কারবালার মহাবিপ্লব ও এর শাশ্বত শিক্ষা (পর্ব-৮)
'কারবালার মহাবিপ্লব ও এর শাশ্বত শিক্ষা' শীর্ষক বিশেষ আলোচনার অষ্টম পর্বে সবাইকে আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। আজ আমরা মহান তাসুয়া ও কারবালা বিপ্লবের নানা দিক নিয়ে কথা বলব।
আজ মহান তাসুয়া বা আশুরার পূর্ব দিন। ১৩৭৯ বছর আগে এই দিনে অর্থাৎ ৬১ হিজরির নয়ই মহররম কুফায় ইয়াজিদের নিযুক্ত কুখ্যাত গভর্নর ইবনে জিয়াদ ইমাম হুসাইনের (আ.)’ ছোট্ট শিবিরের ওপর অবরোধ জোরদারের ও হামলার নির্দেশ দেয়। এর আগেই আরোপ করা হয়েছিল অমানবিক পানি-অবরোধ। পশু-পাখী ও অন্য সবার জন্য ফোরাতের পানি ব্যবহার বৈধ হলেও এ অবরোধের কারণে কেবল নবী-পরিবারের জন্য নিষিদ্ধ করা হয় এই নদীর পানি। ইয়াজিদ বাহিনীর সেনা সংখ্যাও ক্রমেই বাড়তে থাকে এবং দশই মহররমের দিনে তা প্রায় ত্রিশ হাজারে দাঁড়ায়।
ইমাম হুসাইন (আ.) নয়ই মহররমের বিকালের দিকে এক দিনের জন্য যুদ্ধ পিছিয়ে দেয়ার প্রস্তাব দেন যাতে দশই মহররমের রাতটি শেষবারের মত ইবাদত বন্দেগিতে কাটানো যায়। ইয়াজিদ বাহিনীর প্রধান প্রথমে রাজি না হলেও পরে এ প্রস্তাবে রাজি হয়। বিকালেই হযরত ইমাম হুসাইন (আ.) নিজ সঙ্গীদের উদ্দেশ্যে বক্তৃতা দেন। সঙ্গীরা আবারও তাঁর প্রতি আনুগত্যের অঙ্গীকার করেন।
ইমাম হুসাইন (আ.) কারবালার ময়দানে পরিপূর্ণ ইসলামের বাস্তব চিত্র একেছেন, সুদক্ষ শিল্পীর মতো। সুক্ষ্ম চিন্তা ও পরিকল্পনামাফিক এক আদর্শিক ঘটনার অবতারণা করা হয়েছে কারবালায়। ইসলামের এই জীবন্ত চিত্রকে অক্ষয় রাখা প্রত্যেক মুসলমানেরই কর্তব্য ।

কারবালার ঘটনায় নারী-পুরুষ,শিশু-বৃদ্ধ,কালো-ধলো,আরব-অনারব,অভিজাত-গরীব সবারই ভূমিকা রয়েছে। যেন ইসলামের পরিপূর্ণ চেহারাটিকে ফুটিয়ে তোলার জন্যে মহান আল্লাহর সুদক্ষ হাত দিয়ে নকশা আঁকা হয়েছিল! কারবালার ঘটনায় হযরত জয়নাব ছাড়াও একাধিক নারী ভূমিকা রেখেছিলেন। এমন কি কারবালার শহীদদের মধ্যে একজন নারীও ছিলেন। এছাড়া আরও দু’জন মহিলা রীতিমত যুদ্ধের ময়দানে চলে আসেন। পরে অবশ্য ইমাম হুসাইন (আ.) তাদেরকে ফিরিয়ে আনেন। অনেক মহিলাই এ ঘটনায় সাহসী ভূমিকা রাখেন এবং কত মা তাদের নিজের সন্তানকে স্বহস্তে আল্লাহর পথে উৎসর্গ করেন।
কারবালার মহাবিপ্লবের তৌহিদী, আধ্যাত্মিক ও পবিত্রতার দিকগুলো তুলে ধরতে মক্কায় উচ্চারিত ইমাম হোসাইনের (আ.) বক্তৃতার এ দুটো লাইনই যথেষ্ট বলে মনে করি। তিনি বলেনঃ
