আগস্ট ১২, ২০১৮ ১০:৫২ Asia/Dhaka

সুপ্রিয় পাঠক/শ্রোতা! ১২ আগস্ট রোববারের কথাবার্তার আসরে স্বাগত জানাচ্ছি । আশা করছি আপনারা প্রত্যেকে ভালো আছেন। আসরের শুরুতে ঢাকা ও কোলকাতার গুরুত্বপূর্ণ বাংলা দৈনিকগুলোর বিশেষ বিশেষ খবরের শিরোনাম তুলে ধরছি।

বাংলাদেশের শিরোনাম:

  • কোটা আন্দেলন: কারাগারে সাত নেতা, বাকিরা পালিয়ে-দৈনিক প্রথম আলো
  • সড়কে অনিয়ম বরদাশত করা হবে না : প্রধানমন্ত্রী-দৈনিক ইত্তেফাক
  • ‘সরকার নার্ভাস ছিল, বিরোধীরাও পরিস্থিতির সুযোগ নিতে পারেনি’-দৈনিক মানবজমিন
  • সরকার সংবিধানের কোনো ধারা মানছে না : নোমান-দৈনিক নয়া দিগন্ত
  • ভাষণ না দিয়ে কাজে মন দিন: মন্ত্রীদের উদ্দেশে কাদের-দৈনিক যুগান্তর

ভারতের শিরোনাম:

  • স্পর্শকাতর সন্ধিক্ষণে আমরা-দৈনিক আনন্দবাজার
  • এনআরসি ইস্যুতে মুখ খুলতেই মমতার বিরুদ্ধে খড়্গহস্ত মোদি-দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন
  • গণপিটুনির ঘটনা অপরাধ, উদ্দেশ্যটা বিষয় নয় বললেন প্রধানমন্ত্রী-দৈনিক আজকাল

পাঠক/শ্রোতা! এবারে চলুন, বাছাইকৃত কয়েকটি খবরের বিস্তারিত জেনে নেয়া যাক। প্রথমেই বাংলাদেশ-

সড়কে অনিয়ম বরদাশত করা হবে না : প্রধানমন্ত্রী-দৈনিক ইত্তেফাক

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে তৃতীয়পক্ষ প্রবেশ করে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিল করতে চেয়েছিল। দুই শিক্ষার্থী মৃত্যুর ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে বিচার নিশ্চিত করা হবে।  রবিবার সকাল ১০টার দিকে রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কে শহীদ রমিজউদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের নিকটে আন্ডারপাস নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। প্রতিষ্ঠানটির দুই শিক্ষার্থীর সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর পর প্রধানমন্ত্রী তার অঙ্গীকার অনুযায়ী এই আন্ডারপাস নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন।  প্রধানমন্ত্রী এ ভিত্তিপ্রস্তুর স্থাপনের পর প্রকল্পের ওপর একটি তথ্যচিত্র উপস্থাপন করা হয়। 

শত চেষ্টাতেও শৃঙ্খলা ফিরছে না-দৈনিক প্রথম আলো

  • সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে ট্রাফিক সপ্তাহের মেয়াদ বাড়ল 
  • ট্রাফিক সপ্তাহ ১৪ আগস্ট পর্যন্ত করা হয়েছে
  • সাত দিনে সারা দেশে লক্ষাধিক মামলা
  • সাড়ে চার কোটি টাকা জরিমানা আদায়
  • সড়কে নিয়ম না মানার প্রতিযোগিতা

মামলা, জরিমানা, কারাদণ্ড। সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে নানাভাবে চেষ্টা করছে পুলিশ ও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। গত সাত দিনে সড়কে নৈরাজ্য বন্ধ করতে ট্রাফিক আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে সারা দেশে মামলা হয়েছে লক্ষাধিক। জরিমানা আদায় হয়েছে সাড়ে চার কোটি টাকা। তবু নৈরাজ্য থামছে না। ট্রাফিক সপ্তাহের সাত দিনে সারা দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন ৪৩ জন।

গতকাল শনিবার রাজধানীর পাঁচটি ব্যস্ত বাসস্ট্যান্ড এলাকা ঘুরে চালক ও পথচারীদের নিয়ম অমান্য করার প্রতিযোগিতা আগের মতোই চোখে পড়ে। ট্রাফিক সপ্তাহের শেষ দিন ছিল কাল। সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে ট্রাফিক সপ্তাহ আরও তিন দিন বাড়িয়ে ১৪ আগস্ট পর্যন্ত করা হয়েছে।

