শিক্ষার্থীদের উত্তেজিত করার চেষ্টা করছে। আর সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে রাজনৈতিক অনুপ্রবেশ ঘটেছে । তিনি বলেন,‘আন্দোলনকে সরকারবিরোধী রূপ দেয়ার চেষ্টা চলছে।
গণপরিবহন শূন্য রাজধানী: ভোগান্তিতে যাত্রীরা-দৈনিক মানবজিমন
মালিক-শ্রমিকদের ধর্মঘটে শনিবারও গণপরিহন সঙ্কট চলছে রাজধানীতে। গণপরিবহন না থাকায় দুর্ভোগে পড়েছেন রাজধানীবাসী। শনিবার সকালে স্কুল-কলেজ ও অফিসগামী মানুষ ভোগান্তির শিকার হয়েছেন। গণপরিবহন না থাকায় অনেকে পায়ে হেঁটে নিজ গন্তব্যের দিকে রওয়ানা হয়েছেন। কেউ কেউ পিকঅ্যাপ ভ্যান কিংবা রিকশা ভ্যানে চড়ে গন্তব্যে যাচ্ছেন। সবচেয়ে ভোগান্তির শিকার হয়েছেন রোগী ও তাদের স্বজনরা। দৈনিকটির অন্য একটি খবরে লেখা হযেছে, মালিক-শ্রমিকদের অঘোষিত ধর্মঘটে জনভোগান্তি চরমে এটি তাদের নোংরা কৌশল। এটা নতুন কিছু নয়। পুরনো এবং নোংরা। পরিবহন মালিক-শ্রমিকরা অতীতে বহুবারই এ কৌশল অবলম্বন করেছেন। নিষ্পাপ শিশুরা রাজপথে। নিরাপদ সড়ক আর ন্যায় বিচারের দাবিতে তাদের আন্দোলন হৃদয় জয় করেছে বহু মানুষের। কিন্তু পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের তাতে কিছু আসে-যায়নি।
ঢাকার ৩৫ ভাগ পরিবহন শ্রমিক মাদকাসক্ত: এনায়েত উল্লাহ-দৈনিক যুগান্তর
ঢাকা শহরের শতকরা ৩৫ ভাগ পরিবহন শ্রমিক মাদকাসক্ত বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্লাহ।যুগান্তর অনলাইনকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে শনিবার এনায়েত উল্লাহ বলেন, মাদকাসক্ত পরিবহন শ্রমিকরাই মূলত সড়ক দুর্ঘটনার জন্য দায়ী। এর প্রতিকারে তিনি ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশকে অবহিত করে এসব মাদকসেবী বাসচালকদের সনাক্ত করতে অনুরোধ করেন। কিন্তু এসব মাদকাসক্ত চালকদের ধরতে যে যন্ত্রপাতি দরকার তা ডিএমপির নেই। এছাড়া অনেক মালিক পরিবহন শ্রমিকদের চুক্তিতে বাস চালাতে দেয়াকে দুঘর্টনার আরেকটি কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন এনায়েতুল্লাহ। তিনি বলেন, এ চুক্তির কারণে বেশি মুনাফার জন্য বাসগুলো সড়কে রেষারেষিতে লিপ্ত হয়। এতে সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে।
ভারত থেকে রেমিট্যান্স নিয়ে উল্টা প্রচার!-দৈনিক নয়া দিগন্ত