‘‘আমরা নিজেরা কিছু পছন্দ করি না। আল্লাহ আমাদের জন্যে যেটা পছন্দ করেছেন সেটিই আমাদের পছন্দ অর্থাৎ আল্লাহর পছন্দই পছন্দ । আল্লাহ আমাদের জন্যে যে পথ নির্বাচিত করেছেন আমরা সে পথকেই পছন্দ করি।’’ ইমাম হুসাইনের (আ.) জীবনের শেষ মুহুর্তের কথাগুলোতেও এই বক্তব্যের পুনরাবৃত্তি ঘটে। একটির পর একটি তীরের আঘাতে ইমাম হুসাইন (আ.) যখন ক্ষত-বিক্ষত হয়ে শক্তিহীন হয়ে পড়েন এবং ঘোড়ার পিঠ থেকে মাটিতে পড়ে যান সে সময়ে বলেনঃ

‘হে আল্লাহ! আপনার বিচারে আমি সন্তুষ্ট এবং আপনার আদেশর প্রতি আমি আত্মসমর্পিত। আপনি ছাড়া কোনো মাবুদ নেই, হে অসহায়দের সহায়।’’
ইমাম জাফর সাদেক (আ.)'র মতে বললেন , সূরা ফাজরের শেষ আয়াতটির বাস্তব রূপ ছিলেন ইমাম হুসাইন (আ.) ওই আয়াতে মহান আল্লাহ বলছেন:
‘‘হে প্রশান্ত চিত্ত ! তুমি সন্তুষ্ট ও সন্তোষভাজন হয়ে তোমার প্রভূর কাছে ফিরে এসো। অত:পর আমার বান্দাদের অন্তর্ভূক্ত হও এবং আমার জান্নাতে প্রবেশ করো।’’ (আল-ফাজরঃ ২৭-৩০) ইমাম হুসাইন (আ.) তার নিকটাত্মীয় স্বীয় ও বেশ কিছু সঙ্গী-সাথী আশুরার দিনে দুপুরের পর থেকে শহীদ হন। এ সময় আবু আস-সায়দাবী নামক একজন সঙ্গী এসে ইমাম হুসাইনকে (আ.) বললেনঃ হে রাসূলুল্লাহর (আ.) সন্তান! আমাদের জীবনের শেষ আরজ হলো শেষবারের মতো আপনার পিছনে দাড়িয়ে একবার জামাআতে নামায পড়বো। চারদিক থেকে যখন বৃষ্টির মতো তীর আসছে তখন ইমাম হুসাইন (আ.) মরুভূমির মাঝখানে অবশিষ্ট গুটিকতেক সঙ্গী-সাথী নিয়ে নামাযে দাঁড়ালেন। যেন আল্লাহর ধ্যানে ডুবে গেলেন! পৃথিবীতে কী হচ্ছে তা তাদের জানা নেই। তাই এ দৃষ্টিতে ইমাম হুসাইনের (আ.) আন্দোলন পুরোপুরি আধ্যাত্মিক ও আল্লাহর নৈকট্য লাভের আন্দোলন। এখানে একমাত্র লিল্লাহিয়াত ও নিষ্ঠা ছাড়া অন্য কিছুই নেই।
যদি আরেকটি দৃষ্টিকোণ থেকে লক্ষ্য করা হয় তাহলে দেখা যাবে যে,ইমাম হুসাইন (আ.) এমন একজন অটল ও দৃঢ়সংকল্প বিদ্রোহী যিনি অত্যাচারী ও স্বৈরাচারী অবৈধ শাসক মহলের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছেন যাকে কোনো উপায়েই অবদমিত করা সম্ভব নয়। তার মুখ থেকে যেন অগ্নিবাণী বের হচ্ছে,একাধারে যিনি মান-সম্মান, মুক্তি, স্বাধীনতারও দাবি জানাচ্ছেন। তিনি বলেছেনঃ ‘‘আল্লাহর শপথ করে বলছি যে,কক্ষোণই আমি তোমাদের কাছে নতি স্বীকার করবো না কিংবা দাস-দাসীদের মতো পালিয়েও যাব না। এ কাজ আমার পক্ষে অসম্ভব। “নতি স্বীকার আমাদের মানায় না।’’