কোটা আন্দেলন: কারাগারে সাত নেতা, বাকিরা পালিয়ে-দৈনিক প্রথম আলো

•    কোটা আন্দোলনের বেশ কয়েকজন ছাত্রলীগের মারধরে আহত হন

•    আহতরা গোপনে চিকিৎসা নিয়ে ‘পলাতক’ জীবন যাপন করছেন

•    সর্বশেষ গত সোমবার আরেক যুগ্ম আহ্বায়ককে গ্রেপ্তার করা হয়

•    আন্দোলনকারীরা গ্রেপ্তার ও গুম আতঙ্কে আছেন

ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের নির্মম হাতুড়িপেটায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তরিকুল ইসলামের পায়ের হাড় ভেঙে গিয়েছিল। আঘাত পেয়েছিলেন মেরুদণ্ড ও মাথায়। মাথার আঘাতটা ভালো হয়েছে, কিন্তু মেরুদণ্ডের ব্যথা রয়ে গেছে। সবচেয়ে খারাপ অবস্থা পায়ের।

শুধু তরিকুল ইসলামই নন, কোটা সংস্কার আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত বেশ কয়েকজন নেতা-কর্মী ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের মারধরে আহত হয়েছিলেন। গত ৩০ জুন থেকে পরের এক সপ্তাহ ধরে চলা হামলায় ১২ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। তবে সরকারি হাসপাতালে তাঁদের ভালো করে চিকিৎসা করা হয়নি। পরে গোপনে চিকিৎসা নিয়ে একধরনের ‘পলাতক’ জীবন যাপন করছেন। পুলিশের হাতে আটক হয়েছিলেন ১১ জন আন্দোলনকারী। একাধিক মামলায় এখনো কারাগারে আছেন সাতজন শিক্ষার্থী। সব মিলিয়ে চাকরির জন্য আন্দোলন করতে গিয়ে স্বাভাবিক জীবন থেকেই দূরে থাকতে হচ্ছে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের।

কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরতদের সংগঠন বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের আহ্বায়ক হাসান আল মামুন প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা যারা হলে থাকতাম, তাদের কেউ এখন হলে থাকতে পারছি না। প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে যারাই এই আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম, সবাই গুম এবং গ্রেপ্তার আতঙ্কে আছি। নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্তদেরও গ্রেপ্তার করা হচ্ছে, এতে এই আতঙ্ক বাড়ছে। তারপরও কোটা সংস্কার না হওয়া পর্যন্ত আমরা নতুন কর্মসূচিতে যাব, গ্রেপ্তারকৃতদেরও নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে।’

ভাষণ না দিয়ে কাজে মন দিন: মন্ত্রীদের উদ্দেশে কাদের-দৈনিক যুগান্তর

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, সময়টা ভালো নয়। আমি আমাদের নেতৃবৃন্দের কাছে, আমার সহকর্মীদের কাছে বিনীত অনুরোধ করব, যার যার সীমানা পেরিয়ে দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্য দেবেন না। সরকারকে বিব্রত করে- এমন বক্তব্য কেউ দেবেন না। দল, সরকার বিব্রত হয় এমন কোনো কথা দয়া করে কেউ বলবেন না।

সহকর্মীদের ‘হোমওয়ার্ক’ করার পরামর্শ দিয়ে কাদের বলেন, পলিসির ব্যাপারে নেত্রীর সঙ্গে আলাপ করে কথা বলবেন, ফ্রিস্টাইল কথা বলা যাবে না।

শনিবার সকালে ধানমণ্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু ভবনের সামনে স্বেচ্ছাসেবক লীগের শোক দিবসের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের একটি উক্তি স্মরণ করিয়ে দিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, বঙ্গবন্ধু একবার আক্ষেপ করে বলেছিলেন, মন্ত্রীরা বিদেশ যেতে চায়। নেতারা কথা বেশি বলে, কাজ তেমন করে না। বর্তমান নেতাদের বঙ্গবন্ধুর সেই উক্তি স্মরণ করার অনুরোধ করছি।

রাজপথে দাঁড়াতে না পারায় নিজেকেই ধিক্কার লাগে: রিজভী-দৈনিক মানবজমিন

অবৈধ সরকারের বিরুদ্ধে রাজপথে বের হতে পারি না সেটা ভাবলে নিজের কাছে নিজেকেই ধিক্কার লাগে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর জন্মদিন উপলক্ষ্যে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের আয়োজনে আজ নয়াপল্টন দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক আলোচনা ও দোয়া মাহফিলে তিনি এ মন্তব্য করেন। বলেন, আজকে সারা জাতি অবরুদ্ধ। কচি কচি বাচ্চাদের যেভাবে রক্তাক্ত করা হয়েছে। তাদের রক্তমাখা কেডস ও রক্তমাখা শার্ট দেখলে কার না হৃদয় ভাঙে। অথচ এ ঘটনাও ঘটিয়েছে এই পাষন্ড সরকার।

সরকার সংবিধানের কোনো ধারা মানছে না : নোমান-দৈনিক নয়া দিগন্ত

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমান বলেছেন, বর্তমান ক্ষমতাসীনরা স্বৈরতান্ত্রিক শাসকে রূপান্তরিত হয়েছে। সরকার সংবিধানের কোনো ধারা মানছে না। যারা সংবিধানের রক্ষক, তারা এখন ভক্ষক হয়ে জনগণের ওপরে নির্যাতন করছে। তারা এখন স্বৈরাচারী কর্মকাণ্ড বাড়িয়ে দিয়েছে।

