আগস্ট ০৭, ২০১৮ ১১:১৫ Asia/Dhaka

সুপ্রিয় পাঠক/শ্রোতা! ৭ আগস্ট মঙ্গলবারের কথাবার্তার আসরে স্বাগত জানাচ্ছি । আশা করছি আপনারা প্রত্যেকে ভালো আছেন। আসরের শুরুতে ঢাকা ও কোলকাতার গুরুত্বপূর্ণ বাংলা দৈনিকগুলোর বিশেষ বিশেষ খবরের শিরোনাম তুলে ধরছি।

বাংলাদেশের শিরোনাম:

  • ভোটে অনিয়ম হবে না, এমন নিশ্চয়তা নেই: সিইসি-দৈনিক প্রথম আলো
  • বিএনপি-জামায়াত বাংলাদেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছে : তথ্যমন্ত্রী-দৈনিক ইত্তেফাক
  • হামলাকারী হেলমেটধারীদের সনাক্তে সাংবাদিকদের আল্টিমেটাম-দৈনিক মানবজমিন
  • খসড়া আইন নিয়ে মত-সড়ক পরিবহন আইন অগ্রহণযোগ্য-দৈনিক প্রথম আলো
  • সিটি নির্বাচনে কোথাও কোথাও অনিয়ম হয়েছে : সিইসি-দৈনিক নয়া দিগন্ত
  • শিক্ষার্থী-সাংবাদিকদের ওপর হামলার তদন্ত ও বিচার চায় ইইউ-দৈনিক যুগান্তর
  • খালেদা জিয়ার জামিন ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাড়লো-দৈনিক সমকাল

ভারতের শিরোনাম:

  • নিতিন গডকড়ীর ভুল চালকেই হাতিয়ার করে প্রশ্ন রাহুলের, ‘দেশে কাজ কই?’-দৈনিক আনন্দবাজার
  • অবশেষে এনআইএ-র জালে খাগড়াগড় কাণ্ডের মাস্টারমাইন্ড কওসর-দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন-সংবাদ প্রতিদিন 
  • ‘গরু মেরেছিল বলেই খুন করেছি’, গোপন ক্যামেরায় সদর্প দাবি গো রক্ষকদের-দৈনিক আজকাল

পাঠক/শ্রোতা! এবারে চলুন, বাছাইকৃত কয়েকটি খবরের বিস্তারিত জেনে নেয়া যাক। প্রথমেই বাংলাদেশ-

ভোটে অনিয়ম হবে না, এমন নিশ্চয়তা নেই: সিইসি-দৈনিক প্রথম আলো

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা বলেছেন, জাতীয় নির্বাচনে কোথাও কোনো অনিয়ম হবে না—এমন নিশ্চয়তা দেওয়ার সুযোগ তাঁর নেই। তবে অনিয়ম হলে নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আজ মঙ্গলবার নির্বাচন প্রশিক্ষণ ভবনে এক কর্মশালার উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সিইসি এ কথা বলেন।

পাঁচ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের অভিজ্ঞতার পরিপ্রেক্ষিতে সুষ্ঠু জাতীয় নির্বাচন নিয়ে অনেকে সংশয় প্রকাশ করছেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে সিইসি বলেন, ‘আমরা অস্বস্তিতে নেই। আমরা মনে করি না যে নির্বাচন, জাতীয় নির্বাচনে এ রকম অসুবিধা হবে। তবে পাবলিক নির্বাচন, বড় বড় নির্বাচনে কোথাও কোনো অনিয়ম হবে না—এই নিশ্চয়তা দেওয়ার সুযোগ আমার নাই।’ সিইসি বলেন, তাঁরা হয়তো অনিয়মগুলো নিয়ন্ত্রণ করবেন। তদন্ত করে অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবেন।

খসড়া আইন নিয়ে মত-সড়ক পরিবহন আইন অগ্রহণযোগ্য-দৈনিক প্রথম আলো

নামের বিচারেই ‘সড়ক পরিবহন আইন’ যথার্থ হয়নি। এটি হওয়ার কথা ছিল ‘সড়ক পরিবহন ও সড়ক নিরাপত্তা আইন’। বারবার সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে অনুরোধ করেও সেটা করা যায়নি। সবচেয়ে বেশি জরুরি ছিল দুর্ঘটনা প্রতিরোধে ব্যবস্থা নেওয়া। নতুন আইনে চলমান ছাত্র আন্দোলনের দাবিও প্রতিফলিত হয়নি। জনকল্যাণে সরকারের সদিচ্ছা দেখা যাচ্ছে না। আইনটি আমাদের বিবেচনায় অগ্রহণযোগ্য।