তিনি আরো বলেনঃ ‘‘আমি মৃত্যূর মধ্যে কল্যাণ ছাড়া অর কিছুই দেখি না এবং অত্যাচারীদের সাথে বেঁচে থাকার মধ্যে অপমান ছাড়া আর কিছুই দেখি না।’’- এসব বজ্র বাণী একই স্থানে বলেছেন। এগুলোর দিকে তাকালে শুধু সাহস,বীরত্ব, দৃঢ়তা এবং আরবদের ভাষায় অসম্মতি ও অস্বীকৃতি ছাড়া অন্য কিছুই চোখে পড়ে না।
কিন্তু অন্য আরেকটি দৃষ্টিকোণ থেকে তাকালে দেখা যাবে যে ,ইমাম হুসাইন (আ.) প্রকৃতই একজন শান্তিকামী, মঙ্গলকামী। এ দৃষ্টিতে তিনি এমন একজন ব্যক্তি যে তার শত্রুদের দুর্ভাগ্য ও অধঃপতন দেখে কষ্ট অনুভব করেন। তাদের জাহান্নামে যেতে দেখে তিনি নিজেই উদ্বিগ্ন হন। আশুরার দিনেও ইমাম হুসাইন ও তার সঙ্গীরা শত্রুদের কি পরিমাণ উপদেশ দিয়েছেন! এমন কি একটি লোকও খোদাদ্রোহীতার দুর্গতির আগুনে পুড়ে মরুক এটি ইমাম দেখতে চান না। ইমাম হুসাইন তাঁর নানার উদাহরণ ছিলেন। সূরা তাওবার ১২৮ নং আয়াতে বলা হচ্ছেঃ ‘‘তোমাদের বিপথগামিতা তাঁর (রাসূলের) জন্যে খুবই কষ্টদায়ক। সব সময় তিনি তোমাদের মঙ্গল চান।’’অথচ ইয়াযিদী বাহিনী বুঝতে পারে না যে,তাদের এ দুর্গতি ইমাম হুসাইন (আ.)-এর জন্যে কত কষ্ট দায়ক! কিন্তু ইমাম হুসাইন শেষ মুহূর্ত পর্যন্তও ইয়াজিদ বাহিনীকে সুপথে আনার চেষ্টা ছাড়েননি। তিনি সত্যিই তাঁর প্রাণের শত্রুদেরও ভালবাসতেন। শ্রোতা ভাইবোনেরা, এবারে আমরা ইসলামী চিন্তাবিদ ও গবেষক মুহাম্মাদ মুনীর হুসাইন খানের কণ্ঠে শুনব ইমাম হুসাইন ও তাসুয়া সম্পর্কিত একটি হাদিস:
'মহররম মাসের নবম দিবস হচ্ছে তাসুয়া দিবস। ইমাম জা'ফার আস সাদিক (আ) বলেছেন, তাসুয়া হচ্ছে ওই দিবস যেদিন ইমাম হুসাইন (আ) ও তাঁর সঙ্গী-সাথীদের কাফেলাকে পুরোপুরি ঘিরে ফেলা হয় এবং ইয়াজিদ ও ইবনে জিয়াদের বাহিনী ইমাম হুসাইন (আ)'র বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য সংঘবদ্ধ হয়েছিল। ইবনে মারজানা তথা ইবনে জিয়াদ ও ওমর ইবনে সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস নিজেদের সেনাদলের আধিক্য ও বিপুল সেনা সমাবেশ করতে পারার জন্য খুশি ও উৎফুল্ল হয়েছিল। তারা ইমাম হুসাইন (আ) ও তাঁর সঙ্গী-সাথীদেরকে দুর্বল মনে করেছিল এবং নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল যে ইমাম হুসাইন (আ)'র আর কোনো সাহায্যকারী আসতে পারবে না এবং ইরাকবাসীরাও তাঁকে সাহায্য করবে না। এরপর ইমাম জা'ফার আস সাদিক বললেন, ওই নিঃসঙ্গ-একাকী, দুর্বল ও মজলুম ব্যক্তির জন্য অর্থাৎ ইমাম হুসাইনের জন্য আমার পিতা কুরবান হোক।'