বাংলাদেশ থেকে ভারত বছরে ৩৩ হাজার কোটি টাকা রেমিট্যান্স আয় করছে। ভারত যেসব দেশ থেকে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স আয় করে তার তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান পঞ্চম। এ খবর গত কয়েক বছর ধরে ভারতেরই বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। উল্টো ওই তথ্য চেপে রেখে এখন প্রচার করা হচ্ছে ভারত থেকে বাংলাদেশ বছরে ৩৩ হাজার কোটি টাকা রেমিট্যান্স আয় করছে। বাংলাদেশের সর্বোচ্চ প্রবাসী আয় ভারত থেকে। অন্য দিকে বাংলাদেশ থেকে ভারত বছরে রেমিট্যান্স আয় করছে ১২ কোটি ডলার।
এসব খবরের পেছনে রয়েছে বাংলাদেশের রেমিট্যান্স আয় নিয়ে বিশ্বব্যাংকসহ বিভিন্ন সংস্থার সরবরাহ করা বিস্ময়কর তথ্য, যা নির্ভরযোগ্য কোনো সংস্থার তথ্য দিয়ে মেলানো যাচ্ছে না।
ভারতের প্রভাবশালী ইংরেজি দৈনিক দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়ায় ২৫ এপ্রিল এক খবরে বলা হয়, বাংলাদেশ সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স আয় করে ভারত থেকে। ভারতে বসবাসরত বাংলাদেশী শ্রমিকেরা ২০১৭ সালে ৪ বিলিয়ন ডলার বা ৩৩ হাজার কোটি টাকা দেশে পাঠিয়েছেন।
এবার ভারতের কয়েকটি খবর তুলে ধরছি
কংগ্রেস তো বটেই, পঞ্জি নিয়ে তৃণমূলের পাশে নেই প্রায় কোনও দলই-দৈনিক আনন্দবাজার
শিলচর কাণ্ডে সকাল থেকেই শাসক শিবিরকে আক্রমণের জন্য মুখিয়ে ছিল তৃণমূল। লোকসভা শুরু হতেই ওয়েলে নেমে আসে গোটা দল। কিন্তু অন্য বিরোধী দলগুলি, বিশেষ করে কংগ্রেস সামগ্রিক ভাবে এনআরসি তথা নাগরিক পঞ্জির খসড়া নিয়ে দূরত্ব বজায় রাখায় তৃণমূল এ দিন কার্যত চুপসে যায়। এর মধ্যে শাসক শিবির থেকে তৃণমূলের উদ্দেশে আক্রমণ শানা হয়।
এদিকে দৈনিক সংবাদ প্রতিদিনের খবরের শিরোনাম করা হয়েছে এভাবে,
গলদের চূড়ান্ত, ২০০ চিহ্নিত বিদেশির নামও ঢুকল নাগরিকপঞ্জিতে। খবরটিতে লেখা হয়েছে, বিদেশি অনুপপ্রবেশকারীদের ভারতীয় নাগরিকদের থেকে পৃথক করতেই নাগরিকপঞ্জির খসড়া প্রকাশ৷ যত দিন যাচ্ছে দেখা যাচ্ছে গোটা নাগরিকপঞ্জিতে গলদই চূড়ান্ত৷ কোথাও স্বাধীনতার আগে দেশে আসা মানুষের নামও বাদ গিয়েছে, তো কোথাও মা-বাবা ভারতীয় আর তাঁদের ছেলেকে বিদেশি বলে চিহ্নিত করা হয়েছে৷ এবার আরও চাঞ্চল্যকর অভিযোগ সামনে এল৷ জানা যাচ্ছে ফরেনার ট্রাইবুনালে চিহ্নিত অন্তত ২০০ জন বিদেশির নামও ঢুকে পড়েছে নাগরিকপঞ্জিতে৷ ফলে কাটা গিয়েছে বহু বৈধ নাগরিকের নাম৷
আর দৈনিক আজকালের খবরের শিরোনাম-মহিলা মুখ্যমন্ত্রীর নাম নেই নাগরিক পঞ্জির খসড়ায়, উঠছে প্রশ্ন-এ খবরে লেখা হয়েছে, দেশের মহিলা মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার কৃতিত্বও জুড়ে আছে তাঁর নামের সঙ্গে। অথচ সেই সৈয়দ আনোয়ারা তৈমুরের নামই নেই অসমের খসড়া নাগরিকপঞ্জিতে।
পার্সটুডে/গাজী আবদুর রশীদ/৪