২৯ জুলাই বিমানবন্দর সড়কে বাসচাপায় দুই শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছাত্র আন্দোলন শুরু হয়। সেখানে কী ঘটেছিল? বেপরোয়া গাড়ি চালানোর ফলেই দুর্ঘটনা ঘটেছে সেখানে। তাই ফাঁসির দাবি করেছে ছাত্ররা। অথচ আইনে রাখা হয়েছে বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালালে ৫ বছরের জেল। ছাত্রদের দাবি তো বিবেচনায় নেওয়া হয়নি।

নতুন আইনে সর্বোচ্চ শাস্তি ৫ বছর রাখা হয়েছে। অথচ উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুসারে শাস্তি ৭ বছর হতে হবে। নতুন আইনে উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুসরণ করা হয়নি। আবার সর্বনিম্ন শাস্তির দাবিও মানা হয়নি। ফলে আদালতের মাধ্যমে শাস্তি কমে যাওয়ার সুযোগ থেকে যাচ্ছে।

বিএনপি-জামায়াত বাংলাদেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছে : তথ্যমন্ত্রী-দৈনিক ইত্তেফাক

তথ্যমন্ত্রী ও জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধে পরাজিত শক্তি তাদের পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতেই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা করেছিল। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার রাজনীতি বিএনপি-জামায়াত ধারণ করে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে-উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের উন্নয়ন-সমৃদ্ধি-অগ্রগতি-প্রগতি বিএনপি-জামায়াত সহ্য করে না। এরা সুযোগ পেলেই মিথ্যাচার করে, গুজব রটিয়ে, উস্কানী দিয়ে দেশে সংঘাত-সংঘর্ষ তৈরির অপচেষ্টা চালায়।’ 

 শিক্ষার্থী-সাংবাদিকদের ওপর হামলার তদন্ত ও বিচার চায় ইইউ-দৈনিক যুগান্তর

সম্প্রতি ঢাকায় সহিংস ঘটনা এবং আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী, সাংবাদিক ও অন্যদের ওপর হামলার তদন্ত ও বিচারের দাবি জানিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। এসব ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে ইইউ জানায়, ‘বেআইনি সহিংসতার ঘটনা, সাংবাদিক, আন্দোলনকারী বা অন্যদের ওপর হামলা বন্ধ করতে হবে। এসব ঘটনার অবশ্যই তদন্ত করতে হবে এবং অপরাধীদের জবাবদিহিতার ব্যবস্থা করতে হবে।’ খবর ইউএনবির।

হামলাকারী হেলমেটধারীদের সনাক্তে সাংবাদিকদের আল্টিমেটাম-দৈনিক মানবজমিন

কর্মরত সাংবাদিকদের ওপর হেলমেটধারীদের সনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে প্রতীকি কর্মবিরতি পালন করেছেন সাংবাদিক সমাজ। এ সময় তারা ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেন। মঙ্গলবার রাজধানীর কারওয়ান বাজার সার্ক ফোয়ারায় ১০ মিনিটের এ কর্মসূচি পালন করেন সাংবাদিকরা। নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সময় সংবাদ সংগ্রহের কাজে নিয়োজিত সাংবাদিকদের ওপর একের পর এক গত কয়েকদিন হামলা চালানো হয়। পুলিশের পাশে দাঁড়িয়ে সাংবাদিক বেছে বেছে এমন হামলা চালায় হেলমেটধারীরা।

ইত্তেফাকের খবর, নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনের সময়আহছানউল্লা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের আটক ৪৭ ছাত্রকে ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ।