কারবালা ঘটনার একপিঠে রয়েছে পাশিবক নৃশংসতা ও নরপিশাচের কাহিনী এবং এ কাহিনীর নায়ক ছিল ইয়াযিদ, ইবনে সা’ দ,ইবনে যিয়াদ এবং শিমাররা। আর অপর পিঠে ছিল একত্ববাদ,দৃঢ় ঈমান,মানবতা,সাহসিকতা,সহানুভূতি ও সহমর্মিতা এবং সত্য প্রতিষ্ঠায় আত্মদানের কাহিনী এবং এ কাহিনীর নায়ক আর ইয়াযিদরা নয়,বরং এ পিঠের নায়ক হলেন শহীদ সম্রাট ইমাম হুসাইন (আ.),তাঁর ভগ্নি হযরত যয়নাব এবং তাঁর ভাই হযরত আব্বাসরা,যাদেরকে নিয়ে বিশ্বমানবতা গৌরব করতে পারে। তাই কারবালা ঘটনার সমস্তটাই ট্রাজেডি বা বিষাদময় নয়। অবশ্য পৃথিবীতে বহু ঘটনাই ঘটেছে যেগুলোর কেবল একপিঠ রয়েছে অর্থাৎ এসব ঘটনা কেবলমাত্র দুঃখজনক ও শোকাবহ।
উদাহরণ হিসেবে বিংশ শতাব্দীর তথাকথিত সভ্যতার লালন ভূমি ইউরোপের দেশ‘‘ বসিনয়া’’ কিংবা বাংলাদেশের প্রতিবেশী মিয়ানমারের কথাই ধরা যাক-কেবল মুসলমানের গন্ধটুকু তাদের গায়ে থাকায় তাদের উপর চালানো হলো নির্মম গণহত্যা,নারী ধর্ষণ,ঘর-বাড়ী ধ্বংস.... ইত্যাদি । তাদের অপরাধ শুধু এটুকু যে,তারা মুসলমান। বিশ্বে আজ এতগুলো নিরাপত্তা সংস্থা রয়েছে যারা কুকুরের উপরে অত্যাচার করাকেও নিন্দা করে। অথচ এদের কোনটাকেই তোয়াক্কা না করে এক নিরস্ত্র-নিরীহ জাতিকে ধ্বংসের পায়তারা চললো। এ ঘটনার এই একটিমাত্রই পিঠ আছে যা কেবল নৃশংসতা ও পাশবিকতায় ভরা।
কিন্তু কারবালাকে এভাবে বিচার করলে অবশ্যই ভুল হবে। এ ঘটনার একটি কালো অধ্যায় ছিল সত্য,কিন্তু আরেকটি উজ্জ্বল অধ্যায়ও আছে। শুধু তাই নয়,এর উজ্জ্বল অধ্যায় কালো অধ্যায়ের চেয়ে শত-সহস্র গুণে ব্যাপক ও শ্রেষ্ঠ ।

শহীদ সম্রাট ইমাম হুসাইন (আ.) আশুরার রাতে তার সঙ্গী-সাথীদেরকে প্রশংসা করে বলেনঃ ‘‘ আমি পৃথিবীতে তোমাদের চেয়ে বিশ্বস্ত ও উত্তম কোনো সহযোগীর সন্ধান পাইনি।’’ ইমাম হুসাইন (আ) কিন্তু বললেন না : নিরাপরাধ হওয়া সত্ত্বেও আগামীকাল তোমাদেরকে হত্যা করা হবে। বরং তিনি এমন এক সনদপত্র পেশ করলেন যার মাধ্যমে তাঁর সহযোগীরা বদরের যুদ্ধে রাসূলুল্লাহর (সা.) সহযোগীদের চেয়েও মর্যাদাসম্পন্ন হলেন,তাঁর পিতা হযরত আলী (আ.)-এর সহযোগীদের চেয়েও মর্যাদা-সম্পন্ন হলেন। আম্বিয়াদের যারা সাহায্য করেছেন তাদেরকে উদ্দেশ্য করে পবিত্র কুরআনে বলা হচ্ছেঃ ‘‘ কত নবী যুদ্ধ করেছেন,তাদের সাথে বহু আল্লাহওয়ালা ছিল। আল্লাহর পথে তাদের যে বিপর্যয় ঘটেছিল তাতে তারা হীনবল হয়নি ও নতি স্বীকার করেনি। আল্লাহ ধৈর্যশীলদেরকে পছন্দ করেন।’’ (আল ইমরানঃ ১৪৬)অথচ ইমাম হুসাইন (আ.) প্রকারান্তরে তাঁর সহযোগীদেরকে আম্বিয়াকেরামের এ সকল সহযোগীদের চেয়েও মর্যাদাসম্পন্ন বলে ঘোষণা দিয়েছেন।