আজ রোববার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল আয়োজিত এক মানববন্ধন কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। আব্দুল্লাহ আল নোমান বলেন, শেষ সময়ে সকল সরকারকে দেখা গেছে স্বৈরাচারী রূপে। স্বৈরাচারের মাত্রা বাড়িয়ে দিতে দেখা গেছে। বর্তমান সরকারও স্বৈরাচারের কর্মকাণ্ড বাড়িয়ে দিয়েছে। আমাদের ওপরে নির্যাতন চালাচ্ছে এবং মিথ্যা মামলা দিচ্ছে।

এবার ভারতের কয়েকটি খবর তুলে ধরছি

গণপিটুনির ঘটনা অপরাধ, উদ্দেশ্যটা বিষয় নয় বললেন প্রধানমন্ত্রী-দৈনিক আজকাল

গণপিটুনির ঘটনা নিয়ে দেশজুড়ে তোলপাড় হচ্ছে। বেশ কিছুদিন চুপ করে থাকার পর অবশেষে মুখ খুললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। পরিস্থিতির চাপে পড়ে গণপিটুনির ঘটনাকে তিনি অপরাধ বলে উল্লেখ করেছেন। আবার এই ধরণের ঘটনায় উদ্দেশ্য যাই থাক তা অপরাধ বলেই তিনি মনে করেন। তবে এই নিয়ে বিরোধিরা রাজনীতি করছে বলেও অভিযোগ তাঁর। আসলে সংসদে গণপিটুনি নিয়ে চুপ করে থাকলেও এক সংবাদ সংস্থাকে সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে নিজের সাফাই দিয়েছেন বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। গণপিটুনির ঘটনা নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি পরিষ্কার করে বলতে চাই গণপিটুনি হল অপরাধ। তার উদ্দেশ্য যা খুশি থাকতে পারে। গণপিটুনির মতো ঘটনাকে রাজনৈতিক লাভের লক্ষ্যে ব্যবহার করছে বিরোধীরা। ধর্ষণ ও গণপিটুনির মতো অপরাধকে পরিসংখ্যান দিয়ে রাজনীতি করা উচিত নয়। সবাই মিলে বিরোধিতা করা দরকার।’  

এনআরসি ইস্যুতে মুখ খুলতেই মমতার বিরুদ্ধে খড়্গহস্ত মোদি-দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন

অসমের জাতীয় নাগরিকপঞ্জি ইস্যুতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নজিরবিহীন আক্রমণ শানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি৷ মুখ্যমন্ত্রীর করা ‘গৃহযুদ্ধ’ মন্তব্যকে হাতিয়ার করেই তাঁর বিরুদ্ধে সমালোচনার সুর চড়ালেন প্রধানমন্ত্রী৷ নাম না করে বললেন, যাঁদের সঙ্গে দেশেরে নাড়ির সম্পর্ক নেই৷ যারা দেশ থেকে বিচ্ছিন্ন৷ তাঁরাই কেবল এমন মন্তব্য করতে পারেন৷

শনিবার সংবাদ সংস্থা এএনআই-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বিরোধীদের কার্যত একহাত নেন মোদি৷ তাঁর সুর থেকেই স্পষ্ট, এনআরসি ইস্যুতে তৃণমূল কংগ্রেসের আক্রমণে যথেষ্ট চাপে রয়েছে কেন্দ্রের বিজেপি সরকার৷

স্পর্শকাতর সন্ধিক্ষণে আমরা-দৈনিক আনন্দবাজার

আশঙ্কাটা ছিলই। সাম্প্রদায়িক মেরুকরণের হাওয়াটা যে এ রাজ্যের রাজনীতিতে বাড়তে পারে, তা অনেকেই হয়তো আঁচ করতে পারছিলেন। হলও ঠিক তাই। বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ কলকাতায় জনসভা করলেন। অমিত শাহের ভাষণে অত্যন্ত স্পষ্ট হয়ে গেল যে, উত্তরপ্রদেশ, রাজস্থান, গুজরাত, মহারাষ্ট্র, ওড়িশা, ঝাড়খন্ড সহ বিভিন্ন রাজ্যের মতো পশ্চিমবঙ্গেও মেরুকৃত পথেই হাঁটতে চলেছে বিজেপি। 

উত্তরপ্রদেশে বিধানসভা নির্বাচনের আগে শ্মশান আর কবরস্থানের বিভাজন সামনে আনা হয়েছিল। রাজস্থানের দরজায় এখন বিধানসভা নির্বাচন কড়া নাড়ছে। তাই রাজস্থানেও স্বঘোষিত গোরক্ষকদের হামলা বাড়তে শুরু করেছে। 

পার্সটুডে/গাজী আবদুর রশীদ/১২