এবার ভারতের কয়েকটি খবর তুলে ধরছি

‘গরু মেরেছিল বলেই খুন করেছি’, গোপন ক্যামেরায় সদর্প দাবি গো রক্ষকদের-দৈনিক আজকাল

একটি সর্বভারতীয় টিভি চ্যানেলের স্টিং অপারেশনের জেরে ফের হাপুর গণপিটুনি মামলা গ্রহণ করল সুপ্রিম কোর্ট। আগামী সোমবার প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্রের এজলাসে ওই মামলার শুনানি রয়েছে। সোমবার ওই টিভি চ্যানেলের স্টিং অপারেশনের তথ্যচিত্রটি সম্প্রচারিত হয়েছিল। গোপন ক্যামেরায় সেখানে মূল অভিযুক্ত যুধিষ্ঠির ওরফে রাকেশ সিং শিসোদিয়াকে সদর্পে দাবি করতে শোনা গিয়েছে,‘আমাকে যখন জেলর জিজ্ঞেস করেন কেন গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তখন আমি জেলরকে বলি, ৩০২ এবং ৩০৭ ধারায় ধরা পড়েছি, খুন আর অর্ধমৃত করার অভিযোগে। ওরা গরু কাটছিল বলে আমি ওদের কেটে ফেলেছি।’মরার আগে কাসিম জল চাইছিল কিন্তু জল দেয়া হয় নি।

অবশেষে এনআইএ-র জালে খাগড়াগড় কাণ্ডের মাস্টারমাইন্ড কওসর-দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন

অবশেষে এনআইএ-র জালে ধরা পড়ল খাগড়াগড় কাণ্ডের অন্যতম মূলচক্রী কওসর ওরফে বোমারু মিজান। বেঙ্গালুরুতে রীতিমতো ফাঁদ পেতে কওসরকে ধরেন এনআইএ। ধৃত কওসর জেএমবি-র উজির পদে ছিল। সংগঠন তৈরি করে নাশকতা চালানোয় পারদর্শী কওসর বেশ কিছুদিন ধরেই কোণঠাসা হয়ে পড়েছিল। কেরলে সম্প্রতি তার এক সহচর ধরা পড়তেই বিপাকে পড়ে যায় সে। নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য পশ্চিমবঙ্গ, ঝাড়খণ্ড, বিহার ঘুরে বেঙ্গালুরুতে আত্মগোপনের চেষ্টায় ছিল। তবে বিশেষ ফল হল না। প্রত্যেকটি রাজ্যের পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেই কওসরের খোঁজে ছিল এনআইএ। সে যে নজর এড়িয়ে বেঙ্গালুরুতে রয়েছে, এনআইএ-কে খবরটি দিয়েছিল ওই রাজ্যের পুলিশ। তারপরই এদিন বোমারু মিজানকে গ্রেপ্তার করে এনআইএ।

নিতিন গডকড়ীর ভুল চালকেই হাতিয়ার করে প্রশ্ন রাহুলের, ‘দেশে কাজ কই?’-দৈনিক আনন্দবাজার

নিতিন গডকড়ীর সেমসাইড গোলে এগিয়ে গেলেন রাহুল গাঁধী। কাজ কোথায়? নরেন্দ্র মোদী সরকারের প্রথম সারির মন্ত্রী গডকড়ী এই প্রশ্নটিই প্রকাশ্যে তুলে ফেলেছেন। যে প্রশ্ন রাহুলরা তুলে আসছেন কয়েক বছর ধরেই। সামনের লোকসভা ভোটে বেকারত্ব নিয়ে যুবকদের হতাশাকে তুলে ধরে প্রচার করা বিরোধীদের অন্যতম হাতিয়ার। এ বার তাদেরই অস্ত্রে শান দিয়ে বসলেন মোদীর মন্ত্রী!

মরাঠা ও অন্য কয়েকটি সম্প্রদায়ের সংরক্ষণের দাবির প্রেক্ষিতে গডকড়ী বলেছিলেন, ‘‘ধরা যাক সংরক্ষণ আছে, কিন্তু কাজ কোথায়? তথ্যপ্রযুক্তি আসায় ব্যাঙ্কে চাকরি কমেছে। সরকারি ক্ষেত্রেও নিয়োগ প্রায় বন্ধ।’’ গডকড়ী যে ভুল বলছেন, এমন নয়। রাজ্যসভায় সরকার জানিয়েছে, কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের ২৪ লক্ষ পদ এখনও খালি। এর মধ্যে সব থেকে বেশি স্কুল শিক্ষক, তার পরেই পুলিশ, রেল, আধাসেনা, ডাক বিভাগে।

রাহুল আজ টুইট করে বিদ্রুপের সুরেই প্রশস্তি করেন গডকড়ীর। বলেন, ‘‘অপূর্ব প্রশ্ন গডকড়ীজি। প্রত্যেক ভারতীয় এখন ঠিক এটাই জানতে চাইছেন— দেশে কাজ কোথায়?’’#

  পার্সটুডে/গাজী আবদুর রশীদ/৭