যে বৈশিষ্ট্য কোনো আন্দোলন ও বিদ্রোহকে মহান করে তা হলো এমন এক বিশেষ পরিস্থিতিতে এ আন্দোলন অনুষ্ঠিত হবে যখন কোনো মানুষ এর ধারণাও করতে পারে না। ঘন অন্ধকারের মধ্যে এক খণ্ড আলোর ঝলকানি,ব্যাপক জুলুম-স্বৈরাচারের মধ্যে ন্যায়পরায়ণতার বজ্র আওয়াজ,চরম স্থবিরতার মধ্যে প্রকাণ্ড ধাক্কায় নিস্তব্ধ নিশ্চুপের মধ্যে হঠাৎ গর্জে ওঠা। উদাহরণস্বরূপ নমরুদ বা ফেরাউনের মতো একজন অত্যাচারী শোষক পৃথিবীকে গ্রাস করে ফেলে। কিন্তু আজীবন এ পিরিস্থিতি অব্যাহত থাকেনি। হঠাৎ করে একজন ইবরাহীম বা মুসা নবীর (আ.) আবির্ভাব ঘটে এবং ফেরাউন ও নমরুদের কাল হয়ে দাঁড়ায়।
আরব যখন শোষণ-নিপীড়ন,মূর্তিপূজা,কন্যা সন্তানকে জীবিত হত্যা,রক্তপাত,দ্বন্দ-কলহ,ব্যভিচারে এবং অন্ধকারে ছেয়ে গেল তখন একজন মুহাম্মদের (সা.) আবির্ভাব হয় যিনি বলতে থাকেনঃ ‘‘ বলো,আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই,তবেই তোমরা সুখী হতে পার।”
স্বৈরাচারী উমাইয়া সরকার নিজ স্বার্থসিন্ধির জন্যে সব ধরনের সাজ-সরঞ্জামে সজ্জিত হয়েছিল, এমন কি ধর্মকে ভাঙ্গিয়েও সৈরতন্ত্রের ভিত গাড়তে উদ্যত হয় ,দুনিয়ালোভী হাদীস বর্ণনাকারীদেরকে টাকা দিয়ে কিনে তাদের সপক্ষে হাদীস জাল করার দায়িত্ব দেয়া হয়। বনি উমাইয়া ইসলামকে এমনভাবে তাদের শোষণ ও স্বৈরাচারের সেবায় নিয়োগ করতে পেরেছিল যে,একদল দুনিয়ালোভী ও নামমাত্র মুসলমানকে ইসলামী জিহাদের নামে ইমাম হোসাইনের (আ.) বিরুদ্ধে লিপ্ত করতে সক্ষম হয়। তারা ইমাম হুসাইনকে (আ.) হত্যা করতে পারার জন্যে শোকর আদায়স্বরূপ একাধিক মসজিদ নির্মাণ করে। এখানে লক্ষ্য করার বিষয় যে,মানুষকে কিভাবে বিভ্রান্ত করা হয়েছিল।
এ রকম এক বিপর্যয়ের মুহুর্তে ইমাম হুসাইন (আ.) মুক্তির মশাল জ্বালিয়ে এগিয়ে এলেন। যখন মানুষের বাক স্বাধীনতা কেড়ে নেয়া হয়েছিল,মানুষের মতামত প্রকাশের কোনো সাহস ছিল না। কোনো সত্যি কথা বলাও যখন কারও সাহসে কুলাতো না,এমন কি এর কোনো প্রতিরোধ অবাস্তবে পরিণত হয়-ঠিক সে মুহুর্তে ইমাম হুসাইন (আ.) বীরদর্পে বিরোধিতায় নামলেন,বজ্রকন্ঠে সত্যবাণীর স্লোগান তুলে দুনিয়া কাঁপিয়ে দিলেন। খোদাদ্রোহী স্বৈরাচারের মেরুদণ্ড গুঁড়িয়ে দিলেন। আর এ কারণেই তাঁর আন্দোলন মহিমা লাভ করেছে। তাঁর আন্দোলন কালের গন্ডী ছাড়িয়ে যুগ-যুগান্তরের মুক্তিকামী ও সত্যান্বেষী মানুষের জন্যে অনুকরণীয় আদর্শে পরিণত হয়েছে।#
পার্সটুডে/মু.আ.হুসাইন/মো.আবুসাঈদ/ ১৮
খবরসহ আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সব লেখা ফেসবুকে পেতে এখানে ক্লিক করুন এবং নোটিফিকেশনের জন্য লাইক দিন